Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Reminiscence - Youth"

See other formats




রূধনারানের কুলে 
সিতভীস্ম খগুট 


ঘোৌধনের মাকজউপক্া 





্ ০ 
টি সা 
পাপা ৯৭৯৬ 
হল ও ইত 
পি কর ক 
৮৮ ক ্ ৪ ) 
5গাপবরল.হাালদাক্স ১ ০ 
, অর্পন 





৯ এযান্টীন বাগান € 
কাঁজকাতা-৭৩ ৩০৯১ 


প্রকাশক এইচ্‌. এল. সাহা 
পুথিপন্র | ৯ এ্যান্টান বাগান লেন । কিকাতা-৭০০ 


প্রচ্ছদ চন্দ্রকুমার দে 


মুদ্রক 1ব. রায় 
রায় প্রিন্টার্স । ১ এ্যান্টান বাগান লেন । কঁলিকাতা-৭০০ ০০৯ 


ধচ২)1- 14 22 হু 
(860)87015051005 : ১০০১) 
85 30051 7781921 
[২0168 2 50110 ০9019 


গীরবীজ্দ্রলাথ বত 


নিতেবদন 


প্রায় সাত বৎসর যে বই-এর প্রকাশ অপোক্ষত 'ছিল যখন সত্যই ত৷ 
প্রকাশিত হচ্ছে তখন অনেক সুহদের মতো আমার অশেষ শুভার্থা অধ্যাপক 
আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাতে তা আম তুলে দিতে পারলাম 
না, গভীর মম্বেদন। ও পরিতাপের সঙ্গে এই কথাটি প্রথম মনে পড়ছে। 
'রূুপনারানের কৃলে' প্রথম ভাগ ('কৈশোরক' ) তার নিকট যত সমাদর লাভ 
করেছিল আমার অন্য কোনো লেখাও ত। পায় নি। দিনের পর দিন তিনি 
আমাকে প্রবতাঁ অংশের জন্য তাঁগদ দিতেন, সমাপ্ত করতে দেরী থাকলে স্বয়ং- 
সম্পূর্ণ দ্বিতীয় ভাগের জন্য পরামর্শ দিতেন। প্বেই লেখা আরম্ভ করলেও 
বারে বারে তাতে ছেদ পড়েছে, তা তাকে দুঃখ দয়েছে ; মুদ্রণ আরম্ভ করলেও 
তার শেষ তান দেখে গেলেন না, এ দুঃখ আমার ও আমার প্রকাশক বন্ধুদের 
সমান । আমার অমার্জনীয় কালক্ষয়ের কথা তাই গভীর অনুতাপের সঙ্গেই 
মনে না করে পারি না। 

সেরূপ অপরাধে আমি অপরাধী আমার অনেক সুহদের নিকট ধারা তখন 
ছিলেন আজ নেই, ধারা এ লেখা ন৷ দেখাতে আমারও দুঃখের শেষ নেই । 

[লখতে লিখতে বুঝোছলাম আমার অভ্যাস ও আমার শিথিলতার জন্য 
'রূপনারানের কূলে' যথারীতি সমাপ্ত কর অসাধ্য হবে। স্মৃতি-প্রবাহ দীর্ঘ 
থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠে, লেখাও বার বার বন্ধ হয়ে থাকে__ আমার আয়ুতে 
তার সম্পূর্ণতা দান অসম্ভব । ইচ্ছা ছিল তাই-_ অনেকটা সুনীতিবাবুর পরামর্শ 
মতো ক্মবাহক ধারায় চিহৃত না করে আবহমানকে পবানুযায়ী স্বসম্পূর্ণ 
রূপে চাহন্ত কর। ; 'বূপনারানের কূলে'র প্রথম পর্ব যেমন 'কৈশোরক' 
দ্বিতীয় পৰ “যৌবনের রাজটীক।' বলে নামাঞ্কিত হোক। কতকাংশে সে 
চেষ্ট৷ করেছি। কারণ যত চেষ্টাই কার, যত সংবত কার কলমকে য৷ অর্থপূর্ণ 
বলে অনুভব করেছি তার অনেক কিছুই আর লেখা হয়ে উঠবে না। 
সম্পূর্ণতার প্রাতশ্াত যাঁদ 'দিয়ে থাক তবে পাঠক বন্ধুদের নিকট এবার তা 
থেকে নিষ্কাতি চাই । 

॥কাল কারুর দেখার পরোয়া করে না-ঘটনা প্রবাহও না, রূপ প্রবুস্ 
ন।। দর্শক গোঁণ, কুলেই থাকুন বা অকুলেই ভাসুন ; দর্শকের দৃষ্টির স 
বহমান ঘটনার প্রবাহে যে রূপের ধার! প্রকাশমান, তাই প্রধান বনু। ফি 


(৬1) 


সেই রূপও 'বাশষ্ট ব্যান্তর বাশষট দৃষ্টিক্ষেত্র থেকে দেখা ও 'বাঁশষ্ট দৃষ্টিঙ্গীর 
দ্বারা অনুলিপ্ত হতে বাধ্য । বিশেষ করে উত্তম পুরুষের স্মাতি-মন্থনে সেই 
ব্যন্তকে একেবারে বাতিল করা সম্ভবপর নয়। তবে বান্তর যা বান্তগত 
তা তাতে প্রক্ষেপ; কিন্তু যা ব্যান্তত্বের মধ্যে জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে সাঙ্গীকৃত, তা 
প্রকাশের নিয়মে স্বীকার্য। এই নীতি অনুসরণ করতে চাইলেও সত্যই তা 
অনুসরণ করতে পেরেছি কিনা জানি না, পাঠকই তার বিচারক । 

আরেকটি কথা ;-বহু মানুষের মুখচ্ছবি আমার চোখে ভাসছে, বহু 
ঘটনারও । কিন্তু নানাকারণে যে সব মুখের এখানে স্থান করে উঠতে 
পার নি; কিন্তা ঘটনার যথার্থ পাঁরপ্রেক্ষিতে যাদের উপস্থাপিত করা হয় নি 
নিজের অক্ষমতায়, মৃত ব জীবত তাদের সকলকেই আমার প্রণাম জানাচ্ছি ! 
রূপনারানের কুলে বুঝেছি--সকল রূপ সমতুল্য নয়, কিন্তু সকল রূপ সমান 
সত্য। 

তথ্যে, তারখে ও অন্যান্য বিষয়ে ভ্রম-প্রমাদ, অসাবধানতা৷ এবং আরো 
অনেক তুটিশবচ্যুতি, বিশেষ করে মুদ্রণকালীন অনুপাস্থিতি ও অমনোযোগিতার 
জন্য বহু অপরাধ ঘটেছে । সেজন্য লেখক যতটা দায়ী অন্য কেউ ততটা 
নয়। সে সবের জন্য আম ক্ষমাপ্রারথা । 

পাালাঁপ প্রস্তাীততে দু-একজন মাঝে মাঝে সাহায্য করেছেন, তাদের 
নিকট আম কৃতজ্ঞ । আমারই দোষে পারুলাপ কত নুটিপূণ ছিল তা 
জানলে বোঝা যেত মুদ্র্গকর্মী ও প্রকাশকদের উপর কী অত্যাচার হয়েছে । 
সেই কর্মী ও বন্ধুদের আম সাবনয়ে কৃতজ্ঞত৷ জানাঁচ্ছ। হাঁত- 

কলিকাতা, 
বিনীত 
গোপাল হালদার 


দুচী 


ৃষ্ঠা 
প্রথম পাঁরচ্ছেদ যৌবনের যান্রারন্ত ১ 
দ্বিতীয় পারচ্ছেদে লাগল না-লাগূল না ১৯ 
তৃতীয় পারচ্ছেদ “স্বরাজ সাধন” /০ 
চতুর্থ পরিচ্ছেদ সবুজের আভিষান ১০৪ 
গণম পারচ্ছেদ আঁধ ও ব্যাধি ১৭৩ 
যষ্ঠ পারচ্ছেদে ভাষা পারচ্ছেদ ১৮৮ 
সপ্তম পারচ্ছেদ সাহিতা-সৈকতে ২১৯ 
অঞঙ্ম পরিচ্ছেদ “চোদ্দ নম্বর' ২৪৮ 
নল্ম পরিচ্ছেদ প্রবাসীব পাথেয় ২৬২ 
দশম পাঁরচ্ছেদ ফেরারার ঘরে ফের। ২৭৪ 
একাদশ পারচ্ছেদ ভ্রমণ-ভারতী ২৮১ 


দ্বাদশ পরিচ্ছেদ রাজপথ-জনপথ ৩১৬ 


যৌবনের ব্লাজটীকা। 
প্রথম পারচ্ছেদ 
০ষাঁৰঢনব্ যাত্রান্বস্ত 


ইস্কুল ছেড়ে কলেজে_নোয়াখালি থেকে এলাম কলকাতা-জানতাম না 
যে, তা কৈশোর থেকে যৌবন-যান্ত্রাও 

কলকাত৷ কিন্তু আমার কাছে তেমন আজব শহর ঠেকল না। তখন পর্যস্ত 
কলকাতা আবর্জনার শহর নয়, মাছিলের শহর নয়, মরতে-বসা শহরও নয় । 
কলকাতার তখনো রূপ ছিল, আর সে রূপ মনেও লেগেছিল। কিন্তু 
চোখে রঙ লাগে নি। তখনো না এখনো না। কলকাতারও মোহ আছে 
_তা কি আর আমার অজানা 2? কিন্তু সে বিস্ময়ের মোহ নয়। অপাঁরচয়ের 
রোমান্টিক রস বরং বোষ্বাইতে পেয়োছি। সত্যই, বোম্বাই শুধু 'বোস্বেটে' 
ফিল্মের পাঁঠস্থান নয় । সে মুস্বই_মোহনী। প্রথম দর্শনেও বোস্বাইর প্রেমে 
পড়া যায়-হয়তে। বেশি পাঁরচয়ে সে প্রেম উবে যেতে পারে, কে জানে 2 কিন্তু 
দেখা হতেই কলকাতাকে সুন্দরী বলা তখনো দুঃসাধ্য ছিল। মোহনী তো 
নয়ই। তার রূপ যা তা একটু-একটু করে আবিষ্কার করতে হয়। হয়তো 
ছাদে দাঁড়য়ে আকাশে মেলানো বাঁড়র সঙ্গে আকাশে ছড়ানেো৷ সূর্যালোকের 
খেলা দেখতে দেখতে, হয়তো আউটরাম ঘাটে বসে বসে, বা ইডেন গার্ডেনস্‌ 
ছাঁড়য়ে আরও দাক্ষণে গিয়ে সূর্যাস্তের গঙ্গার ধারে দাঁড়য়ে ; _কিংব৷ “সদর 
স্ত্রীটে'র মতো কোনোখানে,_বিশেষ মানুষের চক্ষে বিশেষ মুহূতে,_আর ঘা তা 
এখানে নাই-বা বললাম £ প্রেসিডেন্সি জেলের গরাদের ফাকে দেখা ঝাউ-এর 
মাথায় পৃিমার চাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতা, অথবা থানার লকৃ-আপের 
মধ্যে আবদ্ধ বসে শোনা-গর্জমান ট্রাফকের আতনাদের অন্তরালে সেই শত 
[দিনের শোনা ফেরিওয়ালার ক্লান্ত ডাকে--দ্বিপ্রহরের রোদ্রে বিমন্ত কলকাতা, 
সেই কলকাতা, এমন কত কত 'দনরান্ির কলকাত।, কি কম সুন্দরী; আসলে 
কলকাত৷ সুন্দরী হয় পরিচয়ে-দনের পর দন তার রুপ যেন মনের 
মধ্যে আরও খুলতে থাকে । তখন কলমে কলকাতার আড্ডায় আসরে স্বচ্ছন্দ 
হয়ে ওঠে আলাপ আলোচনা । মনের মধ্যে জমে বসে কলকাতার আরেক রূপ 
_সে কলকাতা 'ইন্টেলেক্চুয়াল বিউটি 1 তাকে দেখলে চলে না, অনুভব 
£ীতে হয়। অনুভীতি জাগেও। তখন কলকাতা-_-আমার কলকাত। । তাই 


২ র্পনারানের কুলে 


প্রথম দর্শনে কলকাতাকে আমার আজব কিছু মনে হয় নি-এখনো হয় না। 
গ্রামের মানুষের চোখ নিয়ে দু-চোখ বিস্ষারিত করে শহর-দেখা আমার 
পক্ষে সেই প্রথম দিনও অসম্ভব ছিল । কোলাহলে চমৃকে উঠি নি। উৎকর্ণ 
হয়েছি 

অন্য কারণও ছিল । মফঃস্বল থেকে শহরে, স্কুল থেকে কলেজে--সত্যই 
দৃশ্যান্তর । সেই দৃশ্যান্তরের সঙ্গে সঙ্গে ছিল জীবনের পবাস্তরও £ সচেতন 
যৌবন । নিজে নিজেই বুঝলাম কলেজ তো৷ আমার সেই ইস্কুল নয় । কলকাতাও 
নোয়াখাঁল নয় । আমার দুরন্তপনা, সেই ডাব-চুরি, সেই অশান্ত কৈশোরের 
দুষ্টোমি, পাকামি, তারুণ্যের স্বতঃউৎসারিত অদম্য উৎসাহ, দুর্দান্ত আচরণ-_ 
সব কিছুই সেখানে তাদের এক অশান্ত ছেলের দাস্যপনা । সম্নেহ শাসনে তা 
সেখানে সহজে মার্জনীয় । এখানে আমার বিচার হবে নিঃসম্পকিতের প্লেহহীন 
চক্ষে । এই বোধের ফল ফলল । যে-ছেলে জন্মোছল চণ্ুল দুরন্ত, আলাপ- 
আচরণে অকুষ্ঠিত, চলা-ফেরায় স্বচ্ছন্দ, এবার এক 'দনে সে হয়ে পড়ল দেখা- 
সাক্ষাতে “ভীতু”, আলাপ-পরিচয়ে সংকুচিত, বেমানানো রকমের 9517 ব৷ 
নুখচোরা । অবশ্য পারিচিত বন্ধুগোষ্ঠী ফরে পেলে আবার দ্বিগুণ উৎসাহে 
তার শোধ তোলে, মাতে গণ্পে উৎসাহে, আন্ডায়-আলোচনায় । কিন্তু নতুনের 
দেউড্রীটা সহজে পার হতে পারে না । এ পরিবর্তনটা আসলে বয়সের গুণ_ 
যখন কৈশোর-যৌবন দৃহ্‌* মাল গেল, সেই তারুণ্যের ধর্ম । দৃশ্যান্তর হয়তো 
সে তুলনায় বাইরের কারণ । অবশ্য আরও কারণও থাকতে পারে-সেই “তন 
থেকে সাতে'র মধ্যেকার ব্যন্তত্ব-নয়ামক পরিস্থিতি, দেহ-মনে নিজের উপর 
আস্থা যাতে দৃঢ় হতে পারে নি। একাম্নবতাঁ বাঁড়র বড়দের ছায়ায় একে ঢাকা, 
আবার রূপগুণেও চাকচিক্যহীন । আসলে হয়তো সব কয়টাই সেই সংকোচের 
কারণ । মোটের উপর কলকাতাতে এসে দেখা দিল একটা অস্বচ্ছন্দ সচেতনতা, 
অনুভূতির প্রচ্ছন্নতা । নিজেকে বাইরে থেকে গ্ৃষ্ঠত করাই তার লক্ষণ। 
সে লক্ষণ একেবারে কাটে নি কখনো । তাতেই কি বাড়ে অনুভুত্র জোর 
ও 'বিচারবুদ্ধর ঝেকি। 

তবু শুধু আমাকে নিয়েই আম নই । দেশ ও কাল নিয়েই আমি । ১৯১৬ 
থেকে বিপ্লবী দলে ঢুকেছি, 1ববেকানন্দ তাকে বোধন করেছেন, রবীন্দ্রনাথ 
শোধন করেছেন । তখন ১৯১৮ সালের মধ্যভাগ- প্রথম মহাবুদ্ধ শেষ হয় ন। 
রুশ বিপ্লব অবশ্য কয়েক মাস আগেই ঘটেছে । বুঝতে চাইলেও তার স্বর্প 
তখনো বুঝতে পারছি না । রুশিয়ায় জারের পতনের সংবাদে আনন্দিত 
হলাম ৷ ধর্নী-দরিদ্রে সাম্য ম্থাঁপত হচ্ছে,আরও উৎফুল্ল হয়েছি তা পে । 


যৌবনের যান্লারন্ত ৩ 


মধ্যএশিয়ার তুর্ক তাঁজিক প্রভাতি জাতিদেরও তার৷ স্বাধীনতা দিচ্ছে জেনে 
মনে-মনে বলশোভিকদের পক্ষপাতী হয়ে পড়লাম । পরাধীন দেশের এমন 
বন্ধুও থাকতে পারে, এ-ষে স্বপ্নের অগোচর । দেখতে না দেখতে জার সাম্রাজ্যের 
মতো জামান সাম্রাজ্য ও অস্ট্রো-হ্যাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যও ভেঙে পড়ল। আরও 
খুশির কারণ। তারপরে ভার্সেঈতে গড়া চলল একদিকে 'লীগ অব নেশনস্‌: 
( রবীন্দ্রনাথ যাকে বললেন ক্রু অব্‌ রবার্স” ) আর অন্য দিকে ফরাসী- 
ইংরেজে পৃঁথবী গ্রাসের ষড়যন্ত্র । পশ্চিমের সমুদ্র-মন্ছনে বিষ ও অমৃত দুই-ই 
উঠাছল। প্রাচ্যের ভাগ্যেও তা জুটছিল। তবে অমৃতের থেকে 'বিষের 
ভাগটাই বো শ। আমাদের দেশে যুদ্ধের সঙ্গেই এসেছিল সংবাদপত্র পড়ার 
নেশা, স্বদে শীর ব্যর্থ আয়োজন আর পুলিশী-পীঁড়ন । যুদ্ধ শেষ না হতেই এল 
'বুদ্ধজ্বর' বা ইনরফুয়েঞ্জা । যুদ্ধশেষে পাঞ্জাবের অত্যাচার ও জালিয়ানাওয়াল৷ 
বাগ, ডায়ার ও ডায়ারের তাণ্বলীলা । দেখতে না৷ দেখতে স্বরাজ সমস্ত 
ভারতের সাধন হল । তার পিছনেই দেখা দিল 'হন্দু-মুসলমানের অমীমাংসিত 
সমস্য। । দেশের যৌবনের সম্মুখে ইতিহাসের চ্যালেঞ্জ । 

এই পাঁরপ্রোক্ষিতেই তো কিশোর আম অন্তরে-বাইরে যৌবনের আম 
হয়েছি । ইতিহাসে যে-কালান্তর আরস্ত হয়োছল, তা প্রাতাদনই দুবারতর 
হয়। দেশে স্বাধীনতার উন্মাদনা--সে যৌবন-জলতরঙ্গে আমাদের যৌবন 
উজান বইতে চায় । ঘাত-প্রাতিঘাতে এক-একবার চণ্ুল হয়ে উঠতে হ'ত। 
আবার ফিরে আসতাম নিজের কোটরে, সেখানে বন্ধুগোষ্ঠীতে অসঙ্কোচে জমিয়ে 
বসতাম । সেখান থেকেই বা সাধ্য কি ভুলে থাকণপ সেই যুগ-আবর্তন 2 
কালান্তরের পরীক্ষায় দেশের মধ্যে নতুন মানুষ বোরয়ে আসে । কালের 
ঘ্রোতে ভেসে আসে প্রাথবীর ও যৌবনের রঙীন স্বপ্ন ;কোথায় পাব 
লেখাপড়ায় স্বস্তি? যুগ-সংঘাতে অশান্ত স্পধিত হয়ে উঠত মন; তবু 
নিজের মধ্যে ভীত সঙ্কুচিত, জিজ্ঞাসা তাই জাগ্রত হতে চেয়েছে বহুঁদকে 
বহুরুপে, যৌবন দেখেছে বৃহৎ-এর স্বপ্ন । 

দ্কাটশ চার্চেস কলেজে ভরাঁতি হলাম- বাবা ও দাদাও ছিলেন ও-কলেজের 
ছান্ত। তার থেকেও বোঁশ সে কলেজের হোস্টেল । গাঁগল্ভী হোস্টেল তখনো 
নতুন । সেখানেই দাদা আগে থাকতেন ( ১৯১৫-১৬ সালে ? )। মান্র বাহান্নটি 
ছান্রের জন্য এই ছান্রাবাস_ ছাত্রদের ৪৮ ঘর, প্রায় প্রত্যেকেরই এক-একটি 
স্বতন্ত্র ঘর । খেলাধূলা, পরিষ্কার-পাঁরচ্ছন্নত। সকল 'দিক দয়েই চমৎকার ব্যবস্থা । 
তাই পরে যখন প্রোসডোক্সি কলেজ থেকে ভরাতির মনোনয়ন-পন্ন পেলাম 
জ্জন আর কলেজ বদলাতে পারলাম না । কারণ হোস্টেলও বদলাতে হত ॥ 


৪ রূপনারানের কূলে 


অবশ্য প্রোসডোসি কলেজের, বিশেষতঃ 'হন্দ্র হোস্টেলের, সে সময়কার অনেক 
ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় ও সৌহার্দ্য ঘটেছিল । তারা কেউ কেউ আমাকে বন্ধুরূণে 
গণ্য করতেন । পরে এম-এ ও ল র্লাশে বাইরেকার আরও কারও কারও সঙ্গে 
পাঁরচয় হয়, সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে । বন্ধুচক্ কমেই বৃহত্তর হয়। তাই ভীতু 
হলেও “কুণো' ছিলাম না । 

স্বভবতই কলেজের সহপাঠী অপেক্ষাও হোস্টেলের বাঁসন্দাদের সঙ্গেই 
আলাপ-পরিচয় প্রথমে হল । কিন্তু তা জমবার আগেই ১৯১৮-এর প্জার 
ছুটি এসে যায় । সেবার সেই ছুটি দীর্ঘতর হয় দেশব্যাপী ইনযফুয়েঞ্জায় । 
১৯২১-এর সেব্সসে দেখা যায়-_ইনকুয়েঞ্জায় সে বছরে ভারতবর্ষে লাখ পণ্াশ 
লোক মারা গিয়েছে-_চার বৎসরের যুদ্ধেও যুরোপে তার অধেকি লোক মরে 
নি। আমাদের দেশ তখন ইনফুয়েঞ্জায় অনেক জ্ঞার্নী-গুণী মানুষকে হারায় । 
কলকাতার কলেজ খুলল তাই একেবারে বড়োদিনের পর ১৯১৯-এ । ততাঁদন 
আমরা ছলাম বাঁড় বসে। 

তখনে। পাঞ্জাবের দুর্যোগ দেখা দেয় নি-মাস তিন-চার দেরী ছল, 
কলেজের পাঠ ও কলকাতার পাঠ নেবার মত জুঁটোছল ওৎসুক্য ও “সুযোগ, । 
দিনগুলি ভরে দিতেন নোয়াখালির বন্ধুরা, বিশেষ করে দাদা রঙ্গীন হালদার । 


কলকাভাব্স প্রথম পাত 


দ্-দনও হয় নি কলকাতায় এসোছ। দ্বিতীয় দিন_রান্ির পরে প্রথম 
দন-_. সিনেট হলে কেম গিয়োছিলাম দাদার সঙ্গে মনে নেই। বোধহয় 
দেয়ালে টাঙানো পাশের তালিকায় নামটা স্বচক্ষে দেখতে । ছাপার হরফে 
পাশের তালকায় নাম দেখা-সে কিকম কথা । তা ছাড়া, সিনেট হাউস 
দেখব না? যার সেই বিরাট অপরূপ স্তপ্ত ও গম্ভীর রূপের মাঁহমার কথ। অত 
শুনোছ বাবার মুখে ? ফুটপাত থেকে উপরে উঠে গেছে ধাপের পর ধাপ 
পসিঁড়। প্রশস্ত বারান্দায় প্রসন্বকুমার ঠাকুর- রাস্তার ওপারে কলেজ ক্ডোয়ারে 
বদ্যাসাগর-মৃতি । সাঁতাই, কী নতুন চেতনা অনুভব করেছি । ঠিক সেই মুহূর্তে 
ওপারের ফুটপাত 'দয়ে শার্ট পরা, ক্যাম্বসের জুতো-পায়ে বছর পাঁচশের এক 
যুবক যাচ্ছিলেন, সিনেট হাউসের বারান্দা থেকে দাদা দেখিয়ে দিয়ে বলেন, 
“ওই সত্যেন বোস ।' নাম অপরিচিত নয়-বিশ্ববিদ্যালয়ের তখন নতুন 
উজ্বল জ্যোতি । পুরানে৷ জ্যোতিষ্কদের নাম আমাদের প্রায়ই জানা 'ছিল- 
বাবার আলমারিতে ছিল কলকাত। বিশ্বাবদ্যালয়ের পুরানো এক খণ্ড ক্যাজে এর 


যৌবনের যান্নারন্ত & 


-১৮৫৮ থেকে ১৯০০ বা ১৯০১ সাল অবাধ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফলাফলও 
সেই এক খণ্ডেই তখনে। পাওয়। যেত । বাঁজ্কমচন্দ্র থেকে আরন্ত করে সোঁদিনের 
বখ্যাত পুরুষদের পারীক্ষক পাঁরচয় তাতেই জানা ছিল। তার পরেকার 
রেকর্ড-ভাঙ কৃতী ছাত্রদের কথা, এমনাঁক সমসাময়িক পি-এচ্‌-ভি-ডি-এস-সি, 
ছান্র ও অধ্যাপকদের কথাও মুখস্থ হয়েছিল দাদার মুখের গণ্পে । সেই প্রথম 
দেখলাম একজনকে সত্যেন বোস । সত্োন্দ্রনাথ বসু তখনি আমাদের কাছে 
িজেও। ভাগ্যরমে কলকাতায় আমার প্রথম দেখ! সেই 'দর্শনীয়' তিনি । 
এ সবের জন্যই তো কলকাত। আমার কাছে কলকাত।৷ । অবশ্য অন্যদিকের বড়ো 
নামগ্ীলও ছিল জানা-শিব ভাদুড়ী, বিজয় ভাদুড়ী তখন খেলেন না-গ্োঠ 
পাল তখন উচ্চ চূড়ায় । সাহেব খেলোয়াড় নাইট, বেনেউদেরও নাম জানতাম । 
আই-এফ-এ পর শীল্ডের খেলায় হাতে ধরে আমাকে দাদার নিয়ে যেতে হয় ন 
_আমাদের হোস্টেলের ভূতপূব ছাত্র ছিলেন উমাপাঁত কুমার, প্রফুল্ল সান্যাল 
অন্য কেউ কেউ । হোস্টেলের 'সাঁনয়রদের নেতৃত্বে বড়ে। বড়ো খেলাগুলিতে 
দল বেধে আমরা জ্রীনয়ররা যেতাম । দাদা জিজ্ঞাসা করতেন, শগয়োছালি' 2 
যেন না যাওয়াই অন্যায় । তবে, সভা-সাঁমাতির পথটা আমি নিজেই চিনে 
নিই-_সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপিনচন্দ্র পাল প্রভাতি একাঁদকে, অন্যাদ্দকে 
গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো শিক্ষাগুবুরা । ওদের 
স্বচক্ষে না দেখলে, এবং স্বকণে না শুনলে এদের কথা, কলকাতায় আসা কেন £ 
অবশ) সকলের বড় আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথ । কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তখন কলকাতায় 
ছিলেন না-_আর এলেও তখন দুলভ-দর্শন । না হলে দাদাই সবাগ্রে সেজন্য 
উদ্যোগী হতেন, কিন্তু আমার সাহসে কুলোত কিনা জানি না । ৬/1০ ০৪ ৮৪ 
৪ ৪8$৩ 2 2197. 2 অবশ্য দশজনার মতো প্রথম কলকাতায় এসে আমও 
জাদুঘর, 'চাঁড়য়াখানা না৷ দেখোঁছলাম তা নয়। তবে তাড়া ছল না। 
চাঁড়য়াখানার থেকে আমাকে বোশ আকর্ষণ করেছে জাদুঘর--তার প্রান 
ভারতীয় ভাস্কর্য ও স্াপত্য_ওটা ইাতহাসের আকর্ষণ । 

পূজার পূর্বে বোধ হয় ইউীনভাঁসাঁট ইনস্টাটিউটে ছাত্রদের নাটক আঁভনয় 
হত। সেখানকার অভিনয়েই যে শিশির ভাদুড়ী, নরেশ মিত্র, র্লাধিকানন্দ 
মুখোপাধ্যায় প্রভতি অভিনয়ে একটা নতুন ধারার সূচনা করেছেন, নোয়াখালি 
বসেও তা না জেনে উপায় ছিল না । কারণ, দাদ। আবাল্য ছিলেন থিয়েটারে 
অঞ্্ট, আভনয়ে উৎসাহী । আর নোয়াখালিতে আমাদের দলের (সবুজসঙ্ঘ) 
নাম ছিল নাটকের জন্য । গারশবাবু, দানীবাবুরাও যেমন দাদার "হরো”, 
তেমান তান অনুরাগী ছিলেন ইন্স্টাটউটের নতুন আভনয়-ধারার । অবশ্য 


৬ রূপনারানের কুলে 


কলকাতায় “ফানুনী'র আভনয় তিনি যে না দেখে ছেড়েছেন, কিন্বা 'ডাকঘর'-এর 
বে প্রথম আভনয় দেখেন ন-এমন মানুষ তে। কখাঁন নন। তার মুখে সে 
সব বর্ণনাও শুনতাম--সেই অন্ধ বাউল, সেই ডাকঘরের কালে দৃশ্যপট, আর 
তার শেষ দৃশ্যের শূন্য খাঁচা । দেখার থেকে না দেখা সেই সব আমার কল্পনায় 
আঙ্গও অপরুপ । শৈলেন চৌধুরী ছিলেন ইনাস্টাটিউটের সেই ১৯১৮-২০-এর 
সময়কার আঁভনেতাদের অন্যতম । নোয়াখালির মানুষ । দাদার অনুরাগী ৷ 
দাদাকে তান সেবারের আভনয় দেখবার জন্য কার্ড দিয়োছলেন। আমাকে 
কার্ডটা দিয়ে দাদা বললেন, যা দেখে আয় । দেখাব !--বলে বড় চোখ 
আরও বড় করে বিনা বাক্যে যা বোঝালেন তা বাক্যের অসাধ্য । কিন্তু আমার 
1নজের নাটকের নেশা বিশেষ ছিল না। ওটা সংক্লামক ব্যাধ-নোয়াখালতে 
আমরাও তখান তার কবলে পড়েছি । তবে আমাকে ততটা পায় ন। 
লাধারণ থিয়েটারে তখনো আভনয় দোখ | ন_আরও দেড় বছর পরে তা 
দেখো । সামান্য ভূঁমিকায়ও দেখোছলাম 'শিশিরবাবুর অসামান্যতা, সেই 
সঙ্গে সহযোগীদেরও তিনি তার শিক্ষায় একটা স্তরে তুলে আনেন-এট। 
সাধারণ রঙ্গালয়ে তখনকার দিনে একেবারেই অসম্ভব হত। তবু দাদাকে 
বললাম, 'যাই বলুন, ?সনেমায় আঁভনয় দেখে কিন্তু বাঙালি থিয়েটারের আঁভিনয় 
দেখতে মন ওঠে না'_-তখনও সবই বালাত ছবি-সনেমায় দেখি ওরা সবাই 
নিখুস্ত আভনেতা ।'* দাদা বললেন, “সে ঠিক, কিন্তু আমর৷ নাটকে আভনয়ে 
কোন স্তরের তা তো বুঝ !' 1সনেমার পথটা আঁচরেই 'চানয়ে ?দয়ে নয়ে 
গয়োছল উপেন সেন,_কলকাতায় সাধারণ বাংলা থিয়েটার দেখতে দোর ছিল । 
ছবি যা কিছু দেখোঁছ তাই ভাল লেগেছে-তবে মনে আছে তিনটি নাম £ 
চ্যাল চ্যাপালন, মেরী 'িকফোর্ড, ডগলাস ফেয়ারব্যাংকৃস্‌ । চ্যাপলিনের 
প্রীতভার আসল রহস্য অবশ্য তখনও বুঝি ন-শুধু হেসেই খুন হয়োছ। 
নাটকের পথটা চিনবার মতে৷ উৎসাহ দাদার কাছেই পেতাম । আর, গান, 
সাহত্য ঃ বোধহয় উংসাহের বিশেষ দরকার ছিল না। হ্যারসন রোডের 
কৃষফদাস পালের মূর্তির কোণায় পন্র-পাঁত্ুকার স্টল-_যেখান থেকে ব্যাগ্-বিক্েতারা 
বই-এর স্টলগুঁলকে বেদখল করে অনেক পরে,যে-স্টল থেকে সদ্য প্রকাশিত 
'সবৃজপর্র' কিনে প্রথমেই গেলাম &নং মীরজাফর লেনের (কলেজ রো) মেসে । 
পরাঁদনই দাদার পরীক্ষা । তখনো তান চা খান নি। চা খেতে তান 
আমাকে নিয়ে বেরুবেন পেলেটিতে বা পেস্তোলাজ্জিতে (পরে যেখানে দিখ। 
দেয় ণফরপো' )। তার পক্ষে বাইরে চা খেতে হলে ওসব জায়গাতেই যেতে 
হয়_-কারণ, ওসব রেস্টুরেপ্ট পরিষ্কার-পারচ্ছনম, আর ওখানেই ঢা একমান্ত 


যৌবনের যাল্লারন্ত & 


পানের যোগ্য । কিন্তু সেজন্য প্রস্তুত হতে দাদার অন্তত একঘণ্টা লাগবে- 
হাত ধোবেন, মুখ ধোবেন, প্লান করবেন, পোশাক-পারচ্ছদ দোরস্ত করে নেবেন, 
তবে তো। ততক্ষণে আমি এক '[নঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম রবীন্দ্রনাথের লেখা 
( পয়লা নম্বর )। তিন বললেন, “রেখে যা, রান্রে পড়তে হবে ।, বলেন কি! 
এম-এ পরীক্ষার খড্াটা যে একেবারে মাথার ওপর !-তাতেও দৃষ্টি নেই ! 

সে পরীক্ষা হয়ে গেল। হণ্ঠাং এল একখানা পোস্টকার্ড । “কাল চারটায় 
এসে | বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রীভারশিপের' বন্তৃত৷ দিচ্ছেন 'বিজয়চন্দ্র মজুমদার, 
বাঙলা ভাষার ইতিহাস বন্তৃতার বিষয় ।' বিজয়চন্্র মজুমদারের লেখা 
'প্রবাসী'তে, পড়োছ, দুজনারই তা ভালো লাগত । পাচটার 'মাঁনট দশেক 
আগেই সনেট হাউসের পশ্চিমের হলে গিয়ে দ্র'জনায় বসলাম । পাঁওত 
লোকেরা একে একে আসছেন । অজাত-শ্মশ্রু বালকের 'দকে কেউ যেন 
হ্াকিয়ে না দেখেন, মনে মনে এই প্রার্থনাই বিধাতার নিকটে করাছি। কন্তু 
যাঁদ দেখেন সে বিপদ কাটাবার জন্য ভয়ে নতচক্ষু নতমুখ । দাদার সে দিকে 
কোনো দৃঁষ্ট নেই । যাঁরা আসছেন চাপ। গলায় তার্দের পরিচয় বলাছলেন 
আমাকে । হঠাৎ বললেন_-এই-_এই সুনীতি চ্যাটুজ্জে । চমকিত হলাম । 
নাম আগেই জানতাম--তানও এক লিজেও। কুত্হলী চোখ তুলে একবার 
দেখলাম, পরক্ষণেই নামিয়ে নিলাম । সুস্থ সবল দেহ, চশমার আড়ালে উজ্্বল 
চক্ষু, বুদ্ধি মাজিত ললাট ও ওষঠতট । তখনে৷ জানতাম না-সেই আমার শিক্ষা 
গুরুর দর্শনলাভ । জানবার কথাও নয় তার স্বচ্ছন্দ আলাপ-কৌত্ৃকের আশ্চর্য 
'মতা । অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায় বন্তুতার নোট নেবার জন্য পকেটের কলম 
খুলাছলেন । কে বললে বন্তৃতা টাইপ করা, 'তাঁন কাঁপ পাবেন, মুদ্রতও 
হবে। কলম বন্ধ করলেন। বিজয়চন্দ্রের সে বন্তৃতা শহস্টোরি অব বেঙ্গল 
ল্যাঙ্গোয়েজ' নামে পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। প্রারন্তিক বন্তৃতা 
সোদদন । একরকম করে বুঝোঁছলাম, তবে বুঝব বলে যাই 'ন, শুনতেই 
গিয়েছিলাম । বুঝি বা না বুঝি দাদার যা মনে হত মূল্যবান আমার সামনে 
তা খুলে দিতে উৎসাহ ; আর শুধু আমার সামনে নয়, আমার বন্ধুদের সামনেও, 
যারা তার সঙ্গী-সহচর তাদের সকলের সামনেই,-তার এই স্বভাব ঃ ছোটদের 
নিজের সমকক্ষ করে নেওয়া ছোট না রাখা । 

মূলাবান কি শুধু নাটক ও সাহিত্য? সামনে তার পরীক্ষা,_এ পেলেটির 
ও পেস্তোলিজ্জিতে চা কেক-এর সঙ্গে আমার পরিচয় কারয়ে দিতে তবু এক 
সপ্তাহের মধ্যেই নিয়ে গেলেন । তারপর, পটলডাঙার দীনু ময়রার খাপ্‌রার 
দোকানের রসগোল্লা ও ভীমনাগ্ের সন্দেশের তুলনামূলক রসতত্বের (কম্প্যারাটিব্‌ 


৮ রূপনারানের কূলে 


গ্যাস্োনোমির ) অনুশীলনে আমাকে দীক্ষিত করতে ছাড়লেন না। তার 
দৃঢ় ধারণা রসনাতেই রসের আসল বাসা ; কলকাতার তাও একটা পাঠ । 

এমন মানুষ পরীক্ষায় খুব ভালো না করলেও যে মোটামুটি ভালো করলেন, 
তার কারণ বোধ হয় দুটি ৪__-একটা, তার বহু ব্যাপারে কোতৃহল, আরেকটা 
ঠার সুনিশ্চিত হবার দুবায়ু । প্রথমটা আমাদের বাড়তে আশ্চর্য নয়, দ্বিতীয়টা 
কিন্তু অনেক পাঁরমাণে বাঁড়র ব্যাতক্রম--পারফেকশ্যানের নেশা । অত্ন্ত 
নিপুণ ভাবে বারে বারে তিনি হাত ধোবেন, বারে বারে পা ধোবেন, পোশাক- 
পারচ্ছদ সযত্বে পরেন, পরে বার বার দেখেন_ানখূ'ত হওয়া চাই বেশভৃষা । 
তেমান পড়তে বসে গ্রাত কথাট৷ উ্টিয়ে পাণ্টিয়ে পড়েন, সঠিক বুঝে নেন, 
তার পূেকার কথার সঙ্গে নতুন কথাট। 'মাঁলয়ে বিচার করেন, অর্থ গ্রহণ 
করেন। কিছু ঝাপসা বা আনশ্চিত থাকার উপায় নেই। তাই একবার 
পড়া হয়ে উঠলে তিনি সুনিশ্চিত হয়ে উঠবেন । লেখার বিষয়েও তাই । এক 
পৃষ্ঠ পড়তে লাগতে পারে কমপক্ষে আধ ঘণ্টা, একপৃষ্ঠ লিখতে কিন্তু একদিন। 
কিন্তু যা পড়া হয়ে গেল তা আর মন থেকে মুছে যাবে না কোনোঁদন ; যা 
লেখা হবে তার ওপরে কলম ছোয়াতে হবে না দ্বিতীয় বার ৷ উত্তর নিত । 
পরীক্ষায় ও প্র্যাকীটিকাল কাজ যতটুকু করলেন অনবদ্য । বল! বাহুল্য, অত 
ধার “নিখু'ত' হবার দুঝায়ু তার পক্ষে সময়ের অভাব আনবাধ । কোথাও 
বেরুতে হলেও যেমন, পরীক্ষায় হলেও তেমন । এ-রোগটা কিন্তু সংক্রামক না, 
বরং তা বিপরীত প্রাতক্রিয়াই ঘটিয়েছে-_ অন্তত আমার পক্ষে । “পারফেকৃশ্যান' 
থাক, নিখুত নিপুণতা না খুজে আম চাই চলনসই বিদ্যা । বুঝে না বুঝে 
পড়ে বাই রুদ্ধশ্থাসে, যা হোক িখে যাই উধর্বশ্বাসে _যা পড়ি ত৷ ভুলে যাই 
পর মুহূর্তেই, যা লিখি তাও মুছে যায় পরাদনই। আমার মনে থাকে না, 
পরেরও না । আমি ক্ষণিকবাদী, আর অপূর্ণতাবাদী,_সবই স্বপ্পায়ু, আর সবই 
অসম্পূ্ণ_তাই বিধাতারও এই দশ! । বিধাতা কিছুই নিখুত করে গড়তে 
পারছেন না-গড়ছেন আর ভাঙছেন; না হলে সৃষ্তি পারফেন্ হত--অর্থাং 
থেমে যেত । আমাদের দুজনার স্বক্ষেত্রে দাঁড়িয়েছে এই-দাদার কিছুই লেখা 
হয় না, আমার লেখা কিছুই হয় না । সাহিত্যে হোক, বিজ্ঞানে হোক, ওর 
যা জানা, তা সত্যই জানা, বোঝা, আপনার করে ফেলা । আর সে দিকে 
ওর কোতৃহল যেমন প্রচুর, রুচি তেমানি সুনিশ্চিত । আমার সেই ষোল বছরের 
গোড়ায় কলকাতার এই বহুমুখী ও বাহমুর্খী জীবনধারার সামনে তখন এই 
কুতৃহলী মানুষ আমাকে জীবনের বহুমুখী জিজ্ঞাসার দিকেও এগিয়ে দেন-_অর্থাং 
শাদা কথায়, দাদা আমার মাথাট খেলেন । তিনি অবশ্য পাশ করলেন, আর 


যৌবনের যান্রারন্ত ৯১ 


বছর শেষ হতে না হতেই চলে গেলেন পাটনায় বি. এন. কলেজে (ডিসেম্বর 
১৯১৮ )। খাবার মতো মাথা সেখানেও হয়তো ছিল । আমাদেরও জুটত 
নিমন্ত্রণ । আমি রইলাম কলকাতায়_সেখানেও পাকার পাথেয় জুটত সর্বত্র । 

কলকাতায় তখন তাই উপেন সেন ছিল আমার প্রধান সঙ্গী। অথবা, আমিই 
ছিলাম উপেনের সঙ্গী । স্কুলের শেষ কয় বংনর উপেন কলকাতায় পড়ে, কোর্ট 
অব ওয়ার্ডসৃ-এর সে ওয়ার্-বড় না হোক, কিছু জমিদারী তাদের ছিল-সরকার 
নিয়েছে নাবালকের সম্পান্ত রক্ষার ভার । ও-রকম আরে দু-চারটি ছেলের 
সঙ্গে তার কলকাতা বাস নিধারিত করোছিল সেই সরকারী আভভাবকরা । 
ছুটিতে সে যেত দাদা-বৌঁদর কাছে নোয়াখালি । দু'জনায় একই বংসরে পাশ 
করে একসঙ্গে কলকাতায় আস পড়তে-_সে পড়ে প্রোসিডেসীতে, আম পাঁড় 
ক্কাটিশে | সে আই-এস-সি পড়ে, থাকে হিন্দু হোস্টেলের ওয়ার্ড ফাইব-এ। 
সেই ৬%র নানা কারণে নাম, তার আঁধকাংশ ছাত্র বাঁসন্দাই অবস্থাপন্ন, বড়- 
মানুষি চালে অভ্যন্ত ; অনেকেই দুরস্ত, ও হৈ-চৈতে ওস্তাদ । অবশ্য সেই সঙ্গে 
কেউ কেউ লেখাপড়ায় অগ্রগণ্য । তিন বৎসর পরে সেই দুর্দাস্তদের শায়েস্তা 
করবার জন্য 'হন্দু হোস্টেলের কর্তা ও প্রিন্সিপ্যাল ব্যারে৷ দু'জনায় মিলে হোস্টেল 
থেকে ধাদের বিতাঁড়ত করেন তাদের মধ্যে উপেন ছাড়াও ছিলেন আরও কয়- 
জনা | উপেনের চেনায় তারাও আমার বন্ধু । সে কলেজে পড়লে সে হোস্টেলেই 
থাকতাম, ও হোস্টেলে থাকলে সে ভাগ্য আমারও হত-দের করতে হত না। 
দুরস্ত বলে আমার নাম উপেনের থেকে বরাবরই বেশি ছিল । ও ধাতটা হয়তে। 
উপেনেরও পরিবারগত । তার দাদ! নগেন সেন স্বদেশীতে জুটে পাঁরবারে 
সঙ্কট এনোছলেন। উপেনের মধ্যে এসোঁছল তার প্রাতিক্রিয়৷ । স্বদেশীর 
ছায়াও সে একেবারে মাড়ায় না । এবং সে সমীহ করে ইংরেজকে, ইংরেজের 
মতো জীবনযাপনেই তার বুচি । কারণ, আমাদের এদেশীয়দের তুলনায় ইংরেজ 
শুধু প্রবল নয়, রূপে-গুণে, জ্ঞানে-প্রাণে, জীবনধান্রা় অনেক অনেক উন্নত । 
ধনে-মানে, শান্ততে-সামর্ঘে, শিক্ষায়-কেতায় ইংরেজ আধুনিক পৃথিবীতে তখন 
সেরা জাত-_এ কথা কি আমরাও কেউ না জানতাম ? তবু সে কথাটা আমাদের 
বিশেষ করে না জানালে নয়-উপেনের ও দাদার । দাদা বলতেন, ওর! জীবনটা 
উপভোগ করতে জানে । জীবন উপভোগের জন্য-_ত্যাগ' আর কৃচ্ছুসাধনের 
জন্য নয়। এাঁদকে দাদা আর উপেন একমত । তবে উপেনের এঁদকে 
এককটরবোশ যোগ্যতা ছিল। দেখতে সে মোটের উপর রূপবান । কোমলকান্ত 
নয়, তেজোব্ঞজজক ছিল তার মুখশ্রী, পাঁরমিত ব্যায়ামে সে সর্বদা! অবহিত, 
সুচ্ছদেহ এবং স্বাস্থাসচেতন । বাঙালির সন্ত। স্যুট ও সস্তা বাবৃগিরর প্রাতি 


১০ রূপনারানের কূলে 


দু'্জনারই ছিল আভজাত অবজ্ঞা । পোশাক-পারচ্ছদে বাঙালী হলেও দু'জনারই 
বেশভূষা সতর্ক, পারচ্ছন্ন, পরিপাটি । আচার-ব্যবহারে উপেন সহজ মর্যাদার 
আঁধকারী, দাদা স্বচ্ছন্দ ও সামাজিক | আহারে-বিহারে জীবনধাত্ায় দ'জনেই 
একমত--“ওদের ( “ওদের বলতেই বৃঝতে হবে ইংরেজদের ),--মতো 
জীবন উপভোগ না করলে জীবনটা কেন 2 বিশেষ করে আহারে ও 
পারচ্ছদে । ইংরেজী খানা খেলেই মনে হবে “বেচে থাকি' । ইংরেজী হ্যাট- 
কোট পরলেই মনে হবে-গটুগট করে বুক ফুলিয়ে চাল । তা না, ওই থোড়- 
বাঁড়-খাড়া খেয়ে চাদরে মুঁড়-সুঁড়ি দিয়ে চলো, আপন থেকেই মনে হবে হরি 
হে, পার করো' । বলা বাহুল্য, ওরকম খানা ও সাহোবি জীবনমান আয়ত্ত ন৷ 
হলে ভদ্রলোকের বিয়ে করা চলে না । ও বিষয়েও দাদার সঙ্গে উপেন একমত, 
তবে পুরোপুরি নয়। উপেনের বন্তব্য আরও একটু 1বাঁশষ্ট-“ভদ্রলোকের 
[বিয়েই করা চলে না। জীবনমান আয়ত্ত হলে তো নিশ্য়ই না ।” ভদ্রলোক' 
কাকে বলে 2 ভদ্রলোকের প্রথম চাই-জীবনমান । আর সে জীবনমানই যাঁদ 
আয়ত্ত হয়, ত৷ হলে স্ত্রী না হলেও চলে, বরং না হলেই ভালো । একজন 
বাঙাল আই-স-এস পাশ করে স্বভাবতই আত্মসন্তৃষ্ট--তার বদ্ধকে নাকি 
জানয়েছিলেন-অবশ্য ইংরেজিতে-'এখন আম চাই একটা ঘোড়া, একটা কুকুর 
ও একটি স্ত্রী। তার প্রাতও উপেনের অবজ্ঞ-“হর্স ইজ এ নোবেল এানম্যাল, 
ডগ গুড কম্পাঁন,ম্ত্রীঃ ওর একটাও না।' স্বভাবতই এ-ধরনের 
ইয়াকিতে আমাদের মধ্যেও হাস্যপারহাসের অন্ত থাকত না। যেমন, আমরা 
হলাম উপেনের মতের উল্টো পক্ষ_-আমাদের বন্তব্--“জীবনমান না হলে না 
হলো, কিন্তু জীবনযাত্রায় স্ত্রী নাহলে নয়।” বলতাম, “আই-পি-এসদের 
ঘোড়া আর কুকুর হলেই হয়--ওয়াইফ ওদের কম্বাইন্ড হর্স যাও ডগ । কিন্তু 
আমাদের কেরানীদের গৃহে গৃহিণী সচিব সখা, কম্বাইন্ড হ্যাও--সবার উপরে 
“ওগে।? 1 বন্ধুগোষ্ঠী ভাগ হয়ে যায়উপেন 'কনফারমড ব্যাচেলর", আমরা 
'বর্ন্‌ ম্যারেড্ম্যান' । কনফারমড ব্যাচেলরদের মধ্যে উপেনের আবার আরও 
নিজন্ব বন্তব্য আছে । সেই সব এখানেই শেষ কার--ভদ্রুলোকের এদেশেও 
থাকা চলে না ।' কোথায় তবে থাকা চলে 2 “ওদের দেশে" অর্থাং বিলেতে । 
দাদার হয়তে৷ তাতে অমত হত না-_কিন্তু হাত ধোবার ও ঘ্লানাদর বিষয়ে 
"ওদের ব্যবস্থা সম্বন্ধে তিনি সন্ত নন। 'সে সবব্যবস্থা করে দোব 
আপনার, উপেন আশ্বাস দিত । উপেন, এবার বোধহয় রা 
উচিত-উপেনর। 'ওদের দেশে, থাকবার লোক, আমরা নেটিব । নোটবর৷ 
উপেনকে খোঁচা 'দিতাম-“যাও না-গিয়ে দ্যাখো নাকী আরাম তোমাদের, 


যোবনের যান্রারন্ত ১৯ 


“ওদের দেশে' |” উপেন বলত “দে টাক আমাকে । দ্যাখ, আম থাঁক কিনা 
ওদের দেশে ।' বুঝলাম উপেনদের তাতে বাধা--টাকা, “ওদের মত থাকার; 
জন্য টাকা আবশ্যিক । “ওদের দেশে" থাকবার জন্য টাক আমাদের “নোটব'দের 
যোগাতে হবে । কেন, তা দুবোধ্য নয়_নেটিবদের দেশ টাকা না যোগালে 
কোনো ভারতত্যাগী ভারতবাসী বা ভারততগ্রাসী ইংরেজের পক্ষেও, 'ওদের দেশে' 
থাক চলে নানা হলে সে দেশে হাড়াভাঙ। পাঁরশ্রম । “ওদের দেশে যার। 
খেটে খেয়ে সামান্যভাবে থাকে তাদের আবার 'জীবনমান' ক ?-ত। জীবনই 
নয় । যাক, দাদার মতে 'কনফারমড ব্যাচেলরদের" দলের উপেনই হল আদর্শ, 
'পারফেকশ্যান ॥ সে কোনে। কম্প্রোমাইজ্‌ করবে না 'বরনূ ম্যারেডম্যানদের' 
সঙ্গে। তাই উপেন-এর “কনফারমড ব্যাচেলর' ভিন্ন আর একটা নাম হল- 
“মিস্টার পারফেকৃশ্যান' । আমাদের একটাই নাম বরন্‌ ম্যারেডম্যান- অবশ্য 
তখনও নিরানন্ুই জনেরই ভাগ্যে স্ত্রী জোটে নি। 'বরন্‌ ম্যারেডম্যানরা' 
'হাজবেও রূপে শরবরন্‌' হয়োছিল অনেক পরে । 

উপেন আমাকে [সনেমায় প্রথম নিয়ে গেছল । কী ছাঁব, নাম মনে নেই & 
খুব রোমাণ্টিক। গ্রীক কাহনী হবে হয়তো--'সাইরেনদের' অবলম্বন করে । 
সমুদ্র-পবতের অপ্ব দৃশ্য, আর তেমাঁন মোহিনীদের নৃত্যগীত প্রণয়লীল৷ ; এর 
বোশ কিছু মনে নেই। কিন্তু এক অদ্ভুত আঁভজ্ঞতা ! এ যুগের প্রধান 
মোহনী ফিল্মী কলালক্ষমী--তবে তার নেশায় তখন পেল না। কারণ উপেন 
বাজে ছাব দেখবে না । বাজে সিনেমা হল-এ বসেও ছবি দেখবে না। সস্তায় 
ছবি দেখা সপ্তায় সাহেবি-করার মতোই তার কাছে ভাল্গার । ভালো ছবি 
থাকলে সোঁদনের মাঝারি-দামের আসনে আমরা দেখতে যাব, মাসে এক- 
আধাঁদন । সোঁদনের আট আনার আসনই ছল আমাদের আয়ের তুলনায় 
উপেনের মতেও ভদ্র, রেস্পেকটেবল । আমরাও বোধহয় দেখেই মুগ্ধ হতাম । 
ভুলতাম এবং ভূলে যেতাম । তাই এখন তো কোন নাম মনে পড়ে না_ সেই 
ডগলাস্‌ ফেয়ারব্যাংকস, মেরী পিকৃফোর্ড, চাঁলি চ্যাপালন ছাড়া । বোধ হয় 
[নবাক ছবিতে হাত-প৷ নাড়া লাফ-ঝাঁপ একটু বোঁশই প্রয়োজন । ভাবভা্গ 
চাই, কারণ বাকা নেই । না হলে ফিল্ম সচল জীবন হবে ক করে 2 হয়তো 
বাকস্ফতির অভাবটা প্রাণস্ফাতি দিয়ে ভরানো প্রয়োজন। আশ্চর্য আভিনয়-নৈপুণ্য 
হিল শিল্পীদের । সবাক যুগে এখন বাকের বর পেয়েছে ফিল্ম, কিন্তু বাক্যের 
6 আযাটলান্টিকী টাইফুন-এর মতোই মাঝে মাঝে মনকে দুমড়ে দেয় । তথাপি 
আমার তো সেই প্রথম দিককার দেখা ছবির কথা এখন আর বিশেষ মনেই 
পড়ে না-ডগলাস ফের়ারব্যাংকসৃ-এর দুরস্ত প্রাণচাণ্চল্য যতটা অবাক হয়োছ 


৯২ রূপনারানের কুলে 


ততটাই মনে করোছি তা মান্রাছাড়া । এমন কি, চ্যাপালন-এর ফিলা-এর অদ্ভুত 
উন্তাবনাও ভাবভাঙ্গতে হাসতে হাসতেও মনে করেছি "চমৎকার--কিস্তু একটু 
ভাড়ামও 1 আসলে চ্যাপালিনের প্রাতভার সন্ধান প্রথম পাই “কীড'-এ, 
তারপরে 'গোলড্‌ রাশ, শসটি লাইট” যখন দেখি তখন তার স্বরূপ বুঝলাম । 
তবে আমার চোখে চাঁলির চরম সৃষ্টি 'মসিয়ে ভার পরমসৃষ্টি 'লাইম্‌ লাইট ।' 
আমি ফিল্মের নিছক দর্শক, কলারাসক বিশেষ নই । তখন তে নই-ই। 
আর দর্শন করতে যেতাম প্রায়ই সে ছবি যা উপন্যাস হসাবে বা এীতিহাপসিক 
কাহিনী হিসাবে আমার জানা । তাতে ঠকতেও হ'ত । একবার তলস্তোয়ের 
শলভিং কর্পস' দেখতে গিয়ে দেখি শেষটা ট্রাজেডি থেকে তা কমিডিতে 
রুপান্তরত । ষ। ঘটেছে “সব স্বপ্ন 2 ছবিটা সম্বন্ধে আমার মনের ভাবটা 
হয়েছিল “সব ঝুটা হ্যায় তবে 'ল্য মিজারেবল', 'হাণব্যাক অব নতরদ্যুম*; 
কিম্বা “কুয়ে। ভাঁদস্‌ প্রভীতি ছাব এলে তা৷ দেখবার জন্য খুন চেপে যেত। 
উপেনেরও তাই । মোটা উপন্যাস দেখলে সে বলত-'থাক। ছবি হয়ে 
আসুক ।' সাহিত্যে তার রুচি নেই-ব্যতিক্রম ছিলেন একজন, শরৎচন্দ্র । 
অবশ্য তখনো তার বই ছবি হয় ি-দেশী ছবি দেখা দেয় নি। দেখা যখন 
দিল তখন আমর৷ তাতে বিরূপ হয়োছলাম । প্রথম দেখ 'ইল্যাও রিটার্নড'-_ 
হাসি ছাড়া আর কি পাবে 2 তখন মেরী পিকৃফোর্ড প্রাসদ্ধা। মনে আছে, তার 
একটা ছবির বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল “লক্ষ হৃদয়ের বাঞ্ছতা”-_'সুইট্‌ হার্ট অব দি 
িলিয়নস্‌' । হিন্দু হোস্টেল থেকে বোরিয়ে দু'জনায় চলাছ--বাইরের দেয়ালে 
দোঁখ প্লেকার্ড_মেরী পিপিকৃফোর্ডের ছবিশুদ্ধ এ বিজ্ঞপন। উপেন দেখে তাড়াতাড়ি 
'মিলিয়নের' পরে কলমের কালি দিয়ে জুড়ে দিল “+ 1” ; আমি বললাম, 'একি 
করাছস' । উপেন বললে, “আমার কথাটা বাদ গিয়েছিল, শুদ্ধ করে দিলাম |, 
হাসতে হাসতে দুজনায় চললাম আবার বউবাজার হয়ে চৌরাঙ্গর দিকে । 
উপেনের মতে রূপসী মাত্রই-নেহাত নিকট আত্মীয়া না হলে-প্রেয়সাঁ। 
“চোখে নাই বা দেখলাম । না পেলাম তার চুম্বন-আিঙ্গন | এ বিষয়ে 
কন্তু “ওদের' ও 'আমাদের' প্রাত উপেন সমান অপক্ষপাত । 

একটা জায়গায় ফিন্তু উপেনের পক্ষপাতিত্ব দেখেছি-খেলার মাঠে, 
বিলিতী দলের সঙ্গে দেশীয় দলের খেলার সময়ে । “ভারতীয় বনাম রুরোপীয় 
ছিল সোঁদনের বিশেষ প্রাসিদ্ধ ফুটবল খেলা । সে খেলায় আমাদের না গেলেই 
নয়। বিভিন্ন ক্লাবের এক-আধাঁট করে বাছাই করা প্রেয়ার নিয়ে দু'দল 
তাদের পক্ষে হঠাৎ সেদিন খেলার মাঠে জোট বাঁধা সগ্তব হয় না। স্ব-স্থ 
ব্যন্তনৈপুণ্যেই তারা খেলত | তবু খেলা জমত- খেলোয়াড়ের গুণে যেমন, 


যৌবনের যারারন্ত ১৩ 


তার চেয়েও বৌশ দর্শকের আগ্রহ-উত্তেজনায় । তবে দু'-একজনের খেলা 
সত্যই দেখবার মতো-_শাদার দলে নাইট, বেনেট, আর কালার দলের কুমার, 
বলাই চাটুজ্যে, গোষ্ঠ পাল, বিশেষ করে সামাদ ৷ সামাদকে চিরাদন খেলতে 
হয় বাজে দলে,_নিয়াতর পাঁরহাস । কিন্তু আন্তর্জাতক খেলায় সোঁদন দেখা 
যেত নিয়াতির ওপর সামাদের টেক্কা মারা । সে কি খেলা, জাদু । বাঙালি 
খেলোয়াড়রা গোলের মুখে বল নিয়ে গেলেও সেখানে ঠিক তালগোল পাকায় । 
একে অন্যের থেকে বল কেড়ে তে যায়। সামাদের সে গরজ নেই। 
প্রাতপক্ষর থেকে সে বল কেড়ে নিতে জানে । আশ্চর্য তার কৌশল । যতটুকু 
খেল৷ কোথাও নুটির দেখা নেই । বল যখন একবার সামাদের পায়ে যেত তখন 
আমরা কালার দল আশা -উত্তেজনায় আঁম্ছর হয়ে উঠতাম । ভাঙ চিনেবাদাম 
মুখে যেত না, শন্ত-মুঠোয় তা চূর্ণ হ'ত । মুখের সে অবসর নেই, তারস্বরে 
চীৎকার উঠেছে সামাদ, সামাদ, সামাদ । সে উত্তেজন। চতুদিকে সহমত কণ্ঠে । 
উপেনের চিনেবাদামসুদ্ধ মুঠো কর হাত কখনো উধ্র্বে উঠছে, কখনে। 
সামনে প্রসারত, আর কখনো আমার দুবল ক্বন্ধের শান্ত পরীক্ষা করছে । 
আমারও আশায়-আশঙ্কায় বুক টিব্‌ টিবু করছে । কিন্ত স্কদ্ধের পরীক্ষাও 
সামান্য না। বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলাঁছ, 'করাছস কী 2-বল তে 
আউট: হয়ে গেল। সামাদ আর কী করবে? তারপর টিঞ্পনী কেটে বলি 
“ওদের সঙ্গে নোটব্‌দের তুলনা কোথায় 2 উপেন একটু দম নেবার চেষ্টা করে 
বলটা সাঁত্য আউট হয়েছে । হাতের চিনেবারদাম মুখে পোরে । গনম্ভীরভাবে 
বলে, দ্যাখো, (এবার আমি আর দ্যাখ" নই, দ্যাখো" ) সব সময় ইয়াকি 
নয় । এ 'সাঁরয়াস্‌ মেটার । জীবন-মরণের প্রশ্ন ॥ তার চোখ-মুখ আরন্ত | 

সত্যই 'জীবন-মরণের খেলা' হ'ত সোঁদন খেলার মাঠে । এ্যাণ্টি ইম্পারিয়াল 
জন্-এর এমন পাঠ সাধারণ মানুষ আর কোথায় পেত ? জে. এল. বাড়ুজ্জের 
বস্তুতার ঝড়ে, না বাপন পালের মেঘগজনে £ সত্যই, উপেন ষে উপেন, 
সেও সোঁদন 'নয়াতর পাঁরহাসে নিজেকে 'নোঁটব্‌* মেনে ফেলত- ব্লাড ইজ 
থকার দ্যান ওয়াটার ।' বলমান রৃপগুণ বিলাস বৈভব যত কিছু “ওদের' 
থাক, সামাদই তার আপনার । 

এই বস্তুনষ্ঠ বন্ধাটি জীবনের আরও বাস্তব পারহাস থেকে নিস্তার পায় নি। 
আই-এস-সি. পাশ করে তার ডান্তার হওয়া হ'ল না। পরীক্ষার মার্ক ছাড়াও 
মোঁডক্যাল কলেজে ভরাতির যোগ্যতা -লাভ তার পক্ষে দুঃসাধ্য ?ছল না। ভতির 
যোগ্যত। অন্য বস্তুর মতোই অর্জন করা যেত । উপেনেরও ত৷ অসাধ্য হ'ত না। 

সে কোর্ট অব্‌ ওয়ার্ডস্‌-এর “নাবালক”, তার শ্বেতাঙ্গ আঁভভাবকরা মানবে 


০. বপনারানের কূলে 


'ফেন বে মোঁডিকাাল কলেজে বানার্ড প্রমুখ পাকা আই-এম-এস্দের যথোচিত 
দাক্ষণা দিয়ে ভরাঁতর পথ সুগম করতে হয়। উপেনের থেকে পরাক্ষায় 
খারাপ করেও অনেকে ভরাতি হ'ল । কিন্তু উপেন ভরাতির অযোগ্যই রইল । 
সরকারী আভিভাবকরা কিছুতেই দু-একটা রোগী দর্শনের 'দক্ষিণার' বন্দোবস্ত 
করলে না। কারমাইকেল মোঁডক্যাল কলেজে সে ভরাত হতে পারত ; কিন্তু 
উপেনের মাপকাঠিতে তার হাসপাতালে না আছে ডান্তারি শেখবার মতো 
আয়োজন-প্র, না তার ছাত্রদের চাল-লনে, পোশাক-পাঁরচ্ছদে, কথাবার্তায়__ 
ডান্তারী ছাত্রের যোগ্য স্মার্টনেস্‌ ও মর্যাদাবোধ । বি এস-সি-তে পরীক্ষার বছরে 
সে ও কয়েক বন্ধু পড়ে গেল কলেজের অধ্যক্ষের কোপে । স্যার আশুতোষের 
পায় তাদের পরীক্ষা বন্ধ হ'ল না। যেমন করে হোক পাশ করে উপেন 
ব্যবসার ক্ষেত্রে ঘোরাফেরা করাছল--বান পয়সার এপ্রোন্টিস্‌ থেকে শেষে ইস্তফা 
দিল সে চাকারর আশা । নিজের পর্ণজ নিয়ে গেল শেয়ারের বাজারে । 
উপার্জন হাচ্ছল। আমাদের জানাত অরেকটুকু সুস্থির হলেই আমাদের মতো 
ভীতু বদ্ধুদেরও সে একটা “ডসেন্ট- লাইফ্‌এ স্থাপিত করবে । “উইক্‌-এও 
করবে- তোমরা আমার সঙ্গে বাইরে থাকবে ইউরোপীয়ান স্টাইলে । কলকাতায়ও 
এক-আধ সন্ধ্যায় থাকবে ডিনার । 'বালতী পানীয় থেকে বণ্চিত থাকবে 
না-উইকৃ-এণ্ডে আরও পাবে ফেয়ার কম্পোন বাট রেস্পেক্টবল্‌ এ্যাও ডিসেন্ট |” 
কিন্তু সেই সৌভাগ্য আমাদের লাভ হবার আগেই এল ১৯২৯, মন্দার বাজার । 
মাকিন রাজ্যের ভাগ্যবিপর্ষয়ের সঙ্গে উপেনের ভাগ্যের ভরাডুবও ঘটল 
কলকাতায় । ১৯৩৭-এ জেল থেকে বোরয়ে শুনলাম- সকল কিছু থেকে নিজেকে 
ছাঁড়য়ে নিয়ে সাহেব-অনুরাগী উপেন হ্যারিসন রোডের একটা হোটেলের 
কোটর আশ্রয় করেছে । কিছুতেই ফোনে ছাড়া তার সঙ্গে কথ। হয় না- সাক্ষাৎ 
সে করবে না। আরও পরে শুন্লাম একাদন-দ্বিতীয় যুদ্ধের মধ্যে সেই 
স্বাস্থ্যবান, রুচিমান, বন্ধু-আমাদের অগোচরে- কীচড়াপাড়ার যক্ষা হাসপাতালে 
নিবে গয়েছে। মনে হল আমাদেরই ক নিয়াত কম পাঁরহাস করেছে । 


আমার কলকাতার সঙ্গে পারচয়ে প্রথম বংসর উপেনই ছিল সঙ্গী । পর 
বৎসর চারু, সাধু, উপেন রায় প্রভৃতি এসে গেল। খেলা ফলকাতায় এসে একে- 
বারে ছেড়ে 'দিই-বকালে হেদুয়া থেকে হেঁটে যেতাম 'হন্দ্র হোস্টেলে, দু'বদ্ধুতে 
“বনমালীর' মিষ্টতে কিপিং রসনা তৃপ্ত করে বোরয়ে পড়তাম-সেই বউবাজার-__ 
কেগ্ডারডেন লেন ধরে গলিতে চাদাঁনর দিক দিয়ে এস্প্লানেড--তখনো সেনগ্রাল 
এ্যাভিনুর স্িম-এর কর্ম-সূচনা হয় নি-বাড়ি ভাঙা শুরু হয় কিছু পরে। 
এস্‌প্রানেড থেকে কখনে৷ হগ্‌ সাহেবের বাজার ঘুরে চৌরঙ্গী ধরে যেতাম বরাবর 


যৌবনের ধান্নারন্ত ৬৫ 


'আর কখনো এস্প্লানেড থেকে কার্জন পার্ক পৌরিয়ে ইডেন গার্ডেন, আউটরাম ঘাট 
সেখানে খোল! ফ্লাটে বসে গঙ্গা দেখ । শুধু আম আর উপেন নয়, বৎসরে 
বৎসরে আমাদের পুরনো বন্ধুরা কলকাতায় এলে, চারু, উপেন, প্রফুল্ল, 
আমরা গ কলে-এই ভাবেই বিকাল ও সন্ধা কাটিয়েছি । আউটরাম ঘাটে ছোট- 
বড় শত শত নৌকা চলছে । পোর্ট কমিশনারের স্টিমার কাছের জেটি থেকে 
শিবপুর যায় । সম্পন্ন ও পদচ্ছ কেউ কেউ তাতে দৈনান্দিন যারী- সন্ধ্যাকালে 
গঙ্গায় নৌ বিহার ও গঙ্গার হাওয়। খাওয়া । ওপারে হাওড়ার কল-কারখানা । 
সূর্য অস্ত যায়, তার আভায় কলের কালো ধোঁয়া তামাটে হয়ে ওঠে । ধারে 
সন্ধা নামে-নিচে সেই চিরাঁদনের গঙ্গা-যা এদিনের গঙ্গার মত স্রান-মুমূর্যু 
নয় । আউটরাম ঘাটে তখনো বিলাতের জাহাজ এসে ভেড়ে-দু' একদিন দোঁখ 
[বলাতের যাত্রীরা নামছে । একাঁদনের কথা তো বেশ নে পড়ে-সে অবশ্য 
বছর দুই-তিন পরের কথা । আমরা কয়েক বন্ধু বসোছলাম ; দেখলাম জাহাজ 
এলো । দেখতে না দেখতে যাত্রীরা নামতে শুরু করলে ৷ সব শাদা মুখ নারী 
পুরুষ ৷ কী তাদের ব্যস্ততা_যেন দেরী সয় না; জাহাজের একঘেয়ে জীবন থেকে 
পাড়ে নামতে পারলেই বাচে। আর পার পাওয়৷ শুধু নয়_ক্যালকাটা ! প্রাচুর্য, 
আরাম, আয়েস, যা দেশে তাদের ভাগ্যে জোটে না, সেখানে তে। ওরাও" আর 
“ওরা” নয়, যতই থাক ভারতের লুঠ-কর! টাকায় স্বচ্ছলতা, বাবুচি-বেয়ারা 
খানসামা-আয়া দেশে কোথায় পাবে ? সবই নিজেরা । খাটতে খাটতে প্রাণ 
বোরয়ে যায় । 

নামছে, নামছে, নামছে । কালো অর্ধনগ্ন কুলীর৷ ছুটছে মালপন্ন বহন করে 
তীরে নামাতে । আর তাদের চিন্তা নেই, আর তাদের মল বহন করতে হবে 
না, রাধতে হবে না বাড়তে হবে না-এবার আরাম । ক্যালকাটা । নামছে, 
নামছে,-তাদের দেরী সয় না । এক-একটা জাহাজে সামহব-মেম আসছে কত! 
না দেখলে তার অর্থ সম্পূর্ণ বুঝতাম না- হয়তো সংখ্যায় তিনশ ক চারশ, 
কিম্বা তাও নয়, কিন্তু দেখে বুঝতে হয় তার অর্থ। উল্লাসত, বেশভূষায় 
সুসাজ্জত, ফ্যাশান-দোরস্ত, আঁভনন্দনকারী আত্ীয়-বন্ধু সমাগমে উৎফুল্ল, 
করমর্দনে, আলিঙ্গনে, চুম্বনে উদ্ভাসিত শ্বেতাঙ্গ ও শ্বেতাঁঙ্গনীর পাল, সঙ্গে কিছু 
কিছু এ দেশের শাদা ক্ষুদে মুনিব,--সকলের মুখে স্বাঙ্ছ্য, স্ফৃতি, সুনিশ্চিত 
স্বাচ্ছন্দ্য-বলাসের সম্ভাবনায় স্বতঃস্ফৃর্ত নিশ্চন্ততা, দৃঢ় প্রত্যয় এই 'এম্পায়ার', 
তারা এর রাজা, তারা এম্বর্ষে সৌন্দর্যে এ দেশে রাজত্ব করবার জন্য জন্মেছে-- 
জীবনের সব দান এখানে তাদেরই আয়ত্তে । তারা জীবনকে উপভোগ করবে, 
তার সকল সুখ-আরাম দু'হাতে ভোগ করবে । -দেখতে দেখতে আপন থেকে 


১৬ রূপনারানের কুলে 


আমাদের কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে-মন বিষাদে গম্ভীর । সন্ধা হয়ে গেল, 
জাহাজের যাত্রীও কমে গিয়েছে । আলো আলে গিয়েছে বেশ খাঁনকক্ষণ 
আগেই । জাহাজের আলো, নৌকোর আলো, ওপারে কল-কারখানার আলো, এ 
পারের পথ-ঘাটের আলো-নিচে গঙ্গা বহমান, কম্পমান আলোর মাল! দু'লিয়েও 
যেন বিষণ্ন অন্ধকার । ওঠো", কে একজন বললে, "ফরতে হবে । উপেনই 
প্রথম বললে, 'দেখলে তো, এক-একট৷ জাহাজে কত ওরা আসছে ।, তারপর 
একটু হতাশ ব্যঙ্গে, আর তোমরা ভাবছ ওদের তাড়াবে 1 অনেকেরই মনে 
এই হতাশা । নিজেদের মন থেকে তা ঝেড়ে ফেলা যাবে না । কিন্তু চাপা 
দেওয়া যাক লঘু রঙ্গ-রাঁসকতায় । বললাম,_অমাঁন করেই জাহাজ বোঝাই 
তুলে দেব ওদের সবাইকে এই ঘাট থেকে_-সাহেব, মেম, আওী-বাচ্চা সুদ্ধ । 
উপেন তৎক্ষণাৎ উত্তর দলে, 'কখনো না! মেমসাহেবগুলোকে রেখে 'দতে 
হবে-না হলে স্বরাজের কী মূল্য থাকবে ? সকলেই হেসে উঠলাম । আবহাওয়া 
লঘু হল। কে বললে, “তোর তাতে লাভ ? তুই তে৷ “ওদের দেশেই চলে 
যাব । আমার জন্য আম বলছি নাক? তোদের জন্যই বলাছ-ওদের 
[নিয়ে তোরা একটু ফুঁতি করাব--ওদের সঙ্গে লাইফটা এন্জয় করতে শিখাঁব । 
হাস্য হোক পাঁরহাস হোক, এই বন্ধুদের সঙ্গে ওই গঙ্গার ধারে বসে, 
চৌরঙ্গীর ধারে হেঁটে হেঁটে, পথে ঘুরে ঘুরে, সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যায় কলকাতার এই গঙ্গা- 
[বধোত রূপ দেখতে দেখতে, এই নদী-পালিত বাঙাল রন্তধারা অজ্ঞাতে এই 
গঙ্গার সঙ্গে, কলকাতার সঙ্গে, আত্মীয়তার বন্ধন খুজে পেয়েছিল কিনা কে জানে 
_ কিন্তু কলকাতায় প্রথম এই গঙ্গার পারের কলকাতা আমার ভালো লেগেছিল । 
আর সেই সঙ্গে তার মাঠ-ময়দ্ান, তার পথঘাট, চৌরঙ্গীর উজ্বল শ্রী, তার 
উল্টে৷ দিকে গাছপালার আলো-ছায়ায় বোনা থিয়েটার রোড পর্যন্ত বিস্তৃত 
ময়দানের ধারের লাল শুরকির নিন 'লাভার্স লেন, আমাদের ডাফ স্ম্রীটের 
কৃষ্ণচূড়ার একান্ত শ্রী, তখনকার হেদুয়া-বিডন স্্রীট অণ্চলের নাতিপ্রথর 
স্বচ্ছন্দ স্বচ্ছল বূপ-এসবও ভালে৷ লেগেছিল । পত্য কথা, মিউজিয়াম ভবনের 
অচণুল আত্মমর্ষাদা, হাইকোর্ট, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, চৌরঙ্গীর বালতী- 
বৈভবের উদ্ধত দৃঁষ্ট, সাহেব পাড়ার সবত্ব পালিত পার্ক, পথঘাট, বাগান ঘেরা 
বাঁড়ঘর,_-যতই 'এ সবে মিলিত থাক আমাদের জাতীয়ু-পঙ্গুতার সাক্ষ্য, অথবা 
বাঙালিপাড়ার শোভাবাজার বা পাথুরিয়াঘাটা জোড়াসাকো পাড়ায় কোম্পানির 
দাক্ষণ্য-মাথা বাঁড়ঘর--পথে তখনকার তের্জীয়ান ওয়েলারের জুড়ী গাড়ি, বা 
নতুন হাওয়৷ গাঁড়,_এ সবের দিকেও চোখ মেলে কৌতৃহলে চেয়ে থেকেছি ।-_ 
না, আজব নয় তবু মনোরঞ্জক ৷ কিন্তু গঙ্গাপারের পটে যে কলকাতাকে ঠ1থম 


যৌবনের যান্রারন্ত ১৫ 


থেকেই আমার পদ্মাপারের চোখে আপনার মনে হয়েছে-সেও কি একছু মনের 
মায়ায় মাথা নয় 2 হেদুয়া, গোলাদঘি, সিনেট হাউসের কলকাতা, সংস্কৃত কলেজ, 
হন্দু কলেজ, ডেভিড হেয়ার, মধুসূদন, বিদ্যাসাগরের স্মৃতিসুরাভিত কলকাতা, 
যেখানে মনুমেন্টের মাথায় ত্রিবর্ণ পতাকা উীঁড়য়ে দিয়েছে ১৮৩২-এ 
ইয়ংবেঙ্গল ; যেখানে স্বদেশীর জন্ম, রাখবন্ধনের সূচনা, ভারতীয় জাগরণের 
বোধন, উত্তর-দাক্ষণ প্ব-পশ্চিম সকল জাতির ভারতীয় মানুষের পদপাতে 
যার পথে পথে ভারতীয় মহাজাতির পদধবাঁন বাজে-সেই ধুঁলিধৃসারত দেশী 
পাড়ার কলকাতা, তারই জন্য গোপন আশা মনে নিয়ে ও আত্মীয়তা বহন করে 
আমি এসেছিলাম । একটু একট করে ক্রমে সে আশা একদিকে পরিণত হয়ে 
গেল মমতায় । এই কলকাতার পুরানো বই-এর দোকান, এলবার্ট হলের ও 
নান গ্রস্থাগারের পাঠব্যবস্থা, তার মাঠের খেলা ও রাজনীতির সভার মত 
তার “বদ্যাসাগরের গ্রন্থ-সংগ্রহে গোরবাদ্বত সাহত্যপাঁরষদ, বিজ্ঞান কলেজ, 
বজ্ুচুড় বসু বিজ্ঞান মান্দর, আর সমবায় ম্যানসনের ওঁরয়েপ্টাল আর্ট সামাঁত__ 
যে কলকাতার হেদুয়ায় দোঁখ সতোোন দত্তকে, ডাফ: স্ত্রীটে ঠিকে গাঁড় ভাড়া 
করতে দেখি ব্রজেন্দ্রনাথ শীলকে-কলেজে যাবেন, পথের ধারে কলের তলায় 
করুণানিধানকে দেখি প্লান সেরে ভেজ। কাপড়ে অদূরের ভাঙা বাড়তে ফিরছেন, 
যেখানে সত্যেন বোস সুনীতি চাট্ুজ্জেদের মতই হঠাৎ রামানন্দ চাটুজ্জেকেও 
দেখি কর্নোওয়ালস্‌ স্্রীটের সামনে,_-এই মনে মনে চেন৷ কলকাতা প্রাতীর্কার 
পরিচয়ে-পারচয়ে আমাকে তার সঙ্গে ব্মে কমে মমতায় বেধে ফেলল । 
অন্যাদকে সেই কলকাতাতেই আম আবিষ্কার করলাম আমার আজন্মের বাঙাল 
সন্তাকে। আমার যে-সন্তা পদ্মার বুকে_ ঢাকা-বিক্রমপুর-নোয়াখাঁলর মেঘনার 
কোলে দোল খেয়ে-খেয়ে পুলকিত, ঘনশ্যাম গাছপালা, ঝাউ-নারকল-হজল- 
সাপলা-বাশঝাড়-বেতবনের সঙ্গে মিলৌমশে অচেতন আনন্দে বাল্য-কৈশোরকে 
আপন গন্ধে মুগ্ধ কন্তুরী মৃগের মতই ছুটে ছুটে নিয়ে এসেছে যৌবনের দিকে_ 
একবারের মতও হাঁতিপ্‌্বে সচেতন হয়ে বুঝতে পায় ?ন সেই বাঙাল 'বাঙলার 
রূপকে'_পৃববঙ্গের নিসর্গ-সত্তার মধ্যে আমার যে-সন্তা তখনে। ছিল 'নমজ্জত, 
আমারই নিকট অনাবষ্কৃত- এই কলকাতাই গঙ্গার নাতিপ্রথর প্রবাহ ও তার 
পৌর-পারবেষ্টনের মধ্যে আমাকে গ্রহণ করে, মমতাময় হাতে আমার চোখ খুলে 
দিল আমার সেই পুববাঙলার জন্মগত প্রকাঁত-পরিবেশের দিকে । এই 
কন্গ্তাতার প্রথম পাঠ-অনুভূতির এই উত্তরণ। সেই পদ্মা-মেঘনার দুধার বিস্তাত 
ও গর্জন, মেঘবৃষ্টি মুখর বাঙলার সকাল-সন্ধ্যা ঝিশঝ'-ডাকা, জোনাকি-ফোটা 
বনজঙ্গল, বাশঝাড়ের গা ছম ছম করা শব্দ, ঝাউগাছের মাথায় মাথায় 
্‌ 


১৮ বুপনারানের কূলে 


বাতাসের রুন্দন-সাপলা-ফোটা বিক্রমপুরের খালাব্, জোয়ারে গারক্ষাত 
নোয়াখালির নদীর যৌবন-মদমন্ততা, পদ্মা-মেঘনার 'মলন-উল্লাসের উদ্দাম 
এব্য, নোয়াখালির বিস্তৃত খোল মাঠে 'দিগ্রহরে চন্লাকারে ওড়। চিলের ছায়ায় 
অনুকমণ, আর লামান্য শহরের লাল সুরাঁকর পথের দুধারে বু'কে-পড়৷ ঝাউ- 
গ্রছের সেই মিলন-বিরহের অনস্ত আলাপ-এস্বু আবালোর দেখা সেই 
সঙ্গীদের মন দয়ে গ্রহণের মত অনুভীতিও আমাকে দিল কলকাতা-কলকাত। 
আমাকে দিনে দিনে দৃফিদান করলে । 


দ্বিতীয় পারচ্ছেদ 
লাগল না_লাগল ন! 


আমার কলেজ-জীবন মান ছয় বছরের ( ১৯১৮-১৯২৪ )। কলকাতাতেই 
তা কাটে । অবশ্য, তারও একটা বড় অংশ আবার ছুটিতে নোয়াখাঁলর জীবন । 
আর সে সময়ে এক-আধবার পাটনা, দিল্লী প্রভাত ভ্রমণ। কলকাতার বাইরের 
কলেজ-জীবন, কতকটা কলকাতার উল্টো জীবন । যৌবনের জোয়ার দুই পার 
ছাঁপয়ে বান ডেকে আসছিল তখন দেশের জীবনে, ও যুগের জীবনে--তার 
মধ্যে আমার যৌবন নিজেকে না হারিয়ে স্থির হতে পারত না । সে কথাটা 
বুঝেও যেন ষুঝবার দরকার বুঝতাম না তখন । ঘটনার পরম্পরায় ভাবতে গেলে 
তার ঠিক পাঁরমাণ হয় না । কলকাতাই তো৷ একট৷ ব্রমপ্রকাশিত অনুভূতি, 
আর &ম-বিকাঁশত উপলীব্ব-_অস্তত আমার কাছে । গত প্রায় পণ্চাশ বংসর 
তা বুঝতে গিয়েছে । সেই প্রথম পাঁচ-্ছয় বংসরে যার আমার মনের কলকাতা 
জেনে না-জেনে গড়ে তুলেতে সাহায্য করেছেন * তাদের অনেক মুখই এখনো 
আমার চোখে প্রত্যক্ষ-অনেকে তারা আমার প্রথম বয়স থেকেই আত্মীয়-বন্ধু- 
চারুলাল মুখোপাধ্যায়, উপেন সেন, অনুতোষ সেনগুপ্ত, উপেন রায়, দীনেশ গুহ 
আর আমার ভাই প্রফুল্ল হালদার (সাধু) প্রভাতি নোয়াখালর তখনকার 
বন্ধুরা । আরও অনেকে আমার কলকাতায় পাওয়া ছান্রাবাসের সতীর্থ, অগ্রজ 
বা অনুজ সহযানী-সজনীকান্ত দাস, বিমলাকান্ত সরকার, সতীন্দ্রনাথ বসু, 
শিবদাস রায়, সুধেন্দু ঘোষ, লাল৷ গোপালপ্রসাদ, বিভীতি দত্ত, সুধাকান্ত দে, 
শিবশরণ চৌধুরী, পাঁরমল রায়, গিরিধর চক্রবর্তী প্রভাতি। আর হাডিং 
হোস্টেলের অন্তত একজন-_বিনয় মুখোপাধ্যায় । কলেজের সহপাঠীদের মধ্যে 
অবশ্য রবীন্দ্রনাথ বসু, ধীরেন্দ্রনাথ পাল, অন্রদা দাশগুপ্ত, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, 
সুধীর সেনগুপ্ত প্রভৃতি ইংরেজি সাহত্যের ছাত্রদের কথা সবাগ্রে মনে পড়ে । 
আমাদের বংসরের প্রোসডোব্স কলেজের কেউ কেউ কম সুহৃদ ছিলেন না-_ 
পতপ্জলি ভট্টাচার্যের ও বিজয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা-শোনায় সে সৌহার্দ্য অক্ষুণ্ 
ছিল, 'কন্তু দেখা-শোনার অভাবেই কি আঁসতারঞ্জন মুখোপাধ্যায় কিস্বা৷ হার- 
প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এককালের সম্পর্ক কিছুমান্র খব হয়েছিল ? তা ছাড়া, 
বন্ধুদের বন্ধুরাও তখন অপাঁরচিত থাকতেন না এমন কি, দাদার বদ্ধরাও না। 


*এ'র৷ অনেকেই নেই-_অনেকে পূর্বেই গিয়েছেন । তবু অনেকে লেখার সময়ে 
ছিলেন। প্রকাশের পূর্বে, প্রায় সকলেই বিদায় নিয়েছেন ।-_লেখক। 


২০ বুপনারানের কুলে 


আর যৌবন-জল-তরঙ্গ 'ি দুটি কলেজীয় সমাজেই আবদ্ধ থাকার মত ? অবশ্য 
সহপাঠী বা সমকালীন সে-সব ছাত্ররাই সে জীবনের প্রধান জানস। তবে 
ছান্র-জীবনের প্রধান আশ্রয় অধ্যাপকরা, তারাই সে জীবনের শাণ্পকার-- 


'ইঞ্জিনীয়ারস্‌ অব্‌ ইয়ং সোল্‌স্‌? | 


“ছান্র আর অধ্যাপকের যেখানে মিলন সেখানেই 'বশ্বাবিদ্যালয় ।” 'সিনেটের 
এক সভায় কথাটা বলোছিলেন আচার্ষ জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ ! সে বোধ হয় ১৯৫৩ 
সাল বা '৫৪ সাল । তান তখন কলকাতা 'বশ্বাবদ্যালয়ের উপাধাক্ষ, 
আমি 'সাঁওকেটের সদস্য । তার মত সুযোগ্য ভাইস-চ্যান্সেলর কলকাতা 
বশ্বাবদ্যালয়ও বেশি লাভ করে নি। এ 'বিশ্বীবদ্যালয় “স্যার আশুতোষের 
বিশ্বাবদ্যালয় ।' আমাদের ছান্র-জীবনে স্যার আশুতোষকেও ভাইস্-্যান্সেলর রূপে 
আমরা 'কছুর্দিন দেখোছি--তিানি তে। নর-শার্দল, 'বেঙ্গল টাইগার, তার সঙ্গে 
অন্য মানুষের তুলনা করা সহজ নয় । জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের ঠিক পরে 
অধ্যাপক ?নমনলকুমার সিদ্ধান্ত হন ভাইস্‌-চ্যান্সেলর । ও দু'জনার তুলনা তাই 
আঁনবার্ধ । তাদের বোশষ্টাও অনস্বীকার্য । দু'জনাই এখন নেই । নিজ নিজ 
বৈশিষ্ট্য সহ দু'জনাই আমার চোখে এখনো ভাস্বর । এ প্রসঙ্গে সে কথা 
অনাবশ্যক । শুধু ভুল বুঝবার মূল না থেকে যায় ভেবেই তবু কথাটা বলা । 
এখানে প্রাসঙ্গিক হচ্ছে জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ মহাশয়ের উদ্ধৃত কথাটা-ছান্র ও অধ্যাপক 
নিয়েই বিশ্বাবদ্যালয় । ইমারত, ফাঁনচার গোৌণ। -কম্তু বিজ্ঞানের 
ল্যাবরেটার ও লাইব্রেরীও কি চাই না? সে-প্রসঙ্গও আপাততঃ থাক ; 
_-একালের শিক্ষায়োজনে আরও অনেক উপাদানের প্রয়োজন । তবে সকল 
কালের বিশ্বাবিদ্যালয়েই অপারিহার্য ছান্র ও অধ্যাপকদের পারস্পরিক যোগাযোগ । 
গুরুগৃহ-বাসের তাৎপর্য সেখানেই । তা না থাকলে একালের 'ইউনিভাঁসিটি 
কেম্পাস্‌*-মহারণ্য, মেদবাহুল্যে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে 'ডাঁগ্রর 
কারখানা, বা কলেজ পাশের পশারী বলাই ভালে । 

আম বিজ্ঞানের ছাত্র নই-সে খেদ জীবনে রয়ে গেল । ছান্র-জীবনে কিন্তু 
তা বুঝা ন। সাহিত্য ও রিকি ছিল রুচি-ঝোঁক ছিল আরও অনেক 
দিকে । এ উদ উৎসুক হত। কিন্তু বুঝতাম, বিজ্ঞান 
দুর্গম, গাঁণিতের বুর্ারিং৬ ইক তুটিঅবজ্ঞ। করোঁছ ভুল জেদের বশে । 
গৃহে শুনতাম গাছ দল দহ 
দিকে তার প্রস[ বীালে ছু'ইয়েই দূরে রেখে দি । 
আমাদের ছা্র-্ দর এদেশে মুক্ত হয় নি। মানু 









লাগল না_লাগ্‌ল না৷ ২১ 


দু'ট দুয়ার একটু ফাক হয়েছে-একটা ইঞ্জনীয়ারিং-এর, দ্বিতীয়টা ডান্তারির 
ইঞ্জিনীয়ারং-এর প্রবেশের পথ পেত এক-আধ ডজন ছান্র। কাজেই সে দুয়ারে 
ধর্ন দেবার কথা মাথায় আসতো না । মৌঁডক্যাল বিদ্যার অবশ্য তখন সমাদর 
দেখা দিয়েছে । দু'টি কলেজের দুবার কৌলীন্য- প্রধানত, বৈষায়ক কারণেই, 
এমন কি, বিয়ের বাজারেও | ও-বাজার ছাড়া অন্য কোন বাজার বাঙালী ছেলেদের 
কাছে খোলা ছিল? নিজের নির্বদ্ধিতার জন্য পরে অনুশোচনা করা চলত । 
তখন সে বুদ্ধি হয় নি। যাই হোক, ইঞ্জিনীয়ারিং-এর রুদ্ধ-প্রায় পথ ও 
মেডিক্যালের ভিড়ে-ভারী পথে প৷ বাড়াতে না পারলে আমাদের কালে 'বিজ্জানের 
ছাত্রেরও গাঁতি ছিল-সেই ওকালাতি, মাস্টার কিংবা কেরানাগার । শিক্ষার 
খোল। বাজারে সব একদর । এত সব কথা বিচার করি নি. বিচারে মাতও 
ছিল না, তাঁগদও ছিল না। যা বাঁড়র সকলে পড়েছে আমিও তাই পড়তে 
গেলাম । পহউম্যানিটিজ'-এর পথ চেনা-জানা পথ--“লবারেল এড়ুকেশন' 
কথাটা অর্থ-শৃন্য মনে হত না। 


কতলতেজন্র পাত 


স্কাটশ চার্চেস কলেজে আর্টস্‌ বিভাগে ভর্তি হই। সুযোগ পেয়েও 
আর প্রোসিডেন্সি কলেজে যাই নি। সায়েন্স না পড়ার মতই কি তা 
আরেকটা ভুল 2 পরে সে কলেজের সমসামায়ক ছাত্রদের সংস্পর্শে এসে 
ত৷ মনে হ'ত। তথাপি স্কাটশের বন্ধুগোষ্ঠীকে পরম লাভ না মনে করে 
এখনো পারি না। সে কলেজ তখন প্রোসডেন্সির প্রায় প্রতিযোগী । 
কলেজের পক্ষে তা গৌরবের কথা, ছাদের পক্ষে আবার সেইজন্য 
দুর্যোগেরও কারণ । সে বছরই বোধ হয় স্কটিশ থেকে প্রোসডোঁজর 
1বতাঁড়ত ছান্র সুভাষচন্দ্র দর্শনের অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে হন 
প্রথম । এই একটি কারণেই ভারতবর্ষের ইতিহাসে স্কটিশ চার্চে কলেজের 
গৌরব শাশ্বত হতে পারে । অবশ্য অতটা তখনো৷ কারও মনে হয় 1ন। 
সুভাষচন্দ্র তখনও নেতাজী” নন, স্বনামধন্য ছান্র মাত্র । ওটেনৃ-বিরোধের 
'দাগী' ছাত্র । তখনও শুনতাম আসলে তান নিরপরাধ । অনবনত মস্তক 
বলেই 'লাঞ্ছিত'। এখন জানি, সে সংঘাতেই তার আত্মাবঙ্কার । সম্প্রাত 
নানা প্রামাশিক লেখায় অনঙ্গ দাম, কমল বোস প্রভাঁতর নামও উল্লেখিত 
[গিয়েছে । আমাদের দিনেও তা একেবারে চাপা ছিল না। তর্ধে একটা কথা 
এখন শীরণীয়_তখন ওটেন-চরিন্র ছিল অজ্ঞাত । সুভাষচন্দ্রের সম্বন্ধে ওটেনের 
লেখ৷ সুন্দর * সনেটটি ওটেনের সেই ব্যান্ত-স্বরূপের স্বাক্ষর । আরেকটি কারণে 


২২ রূপনারানের কুলে 


সনেটটি মূল্যবান-_সাগ্রাজ্যবাদের কৃত্রিম পারবেশে সহজ ব্যন্তি-সম্পর্কও আপনার 
অগোচরে কিরূপ অভাবনীয় দুর্যোগের বাহন হয়ে পড়ে । সুভাষ-ওটেন ব্যাপারটা 
আমাদের ছান্র-জীবনের শুধু প্রেক্ষাপট নয়-_সেই পরিবেশের মূল লক্ষণ-নর্দেশক । 
স্কাটশ চার্চেস কলেজ অবশ্য সে তত্ব জানত না । পরীক্ষায় সুভাষের কাতিত্বে 
তারা সে বংসর সম্ভৃষ্ঠ। কত্ত সুতাষই শুধু সে বার তাদের মান বৃদ্ধ করেন 'ন। 
সে বংসর পরীক্ষায় ওরৃপ জয়টীকা পেয়েছিলেন স্কটিশের আরও কয়েকজন 
ছাত্র । দু'জনার কথা আমার এখনো মনে আছে--সুশীল মজুমদার, অনেক- 
দিন পরলোকগত । বছর ব্রশেক পূরে তাকে শেষবার দেখোছিলাম_ভবানী- 
পুরের একাট স্কুলের খ্যাঁতিমান্‌ হেড্মাস্টার । খ্যাতিমান এবং দুযাতমান্‌ । কিন্তু, 
[ব. এ.-র ফাস্ট ক্লাশ ফাস্ট সুশীল মজুমদার আর এম. এ. পড়া শেষ করেন 
নি। ্রিশ বংসর পরে তার পাশের খ্যাতি অপ্পাঁধক বিস্মৃত । মনের দুযাতি 
অম্লান দেখলাম, ঝোঁকটা তখন ভারতীয় এীতহ্য-আশ্রয়ের দিকে | দ্বিতীয় কৃতী 
ছান্রাটর পক্ষেই সে ঝোঁক স্বাভাবিক হত । কারণ তান ইতিহাসের ছান্র, 
সেবার স্কাটিশ থেকে ইতিহাসে ফার্ট ক্লাশ ফাস্ট । তানও এম. এ. পড়া শেষ 
করেন নি। পরে যখন তার পারচয় পাই (১৯২৬-২৭), তখন শুনেছি এম. এ. 
পরীক্ষার বছরটা তিনি ঘরে বসে হীতহাস-প্রসিদ্ধ নানা নৌষুদ্ধের মডেল তরী 
করাছলেন। বলোছলেন, সে-সব যুদ্ধের মহড়া 'দিচ্ছলেন নিজের পড়ার 
টেবলে। বন্ধুগোষ্ঠীতে সেই ১৯২৬-২৭-এ তান বিদ্যায় বাকৃ-তীক্ষতায় 
অনন্য; কলকাতা সমাজের অন্য্র প্রায় অপাঁরচিত ও অলাক্ষত, আর আজ চল্লিশ 
বংসর প্রে (৬০-এর দশকে ) বোধ হয় ইংরেজী ভাষীদের 'নকটে সবাঁধক 
পারাঁচিত 'হীওয়ান' ; স্বদেশীয়দের কাহে বহু বিতকিত বাঙালী-বিদ্বেষী বাঙালী ; 
কল্তু বিদ্যায়, বাকৃনৈপুণ্যে, লেখার উজ্্বল খরধারে সর্বজনস্বীকৃত-নীরদ 
লস. চৌধুরী । তার কথা আরও আসতে পারে, এখানেই তবু বলে রাঁথ 
_জীবনে যে-অধাঁচিত অকুষ্ঠ সাহচর্য ও লেখাপড়ায় যে-অকৃপণ সহায়তা, 
আলাপ-আলোচনায় যে-বুদ্ধিতীক্ষ পাঁরহাস-- আমি বহুকাল শ্রীযুন্ত নীরদচন্দ্র 
চৌধুরীর কাছ থেকে লাভ করোছি সে কথা দু'-এক পৃষ্ঠায় কেন, দু'শ পৃষ্ঠারও 
লেখা অসম্ভব । কেবল একাঁট আশ্চর্য ব্যক্তি নন-একাঁট আশ্চর্য 01)1701761701 
ব৷ প্রায় প্রাকীতিক প্রকাশ ! সামান্য আধারে অসামান্য আধেয়ের বিষম 
উদ্ভাস, স্ফুরণ ও-বিস্ফোরণ । 

মনে রাখার মত স্কাটিশ চার্টেস কলেজের 'ছাত্র আরও ছিল । তবে 
আমাদের কালেই বোধ হয় সে কলেজের খ্যাতি ছায়াচ্ছন্ন হচ্ছিল ; মবশ্য 
অস্তমিত হয় নি। আমাদের 'বি. এ. পরীক্ষার বংসর (১৯২২) আমাদের 


লাগল না__লাগ্‌ল ন। ২৩ 


মধ্যে জন তিনেক স্কাটশের ছান্র ইংরেজীতে, জন দুই ইকোনমিকসৃ-এ, জন দুই 
ইতিহাসে, অন্ততঃ একজন ফিলসাঁফতে এবং সায়েন্সের নানা বিষয়েও কেউ 
কেউ ফাস্ট ক্লাশ পান_ এক-আধজন প্রথমও হন ! পরে দেখোছ-জন দুই 
হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপাঁত, আরও জন কয় চাকারতে উচ্চ চক্রেই চক্রবর্তী 
_চক্রাসীন, এবং চক্রাধীন । . আমাদের বছর তিন আগেই “চাকরির পরীক্ষা? 
প্রবতিত হয়েছিল । তাই ভালো ছেলের সে চক্রান্তে পড়ে যায় । ব্যুরোক্রেসির 
দেশে চাকরি পরম সৌভাগ্া, কারণ ব্যুরোক্রাুরাই তো৷ তখন ভী-আই-পি, অন্যর্প 
ভী-আই-প আঁবর্ভাবের যুগ তখনো বহু দূরে । বিশ্বাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার 
ফরমানে যারা 'বাশষ্ট, তারা৷ অনেকেই পরে কোথায় যে কীভাবে হাঁরয়ে যায়, 
_অনেকের আর খোজই পাওয়া যায় না। ইউীনিভাসটির মার্কাটাকে আমরা 
ভাব চুড়ান্ত । অবশ্য একেবারে অকারণ নয় ৷ রবীন্দ্রনাথ, বিপিনচন্দ্র পালকে 
দেখিয়ে কি মার্কাটাকে বা তল কর! যায় ? বাঁঞ্কমচন্দ্র থেকে আর্ত করে অনেক 
কতী বাঙালীর শিক্ষা-জীবনট। বিপরীত সাক্ষ্য দেয়--পরীক্ষার কষ্টিপাথরেও 
সত্যই উজ্কল রেখায় ত৷ চাহৃত । ত৷ ছাড়া, পরীক্ষার 'বাজারদরও' আছে । 
অন্ততঃ ছিল। রে৷ ও নীলকণ্ঠ মুখৃজ্জের 'মভার্ন এসেজ' বইখানা বাজারে এখন 
দেখ না। আমাদের ইস্কুল-জীবনে তার সাহায্যে ইংরেজী রচনা লেখা রপ্ত 
করার চেষ্টা ছিল প্রশংসনীয় । ফলাফল যা আমরাই তার প্রমাণ। কিন্তু সে 
কথ। নয়৷ সে বইতে একাঁট রচনা-বিষয় ছিল 'এডুকেশন' বা শিক্ষা, বোধ হয় 
রো সাহেবেরই তা লেখা । কলকাতায় এডুকেশনের চরম রূপ তিনি 
বাঝয়েছেন একটি জিজ্ঞাসায়। বাঙালী যুবকের শিক্ষা না হলেই নয়, কারণ 
নবপাঁরণীতা বাঙালী বধূর বাসরেও প্রথম স্বামী-সপ্তাষণ-'এই-_কটা পাশ 2" 
আগ্াগোড়। ইংরেজী লেখার ও রোমক হরফের মধ্যে ইটালিকসে বা বর হরফে 
লেখা ওই বাঙলা শব্দ দৃটি-_'কটা পাশ' ? যেন বক্রহাসি, পরীক্ষা পাশই পারণয়- 
প্রণয়-পাশের সূত্র । কিন্তু আমাদের কালে আমরা আরো একটু বোশ বুঝতে 
বাধ্য হয়েছিলাম--পরীক্ষায় পাশ চাকাঁরর পাশের প্রথম সূন্ু, আর চাকাঁরর পাশই 
পাঁরণয়-পাশের প্রধান সূত্র । কিন্তু এখনকার দিনে চাকরি যতই দুর্লভতর, ছাত্রছাত্রী 
পিতামাতা শুদ্ধ আমরা ততই তত্তুটার আরও গভীরে প্রবেশ করেছি । পাশের 
ছাড়পন্রটি কিছুতেই ছাড়া নয়। এখনো 'ডীগ্রলাভ অত্যন্ত জরুরী । তবে 
এখন পরীক্ষা-পাশের প্রধান সৃত্র-ম্যাস কাঁপায়ং, ম্যাস্‌ মুভ্মেন্টের তা এখন 
এক 'দৃপ্ত পদক্ষেপ' । সৌঁদনে প্রেমট। ছিল পাশের পুরস্কার । সোঁদনে, এবং 
এঁদনেও, বাঙালীর কাছে জীবনটা পাশের পাঁরাশিষ্ট ।-_অন্যদেশে যা সূচনা, 
ক্কিগামাদের দেশে তাই সমাপ্তি । তবে দু'-দশজন এই পরীক্ষার রত্বাকরে একেবারে 


২৪ রূপনারানের কুলে 


ডুবে যান নি, দেখা যায় । আমাদের দিনেও দেখোঁছ পাশবদ্ধ দু'-একজন উড়ে 
চলেছেন নিজের ডানার জোরে । স্কঁটিশে আমার বছরের অন্ততঃ দু'জন সহাধ্যায়ীর 
কথা স্মরণীয়-_সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও সজনীকান্ত দাস। কলেজে তারা ছিলেন 
পরস্পরের কাছে অপরিচিত, পরে সাহিত্যের দুই মেরুবাসী। কলেজের 
লেখাপড়ায় তাদের কারও একেবারে বিরাগ 'ছিল না, আবার ভান্তও ছিল না। 
পরীক্ষার খাতায় নিজ নিজ নাম তারা স্পষ্ট করেই সই করেছেন, কিন্তু 
বাঙলা সাহিত্যের পাতায় সে নাম তারা লিখে গিয়েছেন সোনার জলে! 
কলেজেও তারা লক্ষণীয় ছিলেন__সহপাঠী-গোষঠী তাদের সঙ্গসুখ পেয়েছে । 
কন্তু, কয়জন অধ্যাপকের সাহচর্য পেয়ে ছলেন-এই সুলক্ষণ ছান্রদয় 'নজ নিজ 
পথে পদযাত্রায় ? 


ছান্ন ও অধ্যাপক নয়েই ইউানিভাঁসাঁট, তা নিয়েই কলেজ । সত্য । 
কিন্তু আরও একটা কথা আছে মাঝখানে-দৃ'য়ের যোগাযোগ' । মফঃস্বলের 
জীবনে তা ছিল স্বতগা্দ্ধ ; কলকাতায় বোধ হয় কষ্টসাধ্য । ইদানীং অসাধ্যও 
বলা যায় । দশ বছর আগে স্কুলের ছেলের পরস্পরে কথা বলছে ; শুনোছি- 

[ড. কে. বি. কিন্তু 'বুঝলে কিনা এ কথাও বলে না । এম. সি. সি. বলে 
“বাড়ীতে বুঝে নিও, বইতে আছে । 

কোতৃহল তখনো মরে নি। জিজ্ঞাসা কার, ডি. কে. বি. কে? 

ম্যাথমোটকৃসের 'স্যর' 

নাম কি? 

ড়. কে. বি. । 

পুরে নামটা কি 2 

জানি না। 

এম. সি. সি. তার পুরে। নাম 2 

জিওগ্রাফির 'স্যর' । পুরো নাম কে জানে 2 


স্্রয়জেন্ন ওপারের গুব। 


খেলোয়াড় বা িন্র-তারকার পুরো নাম, গোষ্ঠী-গোত্র মুখস্থ ; ডাকনাম, 
প্রেম-প্রণয়-বিবাহ-ছেদ-বিচ্ছেদ-ঠোটস্থ না থাকা লজ্জার বিষয় ৷ কিন্তু মাস্টার 
মশাইদের পরিচয় খবিত, রক্ষিত তাদের স্বাক্ষরে । ওরুপই খবিত কলকাতার 
স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকের যোগাযোগ । স্কুলে যতটা সংক্ষিপ্ত কলকাতার কলেজে 
স্বভাবতই তার চেয়ে যোগ সধাক্ষপ্ততর ; এবং অযোগই নিয়ম । শ' দেড়েক-£* 


লাগল না-_লাগল না -. ২৫ 


দ্ুয়েকের এক-একটা ক্লাশ ; অধ্যাপনার নাম 'লেকৃচর' ; তা 'ম্যাস মাঁটংয়ের 
গালাবাজ ; হয় দায়সারা, নয়তো ফাঁকিবাঁজ | স্কটিশ চার্চেস কলেজের 
ক্লাশ তখনে ম্যাস্‌ মিটিং নয়- দুয়ারবন্ধ ঘরে 'লেকৃচর', মোটামুটি কর্ণস্পশা ; 
কিন্তু ছান্র ও অধ্যাপক সকলেই দূরত্ব সম্বন্ধে সচেতন। বড় অধ্যাপকের! 
জাতে স্কাটশ- তারা সে বিষয়ে সচেতন । তাদের ও তাদের ছাত্রদের মধ্যে 
যোগ পাঠ্যপুস্তকের-তাই যোজক ব৷ সুয়েজখাল । ছান্রেরা চারাঁদকে অনুভব 
করে- সাত সমুদ্র তের নদী । কলেজে অবশ্য বাঙালী অধ্যাপকেরাও ছিলেন । 
অধর মুখুজ্জে প্রমুখরা অবসর নিয়েছেন । যুদ্ধের দিনে সে কলেজে হীঁওয়ানাই- 
জেশন তখন অনেকটা আনিবার্ধ বলেই প্রারন্ধ। ভারতীয় অধ্যাপকর৷ বয়সে 
বা যোগ্যতায় যাই হোক, সাহেবদের 'জুনিয়র' সহযোগী ; তারাও জানতেন-__ 
“ওর! ওরা, আমরা আমরা ॥, ভদ্রত।র সম্পর্ক, এমন কি সমধমিতার সম্পর্কেও 
সে-বোধ বাতিল হয় না। বাঁঙ্কমের আমলের 'জাতবৈর' স্বদেশী যুগের পরে 
বোম: 'পিজ্জলের ক্রিয়া-প্রাতিক্লিয়ায় তখন আঁশ্নগর্ভ । জালয়ানওয়ালাবাগ ঠিক 
তখাঁন তার ঢাকানিটা আর্রে। খুলে দিল । ননৃ-কো-অপারেশন এসে জানিয়ে 
দল, ধামা-চাপা দেওয়ারও 'দিন গিয়েছে । 

অথচ, ওই সাহেব অধ্যাপকের মানুষ হিসাবে মন্দ ছিলেন না । 'প্রন্সিপাল 
জেমস ওয়াট-এর মত কর্তব্যানষ্ঠ, দক্ষ পরিচালক দুর্লভ । আম অন্ততঃ দেখ 
নাই। দর্শনের অধ্যাপক আকুহার্ট সবসমস্যায় তার পরামর্শদাতা ছিলেন । 
আকুহার্টের মত ধার, স্থির-বুদ্ধি ও অধ্যাপনাকুশল অধ্যাপক তখন কলকাতায় 
বিরল। ওয়াটের নিকট ছান্রদের অবারিত দ্বার, কিন্তু তা নিয়ম-বাধা । ছাত্ররা 
সবাই দেখা করতে পারে । পড়ার ঘণ্টার ফাকে ফাকে কলেজে ৫ মিনিট করে 
বরাত । লাইন 'দয়ে সে-সময় প্রন্সিপালের ঘরের সামনে দাড়াবে ; যথাক্রমে 
ডাক পড়বে, ভব্যভাবে-কিস্তু সোজা হয়ে-দাড়াবে। সোজা হয়ে না দাড়ালে 
ওয়াট মনে করিয়ে দেবেন ,“সোজ। হয়ে দাঁড়য়ে নিজের বন্তব্য জানাও |” 
[তান উত্তর দিবেন হয় তখাঁন, নয় পরে । কিন্তু অকারণে কথা একটুও না 
বাড়িয়ে চলে এসো । কারণ তোমার পরেকার ছান্র-বন্ধীটকে মুখ তুলে ওয়াট 
ততক্ষণে ইঙ্গিতে ডাক 'দয়েছেন ৷ কলেজে কোনো ক্লাশে কি দু'দন অনুপাক্থিত 
ছিলে ? নির্ধাত ওয়াট নিজে ক্লাশে এসে তোমাকে 'জজ্ঞাসা করবেন, কেন ঃ 
সাফ- উত্তর না পেলে বলে যাবেন_ দেখা করো আমার ঘরে । অথবা, সাবমিট 
রিটন একৃস্প্ল্যানেশনৃ-লাখিত কোফিয়ংৎ চাই । ক্লাশ ফাকি দেওয়। অসম্ভব । 
থার্ড ইয়ারের আর্টস ছাত্রদের তার বাইবেল পড়াবার কথা । সকল ক্লাশের 
জর্মীই প্রাতাঁদন আধ ঘণ্টা বাইবেল ক্লাশ নাঁদষ্ট । ওটা বাধ্যতামূলক নয়। 


২ রূপনারানের কূলে 


ওয়াটের বাইবেল ক্লাশে মে আধ ঘণ্টায় সবই শুনতে পারবে-একমার 
বাইবেল ছাড়া । শ্রনতে পাওয়া যেত- ইউনিভার্সিটিতে ( সিনেটে ) 
কী কথা হচ্ছে; কলেজের কোথায় কী ঘটেছে; ছাব্রদের জন্য গ্রীক্মে পানীয় 
জলের বিশেষ কী ব্যবস্থা হল, কলেজ লাইব্রেরীর কোন্‌ সুযোগ তারা পেয়েও 
নিচ্ছে না । 'অনেক টাকা দিয়ে কলেজ মানিকতলার খালের ওপারে নতুন 
খেলার মাঠ কিনেছে, তোমরা কেন তাতে আরও বেশি করে খেলতে যাও না ৯ 
কলেজের মধ্যেই তো ব্যায়ামশালা । জিম্নাস্টিকে তোমাদের আরও উৎসাহ 
থাক উচিত ইত্যাঁদ ৷ শুধু কি তাই? “তোমর৷ কেন সংস্কৃত অনাস পড়ছ 
না? সংস্কৃতে বিদ্বানরা তো তোমাদের দেশের অলঙ্কার, তবে তোমাদের 
কেন যথেষ্ট আগ্রহ নেই সংস্কৃত পাঠে 2 শিহরে বসন্ত হচ্ছে, কাদার 
আসছে কলেজে । প্রত্যেকের টিকা নিতে হবে ; টিকা না নিলে কেউ কলেজে 
ঢুকতে পাবে না' 1-ওই একটা রোগের ভয় আমার আছে । কলেরাকে ভয় 
কারি না, জল ফুটিয়ে খাই । কিন্তু, বসন্তের বীজ যে হাওয়ায় ছড়ায় ।' কখনো 
খনো নীতিকথাও হত-_দেহচঠ, ফ্রি নাইট্‌ স্কুল ইত্যাদ । 'প্রান্পপালের 
এসব কথা শেষ হতেই ছান্ররা কেউ বলে উঠত, "হয়ার' শহয়ার' । সহাস্যে একটু 
“বো' করে ওয়াট আবার আরম্ত করতেন নিজের কথা । ক্লাশ থেকে বোরয়ে 
যাবার মুখে পিছন থেকে কে একবার বলে উঠল বাঙলায়, “ওয়াট খুড়ী' ! ওয়াট 
ফিরে হেসে বললেন, “মাই বয়েজ, জেমৃস্‌ ওয়া ' নয়, 'হী' | ভয়টা 
এ ভাবে কাটত, এক-আধটুকু যোগাযোগও দু-এক অধ্যাপকের সঙ্গে গড়ে উঠতে 
পারত, কিন্তু ব্যবধান তো কাটবার নয়। পাঞ্জাব ও জালিয়ানওয়ালাবাগ ফি 
ভুলবার মত 2 নন-কো-অপারেশন তা ভুলতে দিত না । শেষে একটা 
গোলযোগও ঘটল, নন-কো-অপারেশনের দিনে । গান্ধীজীর কলেজ বয়কটের 
ডাকে ছান্ত্রা বিচালত, সাহেবরা তখন নানা ভাবেই বিড়াঙ্বত । ছান্ুরা ফটকে 
ফটকে শুয়ে পড়ে ?পকেটিং করহে-কেউ যেন না ঢোকে । ওয়াট নিকটে 
দাঁড়য়ে-__হয়তে। বিড়ম্বনায় বিরন্ত । একাটি শায়িত পিকেটরকে নাকি তান 
মাঁড়য়ে যান অথব৷ জুতোর চাপ দেন। অধ্যাপক ভোলানাথ রায় তখন্ন নতুন 
অধ্যাপক, ব্যাপারট৷ দেখামান্র প্রাতিবাদে তিনি উত্তেজত হয়ে ওঠেন । ওয়াট 
বলেন, না, তান কাউকে স্পর্শ করেন নি। অধ্যাপক রায় বলেন, 'আম 
দেখেছি ।' গ্রাতবাদে ভোলানাথবাবু পদত্যাগ করলেন । দেশী সংবাদপর্রগুলি 
মওক! ছেড়ে দিলে না। ওয়াট যেন মুষড়ে গেলেন- তার কথা কেউ বিশ্বাস 
করছে না। 
ভ্ছাটশ চার্চেস্‌ কলেজের হোস্টেলগুলি সমস্ত রকমেই আদর্শস্থল। €১ 


লাগল! না- লাগলে না ২৭, 


থেকে ৭০1৮০টি ছাত্রের ছাত্রাবাস । প্রায় প্রাত ছান্ের একা একটি ঘর-_ 
প্রয়োজনানুষায়ী যথেষ্$ আসবাবপন্ন, পারচ্ছন্নতায় অতুলনীয় । পড়াশোনা ও 
খেলাধূলা হোস্টেলের ছান্রদের দুই-ই কিছু কিছু না করলে নয়। একজন 
সাহেব অধ্যাপকের ওপর থাকত হোস্টেল-পাঁরচালনার চূড়ান্ত ভার-তার সহকারী 
থাকত বাঙালী প্রান্তন ছান্র বা নতুন অধ্যাপক । আমাদের হোস্টেলে অধ্যাপক 
জে. ?স. কীড্‌ ছিলেন তখন সুপারিপ্টেডেণ্ট । বছর ন্রিশের মত বয়স। 
দোতলায় তার সপারবারে স্বতন্ত্র বাস-ব্যবস্থা ; তা নেপথ্য-স্থান। সপ্তাহে 
এক-আধ দিন কীড্‌ সাহেব ছাত্রদের মহলে পারিদর্শনে আসতেন, তখন গস্প 
করতেন। খেলাধূলার নানা কথা হ'ত-বেশ মানুষ । যোগাযোগ ঘটত বে 
কি। কিন্তু কলেজে গেলে 'ি জান কী হয়-ওই কীডই ভিন্ন মানুষ । 'তাঁন 
ইকোনাঁমকস্-এর প্রোফেসর, পড়াতেন মন্দ নয়। কিস্তু সব যেন নিয়মে বাধা, 
দূর, সুদূর, সংযোগ-সহযোগহীন,যেন শন্ুপুরী-শাসক । নন-কো-অপারেশনের 
&। দিকে_ বোধ হয় ১৯২১-এ-_কীড্‌ সাহেব বাইবেল ক্লাশ নিচ্ছেন । 'তাঁন 
বোর্ডে কী লিখছেন- ছেলেদের মাথায় এল দুষ্টোম বুদ্ধি । মেজেতে পা ঘষতে 
লাগল | প্রথমে দু'চারজন, তারপর অনেকে । কীড্‌ ফিরে তাকালেন, 
অমানি সব চুপচাপ, শান্ত, নিরীহ ভালোমানুষ। বোডে আবার লিখতে 
গেলেই অমাঁন পা-ঘষার শব্দ। বার বার তন বার এই খেলা । কাঁড্‌ 
সাহেব এবার ফিরে তাকিয়ে কঠিন এক মন্তব্য করলেন, “সামনে সাহস নেই-_- 
[পছন থেকে কেন ।'_-তারপর, 'এ জাতিরই ওই গুণ তৎক্ষণাং ক্লাশ 
নিস্তব্ধ । কী করবে, নিজে নজে কেউ ঠিক করতে পারছে না। সব থম্‌ 
থম্‌--তা তাৎক্ষাণক প্রাতিক্রিয়া । পরদিন স্ট্রাইকৃ_কীড সাহেবের ক্লাশ শূন্য । 
কারণ অসঙ্গত নয়, নিশ্চয়ই । পরের দিনও তাই । তৃতীয় দিনে, প্রান্সপাল 
ওয়াট এসে ক্লাশ-ঘরের বাইরে ছেলেদের ধরলেন- 'আমার সঙ্গে চলো, ক্লাশে 
বসো ।-একজন মানুষের কথায় কোনে। জাত ছোট হয়ে যায় না, জাতর 
অপমানও তাতে হোতে পারে না। দেখবে কীড্‌ও দুঃখিত ।' ব্যাপারটা 
ওভাবে মিটে গেল । কিন্তু কলেজে কীড্‌-এর সঙ্গে যোগাযোগ আগেও ছল 
না, পরেও হয় ন। অথচ, হোস্টেলে ওই কীভ্‌-এর সঙ্গে আমাদের তখনো 
সম্বন্ধ ঘটত, হাঁস-গল্পও হত । একটু তা মামুলী । প্রকাশ্যে বরোধ কাটত, 
কিন্তু নাতিগ্রচ্ছন্ন ব্যবধান কাটত না । 

ছান্র ও অধ্যাপক একই কলেজে, একই ছান্রাবাসে একান্রত-কিন্তু কোথায় 
দ্রুয়ের যোগাযোগ 2 কদাঁচং এক-আধাঁট ছেলে কোনো কোনো সাহেব 
অধ্যাপকের নিকটস্থ হয়ে উঠতে পারত । সে ছাত্ররা মিশুক প্রকৃতির । কেউ 


২৮ রূপনারানের কুলে 


কেউ শুশুক প্রকৃতির ভেসে উঠতে চায়। সায়েস-পাঠী ছেলেরা বরং 
কিছুটা অধ্যাপকদের পরিচিত হয়ে উঠত । ল্যাবরেটারতে সান্নিধ্য আনিবার্ | 
বজ্ঞানের অধ্যাপকরা সকলেই বোধ হয় তখন ভারতীয় । সংস্কৃত ও বাঙলার 
অধ্যাপকরা বরাবরই ব্যাতিক্রম । বিশেষতঃ দু'জনা-মন্মথ বোস মশায় (ইয়াকি 
নয়, বাঙলাদেশের সবপাঁরচিত নাম “মোন! মাস্টার') ও তার ছান্ররাও সাদরে 
তাকে গ্রহণ করত । আর আত্মীয় ছিলেন কালী পাঁওত মশায় । 

কলকাতার কলেজীয় দ্বীপের বাইরে ছান্র-অধ্যাপকে সাক্ষাৎ দুর্ঘট । বিস্তৃ 
তখনে। অধ্যাপকরা নামের হরফ হয়ে যান 'ন--ডি. কে. বি. কিন্বা এক্স, ওয়াই, 
জেড । িন্বা হয়ে ওঠেন নি শ্রেণী-শনু'। দূর হলেও মুখ দেখাদোখ 
চলত । 

স্কটিশ চার্চেস্‌ কলেজের অধ্যাপকর৷ কেউ কেউ পড়াতে জানতেন, সুকলেই 
পড়াতে চাইতেন। র্লাশে ফাঁকি দেওয়া অধ্যাপকদের পক্ষে তখন লজ্জাজনক, 
কলেজের শৃঙ্খলায় তা দুঃসাধ্যও । কারও কারও নাম আগেই শোনা, যেমন, 
ফিলসফির আকুঁহার্, ইংরেজির স্ক্িম্জার । আকুহার্ট পরে কলকাতা বিশ্ব- 
বদ্যালয়ের ভাইসূ-চ্যান্সেলরও হয়োছলেন। তাতেও সুনাম বজায় রেখে 
গিয়েছেন। ফিলসাফ পাঁড় নন, আর্কুহার্টের কাছে পড়ার সুযোগ পাই নি। 
কিন্তু স্তিম্জারের কাছে পড়েছি । জে. আর. স্ক্িমজার শেক্‌স্পীয়র-বিশেষজ্ঞ । 
কলকাতা বিশ্বাবদ্যালয় তাকে দিয়ে সম্পাদনা করিয়েছিল “কমোড অব 
এরর” তা “বাউডলারাইজড্‌* বা অশ্লীলতা-বাঁজত সংস্করণ । মোট 
ব্যাপারটাই/প্রহসন | শেকৃসৃপীয়রের অত নাটক থাকতে কেন পড়ানো 'কমেডি 
অব এরস্ 2 শবশ্বাবদ্যালয় বলতে পারত-_বিদ্যাসাগর তার উত্তর দিতে 
পারতেন, আমরা না । অত নাটক থাকতেও বিদ্যাসগর কেন লিখতে গেছলেন 
'ত্রান্তিবিলাস' 2 একদিক থেকে ভালোই হয়েছিল । ক্লাশের পাঠ্য ও পরী- 
ক্ষণীয় বইগুমুলতে আমার ঘোর অবুগি । কিন্তু বিপদ 1ছিল-শেকৃস্পীয়রের 
কমেডি ভিহও একখানা প্ীজেডি আমাদের পঞনীয় হত! আর সে বছর সে 
পঠনীয় দ্রীজোঁড “ওথেলো” । পাঠ্য বই হয়ে তা আমার কাছে কিছুটা ভীন্ত- 
চন্দন লাভ করলে, ভালবাস সে পাঁরমাণে পেল নু ৷ পরে এম. এ. ক্লাশে পাঠ্য 
হয় "হ্যামলেট", আমার প্রিয় নাটক । তার আগেও আমি বার কয় তা পড়েছি 
-এথনও পাঁড়-সুগ্ধ আনন্দে, প্রীতিতে, বিস্ময়ে । 'ওথেলো'-ও পাঁড় শেক্‌সৃ- 
পীয়রের অন্যান্য কয়া ট্রাজডির মত । তখন কিন্তু পরীক্ষা, একেবারে ঘাড়ের 
ওপর এসে না-পড়া পর্যস্ত আমি ওথেলো ও হ্যামলেট হাতে নিতেও ছিলাম 
আঁনচ্ছুক । কারণ, তখন যে-পনীক্ষার জন্য সে-নাটকের শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যার 


লাগল না-লাগল ন। ১, 


কচকচি আয়ন্ত কর! প্রয়োজন-_ হাড় চরণ করে তার সার নিষ্কাশিত করা চাই । 
আর ওসব ভাবতেই আমার মন 'বিরস হয় । 

তবু বি. এ. ক্লাশে স্তিম্জারের কাছে শেকৃস্পীয়র পড়তে গেছলাম অনেক 
আশ] নিয়ে । স্ম্জোর শেক্‌স্পীয়র-উৎসাহী, ক্ষ্যাপা মানুষ লম্বা, রোগা, 
আপন উৎসাহে আপাঁন মন্ত। পড়াতে পড়াতে সশব্দে আপাঁন হাসেন, 
আপন মাতেন, আপনি প্রায় নাচেন। কখনও দুঃখ পান, ব্যাথত হন । 
মাঝেমধ্যে ছাত্রদের মনে করে দু'-একাট মন্তব্য করেন। অনুচ্চ নাতিস্পষ্ট ৷ 
ক্ষচ্‌ ছাদের উচ্চারণ অনভ্যন্ত কানে ধরতে পার না । মনে মনে দুঃখ পাই- 
“হে বাঙাল, তুমি জানে। না তুম কি হারাইলে 1 শেক্স্পীয়রের ছোয়াচ তাই 
'স্ত্রম্জার সাহেবের থেকে পাই নি। তার উৎসাহে আমার উৎসাহ বাড়ত না । 
নামী অধ্যাপকের কাছে পড়েও প্রত্যাশত সৌভাগ্য অনাঁজত থেকে গেল । 
অন্য সাহেব অধ্যাপকের কথা নিশ্য়োজন ৷ চতুর ক্যামেরন, মৃদু স্বভাব 
ওয়ারেন অধ্যাপক হিসাবে চলনসই । ক্লাশ করেন ক্লাশ কার, কখনও শুনি, 
প্রায়ই শুনি না । কানে যাঁদ বা যায়, মনে যায় না। 


এপান্ল্সেন্ব এব 


স্কাটশ চার্চে কলেজের তখনকার দু'জন যুবক অধ্যাপক আমার স্মরণীয় ৷ 
তাদের প্রথম বংসর পেয়েছিলাম, দ্বিতীয় বংসর থেকে পাই নি । তারা তখন 
বিলেত যান--“পারঙ্গম' না হলে কে মানে 2 

অধ্যাপক নিমলকুমার 'পিদ্ধাম্ত-অধ্যাপনায় তখনও নতুন । তানি 
স্কটিশের প্রান্তন ছা, তখন আদৃত অধ্যাপক ও চশমার অন্তরালে বুদ্ধিদীপ্ত 
চক্ষু, সুস্ছির শান্ত মুখশ্রী, স্বচ্ছন্দ বাচনভঙ্গী । তান গদ্য-সাহত্য পড়াতেন-_ 
মেকলের ইংলগ্ডের ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় । মেকলে গদ্যাশল্পী ; গকন্তৃ 
প্রথম বাষিক শ্রেণীর বাঙালী ছাত্রের পক্ষে তার 'এসে'-গুলির মত তার ইতিহাস 
তত সরস নয় । তব আকর্ষণীয় হয়েছিল সে রাশ । অধ্যাপক ?সদ্ধা্তের 
পড়ানোতে বাক্‌-চাতুর্ষে চমাকত করার চেষ্টা থাকত না, থাকত পাঠ্যাবষয়কে 
সহজগ্রাহয করে তোলার মত সরল, প্রাঞ্জল, অনাবিল বান্-প্রবাহ, অনায়াস 
স্বচ্ছন্দ বাচন ভাঙ্গ । ভালে লাগত ক্লাশটা । জ্ক্ পরে তিনি যখন ভাহ্‌- 
চ্যাব্সেলর--আম তখন সিনেট 'সাওকেটের সদস্য-আমার নাম ও মুখ--কিছুই 
আর তখন তার মনে নেই--্দাদার পাঁরচয়ে ('রঙ্গীনের ভাইর' ) তখন পাই 
সুশ্টিত সম্মান--তখন দেখেছি, আমাদের সেই প্রিয় অধ্যাপকের প্রত্যাশিত 
পারণত প্রো রূপ বিদ্যায়, বুদ্ধিতে, সৌজনো, কর্তব্যবুদ্ধিতে, এমন কি 


৩০ রূপনারানের কুলে 


সময়োচিত সাহস ও কৌশলের প্রয়োগেও সুযোগ্য পুরুষ । সেই পণ্টাশের 
দশকের দু-একটা কথা এখানে পার বলতে--দ্বিতীয় দশকের প্রথম কলেজ- 
জীবনের কথার ক্লম ভঙ্গ করে । 

কলকাতা বিশ্বাবদ্যালয়ে শতবাঁষিকী উৎসব (১৯৫৭ ইং) ভাইসৃ-চ্যান্সেলর 
সিদ্ধান্ত মশায়ের উদ্যোগে সাফল্যমাওত হয় । উৎসাহী সহযোগী অনেকেই 
খছলেন। রাস্ট্রপাত রাজেন্দ্রপ্রসাদের আভভাষণে উদ্বোধন হয়, আর যথন 
সমাপ্তি-সম্ভাষণ তখন একবার নিজের অন্ঞাতেই বলে ফেললাম, ওয়া্দ অফ্‌ 
গ্রেট ইউানভাসাটি এ্যাও ইটস্‌ গ্রেট ভাইস্-চ্যান্সেলর । 

গ্রেট কথাটি দ্বিতীয় স্থলে কি আতিশয়োস্তি 2 'গুড' বলাই ঠিক হ'ত? 
না। নিশ্চিত হবার মত কারণ ছিল । দু'টি গণ্প বাঁল_-যা আমার জানা ছিল। 
কলকাতার একাঁট কয়েক হাজার কলেজ । তার সত্ত্ীধকারী ও পরিচালকরা 
বিত্তবান মানুষ-1016॥ 07 70671, কলেজও তাদের একটা প্রোপাটি। 
বছরের পর বছর ইউীনভাঁসাটর নিয়মানুযায়ী কলেজকে ট্রাস্ট সম্পান্ত করবার 
প্রাতশ্রীত দেন, বছরের পর বছর সে সব নিয়ম অমান্য করেই কলেজ-মালিকর৷ 
কলেজাঁট কুক্ষিগত করে থাকেন। কলেজ তাদের কলকাতার একটা রিয়াল 
প্রোপাঁটি ; ছান্র ও অধ্যাপক সেখানে একত্র হলেই বা কি, না হলেই বা কী? 
নিজেদের সম্পান্ত নিজেরাই 'ম্যানেজ' করবেন। ছাত্রদের অভিযোগ “ইটের 
আলমারি তুল্য বাড়িটায় ছাত্রদের লভ্য সুযোগ নানাদিকে খাঁবত । পড়াশোনা, 
খেলাধূলা, চলাফেরা সবাঁকছুর জন্য মাসিক দক্ষিণা ছাড়াও ছাত্রদের অতিরিস্ত 
দক্ষিণা দেয় । সে দক্ষিণা আদায় হয়, কিন্তু প্রসাদ মেলে না । পরিচালনায় 
ছাত্রদের প্রাতানধি কেউ কোথাও নেই। এদকে না আছে পঠন-পাঠনের 
যথোচিত সুবিধা । অথচ ছান্র বেড়েছে, আয় বেড়েছে, মালিকদের হাতে 
মুনাফা জমছে । বিশ্বাবিদ্যালয় কলেজের তথ্য জানতে চান, কলেজের কর্তারা 
সে কথ এঁড়য়ে যায় । কখনে। জানান- আয়ের কথাট। ভুল, সব ঘাটাতি। কখনো 
আশ্বাস দেন- ছাত্র ও অধ্যাপকদের বন্তব্য সুবিবেচনা করে দেখছেন । এই 
'লোকসানের ব্যবসাটা' বিষয়ে 'সাঁওকেট বরাবরই সংশয়ী। ভাইস-চ্যান্সেলর 
সিদ্ধান্ত মশায় সোঁদকে দৃষ্টি দিলেন । 'সাঁগকেট একটা সাব কমিটি নিয়োগ 
করলে, আমিও তার সভা। হঠাৎ একাঁদন 'সদ্ধান্ত মশায় বললেন, “ও গোপালবাবু, 
আর কিছু করা যাবে না।' একজন তখনকার গোদা কংগ্রেস মন্ত্রীর নাম করে তিনি 
বললেন, তাকে (মন্ত্রীকে ) কলেজ করছে পরিচালকমণ্ুলীর ভাইস্-প্রেসিডেন্ট । 
তারপরে সিদ্ধান্ত মশায়ের মন্তব্য ইংরার্জীতে । -যে কলেজেই যখন 
তখনই সে কলেজে দেখ এই মন্ত্রী মশায়ের উদয়' । এ মন্তব্য অবশ্য জনাস্তক । 


লাগল না_লাগ্‌ল ন৷ ৩১ 


কিন্তু সাওকেটের সাব-কমিটির বৈঠক বসল, কলেজের খোদ মালিকরা তাদের 
বন্তব্য বলতে এলেন। আমি মনে মনে উদ্বিগ্ন । লোকগুলির ফাঁক ধারয়ে 
[দিতেই হবে, তথ্য আমার হাতে আছে । কিন্তু উত্তেজনার মুখে কাজ যাঁদ 
ভঙুল করে ফেলি ! মুখ খুলতে হবে সাবধানে । ভাগ্যক্মে ঘটল তাই । 
প্রথমেই কথা পাড়লেন ভাইস্-চ্যাজেলর অত্যন্ত অমায়িক সৌজন্যে (8৮1), 
যাকে ম্যাথু আননল্ড বলতেন, সুইট িজনেবলনেস । বললেন- আপনাদের 
অধ্যাপকদের দেখাছি গ্রেড নেই । গ্রেড করছেন না কেন ? 

কলেজ-করঠার উত্তর £ কলেজের ভয়ানক ঘাটাতি । 

কেন? ছাত্র তো আপনাদের ৭ হাজার । 

ই) । এবারের ভরাঁত মিলে ওরকমই । 

তবে £হিসাবপন্ন 'সদ্ধান্ত মশায়ের মুখস্থ । হিসেব করে বললেন, ছাত্র- 
বেতন মাপে হচ্ছে অত হাজার ; মাসে বেতনে খরচ অত হাজার, অন্য খরচ 
অত হাজার । উদ্বৃত্ত মাসে ৫ হাজার, না? 

কার উত্তরঃ না। খরচ আরও 'িছু বেশী আর আয়ও কম । কারণ 
যারা ভরাঁতি হয় তার অনেকে পরে পড়। ছেড়ে দেয় । 'মঃ সিন্ধান্ত আগেই 
ভেবে রেখেছেন,কত ? অন্যান্য কলেজে গড়ে ছাড়ে শতকরা ৯ জন । তা 
আপনাদের কলেজে? না হয় ১২% ছাড়ুক। তাতেও আপনাদের বাষিক 
উদ্বৃত্ত থেকে যায় ৪০1৫০ হাজার টাকা | ব্যয়--কি করে তা হলে বেশি 2 
কথা বোঁশ দরকার হল না। অর্ধেক মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলাম অত্যন্ত সোজন্যের 
সঙ্গে সিদ্ধান্ত মশায় সত্যট। প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন । মালিকদের মুখ দিয়েই 
নীরবে কবুল করিয়েছিলেন বছরে সত্যই ৫০1৫২ হাজার টাক৷ উদ্বৃত্ত থাকার 
কথা । সব দিকেই রহস্য ফাস হয়ে গেল-আমার মুখও খুলতে হয় নি। 
আমার বিবেচনায় এ হচ্ছে সুযোগ্য লোকের কৌশল । 

দ্বিতীয় গল্পাঁট কিছুটা আমার পরোক্ষে ঘটে, কিছুটা প্রত্যক্ষে ; কতকটা 
চাক্ষুষ জানা, কত্তকটা বাচাঁনক শ্রুত। সমগ্র কাহনীটা পশ্চিম বাঙলার 
ইীতহাসেরও একটা অনুচ্ছেদ । পরিচ্ছেদটার যথোঁচত সার-সংক্ষেপ এর্প 
দাড়ায় । 

মুখ্যমন্ত্রী িধানচন্দ্র রায় ঘোষণা কনে এলেন বঙ্গ-বিহার সংযুন্তি ঘটাবেন 
জনমতের বালাই নেই । সাধারণের দুর্ভাবনা-কী করে তাকে নিরস্ত করা যায়। 
ইন্ত্রনভাঁসাটর ক্ষেত্রেও জ্ামরা চেষ্টা কার। নোটিশ দিলাম-সনেট 
বাংলা-বিহার সংযুন্ত অ করে না'। বাঘা বাঘা [সাঁওকেটরর৷ আমাকে 
বোঝাতে চাইলেন নোটিশ প্রত্যাহার করা উচিত । আমি অনড়। সিনেটের 


৩২ রূপনারানের কুলে 


বৈঠকের দিন এল। প্রথম দিকেই ভাইস্‌-চ্যাজেলর সিদ্ধান্ত মশায় জানতে 
চাইলেন, বিশ্বাবিদ্যালয়ের পক্ষে এ আলোচনা বিধি-সঙ্গত ( 'ইন্‌ অর্ডার ) কা 
করে, কোন্‌ ধারায় 2 প্রস্তুত ছিলাম । “ইউাঁনভাপিটি আ্যকটের প্রথম 
ধারায় ৷, সে ধারাটা কলকাতা বিশ্বাবদ্যালয়ের জুঁরিডিকশান সম্বন্ধে । সমগ্র 
পশ্চিম বাঙলা রাজ্য সেই আইনের আঁধকারভু্ত । কিন্তু বঙ্গবহার সংযুন্তিতে 
এই পশ্চিম বাঙল৷ থাকবে না। রাজ্য-সীমান৷ উঠে যাচ্ছে । কলকাতা 
বিশ্বাবদ্যালয়ের অধিকারও বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার আযাকটের মূলধারাই 
অর্থহীন হযে যায় । সিদ্ধান্ত মশায় আ্যান্ট খুলে ১ম ধারা পড়লেন এবং পড়ে 
স্বীকার করলেন- হ্যা, ঠিক । আলোচনা 'বাধসঙ্গত । 

তিনি সভাপাত। 'নিরপেক্ষত৷ ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সভ৷ চল্ল। প্রত্যেককে 
তিনি নিজ বন্তব্য বলতে দেবেন । প্রথম দিন সভার অনেকে বললেন । আম 
প্রস্তাব তুলে বললাম প্রয়োজন হলে সবশেষে আমার বন্তব্য পেশ করব। 
সেদিন আঁধবেশন বেশিক্ষণ চললে সকলের বন্তব্য পেশ হতে পারত- প্রস্তাব 
নিঃসন্দেহে গ্রাহ্য হত । কিন্তু ডকৃটর রায়ের পক্ষীয়র৷ তা বুঝে ৭ 'দনের জন্য 
আলোচন৷ মুলতুবির প্রস্তাব করলেন। সিদ্ধান্ত মশায় জানতে চাইলেন আম 
তাদের প্রস্তাবে সম্মত কিনা ? অনুভব করছিলাম ডঃ রায়ের প্রস্তাব 'সিনেটের 
বারে আনা সদস্যেরই অনভিপ্রেত । ভোট হলে জয় আমাদের সুনিশ্চিত | 
কন্তু সিনেট তো দেশের কর্তা নয়। আসল কর্তা আইনসভা । ডঃ রায় 
ওক্জর তুলবেন, সেনে?ে তার পরাজয় আকাঁস্মক ঘটনা । ম্নাপ ভোট--সিনেট- 
সদস্যের সু্চাম্তত আভমত নয় । ওই ওজরেই ডঃ রায় আইনসভাকে বলবেন 
[সনেটের মতামত অগ্রাহ্য করতে । কিন্তু ৭ দন পরে অধিবেশনে আমাদের জয় 
হলে শুধু আমাদের পক্ষে ভোটের আধিক্যই প্রমাঁণত হবে না, হবে আমাদের 
সবস্বীকৃত জয় । ডঃ রায়কে আমাদের মত অগ্রাহা করতে হবে ক্ষমতার 
অপব্যবহার করে । আম ঝুণক 'নয়ে বৈঠক মুলতৃবিতে সম্মত হলাম । অনেক 
সত্যকার সুহদ আমার 'নর্বাদ্ধতায় অবাক হলেন । জয়লক্ষমী আম পায়ে 
ঠেললাম । কারণ সাত দন সময় পেলে ডঃ রায় যা করবেন তাতে 'সিনেটের 
অনেকেই আর এাদনকার মত স্বমত প্রকাশে সাহসী হবেন না। আশঙ্কা! 
অমূলক ছিল না;_অমূলক নয় আঁমও জানতাম; কিন্তু 'সনেটরদের 
আপাঁত্ত সত্যই প্রবলতর, এই ছিল আমার ধারণা । সাত 'দন পরেকার 
আঁধিবেশনে যা ঘটোছল তা সুবাদতত । মুখ্যমন্ত্রী কোন চেষ্টাই বাদ রাুখন 
ন, নিজেই বাস্ত ও তৎপর হন। প্রায় জনে জনে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয় । 
সজজনীকান্ত দাসের মত সুচতুর কোন কোন সদস/ বুঝোঁছলেন সভায় ভোট 


লাগল না_ লাগ্জ না ৩৩ 


দলে দেশের কাছে মুখে দেখানো দুঃসাধ্য হবে । সজনী ঠিক সোঁদনকার 
সভার সময়ে তাই সবান্ধবে ডাঃ রায়ের দরবারে গিয়ে দিনেটের এই 
কামিউনিস্টদের মুণ্পাত করাটা বৃদ্ধমানের কর্ম মনে করলেন । ডাঃ রায় কিন্তু 
গৃঢ় অর্থ বুঝালেন £ 'তুমি তো সনেটের মেস্বর ৷ ভোট 'দিতে না গিয়ে এসেছ 
কেন? ওরকম ওখানে আরও দু'-একজন মেস্বর উপাস্ছিত ছিলেন, সঙ্জনী 
একাই চতুর নন । এক সপ্তাহ পরে যখন বৈঠক বসল, সকলে সোঁদন উৎকা্ঠত । 
ভাইস্-চ্যান্সেলর "সিদ্ধান্ত সোঁদন আরও শান্ত আরও স্থির ৷ অবিচল নরপেক্ষতায় 
প্রত্যেককে বলতে দেবেন । কিন্তু দু'বার বলবার অনুম্তিও কাউকে দিলেন না । 
ডঃ রায়ের প্রধান সমর্থককেও না । আম প্রথম দিনেই প্রস্তাব উত্থাপন করার 
সময়ে না বলে, পরে উত্তর দানেব সময়েই বন্তব্য বলবার আধিকার নিয়েছিলাম ; 
ভেবোহছলাম শেষ কথা বলতে সকলের উত্তরও দিতে পারা যাবে। কিন্তু 
সভার শেষে তাও মনে হল 'নস্রযোজন । বলা বাহুল্য, 'বরোধীদের বন্তব্য 
মোহ 512 পাত্তা পাচ্ছিল না। কথ বাঁড়য়ে কী কাজ? ভোটের সময় 
ষখন এলো তখন আমাদের প্রস্তাব বিন বাধায় গৃহীত হ'ল । ট্রেজরর সতীশ 
চন্দ্র ঘোষ মশায় জন্মসূন্নে বাঙাল, আমাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একা হাত 
তুলোছলেন প্রথম, তারপর অপ্রতিভ হয়ে হাত নামিয়ে ফেললেন, বাঙালত্ব 
ঘোচালেন । মূল প্রস্তাবটা আমার, আমার তাই সৌভাগ্য বটে, কিন্তু জয় 
হ'ল তে। বাঙলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের সুস্থ বাদ্ধর ও সং সাহসের ৷ 

কথ হবে, এর মধ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর সিদ্ধান্ত মশায়ের কৃতিত্ব-অকাতিত্ব 
কোথায় 2) সে তথ্যাট আমার পক্ষে পরোক্ষপ্রাপ্ত, কিন্তু সম্পূর্ণ বিশ্বস্তসূত্ে । 
মুখ্যমন্ত্রীর মু্সখানার অনুচরদের কারো কারে দ্বারা উত্ত ও সমাঁথত । 

প্রথম সভা ৭ দিন মুলতুবী হতেই ডাঃ রায় প্রথমেই ভাইস্‌-চ্যাঞ্জেলরকে 
তলব করলেন শীনর্নলকে ডাকো ॥' যথাসময়ে ভাইসৃ-চ্যান্সেলর সাক্ষাৎ করতে 
এলেন মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে । চিরাঁদনের মতই 'মঃ "সদ্ধান্ত শান্ত সুম্মিত মুখ, 
সুপারচ্ছন্ন বেশবাস ; সমুজ্ল পুরুষ । 

আবিলম্বেই শোনা গেল ডাঃ রায়ের উচ্চকণ্ঠ, ক্ষুব্ধ স্বর-তুমি ওপ্রস্তাব 
তুলতে দিলে কেন সিনেটে 2 শান্ত কণ্ঠের উত্তর শোনা গেল__কী করা ? 
ইউানিভাসাঁটর ত্যাক্ট অনুসারে তা বৈধ, 'ইন্‌ অর্ডার যে_। আরও ক্ষুব্ধ কণ্ঠ 
ও 'তিরস্কার,_-ইন্‌ অর্ডার হ'ল তো কী ₹'ল? তুমি বুল আউট করলেই তো 
হ'ত। 

সে কি করে সম্ভব ? 

উত্তর প্রায় ভৎসনাসূচক ।_এজন্য তোমাকে লক্ষ থেকে এনেছি ? 

৩ 


৩৪ রূপনারানের কুলে 


অন্য পক্ষ নিরুত্তর, স্তব্ধ, গম্ভীর । ডাঃ রায় উচ্চকণ্ঠ । সেই উচ্চ গ্রামে 
মানট পনের তা চলল । শেষে--'আম দেখাঁছি সিনেটে কী হয় । ভাইস্‌- 
চ্যান্সেলর প্রায় নীরবে বিদায় নিয়ে বোরয়ে এলেন । শান্ত মুখশ্রী বিষম গম্ভীর, 
মর্যাদাময় স্থির গাঁতিভাঙ্গ আরও সুস্থির, কারও দিকে দৃক্পাত নেই_ 
মুক্িখানার বা বারান্দার কারও দিকে ৷ 

এই নেপথ্য-তথ্য জানলে বোঝা যায় নির্মল সিদ্ধান্ত শুধু বুদ্ধিমান, সযত্র 
সুবেশী পরিমিতমনাঃ কৃতী বাঙালি নন । সাহসী আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষও । 
স্থতঃস্ফর্তভাবেই তাই শতবাধিকী উৎসবে বলে ফেলেছি গ্রেট শব্দটাই 
বশ্ববিদ্যালয়ের গব করার মত তার ভাইস্-চ্যান্সেলর ৷ আমার তিক পাশেই তখন 
ছিলেন মিসেস্‌ সিদ্ধান্ত, তার চোখের উৎফুল্ল কৌতৃহলী দৃষ্টি আমার মুখের 
দিকে । জানালাম প্রোফেসর স্দ্ধান্ত আমার প্রথম কলেজ জীবনের অধ্যাপক । 
'উই আর প্রাউড অব আওয়ার প্রোফেসর ।' জানাতে হ'ল- তাকে এক বৎসরই 
মাত্র দ্ধাটশে পেয়োছলাম-সে সময়েই তানি ববাহ করেন। মিসেস্‌ 
1সদ্ধান্তও কৌতৃহলী মানুষ আমার পাঁরচয় সংগ্রহ করলেন । না জানয়েও 
পারলেন না, আপনাদের সঙ্গে তা হলে আমার দু'পুরুষ পরিচয় ।' সাবনয়ে 
বল্লাম আম আবাল্য তা জেনে এসেছি । কি্তু অধ্যাপক-ছান্নে কলেজ- 
জীবনে পারিচয় গড়ে উঠে নি। সে সময়ে অধ্যাপক নির্মল সিদ্ধান্তের 
সঙ্গে পারচয়ের সূত্র ক্ষীণ ছিল। পরীক্ষা-সূত্রে একবার পারিচয় হতে-হতে 
হয়নি। আমি ক্লাশে সদন ছিলাম না। 


ওরুপ সূত্রেই ডঃ কালিদাস নাগের সঙ্গে তখন পাঁরচয় হয়েও যোগ হয় নি। 
[তিনিও তখন চলে যান বিলাতে । ছান্র-অধ্যাপকে যোগ ঘটোছিল_ কলেজে 
নয়, 'বিশ্বাবদ্যালয়ে নয়-আট বৎসর পরে প্রবাসী আফসে । তান তখন 
ইউনিভাসাটির অধ্যাপক ডঃ কালিদাস নাগ, আম এ আঁফসের আংশিক কর্মী, 
'শানবারের চিঠির চক্র-প্রাস্তক সদস্য। সে সময় পারচয় হলে সাঁবনয়ে 
জানালাম, 'আম আপনার ছান্র ছিলাম" । তৎক্ষণাৎ ডঃ নাগ ম্নেহ সুম্মিত 
মুখে বলুলেন, “তাই বলো, মুখচেনা মনে হচ্ছিল ॥ চেনার মত মুখ আমার 
নয়_-এঁট আবাল্য জানা । তা হলেই বাকি? ডঃ নাগের কাছে কার মুখ 
অচেনা ? সে মুখ মনে থাকার দরকার হয় না । বছর দুই পরে আমার 
ভাই সাধুর ( প্রফুল্ল হালদারের ) সঙ্গে ডঃ নাগের দেখা । সে জানাল আমও 
ক্কাটশের ছান্ত। মুখের কথা শেষ হবার আগেই ডঃ নাগ বললেন, তই 
দেখোঁছ-মনে হয় । সাধু বলতে পারল না-সে যখন সে কলেজে পড়তে 


লাগল না_ লাগল ন৷ ৩৫ 


আসে ( ১৯১৯-এর মধ্যভাগ ) ডঃ কালদাস নাগ তখন িলাতের পথে ব৷ 
বিলাতে । দেশে থাকলেও কি সত্যই যোগ ঘটত ? 

কালিদাসবাবু প্রসন্ন সদাশয়তায় সকলকেই চান প্লেহ-সৌহার্দ্য বিতরণ 
করতে । তা করতেও তিনি পারেন । দলগত মত তর্ক ওসব নিয়ে খোঁজা- 
খুশীজ তার স্বভাব-বিরুদ্ধ। অমায়িক বাক্যে সকলে স্বীকৃত, সকলে হচ্ছন্দ ; 
ম্নেহেও সকলেই অনুগৃহীত । অন্ততঃ নামি । যারা তার সাক্ষাৎ পেয়েছি, তারা ' 
দেখোঁছ কালিদাসবাবু দূরত্বরক্ষী মানুষ নন। এমন কি, পরিশীলিত আলাপ- 
আলোচনায়ও কাউকে অপাঙ্ক্তেয় মনে করেন না। কেউ দেখবে না তার 
বাক্যালাপে প্রকাশ-কুণ্ঠা, কিম্বা আচরণে গবের গন্ধ ৷ ব্যান্তগত সন্ভাষণে কেউ 
থাকবে না অনাদূত। কথা ও কল্পনায় সরাঁসত বন্তৃত৷ সভাক্ষেত্রে শুনে 
লবাই ঘরে যাবে এক পকেট উৎসাহ নিয়ে । অবশ্য বাঁ ফিরতে ফিরতে 
সে পকেট খালি হয়ে যেত। সাংস্কৃতিক ভাষণের তাই তো নিয়ম--ত৷ যে 
নৃত্য-7) এহ। ভালো বন্তৃতা উপভোগ্য, কিন্তু তা সণয়-উপযোগী নয় । 
কাঁলদাসবাবুর ক্লাশে আমর পড়েছিলাম গ্রীক ইতিহাস । 'তাঁন এক বংসর 
কাল পড়ান,_আঙলে তা কয়েক মাস। সে হীতহাসের প্রার্ত-পব 'নিয়ে 
[তানি বন্তৃতা৷ দিয়ে চললেন। তা ছিল প্রাকৃহেলেনক ইজিয়ান অধ্যায়ের 
কথা । শুধু কি তাই ?- গ্রীক ইতিহাসের সেই সল্তে পাকানোর কথাই শুধু নয়, 
সেই সঙ্গে ভারত-ইতিহাসের প্রাচীন পবের কথাও । তখনও মোহেন-জো- 
দড়ো, হরপ্পা অনাবিষ্কৃত। না হলে কালিদাসবাবু অন্ততঃ তার ছাত্রদের সে 
বার্তাও সোৎসাহে বিবৃত করে চমৎকৃত করতেন । কোথায় থাকত ৷ হলে গ্রীকৃ 
ইতিহাস একপাশে জমা হয়ে। শুধু ইতিহাসই বা কেন? তার ক্লাশেকিন। 
শুনতাম 2 রবীন্দ্রনাথ, প্রাচীন ভারতীয় শিল্প-সভ্যতা, গান্জার আর্ট, অজস্তা, 
ইলোর৷, যুদ্ধান্তের (১৯১৮) পাশ্চাত্য সভ্যতার "শরবারবাঁর জেশন'-_ কথাটা 
তারই মুখে প্রথম শন; তখন থেকেই তা কানে গাথা, মনে গেঁথে রাখতেও 
কম চেষ্টা কারা ন। আশ্চর্য হয়ে শুনতাম । তবে ইতিহাসই শুনোছ কম, 
গ্রীসের ইতিহাস উপলক্ষ মান্র। অবশ্য কপ্পনার রঙে ক্লাশ জমত | বর্ষশেষে 
আমরা আ্যাথেন্সের অভ্যুত্থানের কাছাকাছি পৌছেছিলাম কিনা মনে নেই। 
পেরিক্রিসের নাগাল পাই নি, তা বলতে পাঁর। পরীক্ষার পড়। হিসাবে 
বিশেষ কিছু হ'ল না। আমার তাতে আপাত নেই, শোনা হ'ল অনেক কিছু 
মন যা জানতে চায়। তার চেয়েও, একজন প্রাণবান, উৎসাহী, সুশাক্ষিত 
মানুষ্ষে কষ্পনা-কুশল হাতিহাস-কথনের সূত্রে ষোল বছরের কণ্পনাপ্রবণ 
যুবক মন উৎসাহের স্পর্শ পেয়ে ধন্য হয়। 


৩৬ রূপনারানের কুলে 


উৎসাহ 'জানসটা কালিদাসবাবুর স্বভাবগত । "গ্রেটার হওয়া সোসাইটি” 
জে*কে উঠোছল তার মত মানুষের উৎসাহে,_অবশ্য তা জন্মে ১৯২৫-এর পরে । 
[তান তার প্রথম সম্পাদক ; সদস্যদের মধ্যে হিলেন তাদের দনের দিকপাল 
যুবক পাঁওতেরা-_সুনীতি চাটুজ্জে, হেম রায়চৌধুরী, প্রবোধ বাগঁচি, সুবোধ 
মুখুজ্জে প্রভীত । শীর্ষে বোধহয় রবীন্দ্রনাথ-াঁধনি একালের গ্রেটার হওয়ার 
মহা-উদগ্যাতা । উনবিংশ শতাব্দীতেও গ্রেটার হওয়ার একটা ব্যভিচার-বিলাস 
হয়েছিল-সাগরপারে ভারতীয় কুলী চালান দিয়ে । ইংরেজ তার শ্রষ্টা ছিল-_ 
নিজের গ্রেটার শোষণের প্রয়োজনে । বিংশ শতাব্দীতে আমরা জাতস্মর হয়ে 
উঠলাম । ভারতীয় মেত্রী-ভাবনার স্মতি-স্বপ্ন তখন রচনা করেন প্রথম বিশ্ব- 
ভারতীর কাব-প্রাতিষ্ঠাতা । গ্রেটার ইপিয়া সোসাইটির বাঙালি অধ্যাপকরা সে 
স্বপ্ন-পথের সন্ধান পান একাঁদকে রবীন্দ্রনাথ থেকে, অন্যদিকে ফরাস ওলন্দাজ 
ইংরেজ প্রভাতি প্রাচ্যাবদ পাঁওতদের মধ্যএশিয়ায় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় 
পুরাতাত্বক গবেষণায় ; তাতে তার আঁবঙ্কার করলেন ভারতের প্রসার । 
তারাই সে পথ আবার পাঁরাঁচত করে তোলেন অন্য ভারতীয়দের কাছে, অবশ্য 
রবীন্দ্রনাথই পুরোধা । (৫স সময়টাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন ভারতীয় 
ইতিহাস ও সংস্কৃতির আলোচনায় উৎসাহের হাওয়া জাগল ; কিন্তু আমাদের 
ছান্জীবন তার পৃবে ঝরে পড়ে ধূলায় লুটোচ্ছে । প্যারিস-ফেরত৷ কালিদাসবাবু 
তখন উৎসাহের উচ্ডীসত উৎস । তারই এক সহযোগী বন্ধুর সরস ভাষায়_ 
“ফালিদাসবাবু আমাদের জয়ঢাক বাঁজয়ে যাবেন ।” কিন্তু ওস্তাদ ঢাকী। 
ঢাকের বাদ্যে ত্রাহি ত্রাহি ডাক না ছাড়িয়ে আগ্রহী করে তোল! কি কম ওস্তাদ ? 
1[বশের দশকের আমর কলেজ-ছাড়া বাঙালি যুবকরা তাতে রীতিমত নেচে 
উঠতাম । একাদকে দোঁখ-বাঁণাহস্তে রবীন্দ্রনাথ “সাগরজলে 'সিনান করা 
রূপসীর দ্বারে স্বাগত ; অন্যাদকে ডঃ কালিদাস নাগ-প্রমুখরা ভারতীয় সংস্কীতর 
জয়ঢাক নিয়ে কখনো জাভায়, কখনো চীনে । এভাবে ভারতীয় জাতীয়তার 
সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক দুই ভাবসূত্রের গ্রশ্থিবন্ধন করেছিল কবি ও 
বাঙালি গবেষকরা । তাতে ভারতীয় জাতীয়তায়ও সাংস্কীতক ছোপ 
পড়েছিল । 

পরে দেখোছ, কালিদাসবাবু €১৯২৬-২৭ 2) রম্ন্যা রলীকে লম্বা লম্বা 
পত্র লিখছেন ; উত্তর আসছে পপ্রবাসী' অফিসের ঠিকানায় । কালিদাসবাবূ তা 
তর্জম৷ করে আমাদের শোনাতেন । রলা তখন মহাত্মা গান্ধী” লিখছেন । 
এর পরে লিখতে চান “ববেকানন্দ' ও তার গুরু 'রামকৃফ' “অধিক 
ভারতের শ্রেষ্ঠদান কিন্তু সুগম্রষ্টা রামমোহন" কালিদাসবাবুরা এই বলে রঙ্গার 


লাগ্‌ন। না-__লাগুল ন। ৩৭ 


দুষ্ট আকর্ষণ করছেন। উত্তরে রলী তার কথাটা স্বীকার করেন । কিন্তু 
রলার চোখ বিবেকানন্দ ও রামকৃফেই নিবন্ধ । পরে ত৷ চলে যায় গাঁকর 
দেশে, সে অন্যপবের কথা । কালিদাসবাবুর উৎসাহে ভাটা পড়ত না। 
পাঁথবীর চোখ তানি ফেরাবেন ভারতের প্রাতি, রামমোহন রবীন্দ্রনাথের এীতিহ্য 
_উৎসে, তা পেরিয়ে বুদ্ধ অশোক দীপজ্করের দিকে । 
ডঃ কালিদাস নাগের উদয়-ছটাও ক্রমে কত দিকে প্রসারিত হয়ে গেল। 
চীন ছাড়িয়ে তুকি, জাপান ও সুদূর প্রাচ্এশিয়ার আত্মীয়-গোষ্ঠীতে ত৷ ছাঁড়য়ে 
যায়, আর শুধু সেই প্রাচীনকালে নয়, আধুনিক কালের বাস্তব আদান-প্রদানেও তার 
আগ্রহ-উদাম । জেল ফেরত (১৯৩৮) আমাকে সুদুর প্রাচ্যের তৎকালীন ব্যাপারে 
গাবেষণার জন্য তিনি ডেকে পাঠান । জাপানের “কো-প্রোস্পারিটি তর্ত' বোবা 
দরকার । কিন্তু আমার চোখে তখন অন্য নেশা_ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে 
আধা-লালরঙে চোখ রাঞ্জত । মাণ্টরয়ায় ও চীনে জাপানীদের কাণ্ডে ভারতবর্ষে 
আমব:; "নখন জাপানের প্রাত 'বিরুদ্ধতায় ক্ুদ্ধ । রবীন্দ্রনাথের জাপানী প্রীতিও 
নোগুচির ন্যাকামি সহ্য করে না । আর আমরা উঞ্ণ মস্তিষ্ক মানুষর। 'এ সময়ে 
জাপানের তত্ত্ব ব্যাখ্যা করব 2 তবু যুদ্ধকালে চমকে উঠলাম । 'ব্রাটশ সরকারের 
ক ডঃ নাগের মত এমন রাজনীতিতে 'নষ্কলঙ্ক মানুষকে আবদ্ধ না করলে 
চলাছল না? সরকার জমকালো কারণ দেখাত 'নশ্চয়_যা যম-কালো । 
কিন্তু এসবে বিপরীত ফলই ফলে; এ ক্ষেত্রেও ফলল । বছর কয় পরে ডঃ 
নাগও তখন নতুন স্বাধীনতার হাওয়ায় রাষ্ট্রপাতর মনোনয়নের পাল তুলে 
রাজ্যসভার যাত্রী হলেন । তখন দস্তুরমত তিনি পাঁলাটক্যাল ম্যান। দেশের 
পাঁওতের! আরও অনেকেই তখন হঠাৎ পলিটিক্যাল লীঙ্রশিপ্‌ রপ্ত করতে 
উদ্যোগী । সবপল্লী রাধাকৃষ্ণণ সকলের পুরোধা । নতুন শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে 
সুবুদ্ধির কাজই হয়োছল, শিশুরাস্ট্রে, জ্ঞানীগুণীদের সংপনলামর্শ প্রয়োজন । রাজ- 
নীতির সেই শিরোপা পাঁওতদের মাথায় তেমন খাপ খেয়েছে মনে হয় নি। রাজ- 
নীতিতে তাদের দেবার মত কিছু কি ছিল £ না,ত৷ নেবার মতও সেখানে কেউ 
ছল ? দেখে-শুনে আজ তো তা মনে হয় না। কাঁলিদাসবাবুর সম্বন্ধেও এ কথা 
মনে হয়েছে । তিনি রাধাকৃষণণ নন, তবু কতকগুলি দরবারী গুণ কাঁলদাসবাবুর 
1ছল। প্রয়দর্শন, "প্রয়ভাষী, সব্জন-সুহদ--সকল বিষয়েই ভাষণকুশল । 
আমরা "কিন্তু জানতাম--দেখোঁছও--তার চেয়েও বোশ আরও সহদয়সম্মত গুণ_ 
প্নেহ-প্রীতি-অমায়িকতা । সকলের জন্য ঠার প্রীত, সকলের কথায় তার সহজ 
সম্ষ্ুত। কালদাসবাবু আমাদের কাউকে কখনও “না'বলেছেন মনে পড়ে না। 
কারও ঝেশক গুপ্ত রাজনীতিতে--,_কালিদাসবাবুর তাতেও অন্ততঃ মুখে “না” 


৩৮ রূপনারানের কুলে 


নেই । আবার মুস্ত রাজনীতিতে ধারা প্রথম পক্ষের বরোধী, তাদেরও বলবেন 
'ই্যা । সমাজতন্ত্র চাই ? ঠিকই তো। সাম্রাজ্যবাদী জাপানের সঙ্গে চাই কি 
বৈষয়িক কাম্‌ সামাজিক আদান-প্রদান ? ঠিক কথা । বাধ! দেওয়া একটা রূঢ়ুতা, 
এবং মূঢ়ুতাও, কে মানে কার বাধা 2 কিন্তু তাই বলে তান 'নিরুদ্দেশের যাত্রী নন 
_-দিগ্বোধ ঠিক আছে । উনাবংশ শতকের বাঙাল লিবরেলদের তান বংশ 
শতকীয় উত্তরসূরী এবং রাবীন্দ্রকী কস্মোপালিটান । 

'রাবীজ্রক'_মনে পড়ে, ১৯১৮ সালেও কিন্তু ও ভাবটা সবশ্রাহ্য নয় । 
স্কটিশ চার্চেস কলেজে সংস্কৃত ও বাঙলার অধ্যাপক কালী পাঁওতমশায় আমাদের 
তা জাঁনয়েছেন । বোধ হয় বাঙলা 'টিউটোরিরাল বা সামাঁয়ক পরীক্ষা হয়েছিল। 
আমি তার কাছে প্রথম হয়ে যাই। ক্লাশে খাতা হাতে নিয়ে পাঁওতমশায় 
দেখতে চাইলেন হেলোট কে ১ মোটেই দেখবার মত ছাত্র নয় ; দৃষ্টি-দাক্ষিণ্যে 
সঙ্কুচিত, বাকৃতৃষ্ঠ ৷ তার কাছে ডাকলেন, কী নাম, কী ধাম, ইত্যাদ জিজ্ঞাসা । 
সাবনয়ে ভ্রানালাম, আমি বাঙাল, স্যার । 

বাঙাল! তাতে হয়েছে কি 2 

পাঁওতমশায় ভাবলেন তুচ্ছদর্শন ছেলেটার ইনাঁফারয়াঁরটি কমপ্লেক্স । 
আসলে দুষ্টবুঁদ্ধ ছেলেটার ধকন্তু ওঠ লেগ্প্টলং । সন্পেহ কঠে পাগুত- 
মশায় পরিচয় নিলেন । পরে বললেন, যাও, সীটে বসো গিয়ে । 

ক্লাশে এবার লেখাটার প্রশংসা করে শেষে বললেন, কিন্তু কিন্তু 

কী? সকলেই 'শজজ্ঞাসু । 'রবীন্দ্র-গন্ধী' ; তা'ই সম্পূর্ণ তান খুশি নন্‌ । মজ। 
করেই ব্লৌছলেন কথাটা, কাশ মজাও পেল। কিন্তু তাদের সায়ও ছিল 
পঙিতমশায়ের সে মন্তব্যে, তা বুঝলাম । নিজের লজ্জার কারণ দেখলাম না। 
সে সুযোগও হ'ল না। বহুর পার হতেই এল পাঞ্জাবের ওপর ও'ডায়ারের 
জঙ্গী নাচন; জালিরানওয়ালাবাগ-এ দেখলাম জেনারেল ডায়ারের মানুষ শিকার; 
আর সঙ্গে সঙ্গে বেরুল কাঁবর নাইট্হুড 'ফারয়ে দিয়ে সেই চিরস্মরণীয় 
প্রাতবাদ-পন্র । রবীন্দ্র-দর্শনের স্বরূপ কখনে। তে দুর্দের ছিল না,_আম্ার 
মত অপরিণত যুবকেরও তো অনুভব-গম্য হয়েছিল 'কঠার ইচ্ছায় কর্ম" 
ছোট ও বড় 'বাতায়ানকের পন্র' । পাঁওতমশায়রা হয়তো তবুও ভাবতেন, 
ঠাকুরবাঁড়ির মাপা হাঁস ও মাজ৷ কথাই' বুঝি রবীন্দ্রনাথ । কিন্তু রবীন্দ্রনাথ 
যে কতখানকার এবং রবীন্দ্রনাথ বে কত রবীন্দ্রনাথ, অথচ আবার আমাদেরই 
লোক, তা তাদের বুঝবার অবসর ছিল না৷ 

কালী পাঁওতমশায়ের ছান্র-বাংসল্য ও মন্মথ বোস মশায়ের তির্ন-ধুগ 
ব্যাপ্ত ছাত্র-সৌহার্দ্য আমাদের তখনকার ছান্রজীবনকে সাত করত। তার। 


লাগল না--লাগ্‌ল ন৷ ৩৯ 


পড়াতেন বাঙলা--তাই বোধহয় ক্লাশটা হ'ত 'শিক্ষক-ছাত্রের যোগাযোগের ক্লাশ। 
কন্তু বাঙলা তখনো পড়া অপেক্ষা না-পড়ারই বস্তু । শিক্ষণীয় নয়, কারণ 
তা মাতৃভাষা ; মাতৃভাষার তাতেই তো পাঁরচয়, তা শিখতে হয় না । আমরা 
ছান্ররাই 'কি অন্য রকম মনে করেছি? তখন তে। ভারতীয় আধুনিক ভাষার 
এম. এ. ক্লাশ খোল। হয়েছে (১৯২১৯-এ)। স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সে 
ক্লাশে ভতি হয়েছিলেন, বাঙলায় এম. এ. পাশ করেন, তাতে ক্লাশটার মর্যাদাও 
বাড়ে । বাঙলায় এম. এ.-দের তখন মুরুৰ্বির অভাব হ'ত না। ডঃ দীনেশ সেন 
ও স্যার আশুতোষ তাদের মুরুদ্ধি। তবু আমরা মনে মনে জানতাম বাঙলা 
জীবিকার জিনিস নয়-জীবনের জানিস । সত্যই । বিশেষত ! যাঁদ বাঙলার 
শ্রীবৃদ্ধি চাই তা হলে প্রাথবীর শ্রেষ্ঠ সাহিতোর ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্য-সম্পদের সঙ্গে 
বাঙালির আরও পরিচয় প্রয়োজন । নিজের তাতে পুষ্$ হলেই লাভ হতে 
পচে বাঙলা ভাষাকে পুষ্ট করার যোগ্যতা । আমার তাই হাতহাস পড়তে 
যাওয়া হ'ল না, বাঙলাও না । ীব. এ. অনা পড়লাম ইংরোজতে । 


ন্িশ্রন্বিভালয়েন্ব ছত্রচ্ছা য়া 


এম. এ.-র বেলা নতুন করে নতুন 'কিছু পড়া সম্ভব নয় । অনারসের ফলটা 
তা আরও সুগ্ছির করে দেয় । ইংরেজিতে পড়ব এম. এ. | কে জানত কলেজের 
বাইরে জীবন-নিয়ভ্া তখন হাপছিলেন_কে জানে তার ছলাকলা ১ সাহিত্য 
থেকে ভাষাতত্ব, ভাষাতত্ থেকে সাংতিক গৃতড়, গতড় থেকে পুমা তত, 
সমাজতত্ব থেকে সমাজতন্ত্র" কার্ষক্ষেত্রে দেখলাম ইংরোঁজ ছাঁড়য়ে কোথায় 
[নিয়ে যায় যুগের জিজ্জস। । 'বিশ্বাবদ্যালয়ে কোনটাই আঁধগত কর। চলত ন। 
_ইংরেজিই পাঁড় আর বাঙলাই পাড় । কী হ'তযাঁদ বা পড়তাম 'বজ্ঞান ব। 
অর্থশান্ত্র ঃ তবে আমরা ইংরেজ গড়োছলাম কতকটা জীবিকার দায়েও । 
তখন ইংরোঁজ ভারতবর্ষে জীবিকার সকল দুয়ারের চাঁব, ইউনিভারসেল কা । 
আরও একটু গোপন কারণও ছিল- প্রেম । স্বীকার করতে লজ্জা কী-ইংরোজ 
সাহিত্যের সঙ্গে প্রেমে পড়ে গেছলাম । 
ইংরেজি সাহত্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহত্য, তবে আমার মুখে কথাটা হাস্যকর । 
পৃথবীর কয়টা ভাষা ও সাহত্য আশি জানি ? কিন্তু কথাটা বিশ্বাস করি। 
বছর দশ আগে (১৯৫৮ 2) নীরদচন্দ্র চৌধুরী একাঁদন দেখা হতেই বলোছিলেন 
নগোগপালবাধু, ইংরোজ লেখা ছেড়ে দিলেন 2 -লেখেনই যাঁদ লিখুন সে ভাষায় 
যে ভাষায় পাবেন শ্রেষ্ঠ পাঠক-সমাজ, আর যে ভাষা 'দতে পারে আপনাকে 


৪0 রূপনারানের কুলে 


উপযুস্ত দাক্ষণা ৷” কথাটা অকাট্য সত্য-_কিস্তু সেই ভাষ৷ লিখতে জান। চাই । 
ইংরোজকে প্রেমের জোরে জয় করা আমার পক্ষে সাধ্যাতীতও । প্রেম কম 
ছিল না, কিন্তু ইংরেজি এই বঙ্গ-সন্তানের প্রেমে বশ হবার মত ভাষা নয়-_ 
বড়জোর, তিনি করুণাবশে-অবজ্ঞায় নয়_-মোহ্‌মৃঢ়কে দু-এক মুঠে৷ দাক্ষিণ্য 
ভিক্ষা দিতে পারেন । কারণ, প্রেম নয় শুধু, তার প্রাত আমার ছিল শ্রদ্ধা- 
সম্রমও | উতকর্ষে বৌচন্র্যে বিশালত্বে সত্যই ইংরেজি রাজেন্দ্রাণী । ইংরেজিতে 
এম. এ. পড়তে গিয়ে সেই শ্রদ্ধা ও সেই সম্রম-বোধ না খুইয়ে যে বোরয়ে 
আসতে পেরোছি-এ কথাটা সামান্য নয়। অন্ততঃ আমার পক্ষে তা সহজ 


ছিল না । 


অধ্যাপক-স্সতিতব্বখ। 


এখনকার কথা জান না-তখনকার (১৯২২-১৯২৪) আমাদের এম. এ.-র 
ইংরেজ অধ্যাপকর৷ ছিলেন সুপাঁওত ও সুবিখ্যাত। খ্যাতির চেয়ে বিদ্যাই 
কি তাদের কম ছিল না, বিদ্যার থেকে কম ছিল তাদের বিদ্যাদানের 
চেষ্টা 2 

হেনার স্টিফেন £ হেনার 'স্টফেন ছিলেন ইংরেজির মুখ্য অধ্যাপক । 
খাঁষতুল্য পুরুষ । তখন তান বৃদ্ধ । আগে ছিলেন সোঁদনের স্কাটশ চার্টেস্‌ 
কলেজের দর্শনের খ্যাতনামা অধ্যাপক | প্রাচীন বলে অধ্যাপনা থেকে অবসর 
গ্রহণ করাছলেন, দেশে ফিরবেন । তার বিদায় সভা, স্যার আশুতোষ 
মুখোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত । তিন সে সময়ে ইউনিভাসিটির এম. এ. 
ক্লাশ পত্তন করছেন । বৃদ্ধ অধ্যাপককে আশুতোষ বললেন, 'যাবেন কোথায় 2 
আমর ইউনিভাসাটিতে ক্লাশ খুলাছি। আপনাকে যেতে দোব না- সেখানে 
পড়াবেন। রাজী হতে হ'ল অধ্যাপক 'স্টিফেনকে-তবে দর্শন আর তান 
পড়াবেন না, অন্য কোনো বিষয় । “তথান্তুঁ স্যার আশুতোষ স্থির করলেন 
স্টফেন্‌ পড়াবেন ইংরোজ । এক পাঁরচারকের সেবাধীন 'স্টফেন রয়ে গেলেন 
কলকাতায় | রুমেই চলচ্ছান্ত কমে আসছে, কিন্তু মনঃশান্ত নয়-_কলেজ্জে আসেন, 
পড়ান, 'নিজের মাইনে থেকে কিছু যোগ্য ও সাহায্যার্থা ছাদের বেতন জু'গিয়ে 
যান_আরও কিছু মাইনে হয়তে৷ যায় ওর্প করেই । 

আমাদের কয়েক বংসর পরে এ দেশেই ডঃ স্টিফেন দেহরক্ষা করেন। 
আমর৷ যখন তাকে পাই তখন তান বেশ বৃদ্ধ, তবু সচল। এক কালের 
সুগঠিত দীর্ঘদেহ পুরুষ, বেশভূষায় অমনোযোগী, বেয়ারার সেবাধীন ৷ ক্ষীণ- 


লাগল না__-লাগল না ৪১ 


দৃষ্টি, বার্ধক্যসীমিত চোখ সলঙ্জ, সম্পেহ । দ্বারভাঙ্গ। িল্ডি-এর করিডোর 'দিয়ে 
আসেন “পশেল হলে', যেন কারো চোখে না পড়লেই ভালো থপ্থপ্‌ করে 
আসেন | সরল, সসক্কোচ অথচ সুচ্ছির । এমন মানুষকে দেখেও ধন্য হতে হয়। 
অধ্যাপক ডঃ 'স্টফেন ক্লাশেও কথা বলেন না-তার কথা ও উচ্চারণ 
ছাত্রদের দুর্বোধ্য হতে পারে । ক্লাশে এসেই চকু নিয়ে বোর্ডে যান, সুস্পষ্$ 
সুন্দর হস্তাক্ষর, দিনের পড়া পড়ান তিনি বোর্ডে লখে । কদাচিৎ মুখে দু- 
একদিন বলেন--'বলো না-বড় বড় ভাপ্‌সা কথা ।' "ক্রাটকদের উদ্ধৃতি 
চাই না।' 'ডোণ্ট রড বুক্‌স্‌ অন বুক্স্‌ ।' এমান দু-একটি উপদেশ । তার 
পাঠন পদ্ধাত অবশ্য লিখিত । ভাবে ভাষায় একেবারে নিরলচ্কার, বাহুল্য- 
বজিত, বিশ্লেষণাত্মক । মূল কথাগুলি এই- এক, দুই, তিন ইত্যাদি । তারপর 
দস ইজ- গুড়, “দস ইজ- ব্যাড”, 'এ ঠিক নয়_ও৩ আধা-ঠিক' । আমরা 
তার কাছে পড়তাম-১৭৯৮ থেকে ১৮৩২ পর্যন্ত ( রোমান্টিক দ্রিভাইভেল- 
ব/লীনণ ), ইংরেজি সমালোচনা সাহিত্য । কোলারজ, ওয়াড্সওয়ার্থ গ্রভীতির 
সাহত্যাদর্শ তার অন্তভুন্ত। বই পড়ে তাদের কথা মোটেই সরল মনে হ'ত 
না। 'স্টফেনের লেখা নোট পড়ে তাই মনে হ'ত, বা সন্দেহ হ'ত, “তাই 
তো, এতই কি সরল? না, অধ্যাপক বাঙালি অশ্বথামাদের পিটুলি গুলে 
খাইয়ে তাদের দুধের পিপাসা নিবৃত্ত করছেন ।' যাক, পাশের পিপাসাও তো 
তাদের কম নয়। অধ্যাপকের মূল দৃষ্টিভঙ্গী তাই মনে রাখতাম, সে অনুসারেই 
দু' বংসর পরে উত্তরও লিখোছ, আর মনে আছে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়েছে । 
কন্তু তার আগে সাহতা পড়তে এসে কেবল দিনের পর দিন এক, দুই, তিন 
করে নোট টোকা,_তাতে বিষয়টা বুদ্ধিগোচর যত “হাক মনের মধ্যে একটু 
সন্দেহে দেখা দিত, এঁক সাহত্যের ক্লাশ, না দর্শনের ক্লাশ ? স্টিফেন 
সাহেবের দর্শনের নোট নাকি দর্শনের ছান্রদের প্রধান অবলম্বন । সাত্য, তার 
নোট কতখানি স্বচ্ছ-মানসের পুষ্টিকর ফল তা পরে বুঝোঁছলাম--ওই পবের 
( ১৭৯৮-১৮৩২ ) “পোয়েটিক্সের' উপর (বিশ্বাবদ্যালয়ের ছাপানো) ড্র 
স্টফেনের ক্ষুদ্র শতখানেক পৃষ্ঠার পুস্তকাঁট তখন বেরোয় । সারল্যে, স্পষ্টতায়, 
দৃষ্টর স্বচ্ছতায় চমৎকার একটি কাব্য-জিজ্ঞাসা । গস্টফেন যেন বোঝাতে 
চাইতেন-_সাহত্য ধোঁয়ার কারবার নয় । হয়তো বহাদন দেখে দেখে তার এই 
ধারণা হয়োছল, বাঙালি ছাত্রদের এ কথাটা বোঝানো দরকার । হয়তো তার 
1নজের মনও ছিল বিশ্লেষণের অনুরাগী, ভাবের গ্যাসের বিরোধী, বাক্যের 
ঝু্জড়তে উদাসীন । মোটের উপর, স্টিফেন চমকপ্রদ নন, আলোকপ্রদ । 
জয়গোপাল বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্লাশে এসে বসলেন, তখন সচকিত 


৪২ রূপনারানের কুলে 


হলাম । (তাঁনই 'দ্বতীয় অধ্যাপক- প্রবীণ ছোটখাট মানুষাঁট । ধোপদোরস্ত 
ইীন্ত্র-কর৷ ধুতি-চাদরে এমন সমত্ব পাঁরচ্ছন্নত৷ যে, তাতেই সচকিত হতে হয় । 
তারপর যেই অধ্যাপক মুখ খুললেন, ক্লাশ চমকিত ও চমংকৃত । রোমান্টিক 
1রভাইভেলের মর্ম অনুভব করাই শুধু নয়, মনে হয়েছে সে মর্ম প্রকাশে ভাবে 
ভাষায়, কম্পনায়, বাগাঁবভূতিতে তান অনন্য । অনুভব করতে পারি আরেক 
জগতে যাপা করেছি । চোখে-মুখেও মেই ভাব । এ স্টিফেনের জগৎ নয়_ 
সে তো মাটির পৃথিবী, স্টিফেন নিজেও মাটির মানুষ । জয়গোপালবাবুর 
জগৎ পাঁথবী পৌরয়ে আকাশের আঙিনায় । মুদ্ধ চমৎকৃত মনের উপর দিয়ে 
ক্লাশের এক ঘণ্টা যেন এক ফু"য়ে মিলিয়ে গেল। ই], সাহিত্যের ক্লাশ 
বটে। এম.এ.-ই পড়ছি । সাত্যিই রোমাণ্টিক সাহত্য-প্রেরণার মমস্পশাঁ ক্লাশ । 
একাঁদন, দু'দন, এক সপ্তাহ, এক মাস,_ও তারপর ১ ভাবের ভাবুকতায়, জামান 
দার্শানকদের রহস্/বাদী শূন্যতায় আর ভারতীয় কম্পনার রঙীন হাওয়ায় উড়তে 
উড়তে সেই বর্ণবিচ্ছুরিত আকাশে চোখ তখন বদ্ধ, না হয় দৃষ্টি নিরুদ্দেশ । 
তারপর পৃথবী-ছাড়া লঘু হাওয়ায় মানুষের হদ্যন্ত্র শ্রাম্ত ও স্বান্ত-প্রত্যাশী ৷ 
শুধু সাত দিন অমন অধ্যাপনার আস্বা্নে যে-কোন দেশের ছাত্র পুলাকত 
হবে। বড়জোর, দু-চার মাস চলতে পারে-ভারতাঁয় কপ্পনাপ্রবণ ছাদের 
পক্ষে তাও গ্রাহ্য ৷ 

বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় আচার্য ব্জেন্দ্রনাথ শীলের সহযোগী ছিলেন কোচ- 
বিহার কলেজে--তিনি তখন ইংরেজির অধ্যাপক, আচার্য শীল 'প্রজিপাল। 
সার্থক হয়েছে তার আচার্ষ-সাহচর্য । আমাদের অগ্রজ ছাত্ররা একটা কথা চালু 
করে রেখে দিয়ে গিয়েছিলেন-_-“জয়গোপালিয়ান্‌ ভেগনেস্‌ ।" আমরা তা মানি 
না । আমর বাল অধ্যাপনায় এ রোমাপ্টিক সাবজোন্তীভজমৃ, যেমন স্টিফেন-এর 
অব্জেকাটিভ এনালাসিস । 

স্টফেন-এর স্থির বিশ্লেষণের পদচারণা এক মেরুতে, আর জয়গোপালের 
ভাব-কম্পনার আকাশচারত। বিপরীত মেরুতে । মাঝখানে আর একজন 
ছিলেন_অধ্যাপক শ্রশীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় । কিন্তু মাঝখানকার কি? 
প্রেসিডেন্সি কলেজের বদ্ধদের কাছে এতকাল তার অধ্যাপনার সুখ্যাতি 
শুনেছিলাম, উদৃণ্রীব হয়েছিলাম প্রত্যাশায় । ইংরোজ বাক্যের ঝড় বইছে, 
বিস্ময়েরও অবাঁধ রইল না। বোধহয় শোলই পড়াতেন । জয়গোপালবাবুরই 
শেলী প্রিয় কবি, আমারও এম. এ. অবধি শেলী তাই ছিলেন। জয়গো 
বন্দ্যোপাধ্যায়ের বায়বীয়তায় শেলী তার স্কাইলার্কের মতই উড়তে উড়তে উ 
থেকে আরো৷ উধের্বে শুন্যলোকে শুন্য হয়ে যেতে থাকতেন। শ্রীকুমার 


লাগল না- লাগল না ৪৩ 


বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য-বোধে সেই গঁতিমাধূর্যের আলেখ্য স্বীকৃত । কিন্তু 
তার বিশ্লেষণ-কলা সেই “৪19০৫15৫ *০1০০'-এর প্রাতিটি অবয়ব খণ্ডে খণ্ড 
চাক্ষুষ করে তুলতো৷ । ডানা, গ্রীবা, মাথা, সবই প্রত্যক্ষ, শেলীও দুনিরীক্ষ্য 
নন। শ্রীকুমারবাবুর পাঠন-পদ্ধতি ডক্টর 'স্টফেনের রাঁতিতে নয়, অন্য 
রীতিতে । তার আলোচনায় ফুল নিশ্চয়ই সুন্দর, কিন্তু ফুল নিশ্চয়ই ফুলও। 
আবার, শুধু ফুলও ত৷ নয়, মাটি ও মূল কাণ্ডেরও প্রফুল্ল প্রকাশ ৷ শ্রীকুমারবাবু 
কাব্যদেহের মাটি, মূল ও কাও সম্বস্ধেও সম্পূর্ণ সতর্ক । শাখা-প্রশাখা সম্বন্ধে 
আরও তান সচেতন । জড়াজাঁড়-করা ডালপাল৷ সারয়ে বের করা চাই 
ফুলকে । পাতার পর পাতা সারয়ে তুলে ধরা চাই-এক-একটি ফোটা, আধ- 
ফোটা, ফুটে না-ফোটা কুঁড়। সেখানেই কি শেষ 2 ফুল দেখা হ'ল কই ? 
_এক এক করে দেখানো চাই পাপাঁড়র পর পাপাঁড়র 'বন্যাস। মোহ 
ডয়ে বিশ্লেষণ না করলে হ'ল কী? কিন্তু এই কর্মে সাধারণপগ্রাহ্য শব্দগুলি 
শ্রীকুমারবাবুর আঁভধানে অপাঙ্ক্তেয় । তার শব্দ-প্রবাহ তার নিজস্ব । শ্রীকুমার- 
বাবুর অধ্যাপনায় ঘনঘটার ও কলাকুটের অপসারণ একান্তই তার 'নিজদ্ব । সে 
সবের কোনে। আভাস অন্য কারো পক্ষে দেওয়া অসাধ্য । কাবা-সাহত্যের 
এমন সফল তীক্ষ বিশ্লেষণ অন্য কারো দ্বারা দুঃসাধ্য । এমন আঁভধান-ছাকা 
অজন্ত্র শব্দাবন্যাস দুর্লভ, আর আভনব উপমা-প্রত্যুপমা প্রভাতিতে বিধৃত এমন 
দুর্দান্ত বাগ্‌বিভূতি সংস্কৃত গদ্য কাব্যেও লোভনীয় । শ্রীকুমারবাবুর পরিণত 
দিনের সেবায় আমাদের বাঙলা ভাষা পরে নানাভাবে এশ্বর্ষবতী হয়েছেন। 
শ্রীকূমারবাবুরও তাতে ফল লাভ হয়েহে ৷ কিন্তু ছার সাধারণ তখনো সেই 
শব্দাবতে স্বান্তলাভ করতে পারে নি । সকাতরে দুঃখ কবেছে, “আহা ! বাঙলার 
অধ্যাপক একটু যদি বাঙল৷ ভাষায় বাউল! লিখতেন ।” জান না, তার ইংরেজি 
অধ্যাপনা শুনলে ইংরোঁজ-ীবলাসীরা ক ভাবতেন । 
আমাদের ছান্রজীবনে ড্র শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধ্যাপনার ঘনঘটায় 
আমর হতচাঁকত হতাম, পদাড়ম্বর-বিভ্রান্ত হলেও তার বন্তব্যে উদাসীন থাকতে 
পারতাম না । বিশেষতঃ দেখোঁছ ছাত্রার্থেই উদ্দিষ্ট ছিল শ্রীকুমারবাবুর অমন 
কাব্যবিশ্লেষণ, পরীক্ষা-সাগরে তা ফলদায়ক পাথেয় হত । 
পরবর্তী কালে অধ্যাপক শ্রীকূমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার আরও বোঁশ 
পরিচয়ের সৌভাগ্য হয়েছে । অযা।০ত ভাবে তান নিজে থেকে আমার লেখা 
“একদা”র প্রচুর প্রসংশা করেন 'তার বাংলা উপন্যাসের হীতিহাসে' । বইখানার 
তার দৃষ্ট আকর্ষণ করেছিলেন শুনেছি, তার প্রিয় ছাত্র ও পরে সহযোগী 
অধ্যাপক সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত । শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বাঙল৷ উপন্যাসের 


98 রূপনারানের কুলে 


ইতিহাস-এ সেই আলোচনা এখনে সুরক্ষিত । যে-কোন ছাত্রের পক্ষে কাম্য 
হ'ত গুরুর অমন আশীবাদ, যে-কোন লেখকের পক্ষে ওর্প সযত্র সমালোচনা 
শ্লাঘনীয় পুরস্কার । আজ [তিনি নেই, কিন্তু অকপটে বলতে পারি-কি বিধান 
পাঁরষদ, 'কি সা'হত্য-সভায়-বাঙলায় বা ইংরেজিতে- কোথাও দেখি নি তিনি 
প্রস্তুত না হয়ে আসেন, অবান্তর কথা বলেন। এমন কথা কোথাও 
তাকে বলতে শুন নি যাতে বস্তু নেই। সাহত্যালোচনায় দেখোছ-_-সাহত্যের 
দৃষ্টতেই সাহিত্য তার প্রধান আলোচ্য। এমন কি, যে-বিষয়বস্তুতে তার 
অনুমোদন নেই, তাকেও সাহিত্য-দৃষ্টিতেই বিচার করতেন । তবে, জীবন- 
জিজ্ঞাসায় ত। অনুধাবন করতেন বাঙাল বাঁধষু ভদ্রলোকের রাজনীতিক শ্রেণী- 
বুদ্ধ দিয়ে। সে সময়ে অনেকখানেই তখনো আমরা-তার বিরোধী পক্ষ, 
কন্তু সবখানেই ব্যান্তগত প্লেহের পান্ন। আর ব্যন্তিগত ভাবে আম বরাবর 
বুঝোছ-বলবার মত কথা তার আছে, শুনবার মত কথ। তার মুখেশুনতে 
পাব। অনেক সাহত্যরথীর কাছেও সে আশা দুর্লভ । আরেকটা কথাও বলতে 
পার, আমরা স্কাটশের ছাত্র । কলেজ-জীবনে তার সঙ্গে পারচিত নই, কিন্তু 
ত৷ সত্তেও পরীক্ষায় তার কাছে সুবিচার পেয়েছিলাম-বাধ। হয় ন। একথ। 
প্রোসডেকসির সকল অধ্যাপকদের সম্বন্ধে বলতে পারলে সুখী হতাম । 

এম. এ. ক্লাশে প্রোসডোন্সর আরো দুজন অধ্যাপকের কাছে পড়বার 
সৌভাগ্য হয় । শ্্রীকুমারবাবু বরং তাঙ্গের জুনিয়ার । সানয়র ছিলেন 
অধ্যাপক হোম। ইংরেজির ইংরেজ অধ্যাপক স্টালিং সাহেব তখন অবসর 
1নয়ে চলে যাচ্ছেন । হোম সাহেব পরে সে বৎসরেই চলে যান । হোমকে মনে 
হ'ত খাঁটি ইংরেজ । মিশুকে নন, গম্ভীর প্রকৃতির সভ্য মানুষ-অবশ্য নন-কো- 
অপারেশনের পরে কোনো সাহেবেরই বোধ হয় হচ্ছা থাকলেও ছাত্রদের 
সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানো সাধ্যে কুলোত না। কিন্তু, স্টাঁলং-এর মত দেশীয় 
ছান্রদের কথায় ও লেখায় হোম সাহেবের ব্যঙ্গবোধ জাগত না। তান 1ছলেন 
ভদ্র ধীর-চত্ত অধ্যাপক ৷ এবং স্বত£াসদ্ধ ইংরেজ যখন, তখন তিনিই পড়াবেন 
শেকৃসপীয়ার, এবং আমাদের পড়াতেন হ্যামলেট । হোম পড়ে যেতেন, আমরা 
শুনতাম ; পড়াতেন মানে, পড়তেন ।- মন্তব্য মনে করতেন দুঃসাহস, ব্যাখ্যা 
বাড়াবাড়ি । বোধ হয় ভাবতেন, শেকৃসপীয়ার কি নিজের বন্তবায বলতে 
জানতেন না যে, তার উপর আবার কথা বলা ? তবে ভারতীয় ছাতদের পক্ষে 
অজানা ব৷ দুক্দেয় কোনে উত্তি বা ইংরেজ-জীবনের কূট বিষয় কোথাও থাকলে 
তা বলে দেওয়া চলে। তাও স্বষ্পতম কথায় । বাক্যব্যয় না করে একট, 
হ্যামলেট পড়ানো, বাক্যব্যয় না করেই আমরাও গ্রহণ করেছিলাম । আর 


লাগল না-_লাগ্ল না ৪৫ 


হ্যামলেট সেই যে এম. এ. ক্লাশে আমার কাছে হারিয়ে গেল, ছান্রজীবন শেষ 
না হতে তাকে আর ফিরে পাই নি, যেমন পাই নি বি. এ. অনার্সের পাঠ্য 
ওথেলোকেও । তবে পরে পেয়েছি, পরীক্ষা পাশের মত করে নয়-আমার 
মত করে ; আর তাই সার্ত্না-__ক্লাশের পাঠ্য হ্যামলেট ওথেলোও চিরদিনের 
জন্য হারাই নি । 
প্রোসডোক্সর সহপাঠীরা যাঁর নামে উচ্ছাঁসত হতেন 'তাঁন অধ্যাপক 
প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ । সহপাঠীরা কেন, অগ্রজরা এবং অনুজরাও তার নামে 
প্রশংসা-মুখর । পাঁসিভেলের নামে যেমন পূর্জরা, মনোমোহন ঘোষের নামে 
যেমন আমাদের অগ্রজরা, প্রফুল্ল ঘোষের নামে তেমনি তার ছান্ররা কৃতজ্ঞতায় 
উদ্বেলত। সে কলেজে তখন প্রফুল্ল ঘোষ নিজে থেকেই ছাত্রদের আতিরিস্ত 
ক্লাশ করে পড়াতেন শেকৃসপীয়ার । সাহেবরা থাকতে বোধ হয় শেকৃসপীয়ারের 
1নযাঁমিত ক্লাশ তার হাতে সমপিত হ'ত না। তাতে তার ক্ষোভ ছিল না_ 
যেমন তার ক্লাস্ত ছিল না ছান্রদের প্রয়োজনে যে-কোনো বিষয় পড়াতে ; 
আর পড়াতে হলে সে পাঠনীয় বিষয়ের সমস্ত বই কিনতে, সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয় 
পড়ে তৈরী হতে ; তারপর 'ননজের মনের-প্রাণের সমস্ত সম্পদ পান্র-নবিশেষে 
ছেলেদের কাছে উজাড় করে দিতে । আসলে প্রফুল্ল ঘোষ সাহিত্যে শুধু 
আনন্দ পেতেন না, সাহত্য পড়াতেও তান মেতে উচতেন ; আর তাতেই 
মেতে থাকতেন । বদ্ধুবর নীরেন রায়ের মুখে শুনেছি, নীরেনবাবু প্রথম 
অধ্যাপনা-কর্ম ( বঙ্গবাসী কলেজে ) গ্রহণ করলেন, তার চিরহিতৈষী অধ্যাপক 
প্রফুল্ল ঘোষ পরামর্শ 'দিয়েছিলেন, “তোমার সব শান্ত (৮০5) দিয়ে পড়াবে 
021৮9 %0901 051) মান খাটো করো না” । বঙ্গবাপী কলেজের ছাত্র সে 
অধ্যাপনার কি বুঝবে ? “বুঝুক না বুঝুক, তোমার কাজ দান ।” ছা নীরেন্দ্রনাথ 
1নজের অধ্যাপনা-জীবনে এ উপদেশ বিস্মৃত হন নি, আর গুরু প্রফুল্লচন্দ্ 
[ছিলেন তার অধ্যাপনার জীবন্ত প্রেরণা | 
প্রফুল্ল ঘোষ মশায় ছাত্রদের শিথিলত৷ সইতে পারতেন না, আর সম্ভবতঃ 
'নর্রদ্ধতাও না। প্রোসডেনি কলেজের ছাত্রদের কাছে শুনোছি-তাদের 
এক ইংরেজ 'অধ্যাপক বাঙালিদের ( এমন কি, নজজ কলেজের বাঙালি অধ্যাপক 
ও ছাত্রদের ) ইংরেজি লেখ৷ নিয়ে ব্যঙ্গবদুপ করতে সবদাই তৎপর ছিলেন । 
আর সেই সাহেবের ব্ঙ্গরসের সমজদার ছিলেন তার সহকারী বাঙালি 
অধ্যাপক ঘোষ । প্রফুল্ল ঘোষের মত বুদ্ধিমান অধ্যাপকেরও বাঙাঁলর মুখে ব৷ 
সুঁলখায় খারাপ ইংরোঁজ দেখলে বঙ্গাপ্রয় হতে বাধত না কেন ১ আমরা ভুলে যাই 
আমাদের পক্ষে ইংরেজির মত বিদেশী ভাষা লেখা একটা বিড়ম্বন। ।-আমরা 


৪৬ রূপনারানের কুলে 


তা 'লাখ জীবিকার দায়ে-_পাঁড় হয়তো অনাঁধক তৃপ্তির জন্যও | কিন্তু, উল্টে 
যাঁদ ওই সাহেবকে জিজ্ঞাসা কার, তার মত ইংরেজ পণ্ডিতরা কি ২০।৩০ বৎসর 
এদেশে থেকেও বাঙলা লিখতে পারেন,-যেমন তেমন করে এক-কলমও ? 
অবশ্য, তারা কেন শিখবেন । বিলাত থেকে তারা অনেকেই এদেশে আসতেন 
সুখ-সুবিধার জন্য-টাক৷ লুটবেন, দেশে ফিরে যাবেন । ক'জন সত্যকারের গুণী 
লোক নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে যান-দেশে যাঁদ থাকে তার গুণের কিছুমান 
কদর ? দোঁখ তো, কলকাতা ছেড়েই তে। যেতে চান না আমাদের বাঙালি 
অধ্যাপকরা । যে-ইংরেজের দেশে ঠাই নেই সে যায় প্রথমে শাদ। ডোমিনিয়নে, 
তা-ও না জুটলে কালা আদমির দেশে- ভারত সাম্রাজ্যে । ভারতে আগত ইংরেজ 
€ ইদানীং মাকিনও ) প্রথম নয়, দ্বিতীয় নয়, তৃতীয় শ্রেণীর বিশেষজ্ঞ। সে 
শদনের ইংরেজ অধ্যাপকরা তার বেশি ইংরোজর বিশেষজ্ঞ ছিলেন, এমন 
প্রমাণ স্বদেশে, বিদেশে কোথাও রেখে যান নি। অবশ্য এদেশে হয়তো 
মুবুবিয়ানা ফলিয়েছেন- আমাদের মনোমোহন ঘোষ, প্রফুল্ল ঘোষদের ওপরেও । 
শুধু ইংরোজর না._জান, ইংরোজ তাদের মাতৃভাষা, সে ভাষায় তারাই কর্ণধার 
হবেন কলোনির কলেজে ৷ কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগে জগদীশচন্দ্র-প্রফুল্লচন্দ্রদেরও 
ওপর তখন অজ্ঞাত-পাঁরচয় তৃতীয় শ্রেণীর শ্বেতাঙ্গ প্রভুরা কম ওগ্তাদ করে 
যানাঁন। তবে নন্-কো-অপারেশনের শেষের দিকে ওসব ইংরেজের থোত। 
মুখ ভোতা হয়ে আসছিল । অন্য 'দকে ব্াটশ সরকারও 'বিিতী মার্কাধারী 
দেশী লোকদের দু'-একজনকে সরাসরি সোঁদনের ইম্পীরিয়াল এডুকেশন সাভিসে 
এনে বঙাচ্ছলেন । তা কতকটা নিজেদের মুখ-রক্ষা, কতকট৷ দেশীয় লোকদের 
মুখ বন্ধ করা । যাকৃ, সে-সব কথা । স্কাটশ চার্চেস্‌ কলেজে স্কটিশ সাহেবদের 
নিকট ওরুপ পাকা ইংরেজী ব্যঙ্গ-বিদুপ সইতে হয় 'ন-ইউনিভাসিটিতেও না । 
সে কলেজের 'স্টফেন ভূলে িয়োছিলেন তার চামড়া সাদা । আমরাও ভুলে 
যেতাম । ছাত্রদের সাহায্যে তান ছিলেন মুন্তহস্ত । হোম্‌ সাহেব [বদেশী হলেও 
খাঁটি ইংরেজ, শিক্ষিত ভদ্রলোক-মনে যাই হোনূ, আনুষ্ঠানক রীতিনীতিতে 
ভদ্রলোক । 

অধ্যাপক প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষকে দেখেছি পঠন-পাঠনেই উৎসাহী মানুষ, চলা-ফের। 
সব বিষয়ে প্রাণেমনে অধ্যাপক | প্রথম পড়াতেন তিনি চসার,-_ক্যাপ্টারবেরি 
টেলুস্‌-এর 'প্রোলোগ' বা কথামুখ । এই একটি বিষয় পাঠ্য হয়েও নীরস হতে 
পায় নিআমার কাছেও না। তার এব কারণ চসার স্বয়ং; আর, দ্িতীয় 
কারণ, অধ্যাপক প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের অধ্যাপনা । ক্যাপ্টারবোর টেল্স্‌-এর বান ও& 
রসকতায় 'তাঁন নিজেও হয়ে উঠতেন উৎফুল্ল, আমাদেরও সঙ্গী করে নিয়ে 


লাগল না- লাগল ন৷ ৪৭ 


যেতেন চসারের রঙ্গ-কৌতুকের অন্তঃপুরে ৷ বছরের পর বছর প্রফুল্ল ঘোষ মশায়ের 
কাছে চসার পড়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছান্নরা । দলের পর দল এই 
সানন্দ অভিযান উপভোগ করেছে । আর আমরা ? কলেজ-জীবনে ঠার 
পড়ানোতেই পেয়েছি অপৃব আনন্দ । তাতে মনে আরো আফশোস জাগত-_ 
“যাঁদ প্রফুল্ল ঘোষের কাছে শেকস্পীয়ার পড়তে পেতাম 1৮ কিন্তু সে অসম্ভব ! 
প্রোসডেন্সি কলেজ ছাড়া অন্য কলেজের ছাদের পক্ষে সে দ্বার রুদ্ধ ৷ অধ্যাপক 
নিজেও অকরুণ, অন্য কারো প্রার্থনায়ও কর্ণপাত করবেন না । অন্য কলেজের 
ছাত্ররা তার নকট অপাঙ্ন্তেয়। অমন তিনি অধ্যাপনার আনন্দে মজে যান 
-সব ছান্রকে সমদৃঁষ্$তে দেখতে তিনি অক্ষম । "তান হেনৃরি স্টিফেন নন-_ 
সকলের বন্ধ নন, শুধু প্রোসডেন্সির মার্কাধারী ছান্ররাই তার অধ্যাপনার যোগ্য । 

চসারের পরে প্রফুল ঘোষ মশায় পড়ালেন দাস্তের “ভটা ন্যুভা', অথব। 
রোসোঁটির অনুবাদে সেই 'ভটা ন্যুভা । এবার আরেক রকমের অভিজ্ঞতা । ব্যাগ 
ভরণ্ত .ই ন্বান্তগত অর্থব্যয় ও পারশ্রমের তা মূতিমান সাক্ষ্য । টীকা-টিপ্পনী, 
ভাষ্য সব মজুদ, অধ্যাপক ঘোষও মুখর, তেমাঁন অধ্যাপনায় মশ-গুল ; তার 
পাঁওত্য সদা উৎসাঁরত । আমরা 'কস্তু তাতে প্রথম ব্যাকুল, তারপর 'বমূঢ, 
তারপর ক্লাস্ত। শেষ দিনের ক্লাশে প্রায় শেষ পাঁচ মানটে-ঘুম পেল । ধরা 
গড়ে গেলাম-_বিমুচ্ছিলাম । বাঘা অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষ । কিন্তু কপাল ভালো, 
অধ্যাপকের চোখে দেখ্লাম কৌতুকের দৃষ্টি, ব্যঙ্গ নয়, সরম ভাবে একটি সরস 
কথা এই যে ঘুমিয়ে পড়ছ 2 ভিটা ন্যুভা শেষ হতে একটু দেরী আছে যে। 
লজ্জা পেলাম, ক্ষমা চাইলাম । তার দরকার ছিল না, আগেই ক্ষমা করেছেন 
নিজ গুণে । প্রোঁসডোন্সির ছেলে নই, তবু হয়তো ক্লাশের শেষ দিন বলেই এ 
ক্ষমা অনায়াস-লভ্য হ'ল। 

একটা সংশয় রয়ে গেছে - প্রফুল্ল ঘোষ মশায়ের “ভটা নুযুভা' পড়ানো 
বিশেষ জম্ল না কেন? চসারে ক্লাশ উজ্জ্বল, সব কৌতুক সরস । তার একটা 
কারণ চসারই কোতুকোজ্বল, মুখ্যত প্রোলোগ্‌ সরস | অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষের 
সহদয়তার আম 'নিজেই প্রমাণ, তা এই মাত্র বললাম । আমাদের সহপাঠী 
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গেও তার একটা সংঘাত ঘটোছিল, পরে তাও বলছি। 
তাতেও শেষ পরস্ত মনে হয়, অধ্যাপকের ক্ষমাগুণেরই পাঁরচয় পাওয়া যায়, 
যাঁদও আমরা ভাবছিলাম, অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষ প্রোসডেন্সি কলেজ ছাড়া অন্য 
কলেজের ছাত্রদের ক্ষমা করতে জানেন না। অবশ্য সুধীন দত্ত স্কাটিশের 
আবু্কতটুকু ছাত্র? তার চেয়ে (তখনো) তার পাঁরচয়-হীরেন দত্তের পুত্র 
কতই ঘোষ-বোস্দের স্বজন । না হলে, কোনো-কোনো৷ কারণে অধ্যাপক 





৪৮ রূপনারানের কুলে 


প্রফুল্ল ঘোষকে তো আমাদের ভয় করাই স্বাভাবিক । তার দক্ষিণ মুখ 
প্রোসডেক্সি কলেজের তার প্রিয় ছাত্রদের তাণ করার জন্য অসাধ্য সাধন করতো 
আমাদের কিছুপৃবে একবার এম. এ.-তে ইংরোজ সাহিত্যে আঠারো জন ফাস্ট 
ক্লাশ পায়-_অভাবনীয় কাও। তা ভাবনীয় ছেড়ে ঘটনায় পারণত হয় প্রফুল্ল 
ঘোষ মশায়ের জন্য । তার একাট প্রয় ছাত্র না হলে সেকেও ক্লাশে বাধা থেকে 
যায় অঙ্টাদশ-পদে । কাজেই উপায়_-তার উপরকার সব ছাত্র শুদ্ধ ছান্রটিকে 
টেনে তুলে ব্রাকেটে সবকে ফাস্ট ক্লাশ করা । শুনোছি সেই প্রিয় ছান্নুটি সত্যই 
কৃতী ছাত্র, তান ফাস্ট" ক্লাশেরই বোগ্য । পরীক্ষার খাতার প্রমাণের থেকে 
অধ্যাপকদের দৃ'বংসরের সাক্ষাৎ-অনুভবের প্রমাণ এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই বোশ 
গ্রাহ্য ; অন্ততঃ আমি তা মনে করি । অব্যাপকদেরও যাঁদ সত্যই সের্প মত 
হয়, তা হলে ছাগ্রাটকে ফাস্ট" ক্লাশ দিয়েই যথার্থ সুবিচার করেছেন । কিন্তু প্রশ্থ 
হচ্ছে- পরীক্ষা-প্রথার অনন অ$ল মাহাত্ম্য তারা তথাঁপ রক্ষা করেছেন কেন? 
এক মার্ক, দু'মার্ক হিসাব করে ছাত্রদের উত্তরের গুণাগুণের অমন সৃষ্ষম নির্ণয়ের 
যে-ব্যবস্থা, ত৷ 1নশ্চয় তাদের তুলে দেওয়া উাচত । এ, বি. সি, ডি, করে গুণ 
বাচক নির্দেশই সমুচিত । পরীক্ষ। চালাবেন সেই অটল নিয়মে, আর পশ্চাৎ- 
দুয়ার দিয়ে চালাবেন ক্ষমতাবানদের মাঁজ মত প্রিয়পান্রদের উচ্চস্তরে 
ঠেলে তুলে দেওয়া--এটা বিচারের খুব সুপথ নয় । সম্মানের কথাও নয়, 
অধ্যাপকদেরও নয়, িলকধারী ছাণ্দেরও নয়। এরূপ অপকাঁতি আরও 
দেখতে পাই নি তা নয়। স্কাটশ চার্ঠেস কলেজের একটি ছাত্র একবার 
এম.এ.-তে একমান্ন ফাস্ট ক্লাশ হচ্ছিল, তাই ফাস্ট হবে । ফল বেরোয় ন। 
কথাটা জানাজানি হতেই প্রোসডেনির অধ্যাপক মশায় পরীক্ষকদের বাঁড় 
বাড় ঘুরে যা করলেন, তাতে শুধু অন্য দু'জন পরীক্ষার্থার মার্ক বাড়ানো নয়, 
স্কাটশের ছান্রীটর মার্ক জোর করে কমানোও হ'ল । শেষ অবাধ অধ্যাপকদের 
সর্বাধক দাক্ষিণ্ভাজন যান তানই হলেন ফাস্ট ক্লাশ ফাস্ট, আর দ্বিতীয় 
কূপাভাজন প্রোসডোন্সর ছান্রটির সঙ্গে স্কাটশের মুরুত্বি-বণিত ছান্রটি হ'ল, 
্র্যাকেটে ফাস্ট ক্লাশ সেকেওড। মানি, তিন জনাই তারা৷ যোগ্য, অধ্যাপকের 
ছান-বাংসল্যও আনন্দনীয় । কিন্তু সে-বংসর পরীক্ষার্থাদের মধ্যে আর সকলেই 
যে বাংসল্যের অযোগ্য, কি করে ত। অধ্যাপক-মশায়রা ঠিক করোছিলেন ?-- 
ছান্র-অধ্যাপকে যে মুখ-দর্শন হ'ত না-শিক্ষা-বাবস্থায় । থাক না হয় সে প্রশ্ন । 
কত্ত, যোগ্যতমকে টেনে নামানোটাও কি বাংসল্র পরিচয় 2 

প্রশ্নপত্র রচনা থেকে আরস্ভ করে পরীক্ষক-অধ্যাপক, কর্তৃপক্ষ প্রত্ত 
মান্যবরদের কৃপায় পরীক্ষা-প্রথা ছান্র-বাংসল্য, পুন্র-বাংসল্য, কন্যা-বাংসল্য, 


লাগল না- লাগল ন৷ ৪৯ 


জামাতৃ-বাংসল্য, শ্যালক-বাৎসল্য, শ্যালিকা-বাৎসল্য ইত্যা্দ বিচি বাংসল্য 
রসের বাহুল্যে, এবং সখ্যরস ( ও এখন ঝাগ্ডারসের ) প্রচলনে এমন স্তরে অবনত 
'যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে রোদ্ুরসের ওইরূপ আবির্ভাব আনবার্য হয়ে উঠেছে, 
হয়তো বা প্রয়োজনীয়ও। অবশ্য বিশ্বাবদ্যালয়ের দক্ষযজ্ঞের তাওব শিবের 
অনুচরদের নয়, তা তার 'গণের' উৎসব । যাই হোক, 'বশ্বাবদ্যালয়ের মান্দিরে 
এখন স্যর আশুতোষের মূতি ধুলোয় গড়ায় । প্রোসডেন্সি কলেজও সেই 
কলেজের সেই পরম ছান্র-বংসল অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষ মশায়ের আবক্ষ মৃ'তি 
প্রোসডেন্সির আধুনিক ছাত্রদের দ্বার বিচৃণিত হয় । আমর যেন শুনতে পাই, 
শেকৃসপীয়র-বিশেষজ্ঞ প্রফুল্ল ঘোষ-জুলিয়স সীজারের সিনার মত- উদ্দও 
ছাত্রদের বলছেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী ড্র প্রফুল্ল ঘোষ নই, আম শেকৃসপীয়র 
পাঁড়য়ে অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষ ।' উত্তর উঠছে--“মারো, শা-কে, মারো, মারো । 
“রেড বুক অফ মাও পড়াও নি কেন ?” হায়, অধ্যাপক ! এদেরই 'পিতৃ- 
পজামহদের জন্য ছাত্রবাংসল্যে আপাঁন কী না করেছেন। এরা আপনার 
সেই মানসপুন্রদেরই উত্তরসূরী । আমর। ধার ছিলাম আপনার 'পুয়র 'রলেশনস' 
তারা কিন্তু জাঁন-যা হয় হোক, এম. এ. ক্লাশে আপাঁন অধ্যাপক ঘোষ 
সকলকেই সাগ্রহে পাঁড়য়েছেন, এমন কি, আমাদেরও । আপনার সেই অধ্যাপনার 
স্মাত আমাদের মনের ধূলোয় লুটোবে না, এটুটই থাকবে । যাঁদ আপনার কাছে 
শেকৃস পীয়র পড়তে পেতাম ! 

অধ্যাপক রাঁব ঘোষ তখনো। এম. এ. ক্লাশে পড়াতেন না- আমাদের 
দুর্ভাগ্য । তবু ভালে পাশ-করা অধ্যাপকদের কাছেই তে। পড়েছি--কেউ স্মতি 
থেকে হারিয়ে যায় নি। কৃতাবিদ্য পুরুষ কিরণ ম্‌খ;ত্জে গ্রীকে পগুত, 'অল্‌ 
সোল্সৃ-এর ফেলো । এ মানুষ পড়াতেন প্লেটো_“সক্রোটসের বিচার ও 
মৃত্যু” ধোপদুরস্ত পারচ্ছদ বিষয়ে যেন চরাদনই স্তন কিন্তু ক্লাশ সম্বন্ধে 
অচেতন । তান শুধু বিদ্যায় বাশিষ্ট নন, তার চেয়েও বড় কথা 1তাঁন 
কলকাতার অভিজাত বংশের জামাতা । নিম্ন কণ্ঠ, নিজে নিজেই প্লেটো পড়েন 
ও শোনেন, দু'-এক সময়ে একবারে চুপ । একটু মৃদু হেসে হয়তো বলতেন-_ 
ক্র জাওয়েটের অনুবাদটা ঠিক হয় নি । তারপরে আবার পড়বেন নিজে নিজে । 
_-তার অধ্যাপনার আর কিছুই মনে নেই । তবে, বি. এ.-তে, এম. এ.-তে 
কিছু সোফোক্রিস্‌, ইস্কাইলাস্‌ পাঠ্য হিল বলে আমর নিজে থেকেই পড়ে ফেলে- 
1ছলাম ইংরেজি অনুবাদে বেশ কিছু প্লেটে ও গ্রীক ট্রাঁজাড । জীবন ধন্য 
হয়েছে তার রসাস্বাদনে । অথচ ইস্কাইলাস কে পড়ালেন আজ মনে পড়ছে 
নারী এমান অনেক কথা এখন ফাঁক [দিয়েছে । একজনের কথা কিন্তু মনে 

৪ 


৫০ রূপনারানের কুলে 


আছে; আর এখনো মনে কার- যদিও তাতে গামিষ্যাম উপহাস্যতাম' | 
তান ওয়ার্ডসওয়ার্থ পড়াতেন । হেরম্বচন্দ্র মৈন্রই সেই অধ্যাপক । যাতার 
সম্বন্ধে গাল-গল্প, সত্যই তার অধিকাংশ আমর! তার শ্রীমুখ থেকেই ক্লাশে শুনতে 
গেতাম- ডিরেক্ট ফ্রম দি হর্সেস্‌ মাউথ্‌। যেমন, (১) ন্যাশন্যাল থিয়েটারের 
€ এখন যা “গ্রেস্‌ সিনেমা” )-না স্টার থিয়েটারের পথ কোনটা বলে দেবেন 
শক ?--হেরম্ববাবুকে জিজ্ঞাসা করেন কেউ হ্যারিসন রোডের মোড়ে । তার 
প্রাসদ্ধ উত্তর, “জানি, কিন্তু বলব না।” (২) “ইউীনভাসাটি কাঁমশন 
এসেছেন আমার কলেজে (সিটি কলেজ )। ছান্রদের টিফিন ঘর দেখবেন । 
আম সেখানে কোনাঁদন যাই নি। তাদের সঙ্গে যেতে হ'ল । কী দেখলাম ? 
ছান্ররা খাচ্ছে কী ?--ডেভিল্‌ !' ৮» ব্যঙ্গাবকৃত হাঁসি অধ্যক্ষ মহাশয়ের মুখে । 
(৩) উপন্যাসে আছে, কিন্তু উপন্যাস আমি পাড় নে। তবে দু'-একখান। 
ভাল উপন্যাপ আছে, যেমন রমোলা ৮ (৪) এমার্সন--কার্লাইলের নানা 
কথা । (৫) তার আমোরকার আঁভজ্ঞতা । ডে) বিদ্যাসাগর মহাশয়েরও দু'- 
একাঁট গল্প বাদ যেত না, তা সত্য। এসব বাজারে প্রচালত গপ্প মিথ্য। 
নয়। 'মর্যালিটি'র মান্রাধক্য নিশ্যয়ই হাস্যকর । তাই মনে মনে মজা 
পেতাম । কিন্তু কিছুদিন ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ পড়ানোর পর আরেকটা কাওও ঘঠে 
গেল । মাজিত, অনবদ্য ইংরোজতে অনবদ্য অন্বয় € প্যারাফ্রেজ ) আমাকে 
ওয়ার্ডসওয়ার্থের দুয়ার থেকে ধরে এনে তার কাঁবতার গর্ভমন্দিবে পৌছে দিল । 
তার পৃৰে ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ আমার চিন্তজয় করতে পেয়োছলেন বলতে পারব 
না। হয়তো অপেক্ষা করছিলেন, এই অবাচীনের সাবালকত্বের জন্য। 
ওয়ার্ডসওয়ার্থ নাবালকের ভাবাবেগের কাঁব নন। হোক বয়সের গুণ, কিন্তু মুক্তকঠে 
বলব- হেরম্বচন্দ্র মৈন্র সুনিশ্চিত গাঁততে আমাকে ওয়ার্ডসওয়ার্থের ভাবজগতের 
দিকে এাঁগয়ে নিয়ে যান_যে-জগৎং বাল্যে বাবার মুখে শুনতাম-অলোক- 
সামান্য । কিন্তু বাবার আশ্বাসেও পূে তাতে এগুবার প্রেরণা পাই নি তখন। 
প্র টু দি কিনৃদড্রেড পয়েপ্ট অব হেভন এও ॥আর্থ-এর প্রবস্তা কবিদের জন্য 
আমার তেমন কোন মানাসক দৌবল্য এখনো নেই। এমন কি ওই 'জ্ঞানী' 
বুর্জোয়াদের জন্য অবজ্কাই ছিল । কিন্তু, যতই হেরম্ব মৈত্র মশায়ের পিউরি- 
টানিজমূ বাঙলাদেশের, (আমারও) সহজ হাসির উপকরণ হোক, তার অধ্যাপনাকে 
আর তুচ্ছ করা যায় নি। তার দান স্বীকার্ষ_ওয়াডসওয়ার্থের গভীরতা উপলব্ধির 
মত নয়নাঞ্জন শলাকা তার হাতে ছিল। 

অধ্যাপকদের কারও নামই বিস্মাতির অন্ধকারে হারিয়ে যায় নি। কিন্তু প্রথম 
থেকেই হারিয়ে ফেলোছিলাম তাদের অধ্যাপনার আকর্ষণ । অবশ্য চল্লিশ-পর্কঃগ 


লাগল পা-লাগলনা. ৫১ 


বংসরে নামগুলি হারিয়ে যাওয়াও আশ্চর্য নয়। সেই ছয় বসরেও মনে 
অধ্যাপকদের সঙ্গে মনের দেনাপাওনার বিশেষ দাগ পড়ে নি । তাই পঠন-পাঠন 
পদ্ধাতর তুলনায় সেই মানুষদের মুখই যা একটু মনে আছে । সেই ছ' বছরের 
সবচেয়ে বেশি দাগ পড়েছে কলেজ-জীবনের অন্য জিনিসসমূহের- কলেজ 
বন্ধদের, কলেজ লাইব্রেরীর, পাঠ্য-অপাঠ্য নানা বই-এর, আর কলেজের বাইরের 
অন্যান্য জিনিসের, আর সেই সঙ্গে কলকাতার রাজনোতক ও সাংস্কাতিক 
পঁরবেশের ; এবং তার সঙ্গে ছুটিতে-কাটানো আমাদের প্রথম যৌবনের ( ১৬ 
থেকে ২২) দুর্দান্ত উৎসবের দিনগুলি, হাসিতে-গল্পে, খেলায়, নাট্যাভিনয়ে, 
সাহিত্য-সংস্কৃতির নব-নব আয়োজনে- সর্বোপরি বেপরোয়৷ হৈ-চৈতে মেঘনার 
ভাগুন-ধর৷ নোয়াখালি শহরের বুকে আমার দাদা রঙ্গীন হালদারের নেতৃত্বে 
সবুজের বাধন-ছেঁড়া উৎসবে যে-দিনগুলি বইয়ে দিয়েছি বোহসাবী মানুষের 
মত-সে এক অদ্ভুত ব্যাপার । অবশ্য, অন্যরূপ বিরুদ্ধ কারণও ছিল যাতে 
কলেন্দী 'খডাশুনায় মন বসল না । একাঁদকে সোভয়েত রাষ্ট্রের জন্ম, জার- 
কাইজার, হাবস্বুর্গ ও তুর্ক সুলতানের বিলোপ, যুদ্ধান্তের পাশ্চাত্য জীবন- 
বিপর্যয়, অন্যাদকে রোৌলট বিল, জালিয়ানওয়ালাবাগ, নন-কো-অপারেশন 
(১৯২২), দেশজোড়। উদ্দাম আলোড়ন তখনি আমাদেরও জীবনের উপর ভেঙে 
পড়ছে । দেশের এবং পৃঁথবীর সমস্ত জীবনটাই ওলট-পালট হচ্ছে । ওসবে 
প্রকাশো ফুলে ফুলে উঠছে আমাদের যৌবন বিদ্রোহে । গোপনে গুম্রে গুম্রে 
পাক খেয়ে উঠছে বিক্ষোভ-অধীরতা ! এমন সময়ে ক্লাশে বসে পড়া ছান্রদের 
পক্ষে অসম্ভব, অধ্যাপকদের পক্ষেও পড়ানো দুঃসাধ্য । কলেজের লেখাপড়াই 
যেন অবান্তর । তার কোনে দাগ যাঁদ কারে৷ মনে না পড়ে-সে দোষ কার 2 
নিশ্চয়ই অধ্যাপকদের শুধু নয়__কালের । তবে সেই সঙ্গে মানতে হবে_ 
কতকটা দোষ আমাদের 'বিশ্বাবিদ্যালয়ের অ-মানবায় শিক্ষা-পন্ধাতর, যাতে ছান্ত 
ও শিক্ষকের একত্র হওয়াই যথেষ্ট-যোগাযোগ নিপ্রয়োজন । 


প্রাঙ্গণেন্র প্রা্ভ্ড 
কলকাত। বিশ্বাবদ্যালয়কে তাই “আলম মেটর' বল৷ দুঃসাধ্য । তবে 
স্টেপ মাদার, বলাও অসন্তব । এখনে। ভারতবর্ষের তা শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় । 
সেখানে দেশের শ্রেষ্ঠ অধ্যাপকদের তখন সমাবেশ হয়েছিল। আর ঠিক 
আমাদের কালের পরেই ( হয়তে৷ স্বাধীনতা-আন্দোলনের ফলেও ) এই বিশ্ব- 
প. উলটা জাতীয় সম্পদ হতে পেরোছিল-ভারতবর্ষের আর কোনে 
তা হয়নি। 





$২ বৃপনারানের কূলে 


ষেকয়জন মহান অধ্যাপকের সান্নিধ্য আমি লাভ করোছি, ত৷ করেছি 
কলেজের ও ইউানভাসাটর দিন পোঁরয়ে যাবার পরে, বিশ্বাবদ্যালয়ের ছণ্ন-ছায়ায় 
নয়। দু-তিন জনের উল্লেখ আগে করোছি। আরও দু-চার জনার উল্লেখও 
প্রয়োজনীয় এবং এখানে শুধু উল্লেখই করব, পরিচয় সম্ভব হবে না। আমুতে 
কুলোলে তাও একদিন করব, এখানো সে আশা রাখি। ডঃ সুশীল 
কুমার দে বিলাত ধোকে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার আগে 
মাস কয়, বোধ হয় তিন মাস কিন্বা আরো কম-ইউনিভাসিটিতে পাড়িয়ে 
ছিনেন। ১৯২৮ সালে সে কথা তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে তিনি বললেন, 
'মনে নেই । তোমারই বা মনে রাখবার কী দরকার ? এখানে আমরা 'শানি- 
চক্রের সতীর্থ, সাহত্যের সহযা্রী' । ডন্তর সুশীল দে'ও একই কালে সংস্কৃত ও 
বাঙলার সুপাঁওত গবেষক, আর সাহত্যের রসগ্রাহী সমালোচক । যে-কোনে। 
অধ্যাপক অমন ইংরেজি দূরের কথা, বাঙলা লিখতে পারলেও চিরপ্জ্য হবেন । 
একাঁদকে আঁভজাত সৌজন্যে মর্যাদাময়, অন্যাদকে সাহিত্যের আসরে প্রীতিতে 
সোহার্দ্যে অকুঠিত। অধ্যাপক স;নশীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কিন্তু একাঁদনও আমাদের 
ক্লাশে পড়ানান। তান ১৯২২-পর্যস্ত ছিলেন বিলেতে গুরুগৃহে; ১৯২৩-এ 
দেশে ফিরেন কলকাতার গুরুকুলে ৷. তখনকার 'বিদায়মুখী সিথ ইয়ারের আমাদের 
পড়ানোর ভার গ্রহণ করলেন না । যখন ১৯২৬-এ তার গৃহে ভাষাতত্ের 
গবেষণার প্রার্থনা নিয়ে উপাস্থত হলাম, তখন থেকেই তার সহদয় সঙ্গ লাভ 
করেছি । তারপর থেকে রাজনীতি-সমাজনীতি ব্যতীত, তিনি বহু বিষয়ে আমার 
গুরু, সবসজ্কটে অগ্রজ, প্রাণময় রসিকতার সুহদ ! রাজনীতিতে ষে তাকে, 
অনুসরণ কার নি তার কারণ, আমার ধারণা, রাজনীতর ঘূর্ণা তার দুঝোধ্য ॥ 
তাই নানা সূত্রে ধখন তান রাজনীতিতে 'গয়ে পড়েন তখন 'তাঁন বাঙালী 
ভদ্রলোকের মন ও প্রবণত। ?নয়ে জাঁড়য়ে পড়েন গতানুগতিক রাজনীতিতে । 
কলেজের শেষে এসে এদের মতে। ধাদের পেলাম তারা৷ আমার ছান্রজীবনের 
অনেক অতৃপ্তি মিটিয়ে দেন । সত্যই কি মেটান 2 না, আরও মনে করিয়ে দেন 
কলেজে কী পাই নি। 

অধ্যাপক সংনখাতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মার্কসবাদ বা কামিউার্ঘজমের ব্যাপারে 
আমার অনাস্থীয়। কিন্তু তান আমার কাছে বিদ্যায় বিস্ময়, আন্তারিকতায় 
অপাঁরমেয়, আর মানবিকতায় ( তার সকৌতুক ভাষায় ) “সু. কু. ৮.৮, সু-এবং 
কু-ও। আমাদের কলেজ-জীবনের ধূসরতার কথা উঠলে একবার তানি 
. আমাকে বলোছলেন-“আমাদের মত আপনারা (সুননীতিবাবুর কাছে প্রায় ৫০ 
বৎসরের ঘাঁনঠতায়ও ছাত্ররা 'আপাঁন', 'তুমি' নয়) যে প্রোফেসর পান পি? যেমন, 


লাগল না লাগল ন৷ ৫৩ 


বিনয়েন্্র সেন, পাসির্ভাল, মনোমোহন ঘোষ ।৮ আমরা যীদের পেয়েছিলাম 
সেই অধ্যাপকরাও ফিরে আমাদের বলতে পারতেন--“বাপু হে, আমরাও 
এম. ঘোষ, পাসিভাল নই, তোমরাও নও সুনীতি চাটুজ্জে, সুশীল দে, সতোন 
বোস ।' কথাটা সাঁত্য। সেই বিদ্যালাভ ও বিদ্যাদানের মহালগ্রটা আমাদের 
কালের আগেই নিঃশেষ হয়ে গিয়োছল ডঃ মেঘনাদ সাহা, সত্যেন বোস, 
সুনীতি চাটুজ্জেদের সঙ্গে । নিবাপিত হয়ে এল জ্যোতির্ময় ঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের 
'লাটের । 
সবশুদ্ধ 'বশ্বাদ্যালয়ের দিকে তাঁকয়ে দোখ পাঠা বইতে আমার 
অরুচি ঘুচল না। বরং পরীক্ষার পড়া ও মামুলীপনায় ত। পাকা হ'ল। 
আমার প্রাথামক প্রত্যাশাও সেই কারণে অচিরেই ঝিমিয়ে পড়ল । বাস্তবিকই 
ঝাময়ে কাঁটিয়োছ দিনগুলি । প্রফুল্ল ঘোষ মশায়ের ক্লাশে শেষ 'দনে ধর! 
প$ গেছলাম । না হলে আমি তো ফাস্ট ইয়ার থেকেই সেই শেষাঁদন পর্যন্ত 
বহু ক্লাশে বরাবর ঘুমিয়ে আসছি । গ্রীক্ষপ্রধান দেশে আহারান্তে 'বিমুনি 
পায়, পাখার বাতাসের সঙ্গে পাল্ল৷ দিয়ে অধ্যাপকরা কেউ কেউ কিছু না 
কিছু শোনাতে চাইতেন, তা ঠিক। কিছু হয়তে। শোনার মতও ছল । যাই 
হোক, কী পাঠ্য বই, কী ক্লাশের পড়া, কী অধ্যাপনা-_-কিছুতেই আমার মন 
লাগল না। 
ক্ষাটশ চার্চেস্‌ কলেজ ও ইউনিভাঁসাটির অধ্যাপকরা সবাই বিদ্বান, ভদ্র, 
সহদয় । [বিশেষতঃ আশুতোষ-লিটন কলহে বিশ্বাবদ্যালয়ের অধ্যাপকর৷ 
স্বেচ্ছায় স্বপ্পতর বেতন নিতেও স্বীকৃত হয়োছলেন। তাদের সান্ত্বনা 'বিশ্ব- 
শবদ্যালয়ের মটো “4১৬21091060 0 158170105 । আর তখনো কলেজের 
পাঠ্যবই রচনার ব্যবসায় তাদের অচেনা ছিল; জান নেই এ যুগের মন্ত্র 8৬1০০- 
[00190 06 92107105 । আসলে বিশ্বাবদ্যালয়ের দানে আমার অঞ্জাল ভরে যায় 
খন । দোষ কারও নয়, আমার স্বভাবেরই | তাই অদ্ভূত নেশায় তখন কত 'বাইরের 
বই' পড়োছ, কত পুরনে। দোকানে বই খু'জেোছি, পেয়োছি, দেখোঁছ, কত আনন্দ 
গেয়োছি ; কিন্তু কলেজের লেখাপড়ায় আমার মন লাগল না । ক্লাশে গিয়োছ, 
পরীক্ষাও 'দয়েছি, তত আগ্রহ কোনটাতেই ছিল না। পরীক্ষার দেউড়িগুলি 
পেরিয়ে গিয়েছি-ভালো-মন্দ ষেমনই হোক ঠেকে যাই নি। শেষ অবাধ 
মন্দই হয়েছে, তার ফলও ভোগ করাছ। এয়,এ. পরীক্ষাটা আমার তখন অসহ্য 
| জানতাম খারাপ হচ্ছে, তু ষেকরেই হোক ও যোঝা মাথা থেকে , 
পারলেই যেন বাচবো ! বাঁচলাম কি? বাঙালির ছেলে পরীক্ষায় 
না করলে আর রক্ষে আছে ? পড়ে পড়ে কেবল মারই খেতে হবে. 


রূপনারানের কুলে 


1পঠের সেই দাগ এখন পিঠে ঢাক। থাকে জামা-কাপড়, কিন্তু মিলিয়ে যায় না। 
[পঠ থেকেও না, মন থেকেও না। এখনো বছরে দু'চারবার করে আম 
স্বপ্নলোকে চলে ধাই--সেই শেষ পরীক্ষার একটা বিশেষ দিনে য। কবে ফুরিয়ে 
গিয়েছে, তবু ফুরোয় না স্বপ্নে । দেখ ঘাড় হাতে নেই, সময় দেখ হয় নি- 
লেখা শেষ হয় না । উত্তপ্ত হতাশ মাস্তক্ষের ভূল বাসা নেয় কলমের ডগায় । 
আর ক্রমে ফেলের অসহ্য বিভীষিক৷ বুক চেপে ধরে, দম বন্ধ হয়ে আসে, 
প্রাণপণে বাচতে চাই । অকস্মাৎ জেগে উঠে বুঝি সেই পরীক্ষার দানব বুকে 
চেপে ধরেছিল ।-_হা্রদের পক্ষে এমন পরীক্ষা -প্রথাকে কি বলব» ছোটখাটো 
এক-একটা ফাঁস যাবার অভিজ্ঞতা । 

আজ অবশা একালের ছাত্রদের সে বিভীষিকা নেই--পরীক্ষা এখন প্রহসন, 
তবে ত; প্রয়োজন । তাপটা অসহ্য কিন্তু পাশের ছাপটা না হলেই নয় । 


সতীর্বথ-সঙ্গ 


কালের স্রোতে কলেজের বিদ্যা এখন কোথায় ভেসে গিয়েছে । যা শুনোছি 
তা-ও এখন শুনি নি হয়ে গিয়েছে । তযু মনে আছে সোঁদনের মুখগুলি। বিশেষ 
করে, যারা এসোছল সেখানে পুণ্যলাভের সন্ধানে-€সই সতীর্থদের মুখ । 
এখনকার স্বতিম্তরোতেও সে-সব দূরের মুখচ্ছায়৷ ক্ষণে ক্ষণে দুলে দুলে ওঠে । 
কারণ, তাদের সোহার্দ্ের জন্যই কলেজের সেই দিনগুলি জীবনের বেলাশেষে 
এখনো তোলে মৃদুকলধবানি । 

আমার সং্কোচকে সাঁরয়ে দিতে সহজেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠোছল ক্লাশের 
একজনার সঙ্গে । কালের গাতির সঙ্গে তা এখন আন্তরিকতায়, আত্মীয়তার 
নিবিড়তর । সে ছিল ক্লাশে 'রোল নম্বর ১' | ওই সংখ্যাবাচক শব্দটা এক্ষেত্রে 
গৃণবাচক হয়েছে । নামও জানা গেল--রবটন্দ্রনাথ বস; । রাবও জানে না 
চশমাচোখে, উজ্ফল দৃষ্টি, ওই দীর্ঘ গোরবর্ণ 'রোল নম্বর ওয়ান'কে তার 
স্মহপাঠীদের প্রথম দৃষ্টিতেই মনে হয়োছিল “অগ্রগণ্/-_নম্বর ওয়ান ছাত্র । আজ 
(গাই জীবনের (বোনকে এসে তে দরে এক, কথ] বলাতে: 





লাগল না_ লাগল না ৫৫ 


হল শ্রেষ্ঠতম ?' উত্তরে আম আমার দাদার কথা স্মরণ করব--'রবীন্দের মতো 
ক্ষুরধার বুদ্ধি আর কারও দেখি নি ।' অথচ, বদ্ধুসমাজে বাকামুখর হলেও রাবও 
আসলে একটু 'শাই"__ সপ্রাতভ হয়েও সসঙ্কোচ । আত্মগ্রচার থাক, আত্ম- 
প্রকাশেও কুষ্ঠিত। বাঁড়র ছোট ছেলে সে- মনোবৈজ্ঞানিকরা বলবেন, সেই 
জশ্ম-ছোটত্ব কি বৃথা হয়? রবির বাবা বেচে ছিলেন, মা অনেক দিন নেই, 
দাদারা সুপ্র।তষ্ঠিত। আত্মীনর্র হবার শিক্ষা তবু রাঁব পেয়োছল ছেলেবেলা 
থেকে । কিন্তু আত্মপ্রত্ায়ী হবার সাহস বোধহয় সে পাঁরমাণে পায় নি। 
তার সঙ্কোচ আমার সঙ্কোচ, দুই সঙ্কোচের ওপর সেতু রচিত হয় প্রথম 
সেকেও-ইয়ারে । আমার নামীয় কার একটা লেখা সে ছাপার হরফে পড়েছে, 
জানাল তা আমাকে ৷ মানুষটা কি আম ? বি. এ. ক্লাশের শেষে “তন-বংসরী 
আপ্পনি' ঘুচে গেল তার একখান৷ পোস্টকার্ডে। তখন পরীক্ষার ফল বেরুচ্ছে ! 
সুখবর ।দতে দু-জনার 'শাইনেস্‌' ঘুচে গেল, উচ্ছীসত আনন্দে উৎসারিত হ'ল 
রাবর "তুমি' সন্তাবণ । “আপান' ত্যাগের পরে আপন হতে দোর হ'ল না। 
তাই সে হ'ল আমার অন্য বদ্ধুদেরও বন্ধু; তারপর আমার ভ্রাতা মা বাবা 
সকলের কাছেই আপনজন । সেই কারণেই আঁম ও আমার আত্মীয়রা তাদের 
পাঁরবারেও পর থাকি নি। তার বৃদ্ধ পিতা ও জ্ঞেষ্ঠ দ্রাতার কাছে স্নেহ 
আদর পেতাম । শেষ পরীক্ষায়ও রাঁব অপরাজেয় ছিল, তবু কপালের লেখায় 
কিছু তা খবিত হয়। প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান তারই লভ্য ছিল, রবি সে স্থান 
থেকে শেষ মুহুর্তে বণ্চিত হয়-কপালের লেখা । কপালের লেখায় তাকে 
কাজে যেতে হয়েছিল প্রথম পাটনায় দাদাদের কলেজে-_এক বংসরের মতো এক 
শ' টাকায় ইংরোজর অধ্যাপক হয়ে । কলকাতার বাইরে- বোধহয় বাঁড়র 
বাইরেও- সেই তার প্রথম রাত্রিযাপন । দাদার কাছে সে সময় সে আমার 
মতোই আপনার হয় । তবে সেখানে ছিল মাত এক বৎসর । ইংরেজ ডান্তাররাও 
তারপর আর তার পরীক্ষায়-পাশ-করা ডিপুটিত্ব ঠোঁকয়ে রাখতে পারল না 
এক বছর আগে কিন্তু তা করোছল । যাক. তারপর রাবও সরকারী চাকারর 
হাওয়ায় 'ন্রিশ বছর জেলায়-জেলায় ঘুরে চলে । মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে 
তখন লাক্ষাতে ছেদ পড়ত । কিন্তু আমার ভাই-বন্ধুদের সঙ্গে নয় । মায়ের 
সঙ্গে দয় । 'লক্্মীর সঙ্গে নয়। আমিও, বাদ যেতুম না। কর্তৃপক্ষের 





৫৬ রূপনারানের কুলে 


গ্রহণের আগে রাঁব এসে ঠেকল “কাঁমশনার অব লেবর'-রূপে কলকাতায় । 
1ন্রশ বছর সরকারি চাকার ও হাকিমের মেজাজ যে-কোনো মানুষকে হাঁসি 
কমাতে, কথা কমাতে এবং বন্ধুত্ব কমাতে অভ্যন্ত না করে ছাড়ে না। কিন্তু 
একটা মানুষ অন্তত দেখলাম, যে সেই চাকরি-চক্রের রাজপথ হালকা পায়ে, 
হালকা দেহে, হালকা মনে পরিক্লমা করে বেরিয়ে এল । আর বোরয়ে এল 
হাঁসতে মুখর হয়ে, কথায় কৌতুকসরসতা নিয়ে, আর প্রাণে নিয়ে আভজ্ঞতার 
আশীবাদ-প্রসন্নতা, বিশ্বাজজ্ঞাসার ওৎসুক, ও গ্রভীরতা। যতদূর বুঝি 
বষয়কর্মে তবু রবি পেয়েছিল একটু স্বচ্ছন্দ আশ্রয়, অস্তঃপুরেও রবি পেয়োছল 
একটি নিভৃত পরিবেশ । আর তার নিজের গুণ ও স্ত্রী-পুত্রকন্যাদের বুদ্ধি ও 
চান্রের প্রীত তাতে জুাাগিয়েছে সুন্ছ শ্রী । কিন্তু নিজের মধ্যেই ছিল তার 
নিজস্বতার উৎস । সে এক অদ্ভুত 'জানস। মানুষের সবচেয়ে বড়ে। পরীক্ষা 
নিজের ব্যাপারে । নিজেকে নিয়ে যে হাসতে পারে, পঁথবীতে সে-ই 
আত্মজ্জানী। রাব বেশ হাসতে পারে নিজের সবলতায়-দুবলতায় £ 
“ছেলেবেলা থেকেই তো জানো ঝোঁক । শেয়ারের বাজারেও তাই বরাবর 
ছাত্র-বয়স থেকে খেলেছি । হারলে সামলাতে পেরেছি, জিতলেও বেসামাল 
হই নি। স্কলারশিপের টাকায় পড়েছি, তা বাচিয়ে শেয়ারেও খেলেছি 
মুঠো থেকে 'সাঁকটা-আধুলিটাও কি সহজে গলে বেরুতে দেখেছ ৮ এজন্যই 
আমি তার থেকে একবার পাচ টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিই নি। বলোছ, 
ওজন্যই 'আমাকে তোমার মনে থাকবে ॥, মনে রয়েছে কিন্তু সেজন্য নয়। 
নানা কারণে রবি আমাকে মনে করে- ভালো খাবার হলে তো নিশ্চয়ই, ভালো 
বই পেলেও, আরও দশটা কাজেও । ওর সহধমিণী ও পুত্র-কনা পুর্রবধূদের 
রহ্ধন-কলার আমি স্থায়ী সাক্ষী । ওব্যাপারে আমাকে বাদ দিতে পারে না । 
অন্য আতাঁথদের আদর-আপ্যায়নেও রাঁব আমাকে বাদ দিতে চায় না । আর 
শুধু আমাকে যে সে ভোলে নি, তাও নয় । মাকেও সে মনে করে রেখেছে 
বরাবর । আর মা-ও মৃত্যুশয্যায় তার কথা জিজ্ঞাসা করেছেন, জানতে চেয়েছেন 
তার পারিবারিক কুশল । মারও ভুল হয় নি মানুষ চিনতে । শেয়ার 
মার্কেটে যাঁদ বা চোখ থাকে, রবির চোখে তবু সবদা উজ্জ্বল কোতুক, সরসতা, 
এবং যা অবিশ্বাস্য-একটু দার্শানক অনাসন্তি। হাকিমী করেছে, লেবর 
কমিশনার হয়েছে, শেয়ারের বাজি ধরেছে ; তবু জ্ঞান-বিজ্ঞান-সাহিত্য, শিপ্প, 
রাজনীতি-সমাজনীতি-সংস্কীতির সর্ববিষয়ে রবি আজীবন সবড়ুক পল্ঠী)। 
তারপর কমিউানজমূ সোসালিজম সকল ইজমৃকে মেনেও প্রধানতঃ, 

গান্ধীজীর | তা নিয়ে আমরা'ক'ভাই কম কৌতুক-পরিহাস করি না । সও 


লাগ্‌ল না-লাগ্‌ল না ৫৭ 


সমানে কৌতুক করতে পারে । সে কৌতুক থেকে গান্ধীবাদও বাদ যায় না- 
অন্য 'বাদ'ও না। বলা বাহুল্য, নিজেকেও সে বাদ দেয় না, আমাকেও না। 
“তুমি তো আজ হয়েছ কমিউনিস্ট । কিন্তু তোমার থেকেই তে। শুরু--তুমিই 
দয়োছলে রাজে ন্দ্রপ্রসাদের সন্কলিত গান্ধীজীর ওই লেখ-সংগ্রহ_আর আজও 
তো তা থাকে আমার হাতের কাছে ।' কথাটা মিথ্যা নয়। কিন্তু গান্ধী- 
সাহিত্য সে বহু যত্নে পড়ে। সে একাঁদকে লেখে শ্রমক আইন সম্বন্ধে বই, 
আর দিকে আবার লেখে গান্গীজীর শ্রামক-সমস্যা সম্বন্ধে সমাধান-বিষয়ক 
আলোচনা । তার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ গান্ধী-দর্শন, আর জীবনের শেষ 
রহস্যের স্বরুপ সন্ধান । মানতে হবে, যাই 'লিখুক, সে লেখা চমৎকার । 
আর, তার অনেক কথাই সত্য, তাই প্রায়ই তা মালিবদের কাছে অনুপাদেয় । 
মুনাফার শিকার যে মানুষ শিকার, একথাট। সত্যকার গান্ধীভান্তর জন্যই রবি 
এক-আধটুকু না বলে পারত না। আশ্চর্য নয় যে, এমন লেবর কাঁমশনারে 
মালিকদের অরুচি । একজন দিকপাল তো মুখ্যমন্ত্রী ডঃ রায়কে রবির মুখের 
সামনেই বলেন ঃ “গুকে কেন লেবর কমিশনার করেছেন 2 ইউনিভাসিটিতে 
পাঠিয়ে দিন প্রফেসর করে ।” তার এ কথাটায় আমিও সায় দই । ন্রিশ- 
পীয়ন্রিশ বংসর আগে সে ব্যবস্থা দেশ করতে পারে নি। এসব কৃতবিদৃদেরও 
অধ্যাপনাকাজ দুর্লভ 'ছিল। এখনো কি তা হয়? একেবারে শেষাঁদকে 
কলকাতা 'বিশ্বাবিদালয়ের ম্যানেজমেন্ট ক্লাশের অধ্যাপনারও তার ডাক পড়ে- 
ছিল। রবীন্দ্রের বিদ্যাবুদ্ধি, কৌতুকবোধ, সাহিত্যবোধ, জীবনবোধ,-আর 
আলোচনার প্রসাদগুণ, যা বিদেশী ভাষায়ও অকুষ্ঠিত- এসবের সব কিছু পরিচয় 
যদ দেশ পেত। কিছু পেয়েছে-কিস্তু বড় আকারে পেলে কি পেত মানুষাঁটর 
সম্পূর্ণ পরিচয় ১ মানুষটার মধ্যে রয়েছে অতলম্পরশী গভীরত৷ ।* 

রাব বসুকে দেখে যেমন ক্লাশের "১ নম্বর' বলে মনে হয়েছিল, আরেকজন 
সহপাঠীকে দেখেও তেমান মনে হয়েছিল “আদ্বতীয়' । সংধীম্দ্রনাথ দত্ত তা 
প্রমাণিতও করেছেন৷ স্কাটশের সজনী দাস ছাড়া আমার আর কোনো সহপাঠী 
তার মতে। কাতিত্বের অধিকারী হন নি। অবশ্য একদিক থেকে সজনীর কাতিত্ব 
আঁধকতর । সুধীন্দ্রনাথের মত সোভাগ্র উত্তরাধিকার নিয়ে সে জন্মায় নি; 
সঙ্জরনীকে আপন ভাগ্য অঞ্জন করতে হয়েছে । সেই 'ছল বল কোশল' 
সুধীন্দ্রনাথের কিছুই প্রয়োজন হয় নি। ব্যান্তত্বের ওরূপ স্বাভাবিক রাজমাহম। 

*সম্প্রাতি প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ বসুর গান্ধীজী ও রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক দু-খানি ইংয়োজ 


দেশ ও বিদেশের গুণী ও জ্ঞানীর। সমাদর করছেন; আমার দুঃখও কতক) দূর 
য়েছে। কিম্ত একটা দঃখ আরও বেডেছে-_ বাঁকে বাঙুল। লেখায় নামাই নি কেন 2 


৫৮ রূপনারানের কূলে 


সজনী কেন, আর কারও ছিল না। সে মাহম৷ সুধীন্দ্রনাথকে আদ্বতীয় করেছে, 
শুধু তার সাঁহত্যের কীতি নয়। তার প্রমাণ আমরা তার সহপাঠীরা । তার 
সাহত্য-জীবনের সঙ্গে আমার প্রত্াক্ষ পরিচয় সে তুলনায় অল্প । সে পর্বের 
কথা অন্যেরা বলেছেন, বলবেন । আমার বিশেষ পাঁরচয় ছাত্রজীবনের সুধীন্দ্র- 
নাথের সঙ্গে । পীচ বংসর আমরা একসঙ্গে পড় । তখনো তিন সাহত্যে 
প্রকাশিত হন নি; কিন্তু তখাঁন তান আপন বা্তত্বে স্বপ্রকাশ । 


স্কটিশের নিয়ম- ক্লাশে ছাত্রদের রোল নম্বর অনুযায়ী একাদিকূমে বসা । 
অধ্যাপক হাজিরা-খাত। খুলতেন, এক-দুই করে ছাত্রদেরই নিজ নিজ নম্বর হেঁকে 
জানাতে হয়। সেই ধারাবাহকতার মধ্যে পছন থেকে একটি নম্বর ধ্বানত 
হল ইংরেজিতে “ওয়ন্‌ এটটি গ্রি (2)। ইংরেজসুলভ উচ্চারণভ্গি, তদপেক্ষাও 
আত্মপ্রতায়-সমৃদ্ধ ক্ঠ, যেন গভীর এক ঘোষণা । অধ্যাপক চমাঁকত হলেন, 
তাকালেন মুখ তুলে, আমরাও তাকালাম পিছনে । প্রায় শেষের বেন 
উপাঁবষ্ট সেই “১৮৩ দেখবার মতোও । সুচিকণ ধোপ-দুরস্ত ধুতি-পাঞ্জাবী 
আরও অনেকের ছিল, তা কিন্তু এমন বিশিষ্টতা আর কারও অঙ্গে লাভ করে 
নি। সুসম্পন্ন ঘরের লক্ষণযুন্ত সুবেশ ও সুরূপ ছাত্র আরও ক্লাশে আছে। 
বরং রূপের দিক থেকে সুধীন্দ্রনাথ তখন নুটিহীন ছিলেন না । প্রথম যৌবনে 
সুধীন্দ্রনাথকে ধনী ঘরের প্নেহ-পালিত সন্তানের মতো কমনীয় 
যুবকের মতে। দেখাত | * ছাব্রজীবনের শেষে একবার [তান বেশ ?কছুঁদন অসুস্থ 
হয়ে পড়েন। মাথার চুল পাতলা হয়ে আগে, মেদ-মাংস ঝরে যায়, গোল 
মুখের ছাদ হয়ে দাড়ায় দীঘল । সুধীন্দ্রনাথ তখাঁন হন প্রকৃত সুপুরুষ 
দীর্ঘদেহ, পাঁরণত সুন্দর মুখমওল, বুদ্ধিতে-ভাবনায় চক্ষু মৃদৃ-উজ্্বল । তবু 
কলেজে প্রথম দর্শনেও তাকে যে মনে হয়েছিল আদ্বতীয় তার কারণ, তখনো 
তার মুখে ছিল সেই স্বাভাবক মাঁহমা-যা চোখে না৷ পড়ে পারে না। আর 
তার কণ্ঠস্বর, শব্দোচ্চারণ, বাগভাঙ্গ কীত্রম হলেও মনে হ'ত ব্যান্ততবব্ঞ্জক ৷ 
ক্লাশের পড়ায় সুধান্দ্রনাথের উৎসাহ ছিল না, ছিল রঙ্গীমাশ্রত নিস্পৃহতা | 
কোনোদিন উৎপাত করেন নন, অধ্যাপনার সময় নীরবে কাটাতেন । ' পিছনের 
কতো রদ পর এক বাইরের সাহিত1 নিঃশেষ 












না নে 2 দত যে-কৈ; বাঙারেশটো 
০ জাববেধথাঁ কা. তা তখনকার দিনের সঙলোই জানতে 
"আরা হাজত (সো কা পবা | হারা এটিনার পলা! ভিটা 


লাগল না-লাগল না ৯. 


ও বান্তববৃদ্ধি, সাহত্য-পরিষদ ও জাতীয় শিক্ষা পরিষদ এবং বিভিন্ন ত্বদেশীয় 
সংগঠন-_এমনবিচক্ষণতার সঙ্গে সকলের সমন্বয় ও পার্চালনা-াবচিত্র মনীষা 
দ্বারাই সন্তব হ'ত। শুনোছি, সুধীন্দ্রের প্রথম শিক্ষা মিসেস্‌ বেসান্টের কাছে । 
তাই সুধীন্দ্রনাথের বৈদগ্ক্যাবলাসেও পিতা বাধা দিতেন না। উত্তরাধিকারে 
ষে সুধীন্দ্রনাথ অনন্যসাধারণ, কুলগত,-পিতার মনীষার সঙ্গে ও 'পিতৃব্যের 
আভনয়পঠুতা তাতে যুস্ত--এই ধারণাই প্রথম হয়েছিল । ধারণাটা একেবারে 
মিথ্যা নয়। কিন্তু শুধু ধারণ নয়, তার পূর্ণ রূপও দেখা! গেল আঁচরে । 
[দিনের পর দিন দেখতাম এই সুদর্শন যুবকের হাতে এক-একখান৷ নতুন 
বই। সে-সব বই বা লেখকের নামে আমাদের চোখ লোভে চকচক করে উঠত, 
মনে সম্রম জাগত । কিন্তু সঙ্কোচবশে থাকতাম পুরে । সঙ্ছকোচের সঙ্গে 
আরও একট জিনিসও যুস্ত 'ছিল- একটু আত্মসচেতনতা । ক্লাশের বাইরে 
সুধীন্দ্রনাথের ব্যান্তত্ব অচিরেই বহু সহপারঠীকে আকর্ষণ করে । কেউ কেউ তার 
বুদ্ধিমান, নতুন নতুন বই পাঠে কোতৃহলী ও কৃতজ্ঞ । অনেকেই তবু ব্যন্তি- 
মাহমায় আকৃষ্, তার বাকৃ-মহিমায় উৎফুল্ল, সেই আভিজাত্য-আঁভমানের 
আনুষাঙ্গিক পার্থচর । সুধীন্দ্রনাথ রাজা, রাজার বোধহয় পারিষদ না হলে চলে 
না। কিন্তু সে পদের প্রত আমার লোভ ছিল না। দূর থেকে তাদের কল- 
কোলাহল, স্তীত-প্রশংসা যা কানে পৌছত তাতে অবশ; সুধীন্দ্রনাথের পক্ষে 
অখ্যাতির কিছু ছিল না। সুধীন্দ্রনাথ ইংরেজিতেই কথা বলতেন বোশ। 
মিসেস্‌ বেসান্টের নিকট বাঙলা শিক্ষার অবকাশ ছিল কম। সংস্কৃত ও 
ইংরোঁজ-ফরাস প্রভাঁতিতে সুধীন্দ্রনাথের তখন থেকেই বিশেষ আঁধকার । 
শুনেছি বাঙলাই 'তাঁন পরে শেখেন । কথাবার্তায়, আলাপ-আলোচনায় ইংরেজিই 
ছিল তার স্বাভাবিক ভাষা । বিশুদ্ধ উচ্চারণে কোনো ভাষা বলা হলে সে 
ভাষার যথার্থ রূপ বোঝা যায়। সুধীন্দ্রনাথের মুখে ইংরেজির সে গৌরব 
সুরক্ষিত হ'ত । শ্রোতারা পুলাঁকত হতেন । আর, সেই সপ্রশংস দৃঁষ্ট-ও-কণ 
পাঁরবোষ্ঠত পারিষদমণ্ডলীতে সুধান্দ্রনাথও মণ-আঁভনেতার মতে। তৃপ্ত হতেন। 
এগ মনে করতেন পাঁরচ্ছদে জালা অন্ধকার ওয়াইল্ডের এ 





৬০ রূপনারানের কুলে 


অপারিহার্য। একটু আভনয়ও চাই, রাজোচিত বেশভূষাও চাই, শুধু রাজচীকায় 
রাজাকে চিনতে পারে ক'জন 2 শুধু ব্যন্তিত্বের মহিমায় অন্ততঃ ওর্প সমাজ 
অভিভূত হয় না । আর এসব ধারণাতেই দূরে ছিলাম । কিন্তু ক্লাশে আসন দূরে 
নয়। পাঁরচয় সাধনার জন্য মাঝখানে রবি বসুর মতো বন্ধুও ছিলেন । তা 
ছাড়া, আমাদের হাতেও ষে নতুন নতুন বই প্রায়ই থাকে, সুধীন্দ্রনাথেরও তা 
চোখ এড়ায় না। একাঁদন নিজেই চেয়ে বসলেন একটা সন্তা দামের সের্প 
বই-'জন বুলুস আদার আয়লও' । আমারও সুন্র হয়ে গেল তারপর বই 
চাইবার । বই-এর বন্ধনে পরিচয় সহজেই বাড়ে । দেখলাম-_সুধীন্দ্রনাথ জন্ম- 
আভজাত । অন্রান্ত প্রমাণ তার শালীনতা. সতীর্থের সঙ্গে তার স্বচ্ছন্দ আলাপ- 
আলোচনা এবং তার চেয়ে বড়ো কথা, নিরভিমান আঁভজাত ব্যবহার । নেই 
দলপাতির চাল। সেই সচেতন মাঁহম৷ প্রকাশের নামগন্ধও আমাদের সঙ্গে কথা- 
বাতীয় সুধীন্্রনাথের থাকত না । সাহত্য বা সাংস্কৃতিক ওৎসুক্যে দেখোঁছ 
তিনি সমধর্মীর মতে সুহৎ । পারিষদ-প্রিয় রাজা নন, আলোচনা-প্রিয় সতীর্থ । 
তাকেই আমি বলি আভজাত শালীনতা, সহজাত স্বাভাবিক লৌজন্যের জন্যই 
যাকে অনুভব করতে হয় সম্তরান্ত। আমার এই ধারণাটা ক্রমেই সুদৃঢ় হয়, পরে 
নিভূল হয়ে ওঠে । ছান্রজীবনের শেষের একটি বছর কাটে এম.এ. ক্লাশে ও 
ল-্লাশে । আমরা ক'জন স্কটিশের ছাত্র, আপনা থেকেই পরস্পরের একটু 
বোঁশ আপনার । 'দমের পর দিন এক বেণে বসোঁছ, সকল রকম কথা, 
মন্তব্য, আলোচনা সবই অস্তরঙ্গের মতো হ'ত-পাঠ্য বই, অপাঠ্য বই, অধ্যয়ন- 
অধ্যাপনা, রাজনীতি-সমাজনীতি, কোনো কিছুই অনীলোচ্য থাকত না। 
সুধীন্দ্রনাথ অবশ্য এম.এ. ক্লাশে এক বৎসরের বেশি পড়েন নি--ল-ও না! 
যথাসময়ে ক্লাশে আসা, রীতিমতো ক্লাশ করা, তার পোষাত না। এম.এ. 
ছেড়ে দেবার পক্ষে আরও একট। কারণ ঘটে । 

ক্লাশে সুধীন্দ্রনাথ প্রায়ই আসতেন বেশ বিলম্বে । সেই সযত্ব মাজা-ঘষা 
প্রসাধন, শুদ্র-পারপাটি বিলাসী পারচ্ছদ, স্থির নিশ্চিন্ত পদক্ষেপে অধ্যাপফের 
পাশ 'দয়ে দেরিতে এসে ক্লাশে আমাদের পাশে বসতেন এমনভাবে যেন 
এইটাই তার পক্ষে স্বাভাবিক এবং শোভন । অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষ মহাশয়ের 
ক্লাশে সুধীন্্র এরূপেই সেদিনও এসোঁছিলেন যখন অধ্যাপকের হাজির নেওয়া 
শেষ হচ্ছে । অধ্যাপক মহাশয়ের সুধান্দ্রের দিকে চোখ পড়ল- মুখে ফুটল 
বস্মত হাস্য । আবার হাজিরার রোল নম্বর বলার উচ্চারণভাঙ্কিতে কানও 
হ'ল, চোখের কোণ দিয়ে তিনি ছান্রটিকে দেখে নিলেন। তারপর পর্থ 
শুরু হতেই তিনি সুধান্দরের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বেশ, তুমি পড়ে৷ 1 


লাগল না-লাগ্‌ল না ত৪ 


“আমি !* সুধীন্দ্র চমকিত হলেন । তারপর হেসে দী ড়ালেন । 

অধ্যাপক ঘোষও সহাস্যে বললেন, 'হা, পড়ে৷ দোখ 1” বেশ কৌতুকের 
হাস ও দৃষ্টি তার । 

পড়ব আমার যে বইও নেই ।, সুধীনও সকোতুকে বললেন । 

চসারের ক্যাপ্টারবোর কাহিনীধারার “প্রোলোগ” পড়া হচ্ছে । আমরা 
তাড়াতাঁড় নিজেদের বই সুরীন্দ্রকে দিলাম । 

অধ্যাপক তখনো হেসে বললেন, 'বই নেই ! ভালো কথা । এই যে, 
পেয়েছ বই ; বেশ আরস্ত করো-_ 

“কোথায় আরন্ত হবে 2 কুগ্ঠাহীন কোতুকে সুধীনও ক্যাপ্টারবোর টেলস'- 
এর “প্রোলোগ' খণ্ডের পাতা এমনভাবে ওপ্টাচ্ছেন যেন সবই হাঁসর কাও । 
হাঁসর কাওই ছিল । কিন্তু হঠাৎ অধ্যাপক ঘোষের ভাবান্তর হ'ল । গন্ভীর 
হয়ে উঠলেন তান £ “তার অর্থ? বই নেই, পড়া কোথায়, িছুই জানো 
না" কুদ্ধ রুষ্ট হলেন অধ্যাপক, “ক্লাশে এসেছ । একটু থেমে বললেন, “এমন 
ছাত্র আমার ক্লাশে আমি চাই না" ( কথা চলাছল ইংরোঁজতে, আই ডোন্ট 
ওয়াণ্ট- টু হ্যাভ্‌ সাচ স্টুডেপ্টস্‌ ইন মাই ক্লাশ )। 

সুধীন্দ্রও ইংরোজতে উত্তর দিলেন নিরুত্তাপ বেপরোয়৷ কণ্ঠে, “আমাকেই বা 
চান কেন তবে 2' ( দেন, হোয়াই হ্যাভ মি 2) 

একেবারে রঙ্গ থেকে অগ্য্যংপাত । অধ্যাপক আগুন হয়ে বললেন- চলে 
যেতে চাও 2 যাও-_যাও-” ইত্যাদ । 

গনশ্চয়' _সুধান্্র স্থির গন্তীরভাবে সামনের উঁচু বে সারয়ে বের হলেন, 
জুতোর ঠকৃ ঠক শব্দ তুলে সুস্থির সদর্প দীর্ঘ পদক্ষেপে ক্লাশ থেকে অধ্যাপকের 
পাশ দিয়ে বের হয়ে চললেন । 

অধ্যাপক তখন ক্লোধে আশ্থর । 'কীস্পর্ধা, কী স্পর্ধা । হাজরা খাত। 
নিয়ে জিজ্ঞাস করতে লাগলেন, “কত রোল নম্বর ? ডাক 'দয়ে বললেন, 'কত 
রোল নম্বর তোমার ? 

সুধীন্দ্র এক পা ক্লাশের বাইরে 'দিয়োছিলেন । সেভাবেই মুখ ফেরালেন, 
এক পা! ক্লাশের ভেতরে -সেখান থেকেই অন্তুত সুস্পব্ট উন্চারণে বললেন রোল 
নম্বর । আর অদ্ভুততর সব/ঙ্গ উচ্চারণে ঘাড় বাঁকিয়ে অধাপককে, থথ্যান্ক ইউ ॥ 

সমস্ত অঙ্গ, পদক্ষেপ, কণ্ঠস্বর, ভাঙ্গতে বেন অধ্যাপককে নস্যাং করে দিয়ে 
সুধীন্দ্রনাথ রাজোচিত মাহমায় দ্বারভ,সা ভবনের পশ্চিম বারান্দা দিয়ে জুতোর 
শব্দ তুলে বেরিয়ে গেলেন । 

আমরা পরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করোছি--পিত। হারেন্দ্রনাথ দত্ত 


৬২ রূপনারানের কুলে 


কি বলবেন জানি না, কিন্তু পিতৃব্য অমরেন্দ্রনাথ দত্ত নিশ্চয়ই বলতেন-_ 
ক্যাপিটেল !' 

অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষের মতো৷ মানুষও সোঁদন অধ্যাপনায় আর শ্বচ্ছন্দ 
হতে পারলেন না। তারপরে এল এ-ব্যাপারের দ্বিতীয় অগ্ক। স্যর 
আশুতোষের সামনে সুধীন্দ্রের ডাক পড়ল-বিচার হবে । আমরাও ভাবিত 
হলাম । হারেন্দ্রনাথ দত্ত কিছুদিন পৃবে স্যর রাসাবহারী ঘোষের সমস্ত সণয় 
'জাতীয় শিক্ষা পারিষদ'-এর জন্য সংগ্রহ করে নিয়েছেন_সেই অর্থে কিছু পরে 
মানিকতল৷ ছেড়ে এখনকার যাদবপুরে সেই কারিগর বিদ্যালয়ের পত্তন সন্তব 
হয়। সে-সম্পর্ত না পেয়ে স্র আশুতোষের ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 
তখন বিশেষ আশাভঙ্গ হয়েছে । শ্রীষুন্ত হীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রাত তারা 
অসম্ভৃষ্ট । সুধীন্দ্রের পরিচয় ক স্যর আশুতোষ জানতে পারবেন না 2 
সুধীন্দ্রকে বললাম, “যাই হোক, িতাকেও ঘটনাটা বলে রাখুন ।, জানতাম 
পুত্রের আত্মাবকাশের পথে পিতা কখনে। বাধা দেন না। কিন্তু এআচরণ 
1তাঁনও সমর্থন করবেন না। তবু 'তিনি বিচক্ষণ লোক, তাকে জানানো 
উঁচত । যথা দনে যথাসময়ে সুধীন্দ্রনাথ পাকা সাহেবী পোশাকে বিশ্ব- 
বিদ্যালয়ে স্যর আশুতোষের ঘরে উপস্থিত হলেন । আমরাও ফলাফল জানবার 
জন্য উৎকঠিত ছিলাম । পরাঁদন শুনে নিশ্চিত হলাম, স্য7র আশুতোষ 
আশুতোষ । একটু আলাপেই সুধীন্দ্রকে মনে ধরল । সুধীন্দ্রের থেকে 
ভবিষ্যতে যথারীতি পড়াশুনোর- প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাকে এবার সম্পেহে নিষ্কাতি 
[দয়েছেন । সুধান্দ্রের অবশ প্রাতিশ্ুতি রক্ষা করতে হয় নি। কারণ, এর 
পরে একাঁদন মান্র তিনি সে-ক্লাশে আসেন । শুধু অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষের 
ক্লাশে । তারপর পড়া ছেড়ে দেন, এম.এ.ও, ল'-ও; পরে এটির 
শক্ষানবিশীও | 

নাটকের এই শেষ অজ্কটার পাঠভেদও আছে । সুধীন্দ্রনাথ যখন 'পাঁরচয়'- 
এর পত্তন করে সাহত্য ও সংস্কাতির দ্মেত্রে আসর গড়েছেন,আম অবশ্য 
তখন জেলে- বহু গুণিজনের তখন সুধান্দ্রের গৃহে সমাগম হ'ত । নামকরা 
সেই দেশী, বালতী আঁতাঁথরা সে স্মাত রেখে গিয়েছেন। অধ্যাপক 
প্রফুল্প ঘোষ ছিলেন ঠাদের অনেকের শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় অধ্যাপক । তাদের 
'একজনার মুখে শোনা- অধ্যাপক ঘোষের সঙ্গেও সুধীন্দ্রের সেখানে সাক্ষাৎ-সম্বন্ধ 
ছিল। প্রসন্ন মনে সুধীন্দ্রকে দোখয়ে অধ্যাপক তাদের বললেন-“বাবু, বই 
ছাড়। আসতেন ক্লাশে । সুধীন্দ্রও সলজ্জ সন্ত্রমে অনুযোগ দিতেন_“ক্লাশের 
পাঠ্য বইতে কারও মন বসে 2 সেই বন্ধুদের ধারণা- ক্লাশের সেই ব্যাপারটারও 


লাগজ না-লাগল না ৬৩ 


নিষ্পান্ত হয়ে গিয়েছিল স্যর আশুতোষের সঙ্গে সুধান্দ্রের সাক্ষাৎকারের পৃেই-_ 
অধ্যাপকের সঙ্গেই ছান্রের সাক্ষাতে । তাদের অনুমান-ত] ঘটে থাকবে 'পিত। 
হীরেন্দ্রনাথের '[নর্দেশেই । কারণ নুটিটা নিশ্চয়ই ছাত্রের । আর অধ্যাপকের 
কাছে নুটি স্বীকার না করা সাহসের কথা নয়, বেয়াদবি । একথা সোঁদন শুনলে এ 
ভাষ্যটা আমাদের তত তৃপ্তি দিত না, আমাদের বয়স তখনে। মাত্র একুশ-বাইশ 
আজ কিন্তু এই দ্বিতীয় ভাষ্যটা মিথ্যা হলেই লাজ্জত বোধ করব । সুধান্দ্র 
সৌজন্যে অপরাজেয় । অধ্যাপক প্রফুল্ল ঘোষকেও ক্ষমাশীল উদার বলতে হবে । 
তবু মানি- সুধীন্দ্রনাথের সোঁদনকার সেই ক্লাশ ত্যাগ, সেই থ্যাঙ্ক ইউ' বলার 
ভাঙ্গ, যে-কোন শ্রেষ্ঠ আভনেতার কাম্য হ'ত । 

অবশ্য সুধীন্দ্রনাথের এই আভিনয়-শান্ত তার আতসচেতন 'শাপ্পিসত্তারই 
আরেক দিক । এই িপ্পিসত্তার অনুশীলনই "তান বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়। 
ছেড়ে মুখ্যকম বলে গ্রহণ করেন, তাই তার সাহত্যসাধনা । ছান্রজীবনের 
শেষাঁদকে জানতাম-তিনি কাবতায় খাত৷ ভরাচ্ছেন ; কিন্তু তা প্রকাশে 
কুষ্ঠিত। একদন শুনলাম তিনি রবীন্দ্রনাথের সকাশে আপনার শান্তর পরীক্ষা 
দচ্ছেন- বুঝলাম, কাঁবর বিষয়ে যে-ওদাসীন্যের ভাব পুবে তান দেখাতেন 
তা-ও ছিল আঁভনয় । কে বলবে তার রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে শেষ প্রবন্ধটাও তেমাঁন 
আভিনয়ের দুর্বদ্ধ িনা, না, প্রমত্ততা 7? একটা কথা £ কবির সুপারিশে হঠাৎ 
তার একটি কাঁবত। প্রকাশিত হ'ল পপ্রবাপী'তে (2), নাম 'কুক্ুট' । শোনা 
যায়-কাঁবকে সুধীন্দ্র বলেন, কাঁবিত। যে-কোনো বিষয়ে লেখ যায়। কাঁবর 
হাতে ছিল বৃহৎ মুগগাঁজাক। সে-মাসের "শনিবারের চিঠি'। তিনি বললেন-_ 
“তাই নাক £" ছবিটা দোঁখয়ে বললেন, “লেখো দোঁখ এ-বিষয়ে কাঁবতা ।, 
তারই ফল কুক্কুট । তার শেষ কথা 'বাণী দে, বাণী দে' -রাত্রর অন্ধকারের 
্রার্থনাপূরক ৷ এই বোধহয় ছাপার অক্ষরে সুধান্দ্রের প্রথম প্রকাশ । প্রবাসীতে 
এ কাঁবতা ছাপা হলে তার আভিধানিক শব্দ-আড়ম্বরে সকলেই চমকিত হয় । 
'শানবারের চিঠি'তে তাই শ্ত্রীযুন্ত জীবনময় বায় তার ব্যঙ্গানুকরণে লিখলেন 
কাঁবতা_'মৎকুন'-তার শেষ কথা 'পাঁন দে, পান দে'__মাথা ঠা হোক 
কাবর। উভয় কবিতাই বিস্মৃত; কিন্তু উপভোগ্য সেই স্মাতি। 

সুধীন্দ্র নিজের মতে। করে যে-সাধনা উদযাপন করেন, ত। সামান্য নয় । 
আমার বিশ্বাস মাইকেল ( এবং বিষণ দে ) ভিন্ন আর-কোন বাঙালি কাব এতটা 
বিশ্বসাহিত্যের মনোযোগী পাঠক ছিলেন না। সে সাধনার শেষে, সুধান্দর 
যখন 'পাঁরচয়' প্রাতাষ্ঠত করতে থাকেন তার কিছু পৃবে, তার সঙ্গে একবার দেখা 
হস) তখন ত্রিশের রাজনোতিক আন্দোলনে দেশ টলমল 1 সুধাঁন্দ্র কথায়- 


৬৪ রূপনারানের কূলে 


কথায় বললেন, "তান দেশের ও-উদ্দীপনায় কোনো আগ্রহ বোধ করেন না।, 
এ কথাটাও কিছুটা আভনয়মূলক । 'পাঁরচয়'-এর পৃষ্ঠায় তার সাক্ষ্য রয়ে গিয়েছে 
--পৃথিবীর ভাঙা-গড়ায় তিনি যে-পক্ষেই যখন থাকুন-নিরপেক্ষ বা উদাসীন 
থাকেন নি । “পরিচয়'-এর সেইটা প্রধান গৌরবের কথা । পুরাতন পারচয়গোষ্ঠীও 
অবশ্য ঠার সেই 'বশ্ববীক্ষার সাক্ষী | একান্তভাবে সুধীন্দ্র সাহিত্য-চর্চাই করেছেন, 
এমন নয় । সাংবাঁদকতা করেছেন, জীবিকার্জনের দায় না থাকলেও ব্যবসায়িক 
বৃত্তি গ্রহণ করেছেন ; সাহত্য-শান্তর মতোই নিজের বৈষাঁয়ক বুঁদ্ধ-বচক্ষণতারও 
অবহেল৷ করেন নি । পাঁরচয়'-এর হস্তান্তর ব্যাপারে ধারা তার সঙ্গে কথাবার্তা 
চালয়েছেন তারাও এরুপ মনে করতেন। তার সহপাঠী হলেও সে 
কথাবার্তায় আমার যোগ ছিল না। ঘটনারুমে তারপরে “পরিচয়” পাঁরচালনার 
দাঁয়ত্ব আমার ওপর পড়ে-আজও (১৩৭২ বাং) তা থেকে মুস্ত নই। এ- 
কথা সত্য সুধীন্দ্রনাথ যে আদর্শ ও পদ্ধাততে ন্রেমাসিক “পরিচয়' পাঁরচালনা 
করোছলেন তা বিশেষ কৃতিত্বসূচক । দেশের 'শাক্ষিত মানুষেরাও একবাক্যে 
তা অভিনন্দিত করে । আমরা জেলে ও জেলের বাইরে তা সাগ্রহে তখন 
পাঠ করতাম । কিন্তু সেখানে সেই আদর্শে, সেই পদ্ধাততে--অটল থাকা 
মাঁসক 'পাঁরচয়'-এর পক্ষে অসম্ভব হয় । কালান্তরের মুখে সুধীন্দ্রনাথও তার 
হাল ধরতে অক্ষম হয়ে পড়েন। সে অধ্যায়ে “পরিচয়'এর বৃপাস্তরও তাই 
আনবার্ধ ও স্বাভাবক । তা'ই ঘটে। শুনেছি সুধীন্দ্রন্দথ তাতে খুশি 
[ছিলেন না; আর নতুন পাঁরচালকদের উপরও খুঁশ হন ন। খুঁশ আমও 
হই নি-_কারণ, নানা ঘাত-প্রাতঘাতে সেই প্রথম শ্রেমাঁসিক দু-বংসরের গৌরব 
'পারচয়-এর আর সুস্থিররূপে আয়ত্ত হ'ল না। সে অকৃতিত্ব আমার 
মতো! তার প্রারচালকদের,_ অবশ্য কারো একার নয়। কিন্তু এ আলোচনা 
এখানে অপ্রাসাঙ্গক । সুধীন্দ্রনাথের সাহত্য-জীবনের বিকাশের পক্ষেই বা 
তার সেই ছান্রজীবনের প্রসঙ্গ কতটা প্রাসসাঙ্গক ? এইটুকু যে, শুধু আভিনয় নয়, 
আ'ভজাত্যও সুধান্দ্রনাথের স্বভাবগগত । এই আভিজাত্য শুধু বৈষায়ক নয়, 
সাংস্কাতক “ল্রবাঁর' নয়, সুস্থ আঁভঙ্াত্য-চেতনা । এবং সাঁত্যকার আঁভজাতের 
মতোই তান সাধারণের থেকে সুদূর, কিন্তু যে-মানুষ আত্মমর্যাদাবান্‌ তার 
1নকট মধাদাবানু সুহদ । 

পরবর্তী জীবনে বহু বহু ক্ষেত্রে সুধান্দ্রনাথের সঙ্গে যখন সাক্ষাং হয়েছে 
তখনো মুগ্ধ হয়েছি-তার স্বাভাঁবক সৌজন্য ও পুরাতন সুহদ-সম্মত আচরণে, 
আলোচনায় । সাহিতাক্ষেত্রেত তিনি আপনার ব্যক্তিত্বের মহিমাকে আপনার 
কবি-কাঁতত্ব যোগে সুচিরস্থায়ী করেছেন । এখানে সে-বিচার নিশ্রয়োদু - 


লাগল না--লাগল ন। ৬৫ 


বাঙলা কবিতার আধুনিক ধারা ধারা স্রষ্টী করেছেন তিনি তাদের মধ্যে 
অন্যতম । তাতে ভাবাধিক্যের বদলে মননশীলতার ও ললিত মাধূর্যের বদলে 
গাঢ় ঘননিবদ্ধ দাতের প্রয়োজন ছিল । তান বাঙলা কাবতার দৃষ্টি সোঁদকে 
1ফারয়েছেন । মালামে ছিলেন তার কাব্যাদর্শের পাঁথকং । সে ফরাসী পথটা 
আম চিন না-তা বাঙলায় এসে ঠেকেছে কিনা জান না। তবে বাঙলা 
সাহিত্যের অপেক্ষা পাশ্চাত্য সাঁহত্য ও সংস্কাতির ভাবসঙ্কট ছিল সুধীন্দ্রের 
কাছে অনেক বোঁশ সত্য । বরং বাঙালি জগংটা সে পারমাণে তার আপনার 
হয় নি, বাঙলা ভাষাও নয়--বাঙলা গদ্যে তাই তিনি অস্বচ্ছন্দ যান্নী। সহজাত 


কাব-কীতিত্বের সঙ্গেই তার গদ্যে মিশে আছে কৃন্রিমত-আভিজাতোর সঙ্গে 
অভিনয় । 


সুধীন্দ্রের সঙ্গে পাঁরচয়েই আরেকজন গুণীলোকের সঙ্গে আমাদের এম. এ. 
ক্লাশে ও ল-ক্লাশে পাঁরচয় হয় । তান স্বগাঁয় অন্ণ চন্দ বার-আযাট-ল 1 
আমাদের চেয়ে তান ক্লাশে ও বয়সে একটু বড়। আমাদের বছরের ছাত্র 
1লেন বোধ হয় তার অনুজ অশোক চন্দ । দু' ভাই-ই ১৯২১-২২-এ নন-কো- 
অপারেশনে পড়া ছেড়ে দিলেন । অশোক চন্দ মহাশয় বোধ হয় অস্প পরেই 
[ব. এস-স. পরীক্ষা দেন। আর পাশ করে মনোনীত হয়ে ফিন্যান্স সাঁভিসে 
যোগ দেন। (খানে তার কাতিত্ব এখন সবন্ব 'বাঁদত, রাজনীতিকদেরও 
একটু চক্ষুশূল। কিন্তু ছাত্রজীবনে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় নি তখন । 
পরিচয় হয়োছিল শেষাঁদকে তার দ্বিতীয় ভ্রাত। অরুণ চন্দ মহাশয়ের সঙ্গে। তান 
তখন ইউাঁনভাসাটির অসমাপ্ত পড়াটা আবার শেষ করতে এসেছেন । আলাপী, 
বুদ্ধিমান, নানা বিষয়ে ওয়াকবহাল অরুণ চন্দ আমাদের কয়জনার বেশ ?নকট 
সতীর্থ হয়ে যান। পরে [তিনি ব্যারিস্টার হয়ে এসে শিলচরে বসেন, আসাম 
আইনসভায় তান ছিলেন কংগ্রেস দলের নেতা । স্বভাবতই বার বার 
দণ্ডভোগও তার ঘটে। ১৯৩৮ সনের ডিসেম্বরে যখন তার সঙ্গে আবার 
সাক্ষাৎ হয়েছিল-আমি তখন কারামুন্ত--তখনো দেখলাম 'তাঁন সেই মুস্ত-মন 
হদয়বান সতীর্থ আছেন । সমাজে রাস্ষ্ে তিনি তখন বিখ্যাত ও সুযোগ্য 
নেতা । দুর্ভাগ্য যে, কিছুকাল পরেই তান পরলোকগত হন। আসামের 
রাজনীতিতে একটা প্রয়োজনীয় স্থান তাতে শূন্য থেকে যায় ; আর তার ফল 
এখ ত পাই। আসামে বাঙালির যোগ্য নেত৷ আর বিশেষ নেই । 

নীতির ঘূর্ণাবতে আমাদের সময়কার আমরা অনেকেই পাক খেয়েছি । 
সাহঙ্জ ও সংস্কৃতিতেই বরং সে তুলনায় আকর্ষণ ছিল কম। তবু যখন এখনকার 


৬৬ রূপনারানের কূলে 


রাজনীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টিপাত কাঁর_তখন আমার মানতে হয়, বোশাঁদন 
রাজনীতিতে আগ্রহ কেউ বড় দেখাতে পারেন নি। এখন তো সে সমাজে 
সহপাঠীদের মুখ দেখি না । কীহলো কার? সে হিসাব থাক, কী হবে তা 
দিয়ে? তবে সতীর্থদের সংবাদ এখনো মন ছাড়তে চায় না । 

আমার মতোই শ্যামবর্ণের একহারা একাঁটি ছেলে বসত স্কটিশ চার্টেস্‌ 
কলেজে আমার পাশে । সতীন বসুর ও আমার রোল নম্বর পরে পরে, 
বসতাম তাই পাশাপাশি-_পড়তামও একর্প বিষয় আর থাকতামও এক 
হোস্টেলে কাছাকাছি ঘরে । এত দিকে যাদের মিল তাদের মলও হ'ল 
স্বাভাবিকভাবে । সতীন এসোছল শান্তীনকেতন থেকে পাশ করে। 
সতীনের চাল-চলনে, কথায়-আলাপে কোথাও সের্‌প কৃন্রিমতার চিহ ছিল না। 
সতীন বোধ হয় আমার থেকেও বোঁশ 'শাই' ছিল । মুখ খুলত না সহজে; 
বোশ বাড়াবাঁড় ছিল না কিছুতে, কিন্তু বন্ধুগোষ্ঠীতে ছিল স্বচ্ছন্দ । আলাপে- 
পরিচয়ে শান্ত, পোশাকে-পরিচ্ছদে পাঁরচ্ছন্ন রুচিবান। পাশ করে আর দেখা 
হয় নি। নওগাতে সে উকিল হয়েছিল জানি, দেশ-বিভাগে সেও কলকাতার 
আঁধবাসী। তার জন্যে প্রীত জেগে রয়েছে মনে । এরূপ প্রীত ছিল আমার 
পাশের ঘরের িবমলের জন্য-যক্ষমাতে অকালেই তাকে আমরা হারাই । আশুতোষ 
শ্যামও ছিল ওরূপ বন্ধু, সিলেটে সে করত ডান্তারী। হোস্টেলের সহপাঠীদের 
মধ্যে যার সঙ্গে পারিচয়-সৌহার্দ্য তাদের মধ্যে একজন শব-বাবু' বা বিমলাকাম্ত 
সরকার, অন্যজন সজনীকান্ত দ্বাস। সজনীর কথা বাঙল। সাহত্যে লেখা 
থাকবে, আমার লেখার প্রয়োজন নেই । তবে আমার মতো করে তা আম 
লিখোঁছ 'শানিবারের চিঠি'র সজনী স্মৃতিসংখ্যায় । তবু বলার আছে আরও 
অনেক । 

বি-বাবুর কথাও বলার মতো, যঁদও বেশি তা বুঝবার । লব রকমেই 
ধব-বাবু ছিলেন আদর্শ ছেলে । এমন কি, অবস্থার দক থেকেও । 'পিত। 
€ ভবতারণ সরকার ) তখন পুরুলিয়ার বড় উকিল, পশার ভালো, উদার- 
প্রকাত। তার বাড়িতে অভাবপ্রস্ত ছাত্রদের থাকবার-খাবার অবারিত বাবস্থা । 
শ্টবব্বের মধ্ডে খপ্ত।-প্ত্রে, দুই সহোদরে, ( এ-বাবু ৪ ব-বাবুতে ) পরম 
হতু্তে 4 অরশ্য টি-বাবু একটু একান্তে পাঁলত । শৈশবে মাতৃহীন, 
তাকে ক্ষুলে পড়তে পাঠানে। হয় নি, বাঁড়তে লেখাপড়া করেছে । কিন্তু 
লেখাপড়ায় সে মনোযোগী । পরাক্ষা পাশেও কৃতী । স্বাস্থ্যবান এব, শ্থয 
রক্ষার যক্রবান ;-আমাদের উপ্টো অভ্যাস । সত্যই সে 'ভালো টরানুষ”, 
আদশশ্ানীয় । তবু আমার মতে অ-ভালো মানুষের সঙ্গে বি-বাবুর 





লাগল না--লাগল না ৬৭ 


বিরাট বন্ধুত্বের । এই সং ও সহদয় বন্ধুটির কর্মজীবন মোটেই মসৃণ হয় নি; 
শেষ পর্যস্ত জানি, তানি মফঃস্বলের একাঁট বেসরকারী কলেজের ইকোনামকৃসের 
অধ্যাপক । ভাগ্যচক্লের ও ঘটনাচক্রের আবর্তনে-বিবর্তনে নানা ভাবেই সে 
প্রাতহত হয়েছে, আমাদেরও তার সম্বন্ধে আশা অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে । অদৃষ্ 
বলব কি? অথব৷ ভাগ্য ? চাকারির পরীক্ষায় তাকে কারা প্রথমবার স্বাস্তে 
ফেল করে; দ্বিতীয়বার উঁচু থেকে নামিয়ে স্বাস্থ্যবান স্বীকার করলে। 
চাকারতে নানা ভাবে এল দুর্যোগ বার বার- শেষে পুর্ুবিয়োগ, ভবানীপুরে 
পদ্মপুকুরে সাতার কাটতে গিয়ে ছেলোটি আর উঠল না। অবশ্য কতকটা 
এ কথাও সত্য-অতটা ভালোমানুষ হওয়াও ভালে নয় । গুণ হয়ে তা বরং 
দোষ হয়ে যায় ভাগ্যের চক্রান্তে । যাই হোক্‌, পৃঁথবীকে খুব সুগৃহিণী বলতে 
পারি না। সংসার তিনি মোটামুটি চালান বটে, তবে বড়ো ফেলিয়ে-ছড়িয়ে । 
বি-বাবু তার একটা প্রমাণ । 

অথ শুল্পনীর বেলা এ কথা খাটবে না। বরং বলতে পারি, পাঁথবীর সাধ্য 
ছল না তাকে ঝেড়ে ফেলে । তার বেলা দোষও শান্ততে-সাহসে গুণ হয়ে 
উঠোছল । কিন্তুসে আরেক তত্ব । তাতে-আমাতে পাঁরচয় কলেজে বছর 
দুই পরে। সে পারচয় সহজেই জমে ওঠে সাহিত্য-প্রীতির সূত্রে ; আর কর্মসূতরে 
নর্ম-সৃত্রে তা বেড়ে যায় ক্রমাগত । ছিড়ে পারত; কিন্তু ছিশ্ড়ে নি 
শেষ দিন পর্যস্ত ৷ 

ছোট হোস্টেলে সাহিত্য, বইপন্ন, লেখাপড়৷ প্রভীতি নানা উপলক্ষে কারও 
কারও সান্লিধ্লাভ করেছিলাম প্রথম থেকেই । তারা অনেকেই আমার বড়ো, 
কলেজে ওপরে পড়তেন। তখন র্যাগিং-সয়ে বড়দের প্লেহে ছোটদের লাভ 
করতে হত না । তারা অনেকেই এখন নেই। তবু নাম ভুলতে পারছি না 
কারে কারো । যেমন, গোপালদা । ১৯১৪ থেকে ১১৫৮ লালা গোপাল 
প্রসাদের নামটা অন্ততঃ স্কটিশের তখনকার ছান্র-জগতের কাছে সব থেকে 
বোৌশ আপনার ছিল, আর ওই মানুষাঁটও ছিলেন তাই। আমাদের 
কালে তান ছিলেন ও-হোস্টেলের ছান্ন.; আর নতুন-পুরনো সকল 
ছাত্রের সকল কাজের ভরসা । মেধাবী ছাত্র, কিন্তু সময় যেত সেবায়, গণ্পে, 
আড্ডায় । শেষ পর্যস্ত তার এম. এসস, পাশ করাও হল না অধ্যাপ্করাও 
দুঃখ করতেন । তারাই তাকে করে ানলেন কলেজের ফিজিক্‌সের 
ভিমোনষ্টে টর । আমাদের পরে বৎসরে বওসরে কলেজে নতুন ছার এসেছে ) 
নতুন জীবন ও নতুন পাঁরচয়ে গেস্মলনত বব ত্বা(ল্ক। বেডে 'গয়েছে। 
একাট্ীধায়, সকলকে নিয়ে যে-মানুষ গাঁড়য়ে চলেন, তেমনি মানুষ গোপালদা, 


৬৮ রূপনারানের কূলে 


-কাউকে 'তাঁন ছাড়তে পারেন না; এমন কি, অ-কাজও ছাড়তে পারেন না 
কাজের প্রয়োজনে, ছাড়েন শুধু নিজের কাজ, নিজের নানা জনের গরজে ॥ 
কাঠিন্য ছল না ব্যান্তত্বে, কিন্তু দৃঢ়তার কি অভাব ছল ? না, উচ্চাকাত্ক্ষার 
অভাব ? এমন মানুষ যে আমাদের বাঁড়রও সবার আত্মীয় হয়ে যাবেন তা 
আশ্চর্য কিছু না। আমও তাদের পাঁরবারের কতকট৷ কাছাকাছি গিয়েছিলাম । 
একবার আম কলকাতার বাইরে কি কাজে গিয়োছি,-কি করে জানব 
গোপালদ৷। হঠাৎ হৃদরোগে মার যাবেন ? 

আমার থেকেও গোপালদা'র বোশ 'িকটের ছিলেন বোধহয় সংধেন্দমোহন 
ঘোষ । আমারও তিনি কম নিকটের নন। আমার থেকে তানি 
দু'বৎসর ওপরে পড়তেন । ময়মনসিংহ জামালপুরের তারা অবস্থাপন্ন লোক, 
সুধেন্দুবাবু মানুষ হয়েছিলেন স্বচ্ছল অবস্থায় । গৌরবর্ণ, নাক-মুখ-চোখ সুন্দর । 
সুপেন্দু ঘোষ সুপুরুষ । কিন্তু তার চেয়ে বেশি তিনি সে জাতের মানুষ যারা 
আড্ডায়, গপ্পে, আনন্দে জমে থাকেন, অন্যদেরও জমিয়ে রাখেন । প্রাণভরা 
স্কতি। ছান্রজীবন ছাড়িয়ে ত৷ বয়ে চলে কর্মজীবনে । তান আমাদের 
নোয়াখালির গ্রীক্মাবকাশের উৎসবের আনন্দে গিয়ে যোগদান করোছলেন । 
আমও রাজনীতির ঘূর্ণাচক্ে পাক খেতে খেতে যখন তখন জামালপুরে গিয়ে 
তার বাঁড়তে আস্তানা গেড়োছি- তার স্ত্রী-পূত্র-কন্যা সকলে আমাকে আপনার 
করে নিয়েছেন । একবার তো নেত্রকোণার সেই বিরাট কৃষক সম্মেলনের 
(১৯৪৫ ) শেষে আমরা সমস্ত দল)া তার গৃহে ক'ঘণ্টার মতো উৎপাত করেছি । 
জানতাম, বাধা নেই, কারণ শুধু সুধেন্দু ঘোষ নন, তার স্ত্রী ও পুন্র-কন্যারাও । 
সোহার্দ্যে, উদারতায় স্বচ্ছন্দ আন্তারকতা বাঙালি মেয়েদের মধ্যে কম দেখা 
যায় না। সুধীনবাবৃর স্ত্রীও ছিলেন ঠিক স্বামীর জুঁড়। অমন হৈ-চ, 
অমন কলরব, অমন নিশ্চিন্ত উল্লাস অবশ্য তার স্বভাবে ছিল না-_মেয়ে-স্বভাবে 
তা মানাতও না। কিন্তু তার স্বামীর সেই আনন্দ ও সারল্যের প্রত আন্তরিক 
মমতা ছিল আর সেই সঙ্গে স্বামীর স্বজন-বান্ধব সকলের জন্য সহজ প্রীতি ও 
সহজ সেবা, নিজের আচার-আচরণে সারল্যের সঙ্গে সম্রমবোধ । তাদের 
অকৃণ্িমত৷ সার্থক হয়েছে ছেলেমেয়েদেরও মধ্যে । দেশ-বিভাগের বিপর্যয়ে 
সুধেন্দুবাবুর স্বচ্ছলতা চিড় খায় চাল্পশের ঈদকে । ত৷ চৌচর হয়ে যেতে 
থাকে পাকস্তানের পত্তনে। .কাঁলকাতায় এসে তাকে নতুন করে 
জীবকালাভের চেষ্টা করতে হয় । দিনের পর দিন অসুবিধা বাড়ে । তখনে। 
দেখেছি তার এনের স্বচ্ছতা, সহজ আনন্দসন্ভার । শুধু বন্ধু-বান্ধব নয়, নিজের 
ছেলেমেয়েদের সঙ্গে করতে পারেন প্রাণখোল৷ হাস্-পারহাস । তখন তার 


লাগল না- লাগল না ৬৯ 


স্রীর মনে-মুখে হাসি লেগে ছিল ; পুন্র-কন্যারা পিতার শুধু নয়, মায়েরও গুণ 
পেয়েছে। 

বড়োদের মধ্যে হোস্টেলে আরও ছিলেন-_বিভূতি দত্ত ও 1শিবশরণ 
চৌধ;রী । শিবশরণবাব; ইংরোজর অধ্যাপক ছিলেন হেতমপুর কলেজে, আর 
বিভূতিবাবু পুরুলিয়ার সুগ্রাতাষ্ঠত উকিল, খেলায় কুশলী আর অভিনয়েও 
নিপুণ । শিবশরণবাবু আমাকে হোস্টেল লাইব্রোরতে তার সহকারী করে নেন-_ 
তাতে সঙ্কোচ কাটিয়ে কতকটা ওক্ষেত্রে স্বচ্ছন্দ পাঁরক্রমার সুযোগ পেয়ে যাই, 
আর বই-এর আস্বাদনের জন্য পাই তীব্র উৎসাহ । শেষ বয়সেও তানি আমাকে 
বস্থত হন নি-নান। অসুবিধার মধ্যেও স্মরণ করছেন । বিভাতি দত্ত ছিলেন 
মাতাপিতৃহীন । মাতাপিতৃহীন হলেও বিভূঁতিবাবুর মাঝে মাঝে চল্ত পিতার 
বাষক শ্রাদ্ধ " মাকে হাবড়া স্টেশনে রান্রির গাঁড়তে তুলে দেওয়া,__ 
থিয়েটার দেখার ওটা ওজর । বিভৃতিবাবু ভালে৷ খেলোয়াড, আচার আচরণেও 
সকলের প্রুয় ও সহদয়। শ্যামবর্ণ ছিপছিপে গঠন, পাতল। ঠোঁট দুশটতে 
থাকত সকোতুক হাসি। কণ্ঠঘ্বরে সরসতা । তর উৎসাহেই প্রথম আমর৷ 
গ্'ভাই হোস্টেল পালিয়ে থিয়েটারে যেতে সাহস পাই । তার সাহচর্ষে আমার 
খেলার উৎসাহটাও আবার জীইয়ে ওঠে-_খেলা নয়, খেলা দেখা । হাঁডিং হোস্টেলে 
যখন যাই এম, এ. ও ল পাঁড়, তখন তিনি ল-কলেজের খেলার সেক্রেটারি । 
তেতলার আমার ৭৫ নং ঘরে বসে তান ল কলেজের খেলা চালনা করতেন । বড় 
বড় চার-পাচজন নামকরা খেলোয়াড় তখন ল কলেজের টিমে খেলে । উমাপাঁত 
কুমার ছাড়া আশুতোষ দত্ত প্রভৃতি ছিলেন তাদের মধ্যে প্রধান। এসব 
খেলোয়াড়দের মধ্যে অখেলোয়াড় হয়েও আমি নীরবে এক কোণে ঠাই করে 
নিতেম । ৭৫&নং ঘরটা ষে আমার, খেলার সেক্রেটারির নয়, তা কেউ জানত 
না। কলেজ বা হোস্টেল কেউ 'বভীতিবাবুকে ছাড়তে চায় না। পরেও 
বিভূতিবাবুর সঙ্গে অনেকবার আমার দেখা হয়েছে । তিনি তখন পুরুলিয়ায় 
উাঁকল। পশার জাময়েছেন, সংসারে সুপ্রতিষ্ঠিত, পূবেকার মত হৃদয়বান মানুষ । 

হোস্টেলে আমার বড়ো লেন আরেকজন সুধানালনী কাঁস্ত দে, পরে 
স্‌ধাকান্ত দে। [তিনি ডাঃ নরেন্দ্র লাহাদের কম্মাধ্যক্ষ হন। সব শেষে হন-_ 
রাঁধানগরের রামমোহন কলেজের প্রিন্সিপাল । তিনি একটু আশ্চর্য মানুষ । মূল 
বাঁড় ঢাকা জেলায়, কিন্তু আসামের সুদূর মাঁরয়ানী অগুলে মানুষ হয়োছলেন । 
সেখানে বাধ্টছিলেন বন-বভাগের কর্মচারী । বোধ হয় বাল্য তারা বাঙালির 
সুখ বেশি দে।খন নি- বাবা-মা, আর ভাই-বোন দু'জন ; এরা ছিলেন পরস্পরের 


সঙ্গী ও সুহদ|। আর সঙ্গী ছিল আসামের প্রাকৃতিক দৃশ্য । এ পরিবেশটার 






কাং মনে ধত। কারণ আর্য রকমের কষ্পনা-প্রবণতা, নির্ল চরিত ও 
ধূঝ স্কতাবে সমাবেশ দেখছ সুধাবাবৃর মধ্যে। তিনি ছিলেন কবিমনের 


মানুষ । তার চোখে পৃর্থবীর সকল জিনিসই স্বপ্ন-মাখা, অথচ তা মায় 
নয়। সুধেন্দুবাব ওঁর নাম রেখেছিলেন "বমানবিহারী' । আশ্চর্য কথা এই 
যে, এই মানুষাঁটরও বিশেষ অধীতব্য হ'ল ধনাবজ্ঞান । পাশ করে তিনি অধ্যাপক 
বিনয় সরকার মহাশয়ের সঙ্গে 'আথিক উন্নাতি'র পাঁরচালনায় লাগেন। 
দেশের আঁথক উন্নাততে তার তখন ঝোঁক ৷ সেই পত্রে দেশের অর্থনোতিক 
জীবনের বিবরণ তিনি লিখতেন, তা যেমন সুপাঠ্য তেমান তথ্যসুন্দর 
[ফল্ড-ওয়ার্ক। তখনো এদেশে রিপোর্টাজ লেখার ধারার বিকাশ ঘটে নি-- 
বশ বংসর দেরী ছিল । আমি তো আথিক উন্নাততে সুধাবাবুর সে-সব বিবরণাঁ 
পড়ে এক কালে ওঁদকে পথ হাতড়িয়ে বোঁড়য়োছিলেম. কিন্তু সন্ধান পাই নি। 
কারণ অমন করে দেশের সাধারণ বাস্তব জীবনধারাকে 'চাত্তত করতে হলে দৃষ্টি- 
শীন্তও চাই, সৃঁক্ষমতাও চাই । সুধাবাবুরও কিন্তু লেখা-পড়ার পথটা প্রশস্ত 
করার অবসর বোঁশ হ'ল না। একমাত্র সেই যৌবনে আরন্ধ 'রকার্ডোর 
অর্থশান্ত্রের বাঙলা অনুবাদ সম্পূর্ণ করেন, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তার প্রকাশক ॥ 
এরুপ সুস্থ স্থায়ী কাজ বাঙালির মধ্যে করে কে ? কিন্তু সুধাকান্ত দের সাহিত্য- 
বোধের কথা তাতে জানা যাবে না । কলেজ-জীবনে দেখোছ, সাহত্যের দুয়ারটা 
তার চেনা। তা তিনি অন্যের সামনে খুলে ধরেছেন। তার চেয়েও 
বড়ে৷ কথা অবশ্য ওর স্বভাবের অকৃন্রিমতা ও মাধূর্ব । আমাকে কেন, আমাদের 
অনেককে তা মানতে বাধ্য করেছে--অকীন্রম মাধুর্ষেই মানুষের মানাঁবক শ্রী । 
হোস্টেলে আরও দু'জনা ছিলেন একটু বড় । সাধু : আমার ভাই প্রফুল ) 
ও উপেনদের € উপেন রায় ) তারা সহপাঠী । কিন্তু আমার পক্ষেও ভুলবার 
মতে মানুষ নন । একজন ভাঃ পাঁরমল রায়, অন্যজন অধ্যক্ষ গারধর চক্রবতণ। 
ডান্তার রায় প্রাসদ্ধ লোক । ধারা তাকে জানেন তারা৷ দেখেছেন তিনি সুবন্তা 
আর বন্তৃতা-প্রিয়ও । ছান্রজীবনেও তিনি 'ছলেন বাকৃপটু । তবে তখন 
দেখোঁছ তিনি অশনে-বসনে সংযত, স্বদেশী চেতনার মানুষ, বাক্যে-আলাপেং 
ত। ভুলবার সুযোগ কেউ পেত না-অথচ উগ্রস্ভাব নন, সহজ স্বচ্ছন্দ, আর 
তর্কে সবদ। প্রস্তুত। আমরা ভাবতাম তিনি হবেন বামপন্থী বাকী 
রাজনোৌতিক নেতা । নন-কো-অপারেশনের ম্রোতে অনেকের মতো ভেযে 
যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত মাটিতে পা রাখতে পেরোছিলেন তান %ানোমতে 
বি. এ. পাশ করে যান ঢাক। ইউানভাসিটিতে । সেখান 'থেকে রঃ এ. পা 
করে তান অধ্যাপক হন সেখানে । তখনে৷ তার রাজনীতি চরম ন|| হোক, গরঃ 


লাগল না-লাগুল না ৭১ 


--আপোস-রফায়ও 'তিনি উদাসীন বা অস্থীকৃত । লওনের পি. এইচ-ডি. হয়ে... 
পরে ডান্তার রায় সরকারী চাকরির চক্কে পড়েন । পাটনাতে যুদ্ধের সময়ে তিনি 
1হলেন ন্যাশনাল ওয়ারফ্রুপ্টের কর্ণধার ৷ তাই পাটনার রঙ্গীন হালদার ও তার 
বন্ধুদের বন্ধু হন । আমাদের বন্ধুরা দাদারও বন্ধু । ডান্তার রায় ও আমার দেখা 
হ'ত সেখানে । তখন কৃতী রাজপুরুষ ; চাল অনুরুপ । তারপরে স্বাধীনতার পরে 
আবার দেখা । তানি তখন পশ্চিমবঙ্গ ডিরেকটর অব্‌ পাবাঁলকি ইনজ্াকৃশন । 
আনন্দ হ'ত। কারণ, যে-সব শাদা মুখ চিরাদন শিক্ষার অভিভাবকত্ব 
করেছেন এদেশে তাদের ক'জন ডান্তার পরিমল রায়ের মতো বিদ্যায়, বুদ্ধিতে, 
বন্তৃতায়, আলোচনায় সুপট্রু ছিলেন ? কিন্তু ডিরেকটর হিসাবে সিনেটে 
1সাঁওকেটে সরকারী সকল শাসন-নীতির [তাঁনই মুখপান্র । আমরা প্রায়ই সে- 
গব নীতির সমালোচক । মনে হ'ত, অনেক দিকে আপোস-রফায় 'সিদ্ধকাম 
হয়েছেন ডান্তার রায় চাকার-চক্লের নিয়মে । এই বুদ্ধিমান, বিদ্বান ও বাকৃনিপুণ 
লোকাঁটর দেশবাসীকে আরও কিছু দেবার মতো শক্তি ছিল-সে শান্ত চাকরিতেই 
ফুরোয় নি বলে মনে করা চলত । 
তাদের সহপাঠী 'গাঁরধর চক্তবতর্থ অন্য ধরনের মানুষ । পলিটিক্যাল 
সায়েন্সের ছাত্র হপাবে বোধহয় তার মতো মেধাবী ছান্র কম হয়। অথচ 
আক্কায়, গল্পে, তাস খেলায়, দাবা খেলায়ও ঝোঁক কি কারও চেয়ে তার কম ? 
বন্তৃতায় প্রবৃত্তি নেই, কিন্তু আলোচনায় সুনিপুণ । আর বলতে দাড়াল স্বচ্ছন্দ 
সচেতন অথচ চমক-ীবরোধী । কোথায় তার মধ্যে একটা সহজ ির্লোভতা ও 
প্রস্নতা ছিল । বিষয়-বরাগী নন; বৈষায়কতার ও পদপ্রাতিষ্ঠার প্রীতি 
একটা আন্তরিক অনাসন্তি।' প্রথম জীবনে তিনি একবার অধ্যাপনা করতে 
এসৌঁছলেন ফেণী কলেজে । সেখানে নিজের বেতন থেকে একটা শিল্ড 'দয়ে 
যান ফুটবল খেলার প্রাতিযোগিতায়_ ছান্ররা তার নাম সেই শীল্ডের সঙ্গে গেঁথে 
রেখেছিল । 'বিহারেই তিনি বরাবর অধ্যাপনা ও অধ্যক্ষতা করেছেন । নান! 
উপলক্ষে পাটনায় আসতে হ'ত । তাই দাদার কাছে তিনি অনুজ আর তার 
কাছেও দাদ! অগ্রজ । দাদার মতে গারধরের মতো গভীর দৃঁষ্ট ও জীবন- 
বোধ, সাহিতা-বোধ, রাজনীতি-বোধ, সমাজ-বোধ দুর্লভ । এই মত আমারও 
গ্রাহ্য । তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় পরম লাভ, বিশেষ তা আনন্দদায়ক । 
গারধরের ম্নেহভাজন ছিল সজনী । সজনীর প্রাতাক্রয়াশীলতার 'দকটা 
[তিনি পারচ্ছন্ন দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করতেন, আর স্পষ্ট বাক্যে প্রকাশও করতেন । 
তবু তাকে দিতেন তার যোগ্যতার পুরস্কার-পোষণ করতেন তার জন্য অন্তরের 
শুভাকাঙ্্ষা । ম্নেহে অন্ধ হন নি- মূল্যবোধও আচ্ছন্ন হতে দেন নি । বিহারের 


ৰ২ রূপনারানের কূলে 


কলেজের অধ্যক্ষ-জীবন তার পক্ষে সঙ্কটসঙ্কুল হ'ত । কারণ, অন্যায়ের 
সঙ্গে গারধর চক্রবর্তীর আপোস-রফা করা অসম্ভব । অশোভনতার সঙ্গে তার 
স্বাভাবক অসহযোগ । বিনা দ্বিধায় একবার তিনি হঠাৎ অধ্যক্ষপদ ত্যাগ 
করেন । দাদা বললেন, শগাঁরধর, একটা কিছু আগে জোগাড় করে নিলে না? 
িারধর বললেন, "ক দরকার, দাদা ঃ? আমরা বিদ্যাসাগরের দেশের মানুষ ।' 
তার অর্থ, ওসব দেশের কলেজী 'মুখীয়ারা” বুঝবে না । এক কথায় স্ত্রী বান 
পয়সায় হোমিওপ্যাথিক ডান্তারী করছেন । কিছু না জোটে, এখন দু-চার আনা 
করে নিয়ে চালিয়ে যাবেন সংসার । মাঝে মাঝে ভাবি-_ হয়তো বিদ্যাসাগরের 
এতিহ্যটা আমরা যা মনে করি, ততটা উবে যায় নি। দু-এক পয়সার তেজ 
কারও কারও মধ্যে আছে । 

হোস্টেলে অবশ্য আমাদের পরে ধারা আসেন তাদের মধ্যে নামকর৷ 
ছিলেন শান্তিনিকেতনের শিবদাস রায় । এক বৎসর পরে এলেন কলেজে । 
আর এসেই সকলের মন কেড়ে নিলেন গানে, সপ্রতিভ ব্যবহারে ; স্বচ্ছন্দ 
আলাপে-সোহার্্্য ৷ শুনেছি, কবিরও বিশেষ প্লেহপান্ন ছিলেন এজন্য শিবদাস । 
শান্তানকেতনের ছাত্রদের তখনকার উৎসবে শিবদাস থাকতেন গানের দলের 
একজন প্রধান । শান্তীনকেতনের সঙ্গে আমাদের হোস্টেলের ছাদের তানি 
প্রতাক্ষ পাঁরচয় ঘটান । সেখানে খেলার আয়োজন হয় । কাঁবর দর্শনও সেই 
উপলক্ষে আমার মতো অনেকেরই প্রথম--জীবনে ত৷ ভুলবার সাধ্য নেই- 
শিবদাসকে তাই ভোলা সন্তর হ'ত না । অনেকাঁদনের অদর্শনেও বন্ধুদের সঙ্গে 
সম্পর্ক যে শ্্রান হয় না তার একটা প্রমাণও পেয়েছিলাম ৷ শ্রীবুন্ত অশ্নদাশঙ্কর 
রায়ের উদ্যোগে শান্তীনকেতনে সাহিত্য-মেলা হয়োছল ১৯৫৪ (2) মনে 
রাখবার মতো সেই আয়োজন, আমারও নমন্ত্রণ ছিল । সেখানে গিয়ে যা 
জানলাম তাও কম গবেষণার াবষয় নয় । েখানকার দায়িত্ববানৃদের কারও 
কারও কাছে আমার একমাত্র পাঁরচয় আমি কমিউনিস্ট । শাঁন্তীনকেতনেও 
অনেকের পক্ষে “মানুষ যেন গোণ পাঁরচয় । শান্তানকেতনে তখনো আমার 
বন্ধ ছিলেন কেউ-কেউ, এখনো আছেন । কিন্তু আম সেখানে তবু সহজে পা 
দিই নি-_-আমার উপস্থিতিতে পাছে বন্ধুদের বিব্রত করি, কিস্া কেউ হয়ে 
পড়েন সন্দেহভাজন দুর্জন। সেবার অন্নদাশঙ্কর রায় মহাশয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে 
তবু নিমন্ত্রণ স্বীকার কাঁর । 'মেলায়' যেতে ভাবনা কি 2 মেলায় তো৷ জাত-বিচার 
নেই । কিন্তু মেলার কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা ছিল-এক-একজন অধ্যাপক এক- 
একজন আঁতাথর ভার নেবেন। আমাকে নিয়ে মুক্ধল। এমন দুর্নামা 
লোককে স্থান দেবেন কে? শিবদাস রায় শাস্তনিকেতনেই থাকে, সে 


লাগ্ল না লাগল না ৭৩ 


অগুলে তারা ছিল জামদার । কবির আমল থেকে সেখানে সে নতুন করে 
গৃহ 'নর্মাণ করেছে, পূর্বেকার ভদ্রাসন রয়েছে অজয়ের পারে । অনেকের 
মতো। শিবদাসকেও বলা হয় কোনো একজন আঁতাঁথর ভার নিতে । 
শিবদাস বললে “নশ্চয়' । কার ভার নেবেন? আঁতিথির তালিকা দেখে 
সে বললে “এই তো গোপাল হালদার, আছে দেখছি । বেশ, তাকে দিন |” 
গোপাল হালদার! সকলে অবাক! শিবদাস গান নিয়ে থাকে এবং 
*া1ভ্তানকেতনের রাজনীতিতেও নেই, দেশের রাজনীতিতেও নেই । তাতে 
আবার জমিদার শ্রেণীর মানুষ । কী বলছে হয়তো জানে না। “জানেন, 
গোপাল হালদার কে ?-_ মশায়, কমিউনিস্ট ।৮ শিবদাস শুনলেন সব। 
তারপরে বললেন “সে কমিউনিস্ট হয় যা হয় আম বুঝব। তাকে 
আমার গৃহে রাখতে চাই ।৮ কর্তৃপক্ষ তো বেচে গেলেন, দায় ঘাড়ান্তর 
হ'ল। ছিলাম তাই শিবদাসের আতিথি। পরম আনন্দে, তৃপ্ততে ৷ শুনেছি 
তার এুখে শা1ন্তীনকেতন, তার রুপান্তর, ভাবানস্তর অথবা লোকান্তর, এসব 
[বিষয়ে তার নানা কথা । কিস্তু শুনলাম অত বৎসর পরে তার গান । 
আশ্চর্য! আমার মনে হ'ল তার গলা বয়সের সঙ্গে যেন আরও দরাজ, 
আরও সুরেল৷ হয়েছে । এসেছে সেই মধুর পুরুষ-কঠে জীবনের দান, 
শান্ত-বেদনা ও স্থির গভীরতা । শান্তিনকেতনে পরে যখন রবীন্দ্রশতবাষিকী 
উৎসবে গেলাম ১১৯৬২) তখন আম কর্তৃপক্ষের আতাঁথ-ভয় ছিল না। 
আরামেই ছিলাম । কিন্তু একটু দুঃখ হ'ল_শিবদাস সেখানে নেই। সে 
মোটর-বাসের ব্যবসা করে, থাকে আমেদপুরে ; দেখা হ'ল না, এই দুঃখ । 
বুঝলাম, কালান্তরে তার নির্ঝপ্াট জীবনেও এসেছে আথিক তাড়না । 

একথা 'আরও অনেকের সম্বন্ধেই মনে হয়, যাদের সঙ্গে পরে হাডিং হোস্টেলে 
বন্ধুত্ব হয়েছে ব৷ বন্ধুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে । হয়তো আর দেখাও হয় নি এত বছরে । 
অকস্মাৎ এক-এক ঝলকে সে সম্পর্কটা ঝিকামিকিয়ে ওঠে । খেলার জগতের 
সঙ্গে আমার প্রায় সম্পূর্ণ অপাঁবচয় ঘটে যায় পরে । পঙ্কজ গ;প্তের সঙ্গে দেখা 
হয়েছে তবু দৃু'-একবার খেলার উপলক্ষে নয়, আত্মীয়গৃহে আলপে । উমাপাতি 
কুমারের সঙ্গে দেখাই হয় নি আর । দু-একটা মজার কথা তবু তার সম্বন্ধে 
আমার মনে থাকবে গচরাঁদন । 1ব.এ. পরীক্ষা দিয়েছি । ফল) জানাবার কথা 
বভীতবাবুর । তান তখন ছুটিতে হাডিং হোস্টেলে আইনের একটা পরীক্ষা 
দেবেন। আমার নিকটতম বন্ধু চারুলাল স্ুখোপাধ্যায়ও কলকাতায় । খবর 
[নিতে গিয়ে 'তাঁন বড় চিন্তায় পড়ে গেলেন। ইংরোজতে ফেল করে গয়েছি 
_আস্্ীক্ছর জন্য। উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষিত হলে ফীড়াটা কাটতে পারে । 


৭৪ বূপনারানের কূলে 


সেজন্য চেষ্টা করা দরকার ৷ পত্রপাঠ যেন কলকাতায় আঁস। আপাতত ছিল, 
গেলাম না। দু'দন পার না হতেই চারুর তারে খবর এল--খবরটা ভুল । 
ইতিমধ্যে উমাপাঁতবাবু গিয়োছিলেন অন্য কার ফল জানতে বিশ্বাবদ্যালয়ের 
আঁপসে । যে রোল নম্বর তানি বললেন তা দেখে কেরানি ভদ্রলোক বললেন, 
এ রোল নম্বরের তো এ নাম নয়। এ রোল নম্বরের তো নাম দেখাছি-_ 
“গোপাল হালদার'_ফলাফলটাও ভালে । উমাপাঁতবাবু শুনে বললেন, “আবার 
দেখুন তে। রোল নম্বর আর ওই নামটা ।' কুমার নিশ্চিন্ত হয়ে নিলেন । মজাটা 
এই, বিভাতিবাবুর ভুল ধরা পড়ে কুমারের ভুলে । এমনি দু-একটা আরও 
মজার খবর আছে । উমাপাঁতবাবুর আমাকে মনে না থাকবার কথা । কিন্তু 
আমার ভুলবার নয়, তান যে দেশের হরে)" ফুটবলের 'কুমার ।' 

হাডিং হোস্টেলের সে বংসর কয়টা ছিল আনন্দে-উৎসবে ভরপুর । যাঁদের 
তখন সেখানে নতুন দেখেছি তারা কেউ কেউ নানা কারণে স্মরণীয় । বিভৃতি 
দত্ত, আশু দত্তদের 'নয়ে জমোছিল খেলার হাওয়া । অন্য 'একজন সঙ্গীত ও 
সামাজিকতার আবহাওয়৷ সৃষ্টি করেছিলেন । সকলের মধ্যমাঁণ হিসাবে তাকে 
দেখতাম, তার নাম শুনোছলাম আগে দাদার মুখে । মুখে অখ্যাঁতও জানতাম । 
হাঁডিং হোস্টেলে একটু একটু করে তার সঙ্গে হ'ল সাক্ষাৎ পাঁরচয়, ক্রমে 
সোহার্দ্, আর শেষ পর্যন্ত অন্তরঙ্গতা । তিনি মৃত বিনয় মুখোপাধ্যায় | 
জীবনানন্দে ভরপুর এঁ মানুষের কথা একটা সমগ্র গ্রন্থ লিখলেও বল৷ শেষ 
হবে না । এই কথাটুকু বলেই শেষ কার, আমার “আড্ডা' বইখানা বিনয়বাবু ও 
অনুতোষবাবুর স্বাতিতেই উৎসরাঁকৃত, সেই দুই “আভ্ডারসরাসকেষু' । 

এ পর্বটাও শেষ কার । তার আগে বল দরকার কলেজের দু-একজন 
সহপাঠীদের কথাও । তাদের সঙ্গও তে কম সৌভাগ্য দান করে নি। 
স্কাটশের বন্ধুরা, যাদের সঙ্গে চার বংসর একাদক্লমে পড়েছি, তাদের কাউকে 
কাউকে দেখোঁছ কলকাতার পথে-ঘাটে, আঁফসে-আদালতে ; অনেকেই জীবনে 
প্রাতাষ্ঠত। কেউ কেউ গুণ থাকতেও আত্মগোপন করে রইলেন, কেউ কেউ 
গুণ নিয়েও প্রকাশিত । সহপাঠীদের মধ্যে বাদের সঙ্গে ইংরেজিতে অনার্স 
পড়োছিলাম বা ইংরোঁজতে এম.এ. পড়ছিলাম, তাদের সঙ্গেই পাঁরচয়টা ঘাঁনিষ্ঠ 
হয়ে ওঠে ; তারও মধ্যে বিশেষ করে মনে রাখবার কথা ধাদের, তাদের দু'জন 
আজ নেই-ধখরেন পাল মারা গিয়েছেন অনেকাঁদন । এম.এ. পাশ করে তিনি 
অল্প বয়সেই তখনকার মেক্রোপালটান্‌ কলোজয়েট স্কুলের হেড্মাস্টার 
হয়োছলেন । বরাবরই আমাদের মধ্যে তিনি জ্ঞেষ্ঠরূপে গণ্য । বয়সে কিন 
কে জানে, সম্ভবতঃ শ্ছির বুদ্ধ, সির গা, সির প্রকাত_-এই জনাব ান 


লাগল না _লাগুল না ৭ 


“ধীরেনদ।”-আমরা তার কাছে “তুই'-তিনি “তুমি' । পড়াশোনায়ও তান 
উচ্চস্থানীয়, পরীক্ষায়ও ওসব গৃণ চাপা পড়ত না। পরীক্ষার ব্যাপারে প্রয়োজন 
এক ধরনের কুশলতা--স্ছির বুদ্ধি থাকলে তা করায়ত্ত হয় । ধীরেন পালের 
স্বভাবে সেরূপ স্থিরতার সঙ্গে অন্য আরও গুণ 'ছিল--সমাজসেবা ৷ স্কাটশের 
ছান্ররা পরিচালনা করত একটা নৈশ বিদ্যালয় ৷ প্রথম বৎসর থেকেই ধীরেনদা 
তাতে স্বেচ্ছায় শিক্ষকতার ভার নেন। ক্রমে হয়ে পড়েন তার মেরুদণ্ড । 
মাসের পর মাস এসব কাজ করা শুধু স্থির বৃদ্ধি নয়, চ্ছির চারত্ত না হলে সম্ভব 
হয় না। অবশ্য এ ছাড়াও তার হাতে এরুপ দশের কাজ আরও ছিল । কিন্তু 
স্বদেশীর ভূত তার কাধে বেশি চাপতে পারে নি কেন? হয়তো কাধ খালি 
পেলে সে ভূত যত জোর পায় খালি না পেলে ততই জোর হারিয়ে বসে। 
স্কুলের ভার পেয়ে তান নিজের মনের মতো কাজ পেয়েছিলেন । কলেজের 
অধ্যাপনায় তার এত রুচি ছিল না। মানুষ-গঠনের ভূতটা বোধহয় ওর কাছে 
বশ মেনোছল । 
অন্নদা দাশগ[প্তকে হারিয়েছি পরে (১৯৬১ )। দীর্ঘাদন সেও করেছে 
কেশব একাডোমিতে শিক্ষকতা, তবে হেডমাস্টার নয়। ধাীরেনদার' বা 
জ্যোতাবকাশের মতো মাস্টারও বোধহয় অন্নদা৷ ছিল না। ধাঁরেনদ 
যেমন সহপাঠীদের অগ্রজ, অন্নদা তেমনি সহপাঠীদের অনুজ । সে বাড়তে 
কানষ্ঠ ভ্রাতা, ক্লাশেও । সেরূপ একটু সরল চাপল্য, প্লেহের জিদ, আ 
আন্তারকতা তাকে সত্যই আমার কেন, আমার ভাই-বন্ধুদেরও অনুজ ক. 
তুলোছিল। নানা সৃক্ষম দিকে ছিল তার ঝোঁক, বিশেষ করে ফটো তোলায় 
ও ব্যাপারে সে সত্যই কৃতী সৌখীন শিল্পী ছিল । সে আমাদের কত ফটে৷ 
তুলেছিল তার ঠিকানা নেই । দু'-একটা নিদর্শন এখনো ঘরে আছে । স্বচ্ছ 
বন্ধু ছিল অল্লনদা । এখন তার কৃতী পুত্রকে নিয়ে আমরা গব করতে পারি 
কলেজের পড়াশুনায় আমি বেশ উৎসাহ পাই নি, স্বাদও পাই ?' 
অধ্যাপকদের সঙ্গ পাই নি। পেয়োছিলাম সতীর্থদের সঙ্গ । এদের জন্য সম 
সার্থক হয়েছে । হোস্টেলে পেতাম বই-পড়াশুনায় রুচি ও রস। ননৃ- 
অপারেশনের দুর্দান্ত তরঙ্গ কলেজের পড়াশোনায় মন দিতে দেয়া ন; কিন্তু 
জোয়ারও বাইরের পড়াশোনায় বশেষ বাধা দেয় নি, পাঠ্যবই ও পরীক্ষা সঃ 
তা আমাকে বীতস্পহ করোছল। আই.এ.তে আসে জালিয়ানওয়ালা, 
রন্তয়ান, বি.এ.-তে নন-কো-অপারেশনের পুরে ঝড় । ঠিক করেছিলাম, প 
দেব না। কাজে নামলাম । কিন্তু বার্দোলীর সিদ্ধান্ত এল, আন্দোলন পা 
হ'ল, আমারও কাজ ফুরোল। পরীক্ষার ঠিক এক মাস আগে পরাক্ষা 


৬ রূপনারানের কূলে 


কলকাতা এলাম ৷. সে এক মাস আম দিনরাত পড়লাম- সত্যই দিন করলাম 
রাত, আর রাত করলাম 'দিন। পরীক্ষার কাগজেও কলমটা তেজে চলল,_ 
পড়ার বোধ হয় জোর ছিল না, তাই কলমটাই জোর চালাতে হ'ল। কাজও 
হ'ল, সৌভাগ্য আমার । এম. এ. আর ল দুই ক্লাশেই আমি যোগ দিয়ে ছিলাম 
পড়ার চেয়ে বেশি খেলার আড্ডাতে ও নানা হৈ-চৈতে । দুটো বছর বেশ 
জমেছিল । রাজনীতি ও সাহিতোর দুর্বায়ুও ছাড়ে 'ান, শেষ তন মাসে 
বাধাও জুটোছল অনেক । ভাগ্যও তাই রেহাই দলে না । 
পরীক্ষা চিরাদনই আসলে ভাগ্যপরীক্ষা, অনিশ্চিত এবং কীন্রম একটা 
কৌশল । তার চেয়েও বিশ্রী কিছু হতে পারে- ক্যানভাসিং-এর যোগ্যতার 
পরীক্ষা । কিন্তু ও বস্তুর অভাবে ব্যন্তগত ভাবে আমার ক্ষাত তখন হয় নি-_ 
কিন্তু বন্ধদের কারও কারও হয়েছে, যেমন, রাবির । তখনকার মতে! আঁম 
বিশেষ ব্যাহত বোধ করি নি। অবশ্য পরে দেখোছি সে আঘাত মর্মমূল স্পর্শ 
করে আছে। মমমূলেও তার ক্ষতরেখা পড়ে থাকবে । . শুধু আমার কেন, 
পরীক্ষার দুঃস্বপ্ন ঘুমে আরও অনেক বাঙালির বুকে চেপে বসে যায় শুনেছি। 
আমার তো এখন বদ্ধমূল ধারণা-আমাদের পরীক্ষা-পদ্ধাততে কপালের পরীক্ষা 
আট আন, উত্তর লেখার বুশলতার ও চাতুর্ষের পরীক্ষা চার আনা, বাকী চার 
মানা পড়াশোনার, তার মধ্যে এক আনা বিদ্যাবুদ্ধির । কোনো পরীক্ষা-পদ্ধাতিই 
নুটিহীন হবে না, জানি । তাই“বলে পরীক্ষা-পদ্ধীতটা কি এমন অমানুষিক 
হতে হবে 2 পরীক্ষাপাঠ্য না হলে ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি নানা 
বষয়ে বইপন্র পড়বার আগ্রহ আমার ছিল। সমাজ-বিজ্ঞানেও জিজ্ঞাসা 
ছল। ভাষাতত্বের গবেষণায়ও আনন্দ পেয়েছি । কিন্তু পরীক্ষা ; কিস্বা 
শের পড়া 2? নৈব নেব চ। 
আসল কথা সেই । 'লাগল না, লাগল না'- কলেজের অধ্যয়ন-অধ্যাপনার 
কটা আমার মনে লাগল না। রাজনীতির জোয়ার তখন ; তা ছাড়াও 
থবীর বিভিন্ন বিষয়ে আমার ওৎসুক্য । কলেজের সীমানায় পৌছতেই 
বন উজান বইতে চায় । পাঠ্যবই-এর বাধানো৷ পাড়ের মধ্যে তা বদ্ধ হ'ল 
বইবার মত খাত হোস্টেলে ও কলেজে অন্যর্প আয়োজন-অনুষ্ঠানেও 
স্তু দু-একটা ছিল। ওঁগিলভী হোস্টেলের হাতে-লেখা পান্রকায় কলম 
নাবার জন! উৎসাহ দিয়োছলেন সুধাবাবু ৷ বাঙল৷ ছেড়ে ইংরোঁজও 'লিখোঁছ, 
সন্দেহে কাচা ও অপাঠ্য । উল্লেখ করাছি এই জন্য যে, লেখার সঙ্কোচ 
ঘাতী হতে পারে নি। লাইরেরির সিনিয়র সুহৃদ আমাকে তার সরকারী 
নিলেন প্রথম বংসরেই, কলমে সে লাইব্রোর হলে। আমার দায়িত্ব । অর্থাৎ 


লাগল না--লাগল না ৭৭. 


বই বাছাই করা, বই কেনা প্রভাতর ভার প্রধানত পড়ে আমার উপর । সে 
যে কী আনন্দের অধিকার, তা এখন বলে বোঝানো অসম্ভব | প্রথম যুদ্ধের 
পরে তখন নতুন 'বালতী বই আবার এদেশে আসছে । ইংরেজি ফরাসী 
জার্মান ছাড়া রুশ, নরওয়েজীয় ও সুইডিস প্রভৃতি কন্টিনেন্টাল সাহিত্যের 
আমদানর তখাঁন সাধারণভাবে সূচন। হয়। মাসে মাসে নতুন বই আসে, 
নতুন পৃঁথবীর সঙ্গে হয় প্র“তাঁদন পাঁরচয় । নতুনের সন্ধানে মন উন্মুখ ॥ 
আমার পড়ার নেশায়ও নতুন রঙ ধরে। অবশ্য স্কাটশ চার্চেস কলেজে 
লাইব্রেরির ভাগ্ডারও ছিল সমৃদ্ধ । বই পড়বার সুযোগও অবাঁরত । খোলা 
তাকেও মেলা বই। পৃষ্ঠা ছিড়ে তা নেবার ও বই-এর পাতায় মন্তব্য 
করবার সুবিধাও ছান্রদের কি কম? তবু কর্তৃপক্ষ হার না মেনে খোলা তাকে 
বই রাখলেন । ছেলেরাই ক্রমশঃ হার মানল দেখলাম । সে কলেজের 
িলিতী পন্র-পা্রকার সরবরাহ মন্দ নয়। ক্লাশের অবসরে হলের স্ট্যাও-এ 
দাঁড়য়ে দাঁড়য়ে তখনকার আযাথাঁনয়ন, স্পেকৃটেটর, স্যাটারডে 'রিভিয়্যু ও 
টাইমস্‌ 'লটারার সাপ্রমেণ্ট ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়া চলত । একটা কথা থেকে 
আরেকটা, সেটা থেকে তৃতীয় একটা, এবুপ সূত্র ধরে মন এীগয়ে যেত দূর- 
দূরান্তরে, বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে । আজও মনে পড়ে, একদিন ওর্প একটি 
সাহিত্যপন্রে জানলাম- ইংল্যাণ্ডে ডানৃ-এর কাবিতার নূতন সমাদর । আর 
একাদন-_কোনো একটি লেখকের অপ্রকাশিত লেখার কথা পড়লাম । বই 
পাই নি, পাঁড় নি। তার নাম একেবারে ভুলে গেলাম না তার রীতির 
আভনবত্বের জন্য-_ জেমস জয়েস্‌। নিত্যকার অপেক্ষাও আভনবের চমক 
চোখে বোশ লাগে-বিশেষত সে বয়সে । বয়সটারই বা দোষ কি? পাঁথিবী- 
জোড়া যুদ্ধান্তের ভাঙা-গড়ার ঝড়, পরানোর প্রাত উদ্ধত অনাস্থা ঘোষণা ও 
নতুনের জন্য চারাঁদকে অশান্ত আগ্রহ । শুধু সাহিত্যে নয়, রাজনীতিতে, 
সমাজনীতিতে-সধন্র সেই জিজ্ঞাসা তখন প্রচ । যৌবনের আভযান দেশে 
দেশে-বিদেশে । 

কলেজের পড়াটায় মন লাগল না, লাগত বরং বাইরের নানা দিকে 
বিশ্বব্যাপী নান 'জিজ্ঞাসায়, যৌবনের অবুঝপনায়, কর্মোন্মাদনায়, আর কর্ম- 
হীনতার অশান্ত দংশনে । তাতেও কলেজের বিদ্যাটার প্রাতি আস্থা ক্ষয় 
হ'ত। কিন্তু তাই বলে বাঙালির ছেলের ডিগ্রীর মোহ যায় না, লেখাপড়ার 
লোভও না। জীবনাগ্রহ, রাজনীতির উৎসাহ-উদ্দীপনা কলেজের বাইরেও 
আপনার প্রকাশ-ক্ষেত্র চায় । খু'জে নেয়, গড়ে তোলে । জাতির দিক থেকে 
দেখলে রাজনীতির ক্ষেব্রটাই তখন প্রধান ক্ষেত্র । কিন্তু তাতে সকলের 


উহ থাকে ম, যায থাকে ভাদেও কারও পরায় সরব্ণ থাকত না। 


আমাদের নোয়াখাঁলর বহুমণ্ডলী রাজনীতির বাইরে আপনাদের প্রাণস্রোতের 
আবেগে ছল স্বঃতন্ফর্ত। সেই প্রাণাবেগের নিয়মেই আমরা আবিষ্কার 
করতাম আমাদের প্রকাশ-পথ-ছুটির দিনের আমাদের শহর-মাতানো হাসি- 
হুল্লোড়, বেপরোয়া৷ আলাপ-আলোচনা-আড্ভা, দুরস্ত কোলাহল, কলরব, ছুটোছু টি, 
লুটোপুটি, খেলাধূলা--সবে মিলে যৌবনের আভযান তাতে দানা বেঁধে উঠল, 
জন্মাল সেই নোয়াখালি শহরের একটা আয়োজন । জন্মাল একটা প্রতিষ্ঠান । 
'সবুজসজ্ঘ' নোয়াখালির জীবনে একটা বিস্ময়-তার আদিও নেই অস্তও 
নেই। মনে হয়, বাঙলাদেশের জীবনেও তা ইতিহাসের একটা পদাচহু_ 
'সবৃজের আভষান । 

কিন্তু কলকাতার কলেজের পাঠে কী পেলাম? পেয়েছিলাম কিছু 
সতীর্থ, তাদের কথা বলতে ভুলতে পার নি। কিন্তু পাই নি কলেজের পড়ায় 
স্বাদ, পাঠ্যপুস্তকে রস, আর সে জিনিস যা নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন, সকল 
বিদ্যালয়ের আবশ্যকীয় অঙ্গ-_-অধ্যাপকদের স্পর্শ । 

আমার বংসরের অনেক শ্রেষ্ঠ ছাত্রের সঙ্গে আমার পৰে ও পরে পরিচয় 
হয়েছে । সংসারে পূজ্য হয়েছে এমনো৷ অনেককে দেখোঁছ। কিন্তু আমার 
মনে হয় একালের ভালে! ছেলেরা তাদের থেকে কম ভালো নয়, বরং বেশি, 
সুযোগও বোৌশ। তবে একালের সাধারণ ছেলেদের সম্বন্ধে ওরৃপ কথ৷ 
বলতে পারব কি2 সুযোগ বোঁশ পেয়েও এ্যাভারেজ যেন মাপে খাটে৷ 
হয়ে পড়েছে । সোঁদন আমাদের সুযোগ ছিল পাঁরামিত । সরকারী “পরীক্ষার 
চাকার, তখন ভালোদের গ্রাস করে নিয়েছে, শ্রেষ্ঠদেরও সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠত। 
সেই চক্রে সম্পূর্ণ পরিস্ফুট হতে পেরেছে বলতে পার না। কথাটা বিশদ করা 
নপ্রয়োজন। সে তুলনায় একালের শ্রেষদের কাছে কিন্তু অনেক দুয়ার 
খোলা--মায় মাকিন মুলুকের দুয়ার । কিন্তু তারা কি নিজেদের সেই 
শ্রেষ্ঠতা বিকাশে উদ্যোগী, কিন্বা সেই দায়ত্ব-বিষয়ে সচেতন ? না, আমাদের 
সমস্ত জাতীয়পারস্থিতি এখন তাদের সোঁদকে প্রেরণা দতে অসমর্থ ? 
আর সোঁদনের জাতীয় পরিস্থিতি তাদের দিত সংকল্প, সাহস--্বাধীনতার 
সংগ্রামে শ্রেষ্ঠই বাল, আর সাধারণই বাঁল-একালের ছান্ররাও আমাদের সৃষ্টি । 
“দে আর হোয়াট উই মেক দেম্‌' ৷ আমাদের সামনে সে যুগ যৌবনের ও জীবনের 
( ১৯১৭-১৯৪৭ ) যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল আমর৷ যাঁদ তার সার্থক উত্তর 
দিতে পারতাম ('৪৭-এ ও তার পরে ) ত। হলে ষাটের কোঠায় এসে এদেশের 
যৌবনের ও জীবনের এই বিপর্যয় ঘটবে কেন? সার্তচন্লিশের স্বাধীনতা কেন 


লাগল না-নাগৃল না ৪১ 


এদের জীবনে লাগল না, লাগল না? সে দিনের যৌবন-জল-তরঙ্গে বুদ্ধ 
অতীতের আবর্জনাকে ভাঙিয়ে ন৷ 'দিয়ে আমরাও আপনার মধ্যে কি অসঙ্গাতর 
ও আত্মগ্রব্নার বোঝা বহন করে চলেছিলাম ?-যাতে সাতচল্লিশের 'অসপ্ূণ 
বিগ্নবের' আভিশাপে এ কালের জীবন ও যৌবন আঙ্জ কা্ম-নিমজ্জিত হতে 
বসেছে। পিছনে তাকিয়ে আমাদেরও আত্মগরীক্ষা করা প্রয়োজন । 


তৃতীয় পারিচ্ছেদ 
“্বন্বাজ সাধন” 


এক-একটা শব্দ যেন এক-এক যুগের বীঁজমন্ত্র। যতক্ষণ যুগটা জীবন্ত 
ততক্ষণ শব্দটাই তার পারচয়পন্ত। ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গ জন্ম 'দিয়োছল 
স্বদেশী শব্দটাকে, কথাটা এখন আর বিশেষ শোনা যায় না, কিন্তু অন্ততঃ 
বশ বংসর স্বদেশী কথাটা ছিল প্রাণবন্ত । আজকের আমাদের রাজনোতিক 
ভাষ্যকারদের ভাষায় যার৷ “টেরোরিস্ট', সোঁদন বালতী ভাষায় তাঁরা ছিলেন 
এনার্কিস্ট, আর দেশের লোকের কথায় “স্বদেশী, । প্রসঙ্গত একটা কথা বলা 
দরকার । টেরোরিস্ট নামটা আংাশক সত্য, আর এনাকিস্ট নামটা মূলতঃই 
অযথার্থ । 'দ্বদেশী'দের ইংরেজিতে বল্লে ন্যাশনাল 'বিপ্রবী বা মালটাণ্ট 
ন্যাশনালিস্ট বলাই বোধ হয় ঠিক । বাঙলায় “স্বদেশী বিপ্লবী' বলাই যথেষ্ট । 
১৯০৫-এ স্বদেশী শব্দটা জীবন্ত ও ব্যাপক ছিল । ১৯২০-এর পরে এর্‌প 
আরেকটা কথা সমস্ত দেশের চিন্তলোক থেকে উদ্ভৃত হয়_-“ম্বরাজ” | 
গবেষকরা বেদ-উপনিষদের পাতায় খু'জে পান 'স্বরাষ্ট' ৷ শুনেছি, ১১০৭-এর 
কংগ্রেসের সভাপতির অভিভাষণে বৃদ্ধ দাদাভাই-নৌরাজীই নাকি শব্দটাকে 
রাজনোৌতক আসরে প্রথম উপস্থাপিত করেন । সেবারই (2) কি ঠিক হয় 
কংগ্রেসের লক্ষ্য স্বরাজ' 2 বোধ হয়, লক্ষ্য তখনো ছিল সেলফ- গবর্মমেণ্ট 
বা স্বায়ত্তশাসন । তাই স্বরাজ কথাটা সে-সময় অপ্রতিষ্ঠিত থেকে যায়। 
সুরেন্্রনাথ প্রমুখ উদারতন্ত্রীরা তখনো চাইতেন “সেলফ গবর্নমেণ্ট+- স্বায়ন্ত 
শাসন । স্বদেশীদের গোপন প্রচারপঘ্রের নাম ছিল 'ম্বাধীন ভারত' ও 
গলবাঁটি' । স্বাধীনতা” বলা তখন রাজদ্রোহ-_বেপরোয়াদের প্রসারত শব্দ । 
তখনেো। আমরা “মেড়া হীঁওয়ান্‌*, মহারানী ভিকৃটোরয়ার রাজভন্ত প্রজা, 
( হৃতুমের ভাবায় )। প্রথম চেয়োহ "গ্রেটার এসোসয়েশন অব্‌ হীখিয়ান্স্‌ ইন 
দি গ্যাডামনেস্ট্রেশন অব ইিয়া” । ১৯০৫-এর সময়ে সাহস বাড়ল। 
আমাদের মনের কথা তখন 'স্বরাজ' । বিস্তু নরমপন্থীরা কথাটাকে একটু 
নরম করে বললেন “সেলফ গবর্মমেন্ট' । আর ১৯১৭-যে আবার মন্টেগু 
আমাদের আশ্বাস দিলেন 'প্রোগ্রেসিভ 'রিয়ালিজেশসন অব রেস্পন্সেবল্‌ 
গবর্নমেন্ট ইন হওয়া" । ব্রিটিশ শাসনের উদ্দেশ্য তার আগেই আইরিশ কন্যা, 
ভারত-নেত্রী মিসেস বেসান্ট আরেক একটা শব্দে চালু করলেন, 'হোমরুল' । 
পাশ্চম উপকূল লোকমান্য টিলক, জিন্না ও বাপৃটিস্টা দুই লেফটেনেপ্টকে 


স্বরাজ সাধন ৮৯ 


নিয়ে, গড়তে লাগলেন “ইওয়ান হোম রুল লীগ” । স্পর্ধার কথা তাও । 
নিশ্চয়ই" ভারতীয় রাজনীতি_ মুখটা প্রকাশ্যেও আইরিশ আদর্শের দিকে ফিরছে, 
অপ্রকাশ্যে ফিরছিল সিন ফিয়েনের দিকে । তাই দেখতে না দেখতে 
হোম রুল কথাটা বদলে গেল, সেই সঙ্গে নিজের ভাষায় ফুটল-_স্বরাজ' । প্রমথ 
চৌধুরী বিদুপ-বিশারদ মানুষ-_গান্ধীজীর স্বরাজ আন্দোলনকে তিনি ব্যঙ্গের বাণে 
বিদ্ধ করে বুদ্ধমানদের বাহবা পেয়েছেন । কিন্তু বুদ্ধির সঙ্গে ভদ্রলোকের মন 
বস্তুটা ছিল-সে মন পোট্রয়াটক, স্বদেশ-বৎসল । “স্বরাজ' কথাটাকে তান “সবুজ 
পন্র'-এ সম্বর্ধনা জানালেন এ ভাবে--আমাদের ভাষায় একটি নতুন শব্দ জন্মগ্রহণ 
করেছে, 'স্বরাজ' । সন্দেহ মাত্র নেই, শব্দটা দেশীয়, দেশের প্রাণ থেকেই কথাটা 
উদ্ভূত ( ভাষাটা আমার, প্রথম চৌধুরীর কথা এত ভোঁতা নয় )। আন্দোলনট৷ 
তখনো মান্র জন্মাচ্ছে । 'স্বরাজ' কথাটা দেখতে না দেখতে সকলের স্বভাষা 
হয়ে গেল। টিলকের মুখেও তা বসে গেল--“দ্বরাজ ইজ মাই বার্থ রাইট 1৮ 
গাহ্ধীজার বই ৭11701917 [70776 7২019 ১৯২১ থেকে নাম বদলে হ'ল 'শহন্দ 
স্বরাজ” । সে নামেই তা এখনো সচল-যতটুকু আছে তার চলচ্ছান্ত । যাক, 
১৯২০-এর পরে ভারতের গ্রামে-শহরে একটা ধ্বান উঠল 'ম্বরাজ-সাধন 
কীজয়। কোন্‌ এক লগ্নে যে ভারতীয় জাতীয় চেতন৷ হঠাৎ এঁ কথাটায় 
নিজের রূপ আঁবষ্কার করল, তা বলা শন্ত। ১৯০৫-এর সময় থেকে 
নবজাত ছেলেদের নাম হ'ত স্বদেশ রঞ্জন । এবার ১৯২০-২১ থেকে নব 
জাতকদের তেমাঁন আরেকটা বহু প্রচলিত নাম 'স্বরাজ' ( বিপ্লবী” “বেদুইন' 
প্রভৃতি নামগুলি তখনো বহু দূরে )। ১৯২০ থেকে অন্ততঃ ১৯৩০-এর 
সমস্ত দশকাঁটই 'স্বরাজ-সাধনার যুগ' । কিন্তু ১৯৩০-এ লাহোর কংগ্রেসে লক্ষ্য 
স্বীকৃত হ'ল 'পূর্ণ স্বাধীনতা । শুধু স্বাধীনতা শব্দে কুলোয় না । 'স্বরাজ' 
কথাটাও ধার খুইয়েছে দশ বংসরে । 'স্বাধীনতা' শব্দটরও সেই অবস্থা হতে 
বাধা নেই । বোঝা যায়, ফাঁক জন্মেছিল। শুধু “স্বাধীনতায়” কুলালো না, 
বলতে হ'ল “পূর্ণ স্বাধীনত।'_পিওর গোল্ড । আমাদের কৈশোর “ম্বদেশী'র 
আগ্রমন্ত্রে দীক্ষা পেয়োছল ; যৌবন 'স্বরাজ-সাধনে' পায় কর্মযোগের পাঠ_ 
তাই কলেজের পাঠ হয়োৌছল অবাস্তর ৷ 

ইতিহাসে অবশ্য যুগাবর্তন ঘটে গিয়েছিল ১৯১৭-তেই, অক্টোবর বিপ্লবে । 
আধুনিক যুগের উত্তব ইউরোপের “রনাইসে ন্স' মোটামুটি ১৪৫৪-১৬০০ শ্রীস্টাব্দ, 
প্রকাশ ফরাসী 'বপ্লবে ১৭৮৯), কিন্তু আধুনিক যুগের যথার্থ প্রাতি্ঠা ১৯১৭-র 
নভেম্বরে,._-শোষণহীন সমাজ তার উদ্দষ্তট । মনীষীরা কেউ কেউ বলেন, 
আ্টিবর বিপ্লব থেকেই মানুষের সভ্যতার এক নতুন যৃগ্বার । কিন্তু এ কথা 

৬ 


৮২ রূপনারানের কুলে 


তখন বুঝব কি করে ? ভারতবর্ষে আমরা 'বলশেভিক' শব্দটাও আগে শুনি 
ণন। 'ম্যাকীসামস্ট' বলেই তারা প্রথম উল্লোখত হত ;-কেন 2 ক্রমে বুঝি 
বলশোভস্ট তারই প্রাতশব্দ, অর্থাং সংখ্যায় 'বড় দল' ( সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক 
পাঁটর মধ্যে )। সম্পূর্ণ অপরিচিত নাম, সম্পূর্ণ অজানা মতবাদ । লেনিন 
টরাঙ্কর নামও একেবারে নতুন । কর্মপদ্ধীতও বিচিত্র । সে-ও এক বিচিন্ 
তরঙ্গভঙ্গ আমাদের জীবনে । তখনো কলেজে আসি নি, তবু সোঁদনের বেঙ্গলী, 
অমৃতবাজার পাঁত্রকা ও স্টেটস্ম্যান, ইংঁলশম্যান থেকে কম চমকপ্রদ খবর 
পাঁড় নি। নানা সূত্রে শুনলাম 'বোল্শ'র৷ ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বিলোপ করছে, 
মানুষে মানুষে সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে, জার-সাম্রাজ্যের অস্ততুন্ত পরাধীন 
জাতদের তাই স্বাধীনত৷ 'দয়েছে, এমন ক, মধ্য-এীশয়ার তুকিস্তানের 
জাঁতিদেরও দিয়েছে মস্ত । সব অভাবনীয় ব্যাপার । আমাদের মনের ভাব 
এ সংবাদে কী হতে পারে; আমার একাঁট অত্যন্ত নিরীহ বন্ধুও এ-সব শুনে 
বললেন, “তবে তো আমিও বল্‌শেভিক |” তিনি পরে হয়োছিলেন সরকারী 
সব্রোঁজস্ধীর । কিন্তু কথাটার অর্থ কী? নানা খবরের রাজা আমার দাদা 
( রঙ্গীন হালদার )। “বল্‌শোভিক' কথাটার অর্থ তানিও জানেন না, জানেন না 
বল্শেভিক কারা । নোয়াখালির টাউন-হলে সন্ধ্যায় আমাদের ছোট-বড়দের 
আসর জমে । কখনো সভাও হয় । সেখানে দাদা একজন. সুযোগ্য বন্ধুকে 
জিজ্ঞাসা করলেন, 'বলুশোভিক কারা, কেন তাদের ও নাম 2 তিনি ইতিহাসের 
ফার্ট ক্লাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র ; কিন্তু 'কী যেন কোথায় পড়েছি, মনে 
করতে পারাছি না ।' -এর বোৌশ তার থেকেও তখন জানা গেল না। 

য। জানি না, ঘটনা ও রটনার মধ্য দিয়ে তা কিছুটা বুঝেছিলাম । ষেমন, 
এদেশের শাসক ব্রিটিশ কঠারা বল্শেভিকদের বিষম বিরোধী । তা হলেই 
হ'ল। আমাদের মন বললে, তা হলে বল্‌শোভিকরা নিশ্চয়ই মন্দ লোক নয় । 
প্রথমেই শুনলাম, ওরা শান্তি চায়, ওরা জমিদারদের জমি কৃষকদের মধ্যে বিলি 
করেছে । শোনা গেল, ধনী-দরিদ্রের ভেদও রাখবে না। সাঁত্য নাঁক ? এর মতে। 
ভালে কাজ তা হলে আর কী হতে পারে £? আমরাও কি স্বাধীনতা হলে চাইব 
না “সাধারণতন্ত্র” ? সাধারশদের নিয়েই তো দেশ, বড় লোকেরা দেশের ক'জন ? 
চিত্তরঞ্জন দাশের মুখ থেকে তখনো বেরোয় নি-স্বরাজ ফর দি নাইনৃট-ফাইভ 
পাসেণ্ট ; আমাদের মন 'কস্তু বরাবর মানত স্বাধীনতা হবে গরীবের স্বাধীনতা | 
তৃতীয়ত, বুঝলাম নিজেদের সাম্রাজ্য ভেঙে পরাধীন জাতিকে স্বাধীন করে দেয় 
যারা, তারা তে। পৃথিবীর সকল পরাধীন জাতিরই পরমাতীয় । কাজেই, বোঝা 
যাচ্ছে, কেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য "তাদের শনু। আমাদের দেশের সংবাদপন্রগালও 


স্বরাজ সাধন ৮৩ 


এভাবেই এ কথা প্রথম থেকে বুঝেছিল, এবং স্পষ্$ করে বলতে না পারলেও 
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলুশেভিকদের স্বাগত জানিয়েছে । ব্রিটিশের প্রোপাগ্যাগায় 
ভোলে 'ন, বরং মজা পেয়েছে । শাসকদের ভুকুটিকে ফাকি 'দিয়েছে। ঠারেঠুরে 
কথা বলে দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে মনের নিগৃঢ ভাব। সম্প্রত 
(১৯৬৮) 'কেশরী' থেকে “বেঙ্গলী” “অমৃতবাজার পত্রিকা” প্রভীতি পন্লিকাগুলির 
তখনকার মন্তবা ঘেপ্টে এ তথ্য পুনরুদ্ধার করেছেন আমাদের গবেষক বন্ধুরা । 
১৯১৭-এর নভেম্বর থেকে ১৯১৮ খ্বীস্টাব্দের শেষে পৌছতে আমাদেরও 
বল্‌শেভিজম্-এর সম্বন্ধে জন্মোছল সোৎসুক জিজ্ঞাসা ও শ্রদ্ধা-_যাঁদও হইীতিহাসের 
[ববর্তনপথ কী, তা তখনো ছিল অজানা, মার্কস্বাদ তো নিশ্চয়ই অপারচিত । 
শুনে হাসবার কথা, আমার মত কারও কারও মনে আবার এ শ্রদ্ধার বাঁজ 
বপন করোৌছলেন আমাদের দেশের দু'জন ভিন্ন ভাবনার মানুষ । একজন 
বিবেকানন্দ, যানি শূদ্রের যুগনেতৃত্বের জন্য আমাদের হৃদয়-মন তৈরী করে- 
ভিল্গে । অন্যজন রবীন্দ্রনাথ, যান “সবার পিছে, সবার নিচে, সবহারাদের 
মাঝে' কৈশোরেই আমাদের পথ-সন্ধানী দৃষ্টিকে চালিত করেছিলেন । এই 
পরম আত্তক্যবাদীরাই দেখাঁছলেন ইতিহাসে, সেই নাস্তিক্যবাদীদের 
আবির্ভাবের আনবার্ধ তা । হা, এ-ও রাম না জন্মাতেই রামায়ণ রচনা__কেউ তা 
বোঝে না। অনাদের মতো আমাদের কালচারের ও এাঁতিহ্যের মধ্যেও আগামীর 
জন্য ছল এই আয়োজন । উড়ে৷ উইলসন্ও অবশ্য তখন সবজাতির “আত্ম- 
নিয়ন্ত্রণের অধিকার' ঘোষণা করেছেন । আমাদের কিন্তু তাতে বিশেষ আস্থা 
হয়নি । এখন তো৷ জানতে বাকী নেই-তখনকার মাকিন রাম্ট্রদূতদের স্মৃতিকথা 
থেকে পারফ্কার হয়েছে, বল্‌শেভিকরা যখন সকল জাতির স্বাধীনতার অধিকার 
ঘোষণা করেছে, পোল িনূ প্রভাত জারের পদানত জাতদের স্বাধীন করে 
দিয়েছে, তখন যৃদ্ধরত সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতিবিদদের উদ্মারও শেষ ছিল না, 
আশঙ্কারও অবাঁধ ছিল না । গেল তাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আছাগরি । 
এ সোভিয়েত ঘোষণার দশ 'দনের মধ্যেই তাই মাঁকন রাজদূতদের পরামর্শ 
মতে। উদ্রো উইলসন্‌কে একাই তাড়াতাড় এ ঘোষণ। করতে হ'ল-_ তার যুদ্ধলক্ষয 
“রাইট অব সেল্ফ-ডটারামনেশন অব নেশন্স্‌।, এই ধারাটা যখন 
প্রচারত হয়, তখনো কিন্তু ইংরেজরা চুপ । চেপে থাকো, যুদ্ধ তো জয় 
হয়েছে । উইল্সনের ও-সব কথা না মানলে কে কীকরবে? ভারতের 
জনসাধারণকে মুষ্টিমেয় “পসাঁডশ্যানিস্ট” শাক্ষতদের হাত থেকে বাচানোই 
তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের 'মিশন' যুদ্ধকালীন অনাহার বা যুদ্ধশেষের 
মহগঈ!রী থেকে নয়। পরে ১৯৪৩-৪৬-এও এ খেল দেখা গয়েছে। 


8৪ রূপনারানের কুলে 


১৯১৭-তে মন্টেগু চেমসফোর্ড রিপোর্ট বের হয়েছিল। ১৯১১৯-এ 
তার অনুশাসনে ভারত শাসন আইন পাশ হ'ল। 'ডায়াকি' চলবে প্রদেশ- 
গঁলতে । কালের স্রোতে ব্রিটিশ রাজনীতির এসব চাল আজ মিথ্যা । 
কিন্তু আমরা তখন তরুণ, দেশের জীবনে তো তা কম আবর্ত সৃষ্টি 
করে নি। সে-সব আবর্তের মধ্যে আমরাও আবাঁতিত হয়োছ। দেখলাম 
মণ্টেগু চেমসফোর্ড রিপোর্ট বা সুপারিশ বেরুবার সঙ্গে সঙ্গেই এসোছল 
রাউলাট রিপোর্ট । আর তার অনুসরণে এসেছিল রাউলাট গ্যান্ু ( মার্চ, 
১৯১৯)। আমাদের জীবনে সেই সিডিশ্যান কামাঁট-রিপোর্ট যে-আবর্ত সৃষ্ট করে 
তা এক বিষম সত্য | মনে পড়ে, এ রিপোর্ট বেরুতেই আমাদের হোস্টেলের 
লাইব্রোরর জন্য আম এক কাঁপ কিনে এনোছিলাম । ঘরে এনে সে বই এক 
নিঃশ্বাসে সেদিন পড়ে ফেলোছি। ভারতের সশস্ত্র জাতীয় আন্দোলনের 
(১৯০৮-১৯৯৬) মোটামুটি একটা রূপরেখা দেখলাম । অবশ্য িপোর্টাট 
রাজদ্রোহরুপ দুষ্কৃতির সরকারী ভাষ্য । সব কথা ছাপা হয় নি--গোপন তথ্য 
মাঝে মাঝে ফুটাক দিয়ে বাদ-সাদ দেওয়া । তা হোক, ভারতের স্বদেশীস্তর 
বা বিদ্রোহ-চেষ্টার আয়তানিক রূপ তাতে মুছে যায় নি । মহারাষ্ট্র, বাঙলা, পাঞ্জাব, 
মোটামুটি উত্তর ভারত ও দাঁক্ষণ ভারত, এমন কি ব্রহ্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল । 
দেখলাম, ১৯০৫-১৯১৮ পর্যন্ত সেই সশন্ত্র স্বাধীনত। সংগ্রামের চেষ্টা-নিছক 
দ্'চার শত বাঙালি যুবকের ভাবাঁবলাসের ট্রাজোড নয়। টেরোরিজম বা 
সন্ত্রাসবাদও নয় । স্বদেশে-বদেশে তার জাল ছাঁড়য়ে পড়ে । অবশ্য, সে জাল 
ছিড়ে গিয়েছে । আয়োজনটা শত হলেও প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য ; 
তথাপি অসামান্য তার হীঙ্গত। আমাদের কৈশোরের স্বদেশী" সম্পর্ক 
তুচ্ছ করবার নয়। িপোর্টের নতুনতর আলোকে তা উদ্ভাসত হয়ে ওঠে । 
স্বাধীনতার বুদ্ধ একবার আরপ্ত হলে, শেষ হয় না, পুরুষের পরে পুরুষ ধরে 
তা চলে যতক্ষণ ত। সফল না হয়। আর চলেও তা মাথ৷ খুণ্ড়ে, আর পথ 
হাতাঁড়য়ে। সোজা পথ তার নেই, নান। বাকাচোরা পথে হাতড়াতে হাতড়াতে 
তার চলা । সব চলাই সামনে চল! না, বেকে চলে, কিন্তু স্রোতের গাঁতি আসলে 
মোহনার দিকে । রাউলাট রিপোর্টের সুপারিশ মতে। প্রণীত হ'ল “রাউলাট 
এ্যান্ত” । দমন নীতির নতুন অস্ত্র । এই আইন উপলক্ষ করেই ঘটে গেল 
স্বাধীনত৷ যুদ্ধের পবাস্তর । স্রোত এগিয়ে গেল, কলেজে পা দিতে না দিতে 
আমরাও তার মধ্যে গিয়ে পড়লাম । প্রাতবাদ-সভায় দেশ মুখর । আজকের মতে। 
সভায় লক্ষ মানুষের সমাবেশ তখন হ'ত না, সমাবেশ হ'ত হাজারের সংখ্যায়, 
দু'চার দশ জন বোমারু বালক নয়, হাজার হাজার মানুষ চণ্লল। আইন পার্শংয় 


স্বরাজ সাধন ৮ 


১৯১৯-এর মার্চ মাসে । তখনকার ভারতীয় আইনসভার সব কয়াট ভারতীয় 
সদস্য তার বিরুদ্ধে ভোট 'দয়োছলেন। তারা ভদ্র, শান্ত, পোষমানা প্রাণ 
মানুষ । মিঃ জিন্নাহই ছিলেন তাদের মধ্যে সব থেকে কড়া মেজাজের ক্রিটিক । 
দেশের মনও ক্রমেই চড়। সুরে বাধা হতে লাগল । বিল পাশ হ'ল । চারাঁদকে 
প্রাতবাদের ঝড় উঠল । মনে আছে, কলকাতায় টাউন হলের প্রাতবাদ-সভায় 
জনতার ভীড় হলের ভেতর ছেড়ে ছাঁপয়ে তা বাইরে 'সিঁড় আর পথের 
মাঝে এসে নেমেছে । তখন মাইক অজ্ঞাত । নেতারা একবার হলের 
ভেতরে বন্তৃতা করেন, দ্বিতীয় দফায় বাইরে এসে 'সিাঁড়র উপরে দাঁড়য়ে 
বন্তুত। করেন। সেখানকার সভায় ফজলুল হক, আখুল কাশেম বল্লেন, 
বলেন ইংরেজিতে । বিপিনচন্দ্রও ইংরেজিতে বল্লেন, “আমরা এ আইন 
মেনে নব না। বাধা দেব। দরকার হলে আমরা গুজরাট থেকে স্টার 
গান্ধীকে আনব বাঙলায় |” সঙ্গে সঙ্গে তুমুল হ্ষধবান । চল্পারণ সত্যাগ্রহে 
জয়লাভ করে গ্াঙ্ধীজী তখন দেশের সামনে বরণায় নেতা, প্রাতরোধ- 
সংগ্রামের পথ-প্রদর্শক, সার্থক পাঁরচালক । দেশ তখন প্রাতবাদ ছেড়ে গ্রহণ 
করতে চায় প্রাতরোধের পথ । 


প্রতিবাদ থেতেক প্রতিচক্না 


রাউলাট আইন যোঁদন পাশ হয়-সমস্ত কলকাতায় ঘোষিত হ'ল প্রাতবাদ 
দিবস; ট্রাম বন্ধ, গাঁড় বন্ধ, (বাস তখন হিল না )। ময়দানে মনুমেন্টের 
কাছে জনসভ।--মনে হয় সে-সময় থেকেই আরন্ত । বড জনসভার স্থান তা-_ 
মনুমেন্টের তলাকার খোলা ময়দান। ঘবে সভা করতে হলে টাউন-হলে 
মিটিং হ'ত; মাঝারি মিটিংগুল হ'ত কলেজ স্কোয়ারে, অথবা 'মি্জাপুর 
€শ্রদ্ধানন্দ ) পার্কে । সোঁদনের মনুমেন্টের তলাকার সভায় ধীরেশ চক্রবতাঁর 
সঙ্গে গিয়েছিলাম খালি পায়ে! লোকে লোকারথ্য । মাইক তো৷ তখনও নেই, 
খণ্ড খণ্ড করে একাধিক সভার ব্যবস্থা হয়েছে । ঘুরে ঘুরে নেতারা একটা থেকে 
আরেকটায় বন্তুত। করছেন । তবু খোল৷ মাঠে বিপিনচন্দ্র ছাড়া আর কারে 
গলা বিশেষ শোনা যাবে না । বাপিনচন্দ্রের তো গলা নয়, যেন 'সিংহগ্র্জন, 
অথব৷ সেই পণতন্ত্রের 'বলীবর্দেন নাঁদতম্‌' । একটি বাকা আমারও কানে 
পৌঞ্জেছল-_ আর মনেও রইল গীথা । দূর থেকে শোনা চিত্তরঞ্জনের আবেগ- 
কাম্পত কণ্ঠের বন্তৃতা."“বধাতার চরণে প্রাণের নিবেদন জানাও-».*অস্তুত 
কথা, কেমন যেন একটু কম্পন জেগ্োছিল প্রাণে । সারা দেশে তারপর যা! 


৮৬ রূপনারানের কুলে 


ঘটতে লাগল হইাতহাস তার সাক্ষ্য । কিন্তু শতসহন্রের মতে৷ আমরাও তার 
উপকরণ । গ্রান্ধীজী সত্যাগ্রহ-সভা গঠন করলেন। তার বাজেয়াপ্ত বই 
ইয়ান হোম বুল' (হিন্দ-স্বরাজ ) বাকি করে সত্যাগ্রহ শুরু হয় । আগ্রহে 
আবেগে প্রাতাদন সকাল বেলার কাগজ খুঁল। এঁদকে (১৯১৯) ঈস্টারের 
ছুটি, বাঁড় যাঁচ্ছ-কাগজে দোখ পাঞ্জাব ফু'সে উঠছে । যুদ্ধ-অত্যাচারত 'ছিন্দু- 
মুসলমান জনসাধারণের মনে জমা ছিল ক্ষোভ ও রোষ। দিল্লীতে গাল 
চলল-_দিল্লীর জুমা মসাঁজদের বোঁদতে মুসলমানের দাড় কাঁরয়ে দিলেন 
স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে_স্বামীজীর অভিভাষণ শুনবেন । অভূতপৃব । তিনশ বছরেও 
এমন কাণ্ড ঘটে 'ন_ জুমা মসাঁজদের বোদর তলায় দাঁড়য়ে উপদেশ দেবে 
অমুসলমান ! 'হন্দ্-মুসলমানের অমন একাত্মতা ব্রিটিশরাজের স্বপ্নের 
অগোচর | এাঁদকে লাহোরে দু'জন ইংরেজ জনতার হাতে নিহত হয়েছে । আর 
একজ্রন মিশনার মাহলাও কিছুটা অপমানিত হন। অন্যায়_-কিন্তু এতবড় 
দেশে, এমন বিক্ষুব্ধ কালে, তা সত্যই অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু চেমস্‌ফোর্ড 
জালিয়ানওয়ালাবাগের পরেও তা ভুলতে পারেন কি? ব্রিটিশ রাজত্বের এমন 
অপমান! গান্ধীজী দিল্লীতে গিয়ে হিংসা বন্ধ করতে চান। তাকে পাঞ্জাবে 
প্রবেশে বাধা দিলে ও'ডায়ারের সরকার । নোয়াখাঁলতে বসে স্টেটসম্যান-এ 
পড়লাম --মার্শাল ল' ডিক্রেয়ারড্‌ ইন পাঞ্জাব |” উত্তেজনায় হাতের চাপে ডান্তার- 
খানার বড় শো-কেসের কাচ ভেঙ্গে গেল-অত বড় আস্ত কাচ ওখানে দুশ্াপ্য, 
1কছুক্ষণের মতো তা ভেবে হতবুদ্ধি হলাম । কিন্তু, ভূলে যেতেও বেশ দেরী 
হ'ল না। কী ঘটছে লাহোরে, কী ঘটল গুজরানওয়ালায়_বমান থেকে 'নরম্ত্ 
মানুষের উপর মেশিনগানের গুলি চালানোতে; আর সত্যই কি রন্তান্ত নৃশংসতার 
তাওব চলল জালরানওয়ালাবাগে-তখনে। এসব ঠিক জানবার-বুঝবার উপায় ছিল 
না। কিন্তু আমর৷ দেহমনে আলোচনায় উৎকণ্ঠিত, উদ্বিগ্ন, উত্তোজত । এ্যাওুুজ 
সাহেব পাঞ্জাব থেকে ফিরে এলেন, রবীন্দ্রনাথের প্রাতিবাদপন্র বের হ'ল- 
নাইটহুড ত্যাগ্গ করে তান দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভাগ্যের সমভাগী হবেন । 
তার নোবেল প্রাইজ লাভ ভারতবর্ধকে জগৎসভায় স্বীকাতি দিয়োছল, তার নাইট- 
হুড় ত্যাগে ভারতবর্ষের মাথা, “লাহোরের ক্লালং” অর্ডারের সমস্ত গ্রানি ছাড়িয়ে 
উপরে উঠতে পারল । স্যার শঙ্করন নায়ার বড়লাট চেমসৃফোর্ডের একাঁসি- 
[িউাঁটভ্‌ কাউনাঁপলর, মডারেট মানুষ ; কাউনাঁসলরের পদে তৎক্ষণাৎ 
ইন্তফ। দিয়ে দেশে চলে গেলেন তানও । কম কথা নয়। তখনৌ-সমস্ত 
কথ! বের হয় নি, একেবারে গোপন করাও যায় নি। পরে হান্টার কমিশন ও 
কংগ্রেসের অনুসন্ধানী কমিটির পাঞ্জাব রিপোর্ট বেরুলে, তা হীতহাসে স্থায়ী হয়ে 


স্বরাজ সাধন ৮৭ 


রইল। পাত মালব্যের সৌঁদনের ইম্পারয়াল লৌজসলোটিভ কাউনাঁসলে 
বন্তৃতাও ভূলবার মতো নয়-_সাত ঘণ্টা এক নাগারে চলে বন্তুতা-মান্র এক গ্রাস 
জল পান করলেন মালব্যজী একবার ৷ এসব তথ্য পড়েও ক্ষুব্ধ হতে হয়। এ- 
সবের মধ্যে কি মূল্য থাকতে পারে মণ্টেগুর সাধের 'ডায়াকির' উচ্ছিষ্ট ক্ষুদকণার ? 
অমৃতসর কংগ্রেসে গান্ধীজীর নিবন্ধাতিশয্যেই তবু ডায়াকিও গ্রহণীয় বলে স্ফির 
কর৷ হ'ল । 'টিলক 'চন্তরঞ্জন উপায় দেখলেন না । আমরা ভাঁব- গ্ান্কীজী কেমন 
মানুষ ১ ওঁদকে ডায়ার-ও' ডায়ারকে কিছুমার তিরস্কৃত করতে রাজী নয় ব্রিটিশ 
হাউস অব লর্ডস । অবশ্য চাকুরী থেকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়োছিল, 
সেখানে বসে বসে ভারতবর্ষের দরিদ্র মানুষের রন্তক্ষয়ের জন্য ভারতীয়দের 
টাকায় তারা পেন্সন পেত । ও" ডায়ার আবার শঙ্করন নায়ারের বিরুদ্ধে 
বিলেতে মানহানি ক্ষাতপূ্রণের মামলা আনে, তাতে জয়ী হয় স্বভাবতই 
ও ডায়ার | টিলক ও ভ্যালেপ্টাইন চিরলের মামলায় যা ঘটোছিল, এ গামলাতেও 
তাই ঘটে । খাশ ব্রিটিশ জজ ১২ জন 'ব্রাটশ জুরীর সঙ্গে বসে শঙ্করন 
নায়াকে দোষী বললে । ১২ জন জুরীর মধ্যে মাত্র একজন শঙ্করন নায়ারকে 
নিরপরাধ বলেন-শোনা বায়, [তানি অধ্যাপক হ্যারল্ড ল্যাক্কি। জজ 
ম্যাকীরাঁড অবশ্য বাকী ১১ জনের ওপরও টেক্কা 'দয়োছিলেন উৎকট রায়ে ও 
মন্তব্যে । এই 'ব্রীটিশ জাস্টিস, রুল অব ল! অবশ্য এমন বিচার যা, তার 
উপযুস্ত উত্তর ডায়ার পায়, তবে তা বছর বিশ পরে (১৯১৪০ 2) তখন 
লগ্নে পাঞ্জাবের যুবক শিখ উধম সিং তাকে গুলি করে হত্যা করে । উধম 
সিংএর প্রতিশোধ-সঙ্কম্প সতাই আশ্চর্য । তবৃ ভাবি--একট৷ মানুষকে মেরে 
[ক হবে 2 গ্রাতশোধ তো প্রাতরোধ নয় । 


'ডায়াকির' এক ইয়াকি- প্রাদেশিক শাসনে ভারতীয়দের জন্য উচচ্ছিষ্টের 
এংটো-কাটার নিমন্ত্রণ । আরেক ইয়াকি-ডায়ার-ও, ডায়ার, রাউলাট ঞ্যান্ এবং 
জালিয়ানওয়ালাবাগ । গ্রান্ধীজী তা এবার বুঝলেন--“ডায়াকি' নয়, ও) দু'ইয়াকি । 
তবে তার চোখে পাঞ্জাবের “ডায়ারী” রাজ্যের মতোই গুরুতর হ'ল খেলাফং-এর 
খবাঁকরণ । গ্রাঙ্ধীজীর এ আরেকটা দুবোধ্য ব্যাপার । সত্য কথা, তখন 
মুসলমানদের কাছে খেলাফতের দুর্যোগ ভারতের পরাধীনতার থেকেও গুরুতর 
দুর্যোগ । কিন্তু গান্ধীজী কি করে তা মনে করলেন 2 তুর্ক-সাম্রাজের স্বরূপ 
আমরা স্পষ্$ বুঝতাম না । মিশর, আরব, সিরিয়া, ইরাক এসব তে৷ তুর্কদের 
দেশ নয়, আরবদের স্বদেশ । তারা তে৷ পরাধীন, এ সত্যটা ১৯১৮-তে আমর 
বুঝব কি করে 2 দেখতাম, ভারতের মুসলমানর৷ পর্যন্ত রুমের তুর্ক সুলতানের 
প্রতি ভন্তিতে প্রায় অন্ধ । তা হলে, মিশরের আরবের লোকেরা যখন মুসলমান 


৮৮ রূপনারানের কূলে 


তখন খাঁলফার রাজত্বই তে তাদের স্বরাজ্য । কিন্তু দেখলাম তারাও চায় স্বরাজ 
_খাঁলফার তুর্করাজ নয় । 'িশচয় এ কথাটা গন্গীজীও বুঝতেন । ধর্মের প্রশ্নকে 
তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে দিলেন কেন? হুদ্ধান্তে ইংরেজ-ফরাসীর৷ 
মলে ওসব দেশ ভাগ-বাটোয়ারা করে কর্তা হয়ে বসল। আরবদের 
ও সকলের নিকট তা অসহনীয়, আমার্দের কাছেও আপাঁত্তকর-ইউরোপের 
সাম্রাজাবাদীরা পাশ্চম “এশিয়ার দেশগুলিকে অধীনতার শিকলে বেঁধে ফেলল । 
তাই ভারতবর্ষ থেকে যেমন আমর! ব্রিটিশের অপসারণ চাই, আরব দেশগুলি 
থেকেও ত৷ চাই,_এ সকল জাতির স্বাধীনতা আমাদের কাম্য । কিন্তু খালফার 
নাম করে খাঁলফার সাম্রাজ্যকে বহাল করার চেষ্টা করা তো ডবল অন্যায় 
_এক, আরব স্বাদেশিকতারও বিবুদ্ধারচণ ; দুই, ভারতীয় মুসলমানদের 
মধ্যযুগীয় ধর্মগত ঝোঁককে রাজনীতিতে চাপিয়ে দেওয়া । মেনে 'নিই, গান্ধীজী 
হিন্দু-মুসলমানের প্রয়োজনে খেলাফৎকে পাঞ্জাবের মতোই তার আন্দোলনের 
সমান লক্ষ্য করেন । তার অসহযোগ প্রস্তাবও মুসলিম শাস্ত্রের তরখে মাওলাত- 
এর নীতিতে তৈরী করা । তখন এসব বিচার দেশের লোক করলে না। 
তার। চায় কিছু করতে । সাকুয় একটা আন্দোলন, শুধু “আপাত্ত', 'প্রাতিবাদ' 
“আবেদন-নবেদন' আর নয়। গ্াান্ধীজী তাই তাদের সামনে ধরলেন-ব্রিটিশ 
সরকারের সঙ্গে অসহযোগ, বিদেশী বস্ত্র বয়কট, আইনসভা বয়কট, আদালত 
ফোজদারী কোর্ট বয়কট, স্কুল-কলেজ বয়কট- যতক্ষণ খিলাফৎ উদ্ধার ন৷ হয়, 
আর পাঞ্জাবের অত্যাচারের প্রাতিবিধান না হয় । তখনো সে আন্দোলনের লক্ষ্য 
স্বরাজ বলে ঘোষিত নয় । গান্ধীজীই তা করতে চান নি। স্কুল-কলেজ বয়কট 
কর৷ প্রস্তাবও আমার মতো৷ আঁধকাংশ বাঙালরই মনে গ্রাহা হ'ত না। 
কলকাতায় আমাদের চোখের সামনেই ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কংগ্রেসে তবু 
গান্ধীজীরই প্রস্তাব গৃহীত হ'ল। আমরা তো অবাক । বুঝতে বাধ্য হলাম 
বুদ্ধিজীবীরা আর নেতার বৃদ্ধি দিয়ে পারাস্থতির থই পাচ্ছেন না । দেশের 
মানুষের মনে এসেছে মুক্তির বৃদ্ধি--সক্রিয় কিছু করা চাই । গ্ান্ধীজীর প্রাতশুতি 
“এক বহরে স্বরাজ' তাদের উদ্দীপ্ত করে তুলল । “এক বছর, মাত্র একটা বছর',_ 
আমরাও ভাবলাম, 'দ্যাখোই না দান ফেলে- হারলেও তো খোয়াবে মা এক 
বছর ।' কী যে ঘটে গেল, তা বুদ্ধ 'দিয়ে বুঝবার তাই উপায় রইল না। 
নাগ্পুরে গান্ধীজীর প্রোগ্রামকে স্বয়ং চিত্তরঞ্জন দাশের গ্রহণ করাই তার 
প্রমাণ । স্বদেশী দাদাদের ডাকে আমার বন্ধুরা নাগপুর কংগ্রেসে 'গিয়োছলেন, 
চিত্তরঞ্জনের নেতৃত্বে গান্ধীজীকে বাধা দিতে হবে । ফিরে এলেন 'চত্তরঞ্জনের 
পছনে গ্াঙ্গীজীর নেতৃত্বকে স্বীকার করে- অন্ততঃ এক বংসর তার দেবেন 


এটি 


স্বরাজ সাধন ৃ ৮৯ 


আহংস অসহযোগের জন্য তনমনধন । আবেগে-উৎসাহে সেই এক বংসর 
চিত্তরঞ্জন দাশ দেশ মাতিয়ে বেড়ালেন। সে এক বংসর কী এক বংসর 
আমাদের যৌবনের, আজ তা বোঝানো অসন্তব । কারণ, এখন তো বুঝি_ 
মুন্তির বুদ্ধিতে মেতে উঠে বুদ্ধিকেও তখন মানতে চাই নি, মুন্তিও তাই সুদূর হয়ে 
রইল । অসহযোগের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা তাই সবাংশেই ছিল 
সত্য। কিন্তু তখন কে তা শোনে? বে-বস্ধুরা তখনকার মতো কলেজ-স্কুল 
ছেড়ে দিলে-তাদের আমরা রীতিমত মনে করোছ “হিরো” । যারা কলেজে 
পড়াছি তারাও গ্াঙ্গীজীর নীতিকে শ্রদ্ধা করতে শিখোছ, অথচ আঁবশ্বাসও 
করোছ । শ্রদ্ধা করোছি এই ভেবে--নীতির 'দক থেকে স্বদেশী সমাজ ও 
গাহ্ধীজীর প্রোগ্রাম তো সেই আত্মশান্তর নীতি জনশান্তরই নীতি । বিশেষ 
করে গান্ধীজীর ব্যর্থতার মধ্যেও কতকটা আপোঁক্ষক সার্থকতা তো স্পষ্ট । 
প্রাতষ্ঠান হিসাবে কংগ্রেসে সে বছরই তার গণতন্ত্র, নিবাচন প্রভাতি শুদ্ধ 
যথার্থ প্রাতাষ্ঠত হয়। কোথায় বড়দিনের সে 'তন 'দনের সভা, আর 
কোথায় জেলায় জেলায় স্থাপত একটা জীবন্ত প্রাতষ্ঠান। এক সক্রিয় 
কর্মনীত (প্রোগ্রাম ), একটা জনভীঁত্তক ( পপুলার ) প্রতিষ্ঠান, আর সাত্য- 
কারের একটা জীবন্ত সংগঠন, গান্ধীজীর আঁবর্ভাবের পরে এক বছরেই জাতীয় 
রাজনীতিতে এল এই বৈগ্লাবক পরিবর্তন । গ্ান্ধীজীও কি এ অর্থে 07001- 
5010119 1109111111)0100 01 [২০৬০11)1191) নন-যতই হোন তান ০০050105 
1115010171611 01 11091-1২9৬০100101) 2 দেশের তাপমান্রাও বেড়ে গেছে 
-আমরা দেখেছি কী প্রচণ্ড সেই ধর্মঘট-প্ববঙ্গে চাদপুরে কুলীদের ওপর 
অত্যাচারের ফলে কংগ্রেসের নেতৃত্বে শ্রমিকের ধম্নঘট । ভারত গভর্নমেন্টের 
উদ্মাটা খেলাফতীদের উপরই প্রবল-আর খেলাফৎ-প্রভাব প্র-বাঙলায় 
কী প্রচও। আমরা কলেজ কার, তবু চোখ কংগ্রেসের দিকে, দেশবদ্ধুর 
বাঁড়তে,_সত্যেন্্র মিত্র তখন সেখানেই থাকেন । সে গৃহ তখন আলোচনায় 
সরগরম । সপ্তাহে সপ্তাহে সত্যেনদার সঙ্গে দেখা করতে যাই, সে 
সুযোগে শুনি দূর থেকে নেতাদের কথাবাততা। কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে, 
সুভাষবাবু, গকরণশঙ্কর রায়, বীরেন শাসমল, আক্লাম খা, শামসুদ্দীন আহম্মদ, 
বড়বাজারের কেউ-অথব৷ শ্যামবাজারের, কালীঘাটের, কিস্বা মফঃস্বলের | তাদের 
উৎসাহের অন্ত নেই, তার জাচ আমাদেরও মনে লাগে । কিন্তু সত্যেনবাবু তাতে 

উদ্দীপনা যোগান না-“পড়। ছাড়লে কি হবে? কাজের সময় অনেক 
পাব সামনে |, করাচীতে আলী ভ্রাতারা ও সারদাপাঁঠের শ্রীশঙ্করাচার্য একসঙ্গে 
রাজদ্রোহে অভিযুন্ত হলেন । কঠোর কারাদণ্ড হ'ল । স্বামীর গ্রেফতারের সঙ্গে 


৯১০ রূপনারানের কূলে 


সঙ্গে পর্দানশীন মিসেস্‌ মহম্মদ আলী বোরখাশূদ্ধ তৎক্ষণাৎ ওয়ালটেয়ারের জন- 
সভায় এসে বন্তৃত৷ করতে দাড়ালেন । বৃদ্ধা মাতা “বাই আম্মা” চললেন প্রচার 
সফরে, শহরে শহরে । খানদানী মুসলমান জেনানার পক্ষে অভাবনীয় এই 
পারবর্তন। ঝড় যেন ফু'সে উঠবে । বছরের প্রায় শেষ, বাকী দু'-এক মাস। 
এক প্রশ্ন সবত্র-কতদূর 2 স্বরাজের রথ কতদূর ১ গভর্নমেপ্ট সারা দেশে বছর 
শেষ না হতেই চালালে দমননীতর রোলার । ও»ডায়ারের এবং ডায়ারের 
পরে সেরূপ ক্ষিপ্ত হওয়ার মতে। দুর্বন্ধ তাদের ছিল না, বরং প্ল্যান-করা ডা্ডা- 
চালনার নীতিতে চলল দমন । বাঙলার স্বেচ্ছাসেবক বাহনী বে-আইনী 
ঘোঁষত হ'ল। রংপুরে অধ্যাপক বীরেন মুখুজ্জে শত শত কর্মী নিয়ে হলেন 
বন্দী। সঙ্গে সঙ্গে বের হ'ল দেশবস্ধুর আঁ্মবার্তা সংগ্রাম-আহ্বান। আন্ত 
হ'ল আইন অমান্য, দলে দলে সত্যাগ্রহ । তান সবাগ্রে পাঠিয়ে দিলেন 
বাসম্তীদেবী, উমিলাদেবী ও সুনীতি দেবীকে সত্যাগ্রহে ৷ তারা গ্রেফতার হতে 
ন৷ হতেই খবর শুনে সমস্ত কলকাতা যেন উত্তেজনায় আবেগে আঁস্ছির হয়ে 
উঠল । রান্র বোশ না হতেই অবশ্য বাসন্তীদেবীদের [তিনজনকে জেল 
থেকে মুন্ত করে পুলিশ বাড়ি পৌছে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে সংগ্রামের তরঙ্গ 
দেশের পথঘাট ছাড়িয়ে অন্তঃপুর ছুয়ে গেছে । '্রাটিশ সরকারই তা করল 
যা এক বছরেও করা অসস্তব হ'ত-_বাঙালি মেয়েদেরও করে তুলল সংগ্রাম-মুখী। 
আঙ্লে এটাই তো বিপ্লবের মুখ্য প্রকীত । এমাঁন অদৃষ্টপৃৰ তার আবির্ভাব, 
একদিনে উত্তরায় এক যুগের পথ । প্রায় তখাঁন দেশবন্ধু ও মুখ্য নেতারা 
বাঙলায় গ্রেফতার হলেন । সার ভারতবর্ষেও তাই ঘটে । একমান্ন গ্রান্ধীজীকে 
তখন সরকার স্পর্শ করলে না-তাকে ধরলে যে তুমুল জনউদ্বেলতার সন্তাবন৷ ৷ 
তার চেয়ে তিনি মুস্ত থাকলে ঝুশীক অনেক কম-[তানিই আন্দোলনের রাশ 
টেনে রাখবেন আঁহংসার লাগামে । ততক্ষণ দেশের সর্বত্র হাজার হাজার 
মানুষকে গ্রেফতার করতে বাধ! নেই । শহরে শহরেও তাই জেল ছাপয়ে গেল 
সত্যাগ্রাহীর আভবানে । নোয়াখাঁলতে ও কলকাতায় আমার বন্ধুরা কেউ কেউ 
সে দলে এগিয়ে গিয়েছে । সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে বিলুপ্ত হয়ে গেল ব্রিটিশ 
আইনের মর্যাদা । এক নিমেষের মধ্যে দেশের মন থেকে মুছে গেল জেলের 
ভয়, রাজদণ্ডের বিভীষকা-১৯০৬-এর সময়ে যা দেশের মন থেকে স্বদেশী 
কর্মীরা মুছে ফেলতে চেয়েছে, কিন্তু মুছে ফেলতে পারে নি। জেলযান্র হয়ে 
যাবে বুঝি স্বরাজের জয়যাত্রা । অবশ্য জেলেও আগেকার কড়াকাঁড় আর সন্ত 
ছিল না জেল ছাপিয়ে যাচ্ছে জেলমুখী সত্যাগ্রহীতে- আর জায়গা নেই। 
নতুন জেল খুলেও কুলোয় না । তাই গ্রেফতার বন্ধ হ'ল । আইন-অমান্য- 


স্বরাজ সাধন ৪১৯১ 


কারীদের ধরে নিয়ে রাত্রির অন্ধকারে দূরে ছেড়ে দিয়েই সরকার আপনার মুখ 
রক্ষা করতে চাইল। অবশ্য বেছে বেছে হাজার কয় লোককে ছ'মাসের 
কারাদণ্ড দিয়ে জেলে আবদ্ধ করে রাখতেও ছাড়ল না। জেল হান্ধ৷ করার 
জন্যই পরে ছ'মাসের স্থানে তা তিন মাস দণ্ডে নেমে যায় । 

এমনিতর ঝড়ের মুখেই আসছিল আমাদের বি. এ. পরীক্ষা এপ্রল ১৯২২)। 
স্বরাজ তার আগে আসাই উচিত ছিল, ১৯২১-এর ৩১-এ ডিসেম্বর । এল 
না, মরাকল ঘটে নি,_-মিরাকলও ঘটাতে হয়, ঘটানো চাই । তবু ১৯২১-এর 
শেষে আহমদাবাদের বৈঠকে কংগ্রেস জানিয়ে দিল, স্বরাজ আসতে দেরী নেই-_ 
দৃঢ়পদে সুশৃঙ্খল স্পর্ধায় এাঁগয়ে চল । আগে চল, আগে চল। মন 
আঁচ্ঘর । মাস তিন পরে পরীক্ষা । একি পরীক্ষার সময় 2 মুখ দেখাব 
£ল্* করে-এমন বৎসরে স্বরাজের থেকে যাঁদ মুখ ফিরিয়ে থাঁক ১ ঠিক করলাম 
__পরীক্ষার দাক্ষণ দাখিল করি, তা হলে আগামী বছর দিতে পারব পরীক্ষা 
১৯২৩-এ । দক্ষিণা দেওয়া থাকলে সে বংসর কলেজে পড়া দরকার হবে না । 
একটা বছর আমার জীবনে-এই ১৯২২-থাক স্বরাজের জন্য উৎসর্গ করা । 

চলে গেলাম নোয়াখালি । সজনী এসে শিয়ালদতে তুলে দিয়ে গেল । 
একেবারে বাবা-মায়ের সামনে দাড়াতে হ'ল । এ বছর পরীক্ষা দেব না । 
ব্রিটিশ সরকারের আইন অমান্য মোটেই দুঃসাধ্য নয়, কিল্তু বাবা-মা'র কথা 
অমান্য করতে অনেক বেশি মনের জোর চাই । ভেবোছলাম, তাড়াতাড়ি জেলে 
পালিয়ে যাব । সম্মুখ সমরের থেকে ঝাঁপ দেব জেলের অন্তরালে । কিস্তু হ'ল 
[বিপরীত । কংগ্রেসের নেতারা শহরে আমাকেই রাখলেন আপিস চালনার 
সহায়ক করে । জেলে যাওয়ার লোক তাদের অনেক আছে, আমাকে ন৷ 
হলেও চলবে, সেই সত্যেনদার কথা । সংগঠন গঠনের লোক বেশি দরকার ৷ 
তার অর্থ-াদনের পর দিন মা-বাবার সামনে মনের বলের পরীক্ষা । আর 
1নজের বাঁড়র সঙ্গে অবাধ্যতার দ্বন্দ । আমাদের অগ্রজতুল্য সুহদ শ্রীসুরেশ 
চক্রবর্তা ও অনুতোষ সেনগুপ্ত স্কুলের চাকরীটা সদ্য বিসর্জন 'দয়েছেন । 
শহরটা যেন উত্তেজনায় কাপছে । এদের সঙ্গ, যক্দেশ্বর দত্তর মতো পুরানো 
বন্ধুদের সঙ্গ, আমার মানাঁসক আশ্রয়কেন্দ্র হ'ল। আম আর কি? ওর। 
অনেক বড় ঝুশক কাধে নিয়েছেন । নিজ নিজ গৃহ-পাঁরবারের ওরাই নির্ভর | 
তাদের অন্নদাতা, তাদের আশ্রয় । আমার মতো একট। বছর স্বরাজের জন্য 
উৎসর্গ করা তে ওদের পক্ষে সন্তব নয়-সে যে অসহায় পাঁরবারকে অনাহারে 
উৎসর্গ করা । আম তো িতৃগুহে খাব-দাব, ঝিমুব, 'নর্কঞাট-_অন্নবন্ত 
গ্যারাপ্টিড, 'স্বরাজ সাধন' করে এক বৎসর পরে গিয়ে পরীক্ষাও দিতে পারব ॥ 


-৯২ রূপনারানের কূলে 


ওঁরা ফি ফিরে পাবেন এক বংসর পরে তাদের পদ ব। জীবিকা? এসব 
কথ ভাবতে গেলে ওদেরও উপায় থাকে না। না ভাবতে হলে মন ও 
মাথ। দুই-ই সবদ। গরম রাখা চাই-স্বরাজ সাধনের স্বপ্নে । নিজেদের বন্ধুদের 
কর্মে ও সহযোগিতায় খু'জতাম একটা নির্ভানার কোটর । আর অন্যাদকে 
নেশাও মিলে সহজে--সভা, বৈঠক, আলোচনা, লোকের সঙ্গে কথা বলা গ্রাম 
থেকে কর্মীরা আসছে ; কংগ্রেসের চিঠি ও নির্দেশ রচনা, তা গ্রামে গ্রামে 
পাঠানে। | 

দেখাছলাম তখনকার নোয়াখালিতে জনতার অদ্ভুত আগ্রহ, উত্তেজনা । 
জেলায় শতকর৷ ৮০ জন মানুষ মুসলমান, খেলাফতের নামে তারা ক্ষিপ্ত । 
হাজারে হাজারে তার জন্য জেলে যেতে চায়। কিন্তু জেলের দুয়ার খোল৷ 
পাওয়৷ যায় না । জেলায় প্রায় শ'আড়াই কংগ্রেস অফিস- এখানে-ওখানে, হাটে- 
বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে, দূরে-নিকটে ৷ প্রত্যেক আপিসের পাশেই আবার একটা 
খেলাফৎ কামাটির আপিস । দুয়েরই কাজ এক, একসঙ্গে চলে, চালায়ও কার্যত 
একই লোক । তবু দুটে। আপস চাই, মুসলমানরা খেলাফতের জন্যই বোঁশ 
উদ্ব্ধ, সেই সূত্রে তারা কংগ্রেসের সভ্য, স্বরাজের সোঁনক । কিন্তু দুটো সংগঠন 
কেন 2 প্রশ্নটা আঁনবার্ষভাবে তুললেন 'হন্দুরা কেউ কেউ । দশ বছর ধরে 
মুসালম লীগ যা চাইছিল খেলাফত কাঁমাঁট বুঝে না-বুঝে তা'ই আবার করতে 
চলেহে । কংগ্রেস জাতীয় সংগঠন হতে পারে, কিন্তু মুসলমানদের চাই নিজস্ব 
বিশেষ সংগঠন । সুরেশ চক্রবর্তী প্রশ্নটা তোলেন । উত্তর নেই, জানি । 
গান্ধীজীরই কি উত্তর ছিল? আমরা ভাব, প্রশ্নটা এসময়ে না তোলাই 
ভালে । উপায় যখন নেই, সান্তনা খুশজ- আপাততঃ এই চলুক। পা 
মালয়ে একসঙ্গে চলতে চলতে এখন একন্র চলুক সংগ্রামের দিকে । তা হলেই 
একাঁদন একত্র থেকে একাত্ম হবে, শেষে এক হয়ে যেতে পারা সম্ভব হবে। 
অন্ততঃ এখন ভিন্ন সংগঠনও পার্থক্য না মানলে একসঙ্গেও চলবে না-হিন্দু- 
মুসলমান । মুখ 'ফাঁরয়ে ভিন্ন পথে চলবে মুসলমান । খেলাফতের নামে 
এক পথেই চলতে শুরু করেছে-সেটাই কংগ্রেসের পথ । এই জোড়াতাঁলর 
পথই ছিল প্রশ্নের উত্তর । আসলে উত্তর থেকে পালিয়ে কাজের মধ্যে আমর। 
প্রশ্নের উত্তর খু'জীছলাম । 

হাতের কাছে তো কাজের অভাব নেই । হাজার হাজার মানুষ কিছু 
করক্ত চায় । শত শত মুসলমান ও হিন্দু ছেলের স্কুল ছেড়েছে । কাজ: 
চায় । জেলে যাওয়ার কাজটা দুর্লভ হচ্ছে--জেলে স্থানাভাব, পুলিশ গ্রেফতার 
করে না। তাতে সংগঠকদের 'বপদ । এত কর্মীকে কাজ ন৷ 'দয়ে বাঁসয়ে 


স্বরাজ পাধণ 


রাখা যায় না । অন্য জেলাকে আমরা কর্মী ও “সোৌনক' দিই না কেন? 
রাজশাহী থেকে লোক চাইলেন বোধহয় সেখানকার কংগ্রেস সেকেটারি (প্রভাস 
লাহড়ী মশাই কি?)। ঠিক হ'ল, আম ও শ্যাম ( অতুল বন্দ্যোপাধ্যায় ) 
যাব জন দশেক ছেলে নিয়ে । রওনা হলাম । কেমন যেন শরীর অসুচ্ছ 
বোধ করাছলাম। ক্রমশঃ ত৷ বাড়ল-আমি ফিরে এলাম পথ থেকে । শ্যাম 
একা! গেল,_সে আমার বন্ধু কালীর সহোদর-বিশ্লুবী দলের বালক ৷ দীর্ঘ 
দন সেবার সে রাজশাহীতে নোয়াখালির আট-দশাটি ছেলেকে 'দয়ে কাজ 
চালায় । তখন কত তার বয়স 2 ১৭।১৮ | কিন্তু দাঁয়ত্ব নেবার মতো মনের 
জোর ও ব্যন্তত্ব তার ছিল । সোঁদকে ভাবনা ছিল না। তবু মনে একটা কীট। 
রইল--শ্যাম তে বালক-_এক৷ অত দূরে গেল। ত৷ ছাড়া, ভাবতাম_আমি 
অন্যত্র কাজে যেতে পারলে অচিরেই সেখানকার জেলে স্থান পাব, মনের অনেক 
দ্বন্দের হাত থেকে নিষ্কাত লাভ হবে। আসলে তা জুটত না- শ্যামেরও 
জোটে 'ন, সেখানেও জেলে বোধ হয় জায়গা নেই । অপাঁরচিত রাজশাহীর 
গ্রামে-গ্রামে স্বরাজের ডাক ছাড়িয়ে সে একটা বৎসর কাটিয়েছে-তেমন করে 
কাঁটয়েছে_যেমন করে কাটিয়েছে সোঁদনের কমার তখন সকল জেলায় । যখন 
ভাঁব-__যে-দেশের লোক মহারানীর নামে চিরাঁদন হিল অনুগত--ইংরেজ রাজ্যের 
শাশ্ত-সুবিচারে মোহগ্রস্ত ; কেমন করে তাদের মন থেকে সে মোহ দূর 
হ'ল? লক্ষ-লক্ষ গ্রামের কোট-কোটি সহজবুদ্ধি নিরক্ষর মানুষের মনে কি 
করে জাল ওই স্বদেশবোধের প্রথম চেতনা-দেশট। তাদের, মহারানীর 
নয়__তিনি তাদের খাওয়া-পরা যোগান নি। আমরা কি মনে রাখি সেই নাম 
না-জানা সহস্র সহস্র শাম ও তার সঙ্গীদের কথা ! গোড়ার কথা মনে 
পড়ে । মনে পড়ে সোঁদনের চেনাঅচেনা কত সতীর্ের মুখঅনেকে 
যারা ফিরে এসেছে প্রথম কমীঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে, আবার অনেকে যারা হারিয়ে 
গয়েছে সেই গ্রামের মধ্যে £7017510905 111০-র সাগরে--শহুরে কর্মী 
থেকে তারা ধের্ষের পরীক্ষা দিতে দিতে 'নাশ্চহ হয়ে গিয়েছে গান্ধীবাদের 
নামে 'নাক্রয়তায় । মনে পড়ে, অচেনা-অজানা শুধু ক্ষিতীশ দ৷ নন, সন্দ্বীপের 
কালীকেশব ঘোষ, নোয়াখাঁলর হারাণ ঘোষচৌধুরী-এমন অনেকের কথা । 
যারা দেশে-গীয়ে রোদ্রে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, আধপেটা "খেয়ে, অথবা 
না-খেয়ে, মাথা গু'জবার ভাই কখনে। পেয়ে কখনো না৷ পেয়ে-ষত নিবোধের 
মতো! হোক, যত উন্মাদের মতে। হোক- ঘুরে বোঁড়য়েছে সেই ১৯২০ থেকে, 
দেশের মানুষের সাড়া না পেয়েও অসাড় হয় নি, নিজেরা দেশের মান্য- 
ক্টিযদের অবজ্ঞায় হার মানে নি। বিদেশী রাজার দও-লাঞ্ছনার থেকেও যে 


৯৪ রূপনারানের কুলে 


স্বদেশের স্বজাতির কাছে উপেক্ষা অনেক বেশি মর্মঘাতী-সেই উপেক্ষার, 
অবজ্ঞার, অভাবের, দুঃখের ভার মাথায় নিয়ে এসব কমাঁদের চলতে হয়েছে । 
1পতার বিরান্ততে, মাতার ব্যথায়, আত্মীয়-বন্ধুদের নৈরাশ্যে, অনেক [তিরস্ধারে 
_রন্তান্ত হয়েছে তাদের বুকের ভেতরের বুক। তখন এক-একবার মনে 
হয়_সত্যই আমর! বাঙালিরা শুধু রোমাণ্টিক, আবেগসবস্ব মানুষ তো নই। 
আবেগকে দৈনান্দিন কাজের কিন চক্লে বেঁধে আমরা স্বাধীনতার স্বপ্নকে রূপ 
দিতেও পারতাম । দুভিক্ষ-বন্যায় নানা সেবা-প্রাতষ্ঠানের মধ্য দিয়ে__সেই 
১৯০৭-এর অর্ধোদয় যোগের দিন থেকে ১৯৪৩-এর মন্বস্তরের গ্রানির মধ্যেও 
এ পরীক্ষাও তো আমরা কম দিই নি। ভারতের অন্য জাঁতিদের থেকে বেশিই 
দয়েছি। দেশকে তো আমরা সেবার মধ্যে দিয়ে আপনার করতে কম চেষ্টা 
কার নি- যেমনটি চেয়েছিলেন বিবেকানন্দ, চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ । তবু কেন 
এ দশা হ'ল- দেশের মানুষকে এক করতে পারলাম না-বাঙালই গেল দু'ভাগ 
হয়ে । হইাতিহাসের কাছে আন্তারকতা বুঝি যথেষ্ট নয় । 

কিন্তু যাক এ ভাবন।,__অগ্রাসাঙ্গক । বি.এ. পরীক্ষা দেব না ঠিক করে 
এসোৌছি। অদূর সংগ্রামের আশায় নোয়াখালি জেলা উত্তাল । আইনভঙ্গের 
ডাকে সাড়। দিতে অনেক অগ্চলেরই আগ্রহ । কিন্তু চরকা৷ কাটার পরীক্ষায় 
ক'জন উতারয়েছে, ত৷ দেখাতে হবে । জেলা-কংগ্রেসের কর্মীরা সে-সব শাখা- 
কংগ্রেস পর্যবেক্ষণ করেছেন । অণুল ঘুরে দেখেছেন, সাধারণ মানুষের আগ্রহও 
লক্ষ করেছেন । অন্ততঃ দশ-পনরাট অণ্ুলে ব্রাটশের শাসন নেই, আছে স্বরাজ 
শাসন । কিন্তু চরকা-খাঁদর পরীক্ষায় তার৷ পাশ করেছো ক? কেউ নয়। 
দু-একটি স্থানে চরকা-তাত বরাবর কতকটা সচল ; যেমন, ফেরার বিলোনয়া, 
ফুলগাজী, পরশুরাম থানায় ; পাহাড়ীতুলায় সেখানকার দাঁরদ্র-সাধারণ বরাবর 
চরক কাটে ; তাতও কিছু কিছু বোনে । কিন্তু ঠিক তাদের মধোই রাজনোতিক 
উদ্দীপনা স্বপ্প, উৎসাহ সামান্য । তা হলে দেখা যাচ্ছে, চরকাতেই বে 
স্বরাজের প্রেরণা জাগে, তা মোটেই ঠিক নয় । আমর৷ তবু বুঝোছলাম--দ্ু'-একটা 
বাছাই করা অণুলে যাঁদ সত্যাগ্রহ চালিয়ে দই, ত৷ হলে কয়েক মাসের মতো 
ইংরেজ রাজত্বের চিহ্ন মুছে ফেল। যাবে । তারপর অবশ্য পুলিশ ও বন্দুক আসবে । 
সেই দাপটে সাধারণ মানুষও কিছু না হোক বের করবে দা, কুড়োল, টেঁটা, কোচ 
_ বাধা মানবে না । আমরা অবশ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের নিদিষ্ট পথেই লোকদের 
আঁহংস সংগ্রামে প্রস্তুত করব ; আহংস রাখতেও চাইব । কিন্তু সরকারই তাদের 
আঁহংস থাকতে দেবে না । তখন যা স্বাভাবক ত৷ আনবার্ধ হয়ে পড়বে । 
সংঘাত, বেশি অন্ত্রের সঙ্গে সংঘাতে আহংসার পক্ষে সংখ্যায় বোশরা । 


স্বরাজ সাধন ৪১৫ 


শাখা-কংগ্রেসের প্রাতিনাধদের সম্মেলন ডাকা হ'ল শহরে । কী অবচ্থা 
কোন্‌ অগ্ুলে । সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দু্দন ধরে রিপোটিং, তার 
আলোচনা । তারপরেও কিছু যে সিদ্ধান্ত করা যায় তা নয়, কিন্তু শুনি অনেক, 
জাঁনও কিছু । আভজ্তা বাড়ে । বিরাট সন্তাবনার জন্য আয়োজন হচ্ছে ি ? 
আবেগ,_কতটা তা গভীর 2? কতটা তার সীমা? কতটা আছে ধের্ষের 
সীম৷ ?_ জেল বড় ক্ষাত নয়। বরং ঘর-দুয়ার বাজেয়াপ্ত হলে, গ্রাসাচ্ছাদনের 
উপাদান হারালে মানুষ কি ত৷ সইতে পারবে ? গ্রামের প্রাতিনিধিদের কথা 
শুনি-_নানা মানুষ, বিচিত্র তাদের দৃষ্টিভাঙ্গ, কথার ভাঙ্গ, জীবনের চেতনা । 
আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সেসব দেখে মজাও পাই । নতুন এক আভিজ্ঞতা । 
একেবারে নিঃস্ব এরা নয়-দরিদ্রু মধ্যবিত্ত, জাঁমজমা এদের সকলেরই এক- 
আধটুকু আছে । লেখাপড়াও অবশ্য অনেকে জানে । সামান্য বাঙলার সঙ্গে 
কারও সংগ্রহ সামান্তর ইংরোজ। স্কুলকলেজ ছাড়া দুই-একজনার আছে 
ইংরেজি শিক্ষার উপ্রে গান্ধীজীর শিক্ষার দেশী পালিশ । ইয়ং হওয়া থেকে 
তাবা শক ডীদ্ধীত করবেন- প্রত্যেকাঁট তর্কে । তার৷ প্রায়ই 'হন্দু-_অবস্থাবান । 
এবং আদর্শবানও | তালুকদার, জমিদারি আছে, টাকাকাঁড়রও ভাবনা নেই । 
ভারতীয় সভ্যতার অব্যর্-আঁধকার তাদের । সে আদর্শ গবে সচেতনতায় 
স্পষ্টভাষী, অথচ কটুভাষী নন ; বরং সহাস্য এবং সচেষ্ট বনয়ী। হবেন 
না কেন? গান্ধীজীর নীতি তারাই বেশি বুঝবার অধিকারী, বোঝেন, 
মানেন। সাধারণের অবশ্য এই আঁধকার নেই । আর সাধারণ মুসলমান তো 
আঁহংসা-তত্ব শুনলে হা! করে থাকে । “আহংসা"_সে আবার কেমন ১ কেমন, 
সাধারণ [হন্দু অবশ্য কিছুটা বোঝে । কিন্তু তাও সন্দেহজনক ।__ আঁহংসা কি 
সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা ও পালন কর! সম্ভব ? হ্যা, ধর্মের ভ্রয়, অধর্মের 
ক্ষয়-তা ঠিক । এতো ধর্মযুদ্ধই-_গান্ধীজী তো সেরূপ অবতার । 'শাক্ষত 
ভন্তরা বোঝান- হ্যা, 'যদা যদাহ ধর্মস্য গ্লানর্ভবাঁত, ভারত", আসেন ভগবান । 
আমাদের মতোই মানুষ তিনিও দেখতে । কিন্তু আমাদের মতে মানুষ নন 
আসল শান্ততে । তাই সেই অবতার-মান্ুষকে কেউ চিনে, আবার কেউ 
চিনেও চিনে না। স্বরাজ তো৷ একট কথা নয়, ত৷ ধর্মের পুনঃন্থাপন । এসব 
ব্যাখ্যায় আপাত্ত করে না কেউ, নেতারা না, শ্রোতারাও না, 'হন্দুরাও না, 
মুসলমানরাও না । তবে প্রত্যেকে বোঝে নিজের নিজের মতো করে । একদিকে 
হন্দ্র 'রামরাজ্য” ; খেলাফতের 'সুসাঁলম জাহান্‌' অন্যদিকে ; তব্‌ একই সাধন। 
_াড়ের বোঝ। দূর করা । তারা বোঝে এবার অন্ন জুটবে, বাড়-জামও : 
দেনার বোঝা, খাজনার বোঝা, এমনি যত বোঝা থেকে মুন্ত মিলবে । 


৯৬ রূপনারানের কুলে 


শাক্ষতরা অবশ্য এত স্থল চক্ষে স্বরাজ-সাধন! দেখেন না । তারা অনেক 
বোৌশ জানেন--ইয়ং হীওয়।' পড়েন । বুঁদ্ধমান মানুষ মনোরঞ্জন চোধুরী__ 
গান্ধীজীর ভন্ত। মনোরঞ্জনবাব্‌ শান্ত মধুর হাস্যে মনে করিয়ে দিতেন, কংগ্রেস 
সুঁশাক্ষিত পাঁরবার, সকলে প্রস্তাবে কোথাও খাজন৷ বন্ধ, খণে সুদের বন্ধের কথ৷ 
নেই। নোট্যাকস তো নাই-ই। জাম, খাজনা, সুদ এসব থাকবে না কেন 2 
_জমির খাজনা, দেনার সুদ এসব তো জমিদার-মহাজনের ন্যায্য পাওনা । 
তা ন৷ দেওয়াই অধর্স, পরদ্রব্য অপহরণ, গ্ান্ধীজী বলেহেন,_মালকরা হচ্ছেন 
ট্রাস্ট-অপোগওদের রক্ষক, পালক, মা-বাপ। স্বরাজ অর্থ দেশের লোকের 
শাসন 1-াবদেশীর হাত থেকে দেশের ধনী-গুণী-মানী লোকেরাই দেশের সকল 
লোককে রক্ষা করবে । 

স্বরাজ কথাটা ভগবানের মতো, প্রত্যেকেই নিজের মতো করে দেখে তার 
রূপ। অত অস্পষ্$তা চান ন বাঁপনচন্দ্র পাল ও অনেকেই । সংজ্ঞা না 
[দিলেই স্বরাজ স্বীকৃত, সংজ্ঞায় গেলেই সাংঘাতিক বিপদ, কেউ কেউ বুঝতে 
চান আধ্যাত্মক অস্পষ্টতা ছাঁড়য়ে কথাটাকে রাজনৈতিক সু'নাদিষ্টতায় আন৷ 
চাই। এদের কাছে রাজনীতি ধর্মনীতি নয়। সেকুলারজম্‌ কংগ্রেসেরও 
বরাবরকার দৃষ্টিভাঙ্গ, তা 9০০19. প্রাতষ্ঠান। গান্ধীজী কিন্তু কংগ্রেস জয় 
করলেন ধরন্মের আসন পাতবার জন্য। ধর্মের টানাপোড়েন না দিলে এদেশে 
কিছু চলে না । খেলাফতের মুসালম জাহানী আবেগ আর 'হন্দু-সমাজের রাম- 
রাজ্যের আদর্শ গান্ধীজী জুড়তে চাইছিলেন একসাথে । শুধু আহংস। নয়, কথায়- 
আচরণে, কৌপীন-শখামও অর্থোডোকৃস্‌ হিন্দু এতহ্য তানি জাঁকিয়ে তুলে- 
ছিলেন । অস্পষ্টভাবে বৃঝোছিলাম_বিষম হবে তার ফল । স্পষ্$ করে ভেবে 
দেখ নি, কিন্তু অন্তরে-অন্তরে অনুভব করছিলাম, অন্ততঃ নোয়াখালির 
মুসলমানদের ধম্মাশয়ী রাজনীতিক চেতনা এপথে চললে যা ঘটবে- তাতে 
জিন্নাহর টু নেশনই পুষ্ট হয়ে উঠতে পারে । কিন্তু তা অকম্পিত । সংগ্রামের 
মধ্যে এীগয়ে গেলে তার মধ্য দিয়ে হিন্দু-মুসলমানের অনেক অনেক আবর্জনা - 
সংশয় ধুয়ে মুছে যাবে, এই নিজেকে বোঝাই । 

মনে মনে আশা কারি, দু'একটা অণ্চলে অচিরেই সম্ভব হবে শেষ সংগ্রাম 
সত্যাগ্রহ । হঠাৎ উত্তর প্রদেশের চোৌরচোরায় হিংসার আবর্ভাব হ'ল । এমন 
এক-আপটা ঘটনা ঘটা বিপুল দেশের বিশাল আন্দোলনে মোটেই অসন্তব নয় । 
কন্তু গান্ধীজী চান অসন্তবকেই সন্তব করতে-_কায়মনোবাক্যে সামীগ্রক আহংসা। 
গুজরাতের বর্দোলি সত্যাগ্রহের জন্য যখন প্রস্তুত, তানই সেখানে সত্যাগ্রহের 
প্রস্তীতি বাতিল করলেন । জানালেন, দেশ আঁহংসায় দীক্ষিত হয় নি 


স্বরাজ সাধন ৯১৭ 


স্বাধীনতার পরীক্ষার সমস্ত উদ্দীপনার উপরে জলভার ঢেলে দিয়ে তিনি 
সকলকে বিমূঢ় করে দিলেন । আম অবশ্য মূঢ় নই । এসে বসে গেলাম 
পরীক্ষা দতে । তখনো বি. এ. পরীক্ষার এক মাস সময় আছে । 


আচঢলা-আাপান 

বর্দোলি প্রস্তাবের পরে আন্দোলন হিসাবে নন-কো-অপারেশন অচল হতে 
বাধ্য । হ'লও তাই । গ্রান্ধীজীকে জেলে পুরতে ব্রিটিশ সরকারের আর 
কোনোই "দ্ধ রইল না। গ্রান্শীজী জেনে-না-জেনে তাদের চালকে সফল 
করেছেন। তার পূবেই খেলাফৎ সমস্যার অবশ্য সমাধান হয়েছে ; খেলাফতের 
নামগন্ধও আর কামাল পাশ। পাঁথবীতে রাখলেন না। অথচ 'খেলাফং রক্ষাই' 
ছিল ভারতের মুসলমানদের রাজনীতির লক্ষ্য । এ সমাধানের পরে সহজ 
ভাবেই তাদের স্বরাজ আন্দোলনে উদ্দীপনা কমতে লাগল ; মুসালম পৃথকত্ব 
বোধ বেড়ে চলল । আবুল কালাম আজাদের মত জাতীয়তাবাদীরা ক্রমেই 
গুভাব হাবাতে লাগলেন । নোয়াখাঁলতে থাকলে পাঁরবর্তনটা অনুভব ন৷ 
করে পারা যেত না । আর নোয়াখালি শুধু নয় । পাঞ্জাব থেকে উত্তর ভারতের 
সবন্র এই দুর্লক্ষণ দেখ দিচ্ছিল । আন্দোলনে ভাঁটা পড়লে যা আঁনবার্য 
ত৷ ঘটল- এখানে পেখানে কংগ্রেস রাজনীতির ঘোট ও কাদ৷ ছোড়াছুশড় । 
নন-কো-অপারেশন কার্ষক্ষেত্রে নিশ্প্রাণ, চিত্তরঞ্জম ও মোতিলাল নেহরু প্রভাতি 
বিচক্ষণ নেতারা চাইছিলেন আইনসভায় গিয়ে সংগ্রাম চালাতে ৷ বছর খানেক 
বাদে মহম্মদ আলী শেষ অবাধ 'দল্লী কংগ্রেসে একটা আপোস সূত্র গ্রহণ 
করলেন । কংগ্রেস আইনসভায় যাবে না, কিন্তু কংগ্রেস সদস্যরা যাঁদ চায় 
যাক। এই অনুমোদনটুকু যথেষ্ট হ'ল, নিবাচনে স্বরাজ্য পাটি জেকে উঠল । 
ছ-সাত বৎসর স্বরাজ্য পাট জাতীয় রাজনী'ত্র মুখপান্র, অবশ্য জাতীয় 
রাজনীতি ও জাতীয় মতবাদ ততক্ষণে ঘায়েল সাম্প্রদায়কতাবাদের হাতে | 

আমরা বন্ধুর তখন অনেকে 'দল্লীর বিশেষ কংগ্রেসে গেছলাম ৷ স্বদেশী- 
দাদার। 'চত্তরঞ্নের প্রধান কর্মী । আম কলকাতায় এম. এ. পাঁড় _দাদাদের 
ভান্তহীন সঙ্গী । সেই আমার প্রথম কংগ্রেসের ডেলিগেট হওয়া । মৌলান৷ 
আজাদ ছিলেন সেবার সভাপাঁত । নেতাদের অনেককে দেখলাম । না, ভুল 
হণ, তার আগেই বাঁশষ্টদের অনেককে দেখোছলাম । 

চত্তরঞ্জন দাশের বাঁড়র অঙ্গনে ছিল ভারতীয় কংগ্রেস কাঁমাটির আঁধবেশন । 
বেল; ২টা থেকে রান্র ৮টা-৯টা চার-পাঁচ দিন ধরে সভা । কলেজ পালিয়ে 
প্রীতাঁদন সেখানে জুটতাম ৷ বাঁশষ্ট দর্শকের কার্ড নিয়ে । দেশের জাতীয় 


৭ 


৯৮ রূপনারানের কূলে 


নেতাদের এমন সমাবেশ এত কাছে থেকে আগে দেখি নি। সবাই সদাযমুস্ত 
জেল থেকে । আইনসভায় প্রবেশ উচিত কি অনুচিত এই তখন প্রশ্ন । 
তার জন্যই আঁধবেশন । সকলেই তর্কে মুখর । একমাত্র চিত্তরঞ্জন নীরব 
সভাপাঁতি। তার বিচার তো সুপরিজ্ঞাত। গয়া কংগ্রেসে তা জানিয়ে তান 
অপদস্থ হন। জওহরলাল এ সভায় ছিলেন না । মাতলাল নেহরু পুন্রবধূ 
ও কন্যাদের নিয়ে উপস্থিত-_-তারাও দর্শক এবং দর্শনীয় । অনেক পুরুষও 
তাই। কেউ বন্তৃতায় পিছপা নন। সংশোধনবাদীদের দলে অবশ্য 
বিচক্ষণ নেতারা । তাদের বিরুদ্ধ পক্ষও কম নয়-সে পক্ষের নেতাদের মধ্যে 
ছিলেন রাজেন্দ্র প্রসাদ, বল্লভভাই, মিসেস সরোঁজনী নায়ডু প্রভীত ;- আমাদের 
প্রফুল্ল ঘোষ, শ্যামসুন্দরবাবুরাও । তবে সে বৈঠকে গান্ধী দলের নেতা 
সালেমের প্রান্তন ভকীল চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী । এ উপলক্ষেই তিনি 
অল-হীওয়া লীডার হন। আগেই পড়োছলাম, তার জেলের খাতায় লেখা 
হয়োছিল--'আসামী নিরক্ষর । সেই শান্তভাষী 'বচক্ষণ মানুষ-চশমা-প্রা, 
তীক্ষ নাসা, মাথা কামানো, গান্ধীজীর অনুসরণে কিমান বন্ত্রাবৃত--শীত 
কালে গায়ে চাদর, বিতর্কে সদ সতর্ক । আরেকজনাও ছিলেন সে পক্ষে, 
মুখর-বাগ্‌ব্যঙ্গে পট্টীভ সীতারামাইয়া_বিদূষক-ধর্মী । অন্যপক্ষের যুন্তি অনেক, 
নামী নেতা বোশ। কিন্তু রাজাগোপালাচারীদের যুন্তি একট, আর তা 
অখওনীয় । তার হাতে "ইয়ং ইয়া'র ফাইল । প্রাতি কথায় গান্ধীর লেখা 
তার নাঁজর ।- ছাপার অক্ষরে লেখা গান্বীশান্ত্রবচনের , দাঁড়কমা বদলানোও 
অনার্জনীয় । এ যুক্তির পরে আবার যুন্ত কী? বলা বাহুল্য, দিন চারেকের 
আঁধবেশনেও কোনো সিদ্ধান্ত হয় 1ন_াকন্তু বোঝা গেল কংগ্রেসের নেতৃত্বের 
সঙ্কট । রাজাগ্োপালাচারীই তখন গান্ধীজীর অনুপাচ্ছিতিতে গান্ধীবাদের 
মুখপান্ন । পরে ন্রিপূরী কংগ্রেসে যখন তান সুভাষ-গ্োঠীর বিরুদ্ধে ফুটো নৌকো'র 
বন্তৃতা করাঁহলেন, আর শুনাহলাম তার পুনঃ পুনঃ আবেদন “গান্ধীজী রাজকোটে 
উপবাসী'--তখন বিশ বৎসর আগেকার সেই প্রথম দেখা রাজাগোপালাচারীকে 
মনে পড়ল--তিনি কংগ্রেসের ডিপুটি গান্ধী, গান্ধীজীর বেবাহক, এখনো গেই 
একই মোক্ষম যুন্ত। 'গান্ধীজী ইজ ইন্‌ জেল'_তখন কি আর কাউীন্সিলে 
যাওয়া চলে 2 অবশ্য ন্রিপুরীতে রাজাজী অনেক প্রবীণ, আরও বিচক্ষণ, ১৯২২- 
২৩-এর লয়েন-ক্লথ্‌ ছেড়ে আবার ধরেছেন ধুতি-পাঞ্জাবী-চাদর । তারপর অনেক 
জল বয়ে গেছে নমদার উত্তর-দাক্ষণে গঙ্গায়গোদাবরীতে । কিন্তু রাজাজী 
নজের ডিঙি বাইতে সমান দক্ষ সর্বত্র ৷ দেখলাম--কুইট ইওয়া প্রস্তাবে তি?াই 
হলেন গান্ধী-বিরোধী । এখন (১৯৬৮) অবশ্য কাঁমউীনস্টর৷ রাজাজীর এনাম 


স্বরাজ-পাধন ৪১৪১ 


নস্বর ওয়ান্‌” ; কিন্তু সেদিন কুইট হাওয়া প্রস্তাব পাশ হলে (১৯৪২) তিনি গরজ 
করে কমিউানস্টদের ডেকে পাঠান । “তোমরা বাধা দাও এ পাগলামোতে । 
বরং পাঁওচেরী থেকে অরাবন্দকে নয়ে এস এজন্য” তারপর এল আপোস- 
রফার দন,--১৯১৪৬-৪৭। তখন লীগের সঙ্গে রফায় রাজাজীর দেরী সয় 
না_ বসন্ত যায় চোখের উপর দিয়া । 'বাঙল৷ যদি না থাকে না থাক । আমরা 
দেরী করব না--বাঙলাকে বাদ দিয়েই চাই 'ব্রাটশের হাত থেকে ক্ষমতা লাভ ।' 
অবশ্য আরও পরে (১৯৪৮-৪১) তিনি 'বিভন্ত বাঙলার রাজভবনে গবর্নর হয়ে 
আসেন । সেখান থেকে হলেন নয়াদল্লীতে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রথম রাম্ট্রপাতি। 
পেন্সান-ভোগী সেই রাস্ত্রপাঁতি পোস্ট-১৯০ বংসরেও লেখায় কথায় সবিয় । 
প্রতি সপ্তাহে চলছে কংগ্রেস নেতৃত্বের সমালোচনা । আশ্চর্য তার চিন্তাশান্ত । 
ততোধিক আশ্চর্য স্বচ্ছ ভাষাশৈলী । সবাঁধিক আশ্চর্য তার বুঁদ্ধর তাক্ষতা-_ 
হয়তো তামল প্রাতভার এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন চক্রবর্তা রাজগাপালাচারী । মনে 
মনে আশ্চর্য হয়ে দেখাঁছ সেই প্রথম লয়েন্‌ রুথ-পবা রাজাগ্োপালাচারী যাঁর 
একমাত্র ৭গ হয়ং ইতয়ায়' গাঙ্ধীজীর লেখা, 'গান্ধীজা ইজ ইন্‌ জেল' । মনে 
কাঁর 1৪পুবাঁর 'ফুটে৷ নৌকার' কাহিনীক র সুভাষ-'বরোনী রাজগোপালাচারীকে-_ 
ধার যুন্ত গান্ধীজী 'ইজ- ইন্‌ ফাস্ট' । আরও কত কত নব নব ঞ্ম-আত্মপ্রকাশে 
রাজাজী । দেখতে দেখতে ভারতীয় রাজনীতির ভেতবের একটা দিকের পর্দা 
আমার জামণে থেকে সরে যায় । সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে সেই স্রাজ-সাধনার 
ভেতরকার আলাঁথখত ফাঁক আর ফাঁকিও। কেমন মনে হয় রাজনীতিতে 
গাজী অত ধর্ম ও চিন্তশুদ্ধির নীতি না ঢোকালেই ভালো হ'ত-ওসবের আড়ালে 
আন্ম-প্রবণ্ণনার ও জাতীয় প্রবণ্থনার ছেচ্তই তৈরী হয়েছে । **্মতা লাভের 
সঙ্গে সঙ্গে তাই ১৯৪৭-এর জাতীয় বিগ্রহের খড় বোৌরয়ে গড়তে থাকে । 

থাক্‌ সে কথা । প্রায় পণ্চাশ বৎসর পৃবে আম কিন্তু চিভরঞ্জনের গৃহের 
পশ্চাং প্রাঙ্গণের সেই কংগ্রেস নেতাদের দর্শনে নিরুৎসাহ হই নি ।-যুক্ত-তর্কে 
মাঝে মাঝে ক্লান্ত ও বানরাশ হয়োছ ঠিক। নাম বলা 'নশ্রমোজন-_-কিন্তু সে 
স্বরাজ্য যুগের কংগ্রেসের নেতাদের মুখে সেবার দেখেছি আগ্রহ, আন্তারকতা । 
কারও কারও মুখে সেই সঙ্গে প্রসন্নতা । কারো কারে সবড্কিম কৌতুক 
হাস্যরেখা । কিন্তু আধিকাংশেরই মুখে দেখোছি বৃদ্ধির ওজ্বল্য । মনে হয়েছে, 
স্বরাজ মন্ত্র দেশে বুঁদ্ধর ও বূপের জ্যোতিও যেন জীইয়ে তুলেছে- শান্ত্রবাদীদের 
বাধায়ও ত৷ ক্ষু্ হয় নি। তবে কেউ কর্মপন্থা বুঝছেন না । ক-মাস পরে 
1দল্লন্ কংগ্রেসে অবশ্য দেখলাম-দেশে কতটা এসেছে প্রাণচেতনার আলো আর 
কতটা এসেছে বিরোধের অন্ধকার । কংগ্রেসের মণ্ঠচ থেকে ঘোষণায় বলা 


১০০ রূপনারানের কূলে 


না 


হল-_-কানপুরে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার খবর ভয়ঙ্কর | কানপুরের কর্মীরা শীঘ্র 
কানপুর চলে যান। গণেশ শঙ্কর বিদ্যার নিহত-তাতে সন্দেহ নেই । 
কংগ্রেসের ওপরে পড়েছে ছায়া, দেশজুড়ে তবৃলীল ও শুদ্ধির দ্বন্দ্ব । কোথায় 
'স্বরাজ', কোথায় আর জাতীয় আন্দোলন ? 

ফিরবার পথে আগ্রা স্টেশনে আমাদের এক পাঞ্জাবী ( আর্ধসমাজী 2) 
ভদ্রলোক ধরে বললেন--“তোমর৷ জানে না মূলতানে, শাহারানপুরে কী ঘটেছে । 
_ উত্তেজনায় তার কণ্ঠ রুদ্ধ । আমাদের গাঁড় ফেল হ'ল । তা না হলেও লাভ 
হ'তনা। দিল্লী, আগ্রা, মথুরা, বৃন্দাবন প্রভাতি দেখে দেখে আমরা কলকাতায় 
ফিরি। উত্তর ভারতের কাঁতিমালার সঙ্গে সেই আমার প্রথম চাক্ষুষ পরিচয় । 
তার আগে বিহারে দেখেছি, অনেকখানেই দেখলাম-গোবিন্দজীর প্রাচীন 
মন্দিরের মত ভগ্ন মন্দির । আর ভগ্ন দেবমূতিতে গাথা মসাঁজদের সোপান । 
অনুভব করলাম মধ্যযুগের এই ধর্মীবদ্ধেষের প্রমাণগুঁল আগ্রা স্টেশনে দেখা সেই 
আর্সমাজীর থেকে প্রাতিবাদে কম মুখর নয় । তা ছাড়িয়ে উঠব আমরা কোনু 
মন্ত্রের জোরে ১ ছাঁড়য়ে না উঠতে পারলে কোথায় বা স্বরাজ, কোথায় বা 
ভারতবর্ষ : দেশ ধর্মধ্বজীদের প্রেতভঁম । পরের ক-বহর এই চিন্তা আমাকে 
ছাড়ে নি। : 

শদল্লী কংগ্রেসে আরেকাঁট জানসও দেখোঁছলাম-_সেখানে শরৎচন্দ্র, 
দিলীপ রায় প্রভতিও ছিলেন বাঙাল প্রাতানাধ । অর্থাৎ দলটা গানে-গল্পে 
খাঁটি বাঙালি । তখনকার [হন্দু কলেজে তাদের স্থান হয় । হাস-রঙ্গ-আঙ্ডায়, 
তা স্বচ্ছন্দ । প্রথম দিনে সন্ধ্যা হতে দেখা গেল বিজলী নেই । হৈ-, 
সবাই নিরুপায় । ঘণ্টা দুই পরে দেখলাম মোমবাতি এল-ঘরে ঘরে নিজের 
হাতে আলো জ্বালয়ে তা দিয়ে গেলেন সুভাষচন্দ্র-মুখে তার কথা নেই-- 
অন্ততঃ কেউ হে-চে করতে শোনে 'ন কখনো । নীরবে আলো জ্বেলে যাচ্ছেন 
এক । 'দীপ জ্বেলে যাই'-_দৃশ্যটা মনে রইল । 


স্বরাজের স্রোতাস্বনী অবশ্য এক সময়ে 'মরুপথে হারাল ধারা” । কিন্তু 
আমর যারা এই আবর্জনায় ডুবতে বসেছি, তারা তবুও 'জানি হে জানি তা 
হয় নি হারা । তার মধ্যে ম্রোত না থাকলে এখানে এলাম কি করে? 
তার মধ্যে ফাঁক না থাকলে এত আবর্জনা স্বাধীন ভারতে এল কোথা 
থেকে 2? সকল বড় আয়োজনের মতোই স্বরাজ আন্দোলনের মধো.-ছিল 
নান। বিরোধী ধারার স্থান-আবর্ত। এত বড় কথা তে রাজনীতিতে কেউ 


স্বরাজন্লাধন ১০৯ 


কোনে দিন কম্পনা করতেও সাহস করে নি, যা গ্ান্গীজী স্বরাজ আন্দোলনে 
প্রথম প্রয়োগ করলেন,_-“সত্যাগ্রহ” । অন্ত্রবলে নয়, শুধু মনোবলেই শনুজয় । 
শনুজয় নয় শুধু, মিন্ন লাভ ও শনুর হৃদয় জয় করে শনুকে মিত্র করে তোলা । 
নিশ্চয়ই গান্ধীজীরও পক্ষে এ দুঃসাহস । “বৃদ্ধ, শ্রীস্ট গেলেন তল, গান্ধী 
বলেন, কোথায় জল 2 দুঃসাহস কিন্তু তার নয়, আমাদের তো মনে হয়, 
দুঃসাহসটা কালের । 

ইতিহাসে অনেক মহাত্মা জন্মেছেন ৷ এদেশেই শুধু জন্মেন নি, বিদেশেও 
জন্মেছেন। কিন্তু তাদের কাছে তখনো রাজনীতিতে এমন নিরন্তর প্রাতিরোধের 
কথা ছিল অচীন্তত, এ-কর্মকাণ্ড অক্পিত । সত্য বটে, গান্ধীজীর কালেও 
পৃথিবীতে আরও মহাপ্রাণ মানুষ ছিলেন । সাধু-সম্ত নন, যোগী-সাধক নন, 
মানুষ, তবে মহাপ্রাণ মানুষ । সম্ভবতঃ আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ কম সত্যসম্ধ 
নন; _তাদের এ দুঃসাহস হ'ল না কেন? তারা মূলতঃ কর্মযোগী নন। 
ত্যাগী সেখানেই তাদের নিজ নিজ সাধনা । সেখানে সাফল্যের আনন্দ 
আছে ; এমন ব্যর্থতার দুঃখে লজ্জা নেই। কর্মযোগীর পদে পদে ব্যর্থতার 
সন্তাবনা । করম্মযোগের সাধনায় সাফল্য যেমন সুস্পষ্ট, ফলাফলও তেমাঁন 
প্রতাক্ষ । তাতেই দেখ যায়, এক পয়েণ্ট-এ সফলতা তো, নিরন্বই পয়েপ্ট- 
এ ব্যর্থতা ৷ গ্ৰান্ধীজী ব্যর্থতার দুঃসহ বোঝা ?নয়ে জীবন আহাতি দিয়েছেন । 
নিপ্নলকুমার বসুর সাক্ষ্য দেখুন, প্যারীলালের প্রমাণ-পন্র দেখুন । অথবা তার 
দরকার কি2 কংগ্রেস নেতৃত্বের ১৯৪৭-এর পরবরতাঁ কীতিকলাপ যথেষ্ট । 
একজন জুডাসের স্থলে গান্ধীজীর ভাগ্যে জুটেছে একপাল কংগ্রেপী শিষ্য ৷ 
কর্মযোগীর পক্ষে এহেন দুর্ভাগ্য অগ্বাভাবিক নয় । গ্ানযোগ অত গ্লানিতে 
[গয়ে পৌঁছে না, তবৃও মানবীয় কমের মধ্যেই জ্ঞানেরও চরম গাতি। তাই 
তো, আইনস্টাইন রবীন্দ্রনাথ আমৃত্যু “দুঃখের তপস্যা” জীবনে বহন করেছেন । 
অসহ্য ব্যর্থতার বেদনা মহাজ্ঞানীরও 'নয়াত। এই শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীর দেখেছেন 
গ্াহ্গীজীর ব্যর্থতায় তাদের প্রত্যেকের ব্যর্থতা । সমগ্র মানব সমাজের হয়ে ধারা 
ভেবেছেন, কাজ করেছেন, মানুষকে ভালোবেসেছেন, তাদের এই ব্যর্থতা থেকে 
নিষ্কৃতি নেই । মহৎ ব্যর্থতা, মহান প্রাণের জীবন-টীকা। অথবা শুধু তাও 
নয়। যে-মহান্‌ আদর্শই কর্মে রূপান্তুরত করতে যাওয়া যায়, কার্যক্ষেত্রের 
আবর্তে পাক খেতে খেতে সে আদর্শের বিশুদ্ধতা আর থাকে না । বেকেচুরে সে 
মান্তুষের সমাজে মানুষের মতো হয়েই কতকটা সার্থক। তা দোঁখ শ্রীস্ট ধর্মের 
বেলা, তা দোঁখ বৌদ্ধ ধর্মের বেলা । আর তাই কি দোঁখ না পণ্চাশ বছরেই 
পাঙ্ধীজীর আদর্শের ইতিহাসে, কিন্বা মার্কপ-লেনিনের আদর্শের বিবর্তনে ? 


১০২ রূপনারানের কূলে 


অথচ, এই ব্যর্থতাই কি চরম হিসাব- শ্রীস্টের, বুদ্ধের, গান্ধীজীর ? এমন 
কি, মার্কস-লোননের ? 

ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখি--সভ্যতার অর্থই হ'ল এই বাহুবল থেকে 
মনোবলের জোরে সমস্যা সমাধানের অপাঁরহার্য সাধনা । মানুষের ইতিহাস 
মানুষের এই স্বরাজ সাধনারই ইতিহাস--অবশ্য একটান৷ জয়ের কাহিনীতে নয়, 
বরং পরাজয়ে পরাজয়ে একটু একট করে জয়ের সাক্ষী । ভাবষ্যদ্বাণী করতে গেলে 
গমিষ্যামি উপহাস্যতাম্‌--ঠিকই হবে তা। কিন্তু বিংশ শতকের শোবণহীন 
সমাজের পরীক্ষা নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীতে 90101680101. ০01 7721) 
59 7080 21701021101) 99 1026101]7-কে 'বাতিল ব্যবস্থা” করে তুলবে । না 
হলে সভ্যতাই বাতিল হবে । তাই বলে কি তখন চোর থাকবে না, ফাঁকিবাজ 
থাকবে নাট আর থাকবে না ক্ষমতা-লপ্ল “নউ ক্লাশ', শাসক-চক্র, 
অথবা “এস্টাব্িস্মেন্টে'র যাঁন্তকতা £ মানুষ তখনো মানুষই থাকবে -তার 
সংগঠনে আয়োজনেও অপূর্ণত। থাকবে । কারণ, পূর্ণতার থেকে পূর্ণতায় 
তার তপস্যা ; আর তার অর্থ অপূর্ণতা থেকে অপূর্ণতায়ও তার বারে বারে 
পতন। তবে সমাজ-ব্যবস্থাটা আর একটু যুস্তসঙ্গত হবে । কিন্তু মানুষের 
জীবনের সঙ্গেই যে অযৌন্তক রিপুগুলি আছে, তার শুভেষণার সঙ্গেই জাঁড়ত 
তার দুঝুদ্ধি। আগামীকালের ধুন্তসঙ্গত ব্যবস্থার মধ্যেও দুর্বৃদ্ধি এখানে সেখানে 
ফাক বের করবে । ফাকি দেবে তখনো তার শুভবুদ্ধিকে ৷ কিন্তু তখন ফাকিটা 
হবে ব্যাতিক্লম.এখন' কিন্ত ফাঁকিটা সমাজ-সম্মত নিয়ম । ইতিহাসে শুভবুদ্ধির 
পরাজয় বার বার হবে. সব পরাজয়ই তবু সাময়িক । মানুষ 19565 17০ 0৫11195 
10 ড/110] (1)৩ ৬/০, কিন্তু, %/105 170 002০০ [99717819011 1 যাক গে, 
সেই সুদূর ভাবনা । 

এ ক্ষেত্রে আরও একটা কথ। স্বীকার্ষ । ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলনে 
'আহংসা'র জয় হয়েছে, এত সরলীকৃত সত্যকে আম আরও মানি না । এমন 
কি, ভারতের জয় হয়েছে, একথা গান্গীজী মনে করতেন না । ১৯৪৭-এর 
১৫ই আগস্ট তিনি অবসন্ন চিত্তে নীরবে জানিয়ে গিয়েছেন, এ 'জয়' তান 
চান নি। তখন ভারতবাসীর ক্ষমতালাভ হয়েছে-সে যে শ্রেণীর ভারতবাসীরই 
হোক। কিন্তু আহংসাশহংসা অনেক মিলেই তা হয়েছে । যেটুকু জয়' তা 
নিরন্তর প্রাতরোধের, স্বদেশী বিপ্লব ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী চেষ্টায় হয়েছে ধরা 
যাক। তথাঁপ মহাযুদ্ধের শেষে নৌ-সোনিকদের ও ভারতীয় সৈন্য বাহন্টুর 
বিদ্রোহ, বিশেষতঃ তৎকালীন আন্তর্জাতিক-পাঁরস্ছিতি এবং ব্রিটেনের হতবল 
অবসন্নতা এসবকেও মৃথ্য কারণ না বলূলে চলে না। 


স্বরাজ-সাধন ১০৩ 


[াবশেষ করে, 'আঁহংসার' জয় হয়েছে বল নিশ্চয়ই আত্মপ্রতারণা। 
আঁহংসা সত্য-সত্য আমাদের হৃদয় স্পর্শ করলে আমরা "হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় 
এমন দানবের মত বারে বারে মাত দি করে? তা সত্বেও, আমার বিশ্বাস 
গান্ধীজী আহংসার স্বপক্ষে এক পয়েন্ট সাফল্য অর্জন করেছেন_-স্বদেশে নয়, 
মানুষের সভ্যতার ধারায় । ভারতের স্বরাজ-সাধনায় যতটা পরাস্ত হয়েছেন 
তা হয়েছেন মুখাতঃ তার শিঘাদের হাতে । মানব-সভাতার জন্য এক পয়েন্ট 
[তান অর্জন করেছেন-তা সত্তেও-নিজের শাল্ততে। হয়তো গান্ধীজীর 
পূ্ে, মার্কস লাভ করে থাকবেন ১ পয়েন্ট, লেনিন-১ এক নতুন গয়েপট, 
লীগ্গ অব নেসন্স্‌ করেছে শূন্য । অবশ্য পাশের মার্ক পেতে হলে মানুষের 
চাই, অন্ততঃ মোট আরও ৩০1৪০ পয়েপ্ট লাভ । আঁহংসা বা চরকায় ত৷ 
হয় নি। 

'এক পয়েপ্ট লাভ'_এটা আমার ব্যান্তগত বিশ্বাস। কথা শুনে কেউ 
[*শ হবেন না, গান্ধীজীর িষ্যরাও না, মার্কস্বাদী লৌননবাদী বন্ধুরাও না, 
আর মাওবাদীর। আরও না। বন্দুকের নল থেকে ক্ষমত। বেরোয় _একথ। 
[কি আম জান না 2 নিশ্চয়ই মান, এজন্যই তে। বন্দুকের সামনে দাড়াই না। 
সংশয় নেই, বন্দু,কর ক্ষমতা দুঃসহ । তা হচ্ছে অশেষে শেষ করবার ক্ষমতা । 
কথাটা বিচ্ছিন্ন একটা সূন্ন নয়, তার গূল অন্যন্র £ মানুষের যে হাত ভাঙতে 
চায় বন্দুক তার চরম শরণ। কিন্তু মানুষের যে-হাত গড়তে চায় তার পরম 
হাঁতয়ার- কাস্তে হাতুড়ি, অর্থাং পারশ্রম : এবং ল্যাবরেটারর টেস্টাটউব ও 
ডান্তারের স্কালপেল-_অর্থাং বিজ্ঞান,_যে জানিসে গান্ধীজীরা বশ্বাস ছিল না। 
এই কারণেই ব্যান্তগত ভাবে আমার মন গান্ধীনীও৩তে বশ মানতে চায় নি, 
আইনস্টাইন রবীন্দ্রনাথের দিকে বরং তাকাতে হয়েছে । তবু সেই স্বরাজ 
আন্দোলনের দিনে আমিও ছিলাম গান্ধীজীর অনুরত্ব । কার্যতঃ তার অনুগামী 
নই, ধিন্তু তর্কে আলোচনায় তার আন্দোলনের অনুরাগী ৷ কারণ নরন্ত্র দেশের 
পক্ষে নরন্ত্র সংগ্রামই সন্তব। সংখ্যার আধকয ও নিরুপদ্বব দৃড় সঙ্কষ্প, এ 
দুই একত্র হলে শীল্তু কম হয় না। আসল বথাটা 'স্থিরতা ও চিন্তশদ্ধ নয়। 
আসল কথাটা জনশান্ত, কতটা তার অস্ত্র চাই. কতট৷ অস্ত্র ছাড়াও কাজ চলে 
_ তা নির্ভর করে বিশেষ পারাশ্থাতর ওপরে । এই জনশীন্ততে গান্ধীজীর 
ছল ভয় 


চতুর্থ পারচ্ছেদ 
সবুজের অভিযান 
ছাড়পত্র 


"ওরে নবীন, ওরে আমার কাচা 
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, 
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাচা 1, 

এ একটা আশ্চর্য ঘটনা- প্রমথ চৌধুরীর 'সবুজপ্রে'র এই ডাক একাঁদকে 
াঁড়ষ্যার কটক, অন্যাদকে পৃব প্রান্তের নোয়াখালিতে । গিয়ে পৌঁছোছল- 
আর কোনো বাঙলা পত্রের কি এবুপ কিছু সাধ্য হয়েছে 2 সে নোয়াখালি 
নেই, কিন্তু ওই ব্যাপারটা বাঁঙাঁল-জীবনে স্মরণীয় । 

সবুজ মলাটে কালো৷ রঙের তালপাতার ছাপ নিয়ে “সবুজপন্র' বাঙালিকে 
এই ডাক 'দয়েছিল ১৩২১-এর বেশাখে ( এীপ্রল, ১৯১৪ )। আমার 
বয়স তখন বারোও নয় । কিশোর, তরুণও নই । অবশ্য, ১৩২১ সালেও 
'সবৃজপন্র' ছিল নোয়াখালি শহরে দুনিরীক্ষ্য । তার প্রকাশ আনয়ামত, 
ততোধিক দুর্লভ তার দর্শন । তথাপি সেই প্রথম আবিভভাবও আমার কাছে 
গোপন ছিল না, তার পাতায় যৌবনের এই আমন্ত্রণও অলক্ষিত থাকে নি। 
প্রবাসী'র “কষ্টিপাথরে' প্রথম থেকেই তার উজ্বল দাগ পড়েছিল । মাসে 
মাসে ঝলকে উঠ্ত স্থির বিদ্যুল্লেখা । আর প্রবাসী” শুধু আমাদের বাঁড়তে 
গৃহদীপ নয়, আমার কৈশোরের প্রজ্ঞাপারমিতা । তবে সবুজের অভিযান 
প্রথমটা ওরূপ নেপথ্য দৃষ্টিতেই তখন দেখা । পরে অবশ্য প্রথম দিককার 
'সবৃজপন্র'ও কনে নিয়োছিলাম- বয়সটা তখন সতের-আঠার । তখনকার 
[তিন নম্বর হোস্টংস স্প্রীটের ক্যালকাটা উইকৃলি নোট্‌স-এর ছাপাখানা হিল তার 
ছাপাখানা-_অবিক্লীত পন্র সেখানে গুদামে অপেক্ষা করছিল পুরনো কাগজের 
দরে বিদায় নেবার জন্য । অন্ততঃ এক বৎসরের “সবুজপত্র” আত্মসাৎ করি 
কলকাতার একটি পুরনো বই-এর দোকানের অবজ্ঞাত ভাণার থেকে । দু'খণ্- 
ছ'মাস-ছ'মাস করে বাধান । আমার প্রয়োজনে সংগ্রহ করে দেয় আমার এক 
অনুজ বন্ধু। কিন্তু নিজের লাইব্রোর গড়া আমার সাধও ছিল না, সাধ্যও না। 
কালের ও মানুষের হাত এড়িয়ে আমার সংগ্রহের 'সবুজপনে'র যা বেঁচে ছিল, 
ত৷ শেষ অবাধ আমার চেষ্টায় কয়েক বছর আগে এশিয়াটিক সোসাইটির 
ভাওারভুস্ত হয়ে আমাকে নিষ্কৃতি দিয়েছে । কিন্তু ভাবিকালের পরিহাস-- 


সবুজের আভযান ১০৫ 


প্রবীণ ও পাকাদের 'ববুদ্ধে সবৃজের ঝাণ্ডা তুলে নবীন কীচাদের যুদ্ধে নামতে 
ডাক ঘা দিয়েছিল, আজ তা প্রবীণ ও পাকাদের পোকায় কাটা জীর্ণপন্রের 
সঙ্গে তালিকাভুন্ত, পাঁওত-পাড়ার বিশিষ্ট লাইব্রেরিতে 'বমুচ্ছে । 


সবুজপচত্রব্স পত্রপুট 


'সবৃজপন্রে'র পাঠক ছিল অল্প, গ্রাহক, ক্লেত। আরও কম । অথচ তার 
সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীর লেখার পাঠক ক্রমেই বাঁদ্ধ পায়। তখন 'সবুজপন্র' 
অবশ্য অদৃশ্য হতে চলেছে । প্রমথ চৌধুরী মশায়ও আপনার গৃহের বিদগ্ধ 
সাহিত্যগোষ্ঠীর সীমা ছেড়ে “বজলী' 'আত্মশান্ত'র পাতায় সাংবাঁদকতার পাড়ায় 
পদার্পণ করেছেন। পরে দৈনিকের পাতায়ও শার পদচারণা হ'ল নিরন্তর | 
তা কি আজ ফেউ খুজে দেখে 2 তবে বরাবর আস্র জমানো ছোটগল্পের 
তিনি প্রথম শ্রেণীর সাহত্যশিপ্পী। 'সবুজপন্রে'র প্রবন্ধের বিষয়-কৌিন্য 
৩ এ বৈদন্ধ কমিয়ে, তার পাকা কলম দেখতাম বুদ্ধর সাদ! রঙ ও কথায় 
বাকা ঢং-এ, সামাঁয়ক সংবাদ ব্যাখ্যায় চমক লাগাতে চতুর । পাঠকসাধারণের 
তাতে পরম মজা । কিন্তু “সবৃজপত্রে'র প্রমথ চৌধুরী শুধু সাংবাদিক ছিলেন 
না__তার্থাৎ 'দ্বতীয় শ্রেণীর সাহাঁত্যক নন। কথায় বলে বটে 4 590০7৫ 
51855 11108710181 15 ৪. 9151 01055 1০011781156 কিন্তু কথা আরও 
আছে । পয়ল! নম্বরের সাংবাঁদকদের কাছে পন্র-পন্রিকা ব্যবসা নয়, দশজনের 
সঙ্গে আলাপ-আলোচনার আসর ৷ 'সবুজপন্ে'র আসরও আস্র, তবে বাছাই 
কর! দু-চার জনের । বাছাই হ'ত বুদ্ধির ও রসিকতার ারখে । পয়ল৷ 
নম্বরের সাংবাদক হলেও প্রমথ চৌধুরী 'সবৃজপত্রে ছিলেন সাহিত্যের বিদগ্ধ 
সারাথ-যেমন নিজের গৃহে অকুগ্ঠ আলাপী। আপন থেকেই সবুজপত্রের 
জুটুত 7 200191706 11)00081) 0. আপনা থেকেই বাছাই হয়ে পড়তেন 
তার আঁতাথরাও । উপস্থিত অবাধ, আলাপ স্বচ্ছ ও স্বচ্ছন্দ । কথার ছটায় 
নয়, বুদ্ধর অনুগ্র আলোয় ত। প্রীতি-সরস। 'সবুজপন্রে' সে আলোকই খেলত 
বাক্যের বিদ্যুতে এবং ৬1এর তির্ষক দীপ্তিতে । “সবুজপন্রে' প্রমথ চৌধুরী 
'বরবলী ঢও"-এ ব্যঙ্গ বিদ্ুপে অপরাজেয় । কিন্তু প্রমথ চৌধুরী শুধু বীরবল নন-- 
1তনি সম্পাদক ; ঝুঁদ্ধিশাণত আলোচনার 'বদ্যাবদদ্ধ গবিত সারাঁথ। তা ছাড়া, 
সুমাজিত সাহত্যকার ; সাজানো কথা আর বানানো গস্পের নিখুস্ত রূপকার । 

& 'সবুজপন্র' বাজারে চলবে না, ত৷ জানা কথা । তিনিও জানতেন “সবুজ 
পন্র' হবে চলার পন্র, বাঙালি জীবনে যৌবনের ছাড়পত্র । সবুজের আভিযান 
জীবনের জয়গান ; বাঁজমন্ত্র ঃ ও প্রাণায় স্বাহা । 


১০৬ রূপনারানের কূলে 


'€ প্রাণায় স্বাহা'_“সবৃজপত্রে'র মটো বা বীজমন্ত্র। বাঙলায় এ মন্ত্রের 
্রষ্জী অবশ্য রবীন্দ্রনাথ, _তার মুখেও যে এই মন্ত্র 'সবুজপত্রে'ই প্রথম উচ্চারিত 
হ'ল তা নয়। প্রমথ চৌধুরীও তা আগেই গ্রহণ করে থাকবেন । চৌধুরী 
মশায় আবার আরি বেগ্গস'র অনুরাগী-বেগগসর লেখার গুণে, ও এল? 
1ভতেল'-এর মর্মজ্ঞ। তবে তান বোধ হয় রবীন্দ্র-প্রাতভার ঠিক সগোন্র নন ; 
সমজদার সহকারী হলেও অনুকারী হন নি। মেজাজে স্বতন্ত্র । রোমাণ্টিক 
দুঃসাহসে ও আবেগ-উক্ছ্ছাসে যে-প্রাণের প্রবন পারচম্ব, প্রমথ চৌধুরী মনে 
হয়, তা মানতেন না। তার বিচারে, প্রাণের পাঁরচয় মনে ;-বিশেষ করে 
বৃদ্ধির নুন্তিতে, মনের স্বচ্ছতায়, সন্তার সচেতনতায় । রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ি- 
সমারোহের পার্থেই “সবৃজপন্ন' এই সব্যঙ্গ বুদ্ধির উজ্ভ্বল ও তির্ষক চর্চাকে 
শিল্পবূপের সরসতা দিতে পেরোছল। সে আসর যারা আলে৷ করতেন 
তার৷ রবীন্দ্রনাথের শিষ্য, কিন্তু প্রমথ চৌধুরীরও সহকারী । অতুলচন্দ্র গুপ্ত, 
ধূর্জীপ্রপাদ মুখোপাধ্যায়, সুনীতিকুনার চট্টোপাধ্যায়, হারীত কৃঞ্জদেব, ওরাজেদ 
আলী,_এর স্বকীয়তায় প্রতোকেই 'বাশষ্$ । আর সে বিশিষ্ট তার জন্যই 
'সবুজপনে'র নজদ্ব লেখক । ব্যান্তর বিশিষ্টত। "সবুজপন্রে'র প্রধান ঘোষণা-_ 
আবিভাবের প্রথম থেকেই রবীন্দ্রনাথ সে বিষয়ে সন্দেহ রাখেন ?ন। প্রত্যেকের 
অকুষ্ঠিত আত্মপ্রকাশ প্রমথ চৌধুরীরও আভপ্রেত। না হলে পাঁওচেরীর সুরেশ 
চক্রবতাঁর রোমাণ্টিক বর্ণবমুক্ধত। সবৃজপন্ত্রে সমাদূত হ'ত না। সবৃজপত্রের 
সঙ্গে তার নেজাজেরও মিল ছিল না। আসলে, সব নাশিয়ে 'সবুজপত্রে'র 
প্রধান কাজ) হয়োহল বুদ্ধর চাৰ র্যাশানালঞজমূ না হোক্‌, রিজিন-এর 
অনুশীলব । জাতীয় জড়ত। থেকে চিরস্তব জাত-সন্তর উজ্জীবন (ন্যাশনাল 
রিনাসেন্স ), সনূহের শাসন হাঁড়য়ে ব্ান্তর আন্ম-স্বাতন্রালাভ (ইন্ীডাভমুুনে- 
লিজন্‌ ), “মানুষের মাঁবকারে (রাইটস্‌ অব মযান্ ) সকল মানুবের প্রাতিষ্ঠা ; 
এবং লবব্যাপী জীবনাগ্রহ (লাইক-এফারম্মেশন, 150 %010098007) 1 এ কি 
তা হলে ১৭৮৯-এর ফরাসী বিশ্লবের পুরুনে। বাণী 2 পুরনে। কে বলে, অন্ততঃ 
এই সনাতন অচলায়তনের দেশে 2 এই সতোর মূল কথ রূপে, রসে, সঙ্কম্পে, 
সাধনায় আমাদের দেশের মন্ত্রের স্বীকার প্রাণায় স্বাহা ॥ 'গীতাঞ্জল" 
'গীতিমাল্য' ও বূপক নাটকের পৰ পোরয়ে রবীন্দ্রনাথের 'বলাকা'র পরে প্রবেশ 
'সবুজপত্রেই আরম্ভ হ'ল। বঙ্গদর্শনে'র পরে 'সবুজপন্র' বাঙাল সাহত্া- 
ইতিহাসে একটা নতুন পথের চিহ্ন । 'হালদারগোষ্ঠী' থেকে 'গৃহপ্রবেশ' প্র্বস্ত 
তখনকার (গপ্প সপ্তকে'র অন্তভুক্তি ) গণ্প, “ফাল্গুনী” “ঘরে বাইরে”, আর 
“চতুরঙ্গ' !_এক৷ রবীন্দ্রনাথ 'সবুজপণ্র'কে প্রথম দু' বছরেই যে মাঁহমা দান করেন 


সবুজের অভিযান ১০৭ 


তার আগে অনা কোনে মাসিক পন্ত তা পায় নি। অন্য কোনে। সামায়ক পন্ত 
এরুপ জীবনাগ্রহের ও জীবন-জিজ্ঞাসার মুখপাত্র হতে পারে নি। এ গরণনায় 
বিঙ্গদর্শন'কে ধার নি, “প্রবাসী'কেও ভূল নি। 

১৯১৪ থেকে ১৯২৬-২৭ পর্যন্ত বাঙালি সাংস্কাতিক জীবনের এই প্রেক্ষাপট 
প্ববঙ্গবাসীর এক সুদূর শহরের যুবকদের জীবনে তবু অজ্ঞাত প্রেক্ষাপটই থেকে 
যেতে পারত । কারণ_আমরা “সবুজপত্রে'র সঙ্গে প্রথম দিকে সাক্ষাৎ সূত্রে 
পরিচিত হই নি, সচেতন হয়েছিলাম 'প্রবাসী'র দৌত্যে । কিস্তু সেই চেতনাকে 
সংগঠিত করে বংসর দুই-এর মধ্যেই €১৯১৮-১৯ ) এসে গেল এমন একটা 
সময় যখন আমরা সকলে ও শহরে ঘোষণা করলাম-_ 

'ও প্রাণায় স্বাহ।' 

আর আমাদের বেপরোয়া কোলাহলে কলরবে, অঞ্খরণ উচ্চহাঁস ও উল্লাসে 
ছোট নোয়াখালি শহরের 1নরীহ গুহপালত মানুষ উচ্চাকত হয়ে শুনল আমাদের 
পারচয় সবুজ সঙ্ঘ' । 

“যৌবনের জয়গান” 

অবশ্য একটা প্রস্তুতি আগেই আমাদের মধ্যে ছিল, শুধু আমাদের নয়, 
বাঙাল জীবনের মধ্যে । “ও প্রাণায় স্বাহা', এ মন্ত্রটা একেবারে সৃষ্টিহাড়া 
শোনাবার মত কথা নয়। জীবনের যৌবরাজ্যে আঁভষেকের আয়োজনটা 
স্দেশীর দিন থেকেই এক অর্থে এ দেশে সুস্পষ্ত । উদ্বোধন হয়ে থাকবে 
আরও আগে । 'ইয়ং বেঙ্গলে'র তো স্পর্ধার শেষ ছিল না । ১৮৩০-এ অকৃটারলনি 
মনুমেন্টের মাথায় ফরাসী বিপ্লবের ত্রিবর্ণ পতাকা তুলে সারা বিপ্লবকে আঁভনন্দন 
জানায়_-তারা নিশ্য়ই বোহসাবী ও বেপরোয়া, রাইটস অব্‌ ম্যান-এর নামে 
পাগল, আধুঁনক যুগের প্রথম বাঙালি বিদ্রোহী । বৃঝে না-বুঝে বাঁঙ্কমচন্দ্রের 
সন্তানেরা গাইীহিলেন “এ মৌবন-জলতরঙ্গ রোধবে কে 2" 'নশ্চয়ই বাঁজ্কমের 
'মহাণুরুষ'ও না, ইংরেজরাজও না । আমরা *১৯০৫-এর পরেকার' বাঙলা- 
দেশে বেড়ে ,উঠোছ, বাঙালির বাচ্চা, বিনয় সরকারের কথাটা সাচ্চা কথা । 
[ানজের গুণে না হোক, সেই সময়ের সুন্রে তের-চৌদ্দ বছরের কশোরের মাথায়ও 
যোগাত রাজনোতিক মুক্তির দুঃসাহসিক স্বপ্ন । চৌদ্দ বছরে পা না দিতেই পা 
দিয়েছি বিগ্লবীদলের পথে । মর্মে 'দুরস্ত আশা”-ইহার চেয়ে হতেম যাঁদ 
আরব বেদুইন।' আমাদের কান তা ভুল শোনে নি, ভুল বোঝেও নি মন-_ 
“ওরে নবীন, ওরে আমার কাচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে 
তুই বাচা ।” এ শুধু বুদ্ধির মুন্তির ডাক কেন হবে :- মুক্তির বুদ্ধরও ডাক । 

কন্তু এ প্রস্ততি কি ীঁড়ষ্যায় কটকেরও ছিল ? জানি না। তাদের 'সবুজ 


১০৮ রূপনারানের কূলে 


সাঁমাঁত' থেকে ওঁড়য়। সাঁহত্যের এষুগের নতুন সূচনা । আরেকটা প্রশ্ন-ষে 
প্রস্তুতি বাঙালির সকলের-_তা পূর্ববাংলার অনাদূত সেই নোয়াখালি শহরেই শুধু 
কেন জাগাল এই সবুজের স্বপ্ন 2 কারণ, সম্ভবতঃ নোয়াখালিতে দু'জন বিশেষ 
মানুষের ব্যান্তত্বের স্পর্শ । তারা রঙ্গীন হালদার ও সুরেশ চকুবতাঁ । 


ছোট শহর নোয়াখালি-সেখানে অঘটন কিছুই ঘটে না-_আধঘুমের দেশ । 
তার আকাশের রঙ. মাঠের বিস্তার, বন-জঙ্গলের রহস্য, বান-ডাকা নদীর প্রবল 
উচ্ছ্বাস, কালবৈশাখীর উদ্দামতা,-এ সবের মধ্যে বুঝে না-বুঝেই তবু জেগে ওঠে 
বৃষ্টি-ভেজার অকারণ উল্লাস. ঝড়ের মাতনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনের মাতন, 
-আর মাটি ও আকাশের সঙ্গে মিলেমিশে, কিশোর প্রাণের দুরন্ত তাড়নায়, 
যৌবনে উত্ভিয্ন আমরাও তাই-- 

পাগল হইয়। বনে বনে ফারি 
কন্তুরী মৃুগসম 
আপন গন্ধে মম । 

চেনা মুখের রাজ্য নোয়াখালি । নিয়মধ্যবিত্তর শহর-পুরুষের৷ আপিসে- 
আদালতে জীঁবকার ফ্রেমে আটা । মেয়েরা রন্ধনশালায় অন্তরায়তা । বোৌশ 
সচ্ছল না হোক, বেশ সহজ জীবনযাত্রা । স্বদেশীর যুগে তার এ জীন একটু 
নাড়া খেল- সাড়া দিতে গিয়েও দিল নিন্নকণ্ঠে। তারপর চাপ। গলায়-_ 
আড়বলে আড়ালে-সেই প্রবীণদের চোখের সামনেই । আমাদের যৌবন 
আমাদের পৌছে দিয়ে গিয়েছিল স্বদেশীর সাহসের ও সঙ্কপ্পের মুখে । 
বঙ্কিমের রাজ্য পোঁরয়ে বিবেকানন্দের রাজ্যসীমানায়ও মে পথ থামতে 
চায় ন। বুঝোঁছল-_দেশট। যাদের নিয়ে তারাই পড়ে থাকছে স্বদেশীর বাইরে 
_বিবেকানন্দের 'শুদ্রু ভারতবর্ধ'ও অস্পৃশ্য । রবীন্দ্রনাথের “স্বদেশী' সমজ”ও 
অবজ্ঞাত ।-_ভদ্রলোকের গণ্ীর মধ্যেই প্রাণ এখনো আবদ্ধ ।-সেখানে' তাই 
ওই আধমরাদের আত্মছলন। আঁনবার্ধ । এ দুশ' বছরেও ইয়ং বেঙ্গলে'র বিদ্রোহ 
তাই রয়েছে [নক্ষল ।- মানুষকে আমরা মানুষের আঁধকার দই না, পৃঁথবীই ব। 
আমাদের দেবে কেন মানুষের আঁধকার 2? রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আমরা 
শুনলাম এই 'সবাঙ্গীণ মনুষাত্বে'র আহবান । তার থেকে যৌবন পেল ছাড়পন্র 
_ বুদ্ধির রাজ্যে, মনের রাজ্যে, রূপের রাজ্যে, রসের রাজ্যে_ইংরেজের রাজ্য ছাড়া 
জীবনের সকল রাজ্যে । যৌবনের আভযান 'সবাঙ্গীণ অভিযান' ৷ চাই শু 
ণভসা', আঁভজ্ঞান । 'সবুজপন্র' নিয়ে এল সেই “ভসা", দিল এই মোহরাঙ্ক 
“যৌবনে দাও রাজচিকা' ।-_ 


সবুজের আঁভযান ১০৯, 


১৩২১ বা ১৯১৪ইং-এ “ইয়ুথ ম্যুভমেন্ট' অলে নি, 'স্টুডেপ্ট পাওয়ার, ছপ্নের - 
অগোচর,-তবু 'যৌবনের জয়গান' গ্রাইল সবুজপন্ন । 

এদকে আমাদের প্রবীণদের পাড়ায়ও আরেকটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল । অঘটন 
নয়, দুর্ঘটনা । শরৎচন্দ্র নামক একজন হঠাং-উদ্ভুত লোক দোরাত্ম্য বাধাল 
মধ্যবিত্ত কেরাঁন জীবনের বাইরের আড্ডায় ও বাঁড়র অন্দরে, ঘরে-বাইরে ॥ 
রীন্্রনাথকে ঠেকানে। যায়_-“গোরা', 'অচলয়াতন', কয়জনা বোঝে যে পড়বে ? 
কিন্তু চরিত্রহীন, গৃহদাহ, প্রীকান্ত দেবদাস, অভাগীর স্বর্গ, এসে বৈঠকখান। 
ছাঁড়য়ে অনিবার্ধ গাঁততে অন্তঃপুরে চলে গেল--সকলকেই ভাবনায় ফেলে 
দিলে । বাঙালি সাধারণ মধ্যাবত্ত নিজের মুখচ্ছাব দেখতে পেল । বাইরে 
সকলের তাতে সরব আপীাঁত্ত। মনে নীরব স্বীকৃতি তবৃ.-'এ যে আমাদের 
মুখচ্ছাঁব ৷, বাঙাল ভদ্রলোকের মনকে বছর বিশেকে শরত্বাবু যে ভাঙা- 
চোর! করেন-তাতে সন্দেহ মান্র নেই । কারণ, মুখে বতই তাকে অচল বলুক 
না, মনে ততই তাকে মেনেছে--হা,_না মানেই হা, অন্ত্রাত মনের চক্রান্তে । 
সং খা জানত না তার গভীরে মানুষের মূল্যের সঙ্গে বাঙালি মধ্যবিত্তের 
চেতনায় নীরব মূল্যও এক হয়ে যাচ্ছে । 18105 1091) 0০] ৪. 119৫কী-ই 
ব৷ মেয়ে, কী-ই বা পুরুষ । ম্বানুষ তো মানুষ । 


0ষাঁৰঢেনব্র ছাড়পত্র 

নর্ঘন্দে এ চেতনা উদ্ভূত হবার কথা নয় এ দেশের জীবনে যৌবন 
সেই মূলা পায় নি কোনে কালে, পুরুষ না, নারীও না। যুবশান্ত, সতীশান্ত 
বলে কোনো শব্দ তখনে। জন্মায় নি। ইংরেজি শেখায় দেখা দিয়োছিল-_ 
ইয়ংম্যান, কিন্তু ইয়ং উমন নয়, 'যুবক' । যৌবন বস্তুটাই ছল এ ভাষায় অজ্ঞাত | 
স্টূডেপ্ট ছিল, ছান্ন ছিল। বোধহয় জাতীয় জীবনে যুবকদের দামটা জ্ত্রাত 
হ'ল স্বদেশী বুগ থেকে । ভলাপ্টয়ার চাই । দেশের কাজে ছেলেরা 'ছাড়া 
খাটবে কে? মেয়েরা নিশয়ই অন্দরে রইল, তবে নতুন নামের সঙ্গে 
যুবকরা গ্রাহ্য হ'ল । ছেলেরাও জেনেছিল দেশের দাবী বড় দাবী । কিন্তু 
তারা ছেলে, নর বদাচরণীয় নয় । বিশিষ্ট শান্তর্পে যুবকদের সচেতন হতে 
আরও বছর 'বিশেক দেরী 'ছিল। গনজেদের ওপর বিশ্বাস তাদের জন্মাতে 
দেরী হবারই কথ । কারণ যৌবনকে বিশ্বাস করা তো এদেশের শিক্ষা নয়, 
যৌবন এদেশে আসে-আপদ । 

যখন নয় দশ বৎসর বয়স তখন আমাদের বাঙলা পাঠ্য পুস্তকে পড়োছিলাম 
'যৌবন' আত বিষম কাল। এই সময়ে হীন্দ্রয়সমূহ প্রবল হয়, ইত্যাঁদ, 


৪ * ৃপন্ারানের কূলে 


ইত্যাদি । “যৌবন, শব্দটার অর্থ পেলাম- যৌন বন্তুটার নয় । বয়স তখন 
ঘয়-দশ বৎসর, বারোও নয় 'নশ্য়। শব্দার্থ মুখস্থ করেছি, ক্লাশে পড়া 
দিয়োছ, 'যৌবন' শব্দটার বাচ্যার্থ বোঝার দরকার হয় নি, ব্যঙ্গার্থ থাকলে তা-ও 
নরর্৫থক । জেনোছিলাম ষোল থেকে বা্রশ পর্যন্ত বয়স যৌবনকাল । আজ তো 
বাঁশ ছেড়ে কবে ডবল বাত্রশ পৌরয়োছ এখন ১৯৬৮ ইং ), জিজ্ঞাসা করতে 
পার-যোল থেকে বাশ কালটার কী এত দোষ? চল্লিশ-পণ্চাশোধ্বদের 
হাতে পৃথবী যত দুর্ভোগ ভুগেছে তার এক-শতাংশ 'ি সহ্য করেছে ওই 
ষোল থেকে বতশের সন্তানদের থেকে ? প্রত্যেক বয়সের একটা নিজ ধর্ম 
আছে । কৈশোরের, যৌবনের, প্রোত্বের, বার্ধক্যের-সেই সকল বয়সের সকল 
ধর্ম পেরিয়েও থাকে জীবন-্ধর্ম। জীবন যেমন সকল বয়সের যোগফল মান্ন 
নয়,_হয়তো বা পূরণ ফল; কারণ জীবনেই বয়সের পূর্ণতা,_তেমনি সকল 
বয়সের সকল ধর্মের পূর্ণতা জীবন-ধর্মে। সবার উপরে জীবন সত্য, তাহার 
উপরে নাই । জন্ম, শৈশব, দেহপু্টি, পূর্ণতা, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি, প্রোঢুতা 
ও জরতা, এ রূপই জীবের স্বাভাবিক দেহযাত্রার ধারা । মানুষের বেলায়ও এই 
জৈব ধারাট। স্বাভাঁবক । 

কিন্তু ওই মন নামক বিচিত্র জানস এসে জুটে মানুষ নামক জীবটার 
জীবনে গুণগত পারব্ন ঘিয়ে দিয়েছে । সেই মনও জন্মে। সদ্যোজাত 
শিশুর 'চেতনা আছে, মন আছে কনা কে জানে? পাঁচ-সাত বৎসরে ?নশ্চয় 
মন থাকে, তারপর বাড়ে; আবার এক সময় ক্ষয়ও হয় । কিন্তু মানুষের 
দেহযান্রার সঙ্গে তাল রেখেও তাল রাখে না মানুষের মন-বুঁদ্ধ-চেতন। । 
জীবনট৷ তাই মানুষের বেলায় না হয় যোগফল, না, বিয়োগফল । একট 
মিশ্র পূরণ-ভাগের এমন অঙ্ক যা প্রত্যেকের বেলায়ই 'বাচন্র; এবং যার 
পরিণাম ফলও প্রত্যেকের বেলাই শেষ অবধি বিশিষ্ট । ইউক্লিদ ও 
আইনস্টাইন সকলেই ফেল, তাদেরও অণাধ্য জীবন-জ্যমাতি রচনা । তাই 
সমাজের গাঁণতকারও জ্যমাতিকারদের চিরাদন বপদ। হীন্দ্রয়সমূহ যাঁদ 
প্রবল না হ'ত, অথব৷ তার প্রাবল্যের যাঁদ একটা পাকা গ্রাফ' থাকত, তা হলে 
বোধহয় এই আঁনশ্চয়তার মধ্যে তাদের সমাজকে বরাবর বেসামাল হতে হ'ত 
না। সমাজ চায় আহার-নিদ্রা-ভয়-মৈথুনের একট সাম্যাবস্থা, সমাজধর্মে 
বাধাই করে মানুষের জীবনের একটা 'ভদ্রু' সংস্করণ তৈরী করা । প্রথমই তাতে 
গোল বাধায় যৌবন,-'এই সময়ে হীন্দ্রয়মূহ প্রবল হয়' । আর তার পরে 
অন্য সময়েও ত৷ দুবল হতে চায় না-যতক্ষণ দেহ-মনে মানুষ থাকে জীবন্ত ও 
সে জন্যই “যৌবন আত বিষম কাল। ওকে ছাটাই করে নিতে পারলে 


সবুজের অভিযান ১১১ 


জীবনটা সমাজের ভারবাহী বলদের কাজ ভালোভাবে দিতে পারে । অতএব 
বাল্যপাঠ বইতেই শেখাও, যৌবন আত বিষম কাল। সনাতন “তোত৷ কাঁহনীর, 
এটা প্রথম পাঠ । খাঁচার পাঁখর চোখে বনের ছায়াও যেন না ফোটে । 

একটা প্রশ্ন জাগে-আমাদের শিক্ষা-গবেষকর৷ কেউ ?ি আমাদের পাঠ্য- 
পুস্তকের এসব পাঠমালার একটা অনুসন্ধানমূলক এীতিহাসিক গবেষণ। চালিয়ে 
দেখবেন-কবে থেকে কী ভাবে, কী-কী পাঠ ছান্রদের বইতে বাছাই. ও 
ঝাড়াই হয়ে চলেছে 2 বাঙাল, ভারতীয় সমাজনীতির গবেষণার তাও একটা 
উপাদান হতে পারে । আধ িতামহদের কথা না তোলাই ভলো-_-তার৷। 
মদ, মাংস, জুয়া আর সন্তোগ্ধ বিষয়ে নিরঙ্কুশ । সাদা চোখে দেখোছ-- 
পণ্9তন্ত্র, হিতোপদেশে প্রাকাটক্যাল বুদ্ধরই উপদেশ । রামায়ণ-মহাভারতে 
নীতিকথা যত থাক দেবতা ও মুনিদের হীন্দ্িয়-দমনের দৃষ্টান্ত সে তুলনায় বোশ 
নয়। তবে সে আর্ধতেজ ব্লমেই দেখি কম । গে:তম বুদ্ধ অনেক ঘাটের 
জল খেয়ে শেষটা সিদ্ধান্তে পৌছেন- মধ্যপথটাই প্রশস্ত । কিন্তু কে শোনে 
সে কথা ? ভারতবর্ষের জলবায়ূতে বোধহয় মান্রাবোধ অগ্বাভাঁবক | গ্রীক 
সভ্যত। পাঁরামাতিবোধকে মূল্য দিয়েছে-চরমে না ওঠাই তাদের পরম 
নীতি । সবমত্যন্তং গহিতং ওটা গ্রীক-আর্ষ অভীষ্ট । আমাদের উদ্দীষট 
তেনাহং কিং কুর্ষাম্‌ যেনাহং নামৃত। স্যাম ১ চরম বস্তু না হলে নয়। চরম 
করাই আমাদের পরমতত্ব। তাই একদিকে আমাদের আষ্ট “সববৃত্ত 
নিরোধ" । অন্যাদকে যযাতি যৌবন । ভর্তুহরি আমাদের "রপ্রেজেন্টটিভ 
পোয়েট'- প্রথম 'শূঙ্গার শতক', আর তার পরেই 'বৈরাগ্য শতক'-জীবন শতক 
কোথাও নেই । কে একজন সুরাঁসক মানুষ মন্তব্য করেছেন_-'সংস্কৃত ক্যব্যসাহিত্য 
নাও-যেখানেই হাত দেবে- হয় পয়োধর নয় নিতম্ব ।' শুপাঁও্ নেই। কিন্তু 
মানবীর আরও পারচয় আছে । একালে আমরা তাও জানি । অন্ততঃ ইংরেজি 
সাহত্য যখন থেকে হাতে 1নয়োছ । তাই আরও অবাক লাগে ভেবে কোথা 
থেকে উনাবংশ শতকের সঙ্গে দেখা 'দিয়ে'ছল পাঠ্য-পুস্তকে এই নতুন যৌবন- 
জুজুর কথা 2 বিদ্যাসাগরা পাঠক্রমে “বোধোদয়' পোঁরয়ে আমরা হাতে পেতাম 
'শকুন্তল।', 'সীতার বনবাস' ৷ কিন্তু সে ব্যবস্থা চুকে গিয়েছিল । 

যখন ক্লাশে পাড় তখন বুঁঝই নন, “যৌবন আত 1বষম কাল'। তারপরে 
যৌবনের দিকে এগুতে এগুতে গিয়ে পড়লাম বিবেকানন্দের রাজত্বকালে. 
জীবনকালে নয় । আমাদের ববেকানন্দ 'কামনী কাণ্চন'-বিরোধী শ্রীরামকৃফ্ের 
শিশ্য হলেও জীবন-আভিঘান্রী বিবেকানন্দ । তান যৌবনের রাজ! 'ববেকানন্দ, 
অভয়মন্ত্রের সেনাপাতি বিবেকানন্দ । “অভীঃ' মন্ত্রটাই আমাদের স্বদেশী-দলের 


১১২ রূপনারানের কূলে 


কানে বাজত । শুনোঁছ স্বদেশীরাও কেউ কেউ নাকি তবু মনে করত--হীন্দ্রিয় 
দমন যতই বাড়ানো যাবে, ইংরেজ-দমন ততই অগ্রসর হবে। কিন্তু আমি 
ত৷ হলে দলছুট । 

আমাদের যৌবন শুন্ছিল জীবনের ডাক । বয়োধর্মের উত্তেজনার মতোই 
জীবনধমের সংযমও ছিল স্বাভাবক-প্রায় আনায়স, দেশ-কালের প্রেরণায় 
দুঃসাহসিক । হীন্দ্িয়সমূহ প্রবল হ'ল, না সবল, হ'ল, ত] নিয়ে কোনো দুর্ভাবন। 
ছিল না। 

এল মহাযুদ্ধের সমুদ্র-মহ্থন। অনুভব করাছলাম কালের মন্দিরা বাজে 
ডাইনে বামে । ডাইনে সবাঙ্গীণ মুস্তি, বামে সবজনীন। মুন্তি। আমাদের কালের 
যৌবনের ছিল এই স্বপ্ন_ এই মুক্তি । 

গান্ধীজী আত্মশান্তর মন্ত্র নিয়ে এলেন । আমাদের যৌবন চমৎকৃত হয় । 
নিচের থেকে নিমাণ শুরু করতে হবে, এবং সামনে আভযান। এটা 
যৌবনের নতুন যাল্তা ৷ কিন্তু বুদ্ধির মুস্তি গান্ধীজীর সাধনা নয়, মুন্তর বুদ্ধও না, 
হাজার বছরের হাজার নিয়মের বাধনেই বাধা তার কর্মকাণ্ড । গান্ধীজীর “সত্য' 
স্বাদ-গন্ধহীন নিপ্প্রাণ বিশুদ্ধতা । বৃপে-রসে-গন্ধে তার আবশ্বাস ৷ 'সত্যাগ্রহ' 
1কছুতেই জীবনগ্রহের সঙ্গে এক হয়ে উঠতে পারে না। জীবনগ্রহও কি 
পারে 2 নিজেদের বোঝাতে চেয়োছ--পারতে হবে। নিজেকে বোঝাতে 
চেয়োছি আমাদের কালে “যৌবন জলতরঙ্গ' গান্ধীজীই উদ্ধ'দ্ধ করেছেন । অথচ 
ক্রমেই বুঝি হিন্দ স্বরাজের সঙ্গে “শিক্ষার মিলন' ; ও সত্যের আহ্বানে'র 
াবরোধ মৌলিক । কোপাঁন আর কামানে৷ মাথার সঙ্গে আভিজাত জীবন-যান্রার 
ও সুস্থ স্বাচ্ছন্দ্ের তফাৎ বাইরের তফাৎ নয়। “আঁদ্'তে আকর্ষণ নেই, 
খাঁদতেই রূচি গড়ে নিতে পেরেছি । কিন্তু সি. এফ. এ্যাপ্্রজও এই দুই দৃষ্টি- 
ভঙ্গীতে মিল বের করতে পারেন না--শিক্ষার মিলনে আর শিক্ষা বয়কটে । 

ছোট নোয়াখাল শহরে সোঁদনের ভারতীয় যৌবনের আভ্যন্তরীণ মিলন- 
দ্বন্দের পালাটার অভিনয় হচ্ছিল আমাদের আশ্রয় করে । আমরাই কি ত। 
জানতাম, না, সব বুঝতাম 2 স্বরাজের নামে আমরা কেউ কেউ মেতে উঠি, 
আবার চরকা ও চিত্তশৃদ্ধির তত্তে বেকে বসি। সব নিয়মকে আমরা হেসে 
উাঁড়য়ে দিই । বাইরে থেকে কেউ সকৌতুকে বলে “সবুজ সঙ্ঘ' দমকা হাওয়া । 
আমরা স্পর্ধাভরে বাল, “আমরা চাল সমুখ পানে কে আমাদের বাধবে' ? ভেতর 
ভেতরে তখাঁন কেউ কি ভাবতাম না “এ দুয়ের মাঝে তবু কোনোখানে আছে 
কোনো মিল' “সত্যাগ্রহে' আর “সত্যের আহবানে, 2 


সবুজের আভিষান ১৬১৩ 
নীহান্মিকা ও নিউক্লাস 


সেবার ম্যাঁ্রকুলেশান পরীক্ষা তিনবার হয়েছিল । “সেবার' মানে ১৯১৭ 
সালে, তখনো ইউনিভাসিটি সে পরীক্ষার কর্তা; আর ইউনিভাসাটির 
প্রত্যেকটি পরাক্ষা বৎসরে মান্র একবারই হ'ত, -আই. এ. বি. এ. প্রভাত 
পরীক্ষাও । তাই “সাপ্লমেপ্টার' বলে কিছু ছিলনা । তখনকার প্ববাঙলার 
অনেক জিলার সদরেও পরীক্ষাকেন্্র ছিল না। গ্রামের হাজার হাজার 
ছেলেদের তা হলে কী দুর্ভোগ ভুগতে হয়েছে, বিশেষ করে ১৯১৭-তে । 
বার বার করে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে, আবার বোকা বনে অর্থদও 'দিয়ে বাড়ি 
ফিরে গিয়েছে । ফোজদারীর আসামী জ্ঞামিনে আছে, মামলার তারিখে 
আসামীর খাঁচায় এসে দাঁড়াতেই হবে । তবে তৃতীয়বার পরীক্ষা যথারীতি 
সম্পূর্ণ হয়-প্রশ্ন চুর হয় নি। নোয়াখাঁলর সেই বিখ্যাত ছান্ররা বুঝে উঠতে 
পারল না এখন কী করবে । তখনো যুদ্ধ চলছে, যুদ্ধান্তের রাজনোতিক ঝড় 
ওঠে নি। 

পরীক্ষার উত্তরকাও্ড এ শতাব্দীর তৃতীয় পাদে লঙ্কাকাণ্ডেরই পাঁরশিষ্ট । 
তখনো লেখাপড়ার পাতাল-প্রবেশ দূরে ছিল । হৈে-রৈ করে দিন কাটাতে 
কাটাতে সেবারের পরীক্ষার্থী ছাত্ররা শহরে লাঞ্ছাল অন্যদের সঙ্গে ফুটবল খেলার 
প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এবং একত্র হ'ল একটা নাটকের মহড়া অভিনয় করতে । প্রধান 
কারণ এসব উপলক্ষ করে গস্প জমল, আন্ডা জমল | হে-চৈ অব্যাহত রইল । 
সত্যই একটা নতুন কিছু তারা করল । পরের বছর আমাদের বছর । 
প্রশ্ন চুরি হ'ল না, পরীক্ষাও হয়ে গেল। নিতান্ত মামুলি ব্যাপার, আমরাও 
মামুল ছাত্র । নতুনে-পুরাতনে মিলে আমাদেরও ওই পখে জোট পাকানো 
পছন্দ । সকলকার মধ্যে মিল শুধু কিছু না৷ করার,_যার লাম নতুন কিছু করার 
উৎসাহ । আসলে মিলটা যৌবনের অস্পষ্ট ওৎসুক্যের ৷ সুখের খাচার অস্বাস্ত। 
সবাই মিলে তবু একটা যৌবনের ঘূর্টমান নীহারকাপুঞ্জ যার “নউক্লাস' 
না হলে নয়। নিউকর্লাস তা পেল-রঙ্গীন হালদার । বয়সটা তেইশের 
দকে- গ্রীক্ষাবকাশের শেষে তার সে বংসর এম. এ. পরীক্ষা । 'কন্তু সে জন্য 
কিছু মান্র ভাবনা-চিন্ত। নেই । বাজে কাজে ও কথায় তার উৎসাহ । তাই 
তান যেখানে, সেখানে বরাবর 'তাঁনই আকর্ষণীয় । কেন, তা বোধহয় 
'তাঁনও জানতেন না । বাইরের চালচলনে তনি কিছুমান্র উদ্যোগী, উৎসাহী, 
কর্মচ্জল নন । বরং আরাম-আয়াসেই ঝোঁক । পোশাক-পরিচ্ছদে ও আহারে 
বিলাসী কিন্তু বুচিবান ।? উৎসাহ ছিল তার কথায়, আসলে মনে । স্ধুল- 
কলেজের লেখাপড়া অপেক্ষা দেশ-বিদেশের নানা খবরে তার উৎসাহ, 


০ 


১১৪ রূপনারানের কুলে 


জীবনের ও জগতের নানা বিষয়ে তার কোত্হল । এই নিউক্রিউসের 
পাশে এসে জমে নীহারিকা রাশি । রঙ্গীন হালদার অকাজের আদ্বতীয় 
কাগ্ডরী। বিশেষ করে তার উৎসাহ দু'টি জিনিসে, রবীন্দ্র-চর্চায়, নাট্যাভিনয়ে ; 
একি প্রাচীন, অপশ্ুত ও অশ্াব, শাস্ত্র যা আন্ডার আনবার্ধ অঙ্গ । ছোট 
শহরে পুরনে। 'দিনের চপ্তীমণ্পের' ট্র্যাডশন বহন করতেন কিন্তু অন্যেরা 
উাঁকল, মোন্তার, ডান্তার, কেরান কেউ কেউ অর্থাৎ িরাঁদনের সেই ভদ্র 
লোকরাই । স্মল টাউনের এই স্মল্‌ টক থেকে কিন্তু বাদামতলার বাবার 
বৈঠকখান৷ বরাবরই মুন্ত। পাড়ার বা 'মিউীনাসপ্যাঁলাটর পাঁলাটক্‌সের থঘোট 
পাকানো ও জোটপাকানো, কোনোটারই সেখানে সন্ধান মিলত না। দেশের 
পলাটকৃ্‌স ও আন্দোলন ও 'বদেশী রাজনীতি ও কুটনীতির সঙ্গে একালের ও 
সেকালের দেশী ও বিদেশী বইপন্র, লেখা-পড়া আর জিনিসের কর্মক্ষেত্রের 
ছোটোখাটো ঘটনার আলাপ-আলোচনায় বাদামতলার আড্ডা থাকত হাঁস-গপ্পে 
সবদা স্বচ্ছন্দ ও সরস। আমরা ছোটরা যখন নিজেদের মত করে আন্ডার 
আয়োজন করাছিলাম তখন কি সেই বাদামতলার বৈঠকখানার স্বচ্ছন্দ উৎসুক 
আনন্দও কতকটা নিয়ে এসেছিলাম আমাদের সঙ্গে? কতকটা, সম্পূর্ণ নয় । 
রঙ্গীন হালদার তাতে যোগালেন আরও একটু সাময়িক কোতৃহল, নতুন আয়তন 
(01776151017) । ছোট শহরের পারস্পারিক 'পরানিন্দায়' বাদামতলার কারা 
কানও দিতেন না । .কানে পৌঁছলে আমরা তা 'নরাসন্ত হাঁসর উপকরণ করে 
নিতাম । মজার কথা হলেই হ'ল, তবে ঘোঁটগন্ধ নাহ তায় । বরং ঘোট 
করা চওীমণওপী' মানসিকতার প্রাতি আমাদের উপেক্ষা জন্মেছিল। তাদের 
কারে৷ কারো কথা, গল্প নিজেদের আড্ডায় ব্যঙ্গভরে আবৃত্ত করতাম । ব্যঙ্গানু- 
করণের শোধ তুলতাম । বলা বাহুল্য, প্রাচীন পাকা ভদ্রলোকের আমাদের এই 
কাজটাতেই আপাত্ত করেন, এ হচ্ছে “পরানন্দা' । প্রবীণ পাকাদের থেকে আমরা 
ব্ঙ্গের খোরাক ছাড়া বঙ্গীয় সমাজে কিছুই প্রত্যাশা করতাম না। ব্যঙ্গ ও 
বদ্দপের দৃষ্িই আমাদের বিশেষ যৌথ দৃষ্টি হয়ে ওঠে। শহরে তা দিয়েও 
ছিল আমাদের প্রধান পরিচয় । রঙ্গীনের রঙ্গদল ব্যঙ্গদল । মূলতঃ দৃষ্টিটা রঙ্গীন 
হালদারের স্বভাবগ্কত সরসতার ও স্বচ্ছন্দ অবহেলার । অথচ সকলের আয়োজন- 
অনুষ্ঠানে তার উৎসাহ । সহজেই তাই এক সময়ে সহজ পাঁরহাসে সোহার্দ্ে 
তার কৌতুকজনক নাম হয়ে গেল 'কর্তা' । সবুজ সঙ্ঘে এই নামাটই ছাঁড়য়ে 
যায়, ওনাম কিছুটা হাসির, বেশিটা প্রীতির । আমাদের সরসতায় বিশেষ করে রঙ্গ- 
বঙ্গের ছোপ লাগিয়ে দিতেন যানি তান অদ্ভুত কৌতুককুশল মানুষ, অনতোধ 
লেনগ,পত । আমাদের থেকে বছর কয়েকের বড়, দাদার বছর [তিনেকের ছোট । 


সবুজের আভযান ১১৫ 


এদিকে এমন রঙ্গ-নিপুণ লোক দেখা যায় না । কিন্তু এ*রা দু'জন ব্যতীত দ্বিতীয় 
একজন. লোক ছিলেন আমাদের সঙ্গী । কর্তার সহগার্মী আমাদের সকলের মধ্যে 
থেকেও তিনি স্বতন্ত্র, তিনি আসলে অদ্বিতীয় । আমাদের স্কুলের শেষ মেয়াদ 
যখন শেষ হচ্ছে তখন তিনি এ শহরে এসোছলেন শিক্ষক রূপে । নতুন বি.এ, 
পপাশ-করা মানুষ । টাদপুরের বহরিয়৷ গ্রামের সুরেশ চক্রবর্তী এ শহরে তখন 
অপরিচিত, শহরের জীবনযান্তা থেকেও প্রায় সম্পূর্ণ 'বাঁচ্ছন্ন -আপনার ভাবনা- 
লোকে একক ৷ ভাবন৷ তার স্বভাবধর্ম । আর সে স্বভাবের বশেই চারাদকের 
জীবনযান্নার ছোট-বড় বাল্যত৷ কিছুই তাঁর চোখ এড়ায় না। সবেরই তিনি 
দর্শক | নীরব, তবে উদাসীন নয়, বরং মন্নাহত,_অবশ্য আপন অনন্যতায় 
আপনি সুরক্ষিত । 

নীরব অবজ্ঞার বর্ম দুর্ভেদ্য । সে অবজ্ঞা এই তত্তের উপলব্ধিতে নীরব-- 
ভদ্রলোকের এই মানাঁসক স্কুলতা আসলে তাদের আধ্যাত্মবক শুন্যতারই 
বাইর।বরণ। ফাঁকি দিয়ে ফাঁক ভরানো।, আত্মার শূন্যতা ঢাকা স্থুলতার জঞ্জালে । 
এই 'ভদ্রু জীবন” আসলে এ“দে। পুকুরের জল । দাদার স্বচ্ছন্দ উপেক্ষা, অনুতোষ 
বাবুর রঙ্গ-কুশলতায়, সুরেশবাবু-কথিত ওই আত্মার জড়তার তত্ব-সব মিলে 
মিশে-চারাঁদকের জীবনযাত্রার সুলতা ও তুচ্ছতার 'বরুদ্ধে আমাদের সকলকার 
মনে একটা বেপরোয়া ব্যঙ্গ-পরায়ণতা জাগিয়ে দেয়; আর আমরা ছিলাম 
যৌবনের ধর্মে দুর্দমনীয় মুখর । শহরের কেউ তাতে নিশ্চিন্ত বোধ 
করতে পারে 'ি, গোপনে গোপনে সবাই রুষ্ট । আজ হলে বলতাম শুধু 
তাদেরই আমরা উপেক্ষা কার নি, মান্রাবোধও মনে করতাম উপেক্ষণীয় ৷ 
স্থলতা-তুচ্ছতা নিয়েও বে-জীবন-জীবন এবং অসঙ্গাতর মধ্যেও যে চাপা 
পড়ে থাকতে পারে না সেই জীবনের গাঁতিধর্স, একথাটা আমাদের 'বচার- 
ববেচনায় তখন স্থান পেত না। কারণ, ভালো মানুষ নইরে মোরা ভালো 
মানুষ নই ।' আমাদের আসল পুশজ ছিল যৌবনের বেপরোয়া হাঁস, রঙ্গ- 
ব্যঙ্গ । ভয়-ভাবনাহীন সহজ স্ফতিতে ও খুশিতে ওই স্থলতা ছাড়িয়ে আমরা 
ফুটে উঠাছলাম । ফুটে ওঠাটাই যৌবনের দাবী ; আমাদের কাছে তা একটা 
মজা,_ওই ছোট শহরে তো। একটা নতুন ব্যাপার,__সৃষ্টছাড়া, ঘুমভাঙানিয়া 
একটা উপদ্ধব । তা ঠেকাবার উপায় নেই । এমন কি,মনে মনে চ্টলেও, 
দুষ্কর 'ছিল-_প্রকাশ্যে না, মনে মনেও না । আমাদের নাটকের আভনয়, 
খেঈার আয়োজন, সাহিত্যের আলোচনা, গীতোৎসব,-একভাবে না একভাবে 


*মুন্রণের অনতিপূর্ধে ১১৩৭৫ তারিখে আমর৷ তাকে হারিয়েছি । তখন তার বয়স 
৮২ পৌরয়োছিল। 


১১৬ রূপনারানের কুলে 


এসবের আকর্ষণ প্রবল ; শহরের নাতি-প্রসন্ন ভদ্রুলোকদেরও ত৷ সব অপছন্দ 
করা অসম্ভব । 

এ'দো পুকুরের জলেও এ কারণে নাড়াচাড়। পড়ে_ম্রোতের জল ঢুকবার 
ফাঁক খু'জে নিয়েছে । 


নাস ও জপ 

পুকুরের এ-পার জিজ্ঞাসা করছেন £ ভবেশ চৌধুরীকে চেনেন, না ? 

একটি মুহূর্ত শেষে ওপারের উত্তর, হী । তারপর ওপারই জানায়, 
আমরা সহাধ্যায়ী সেপ্ট- পল্স্‌ কলেজে । হোস্টেলে থাকতাম এক সঙ্গে। 

এপার £ আমরা এক সঙ্গে ছিলাম পরে সুকিয়া স্্ীটের মেস্-এ। 

পুকুরটা এ'দো নয় ছোটও নয়, মাঝারি । কিন্তু রঙ্গীন হালদারের কণ্ঠ 
মাঝাঁর নয়, ওপারে সে স্বর সহজেই পৌছায় ; “ওপারের কণ্ঠ কিন্তু তত প্রবল 
নয়-সম্ভবতঃ শিষ্টাচারের রীতিতেও সে স্বর নিয়মিত। এপার উচ্চ কণ্ঠে 
আলাপ-পরিচয় তাই জমায় স্বকীয় স্বাচ্ছন্দ্যে । সে উচ্চক্ঠ জানালে, ভবেশ 
চৌধুরীর মুখে আপনার কথা শুনতাম । .."*আপান 'সবুজপন্রে' লেখেন_ 

“ওপার যেন অপ্রত্যাশত কথা শুনল । কুত্হলী দৃষ্টি চোখে--এঁক 
চ্যালেঞ্জ, না গুণগ্রাহতা ? দু" মুহূর্ত পরে একটু সলজ্জ শিষ্টকণ্ঠে উত্তর £ 
ও-নামে আরেক জনও লেখেন । 

এপারের সানন্দ সবল কণ্ঠে ঘোষণা £ সে 'লিখুক। কিন্তু জান 
আপাঁন লেখেন । ওপার নীরবে 'স্মিতমুখে আর একবার জানায়__সে বিশেষ 
1কছু না । 

অস্বীকার করা যায় না। দাত মেজে মুখ ধুয়ে ওপারের ভদ্রলোক ঘাট 
ছেড়ে পাড়ে উঠাঁছলেন। এপার থেকে দাদা তেমান স্বচ্ছন্দ আগ্রহে 
জানালেন, একবার আসবেন আমাদের বৈঠকখানায় আলাপ হবে। ওপার 
জানায়, আচ্ছা । 

আমাদের বৈঠকখানার পাশ দিয়েই ওপারের বাসিন্দাদের যাতায়াতের 
পথ । এমন নয় যে, এই আমন্ত্রণ-রক্ষা আয়াস-সাধ্য । বরং তা না রাখাই 
আয়াস-সাধ্য । আমরা পাড়ে দাঁড়য়ে এপার-ওপারের কথা শুনছিলাম । 
দাদ জানালেন, বৃঝাঁল 'সবৃজপত্রে'র লেখক সুরেশ চক্কবতাঁ। দেখাব, কেমন 
কালৃচারড্‌ লোক । “সবুজপন্রে'র লেখক এই পারিচয়-প্রা্তি যে একটা হাট 
শহরের জীবনে কী পরিণাঁত দেবে বা দিয়েছে তা তখনে৷ অজানা, এখন 
জানার প্রশ্থও নেই। সময়টা বোধ হয় তখন ১৯১৮ সালের মে-মাস । 


সবুজের আঁভযান ১১৭ 


তখনো পাঁওচোরর ( রঙ্গপুরের সবপৃজ্য ঈশান চক্রবর্তী মহাশয়ের পুন্ন ) সুরেশ 
চক্রবতাঁ “সবৃজপন্রে'র একমাত্র সুরেশ চক্রবর্তী হয়ে ওঠেন নি। পরবতী 
কালের 'বারাণসী'র ( 'উত্তরা'র ) সুরেশ চক্রবতাঁ, ৰা সঙ্গীতাচার্য ( মৈমন- 
সিংহের ) সুরেশ চক্রবর্তীর নাম আমাদের তখনও জানবার কথা নয । এ 
সুরেশ চক্রবতাঁ টাদপুরের বহরিয়া গ্রামের । সবুজপত্রেও তার নিজ নামে লেখা 
বেশি নাই। নাম-সমস্যা বিদূরিত করতে সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী মহাশয় 
তাকে নাম দেন '্শ্রীমণি গুপ্ত' । সে নামেও বোশ লেখা “সবুজপন্রে' নেই । 
সত্যই পাঁরমাণে তার লেখা অন্প। সাধারণের নিকট তার লেখক পাঁরচয় বা 
তার লেখার পাঁরচয়ও স্প্ট নয়। বিশেষ একটা জোর তার লেখার বিষয় 
ও রচনা-পদ্ধাত । আজ তান সৌভাগ্যক্রমে জীবিত এবং অশীতি-উত্তর 
জীবনেও জ্ঞান-বিজ্ঞানের তাবং বিষয়ে জিজ্ঞাসু মনীষী- দেহে অচল না, কিছুটা 
বার্ধক্যস্পৃষ্ট মাত্র । ১৯৭০-৭২-এও, সুরেশ চক্ুবতাঁর দেহ-মনের প্রদীপভাতি 
একেবারে 'িবাঁপত হয় 'ান, আশ বছরের কাঠন কঠোর জীবন-সংগ্রামেও 
না' ভাবুক চোখে এখন ছাঁন পড়েছে, কিন্তু মৃদুস্ভাব ও কৌতৃহলের 
দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয় নি। পণ্টাশ-পণ্টান্ন বংসর পূৃবে 'সবৃজ সঙ্ঘে'র উদ্যোগ- 
আয়োজনের উৎস ছিলেন রঙ্গীন হালদার ; তার ভাবনার উৎস সুরেশ 
চকুবতী । 


ভাবনা ও মানুষ £ স্ত্রত্রেশ চক্রবর্তী 


সুরেশবাবু বি.এ. পাশ করেন, এম.এ. পড়তে গিয়েও পড়া শেষ করেন 
নি। বোধ হয় তখন বা তার আগেই পাঠের খরচ নিজেই অর্জন করতেন । 
িছুকাল 'সঞ্ীবনী'তে কৃষ্ণকুমার মিত্রের সহকারী হয়োছিলেন । আর সম্ভবতঃ 
সত্্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের পরিবারের কারও হয়েছিলেন গৃহ-শিক্ষক | 
সে সূত্রেবা যে সূত্রেই হোক এসোছলেন প্রমথ চৌধুরী মহাশয়ের সান্নিধ্যে । 
তবে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যে ও চিন্তার সঙ্গে তার পাঁরচয় আরও অনেক-অনেক 
প্বে। 

াদপুরের বাবুরহাট স্কুলের হেড্মাস্টার 'পুণ্যশ্লোক সারদাচরণ দন্ত 
( শান্তীনকেতনের অধ্যাপক হীরেন্্রকুমার দত্ত মহাশয়ের পিতা ) মহাশয়ের 
সাহচর্ষে, হয়তো বা কালীমোহন ঘোষ ( পরে শ্রীনকেতনে অধ্যক্ষ ) মহাশয়েরও 

* মুদ্রণ পর্বেই সেই সৌভাগ্য আমরা হারিয়েছি--এই সুরেশ চক্রবতাঁকে হারিয়ে । 
€১৯।৩।৭৫) সে যে কী দুর্ভাগ্য 9091551191-এর.সে সপ্তাহের +40০90)61 121700 
€010€' থেকে তার আভাস পাওয়৷ যায় । 


১১৮ রূপনারানের কুলে 


সঙ্গে পারচয়ে তার সূচনা প্ববাঙলার টাদপুরের ও-অগ্চলাঁটিতে রবীন্দ্র-প্রাতভার 
এই আলোক শতাব্দীর প্রথম দশকেই 'বাকিরিত হয়েছিল ও দু'জন রবীন্দ্রনাথের 
প্রীতিভামুগ্ধ মানুষের জন্য । কলকাতায়, 'শিলাইদ বা শাঁস্তানকেতনে যে 
দাক্ষিণ্য ছিল অবারিত, 'পাওব-বজিত, পূর্ববাঙলায় তার 'বাকরণে ধারা 
প্রথম যত্রপর হতেন একালের বাঙলার হীতহাসে তাদের কথা কি কেউ 
স্মরণ করবেন 2 রবীন্দ্র-স-স্কৃতির সে প্রসারের তাৎপর্য ক জানবার মতে। নয় ? 
উনবিংশ শতকে কলকাতা সারা ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষাদীক্ষার প্রধান 
কেন্দ্র, তাই বাঙলার জাগরণের পাদপীঠ । প্ববাঙলা সে তুলনায় তখন 
পণ্চাশ বংসর 'পাছিয়ে-পড়া বাউলা । মেদমজ্জা আছে, কিন্তু রস-কষ কম। 
সে অসুবিধ তার ঘুচেছিল শতাব্দীর শেষার্ধে। শিক্ষায় স্থানলাভের সঙ্গে 
তার ওপরে ভেঙ্গে পড়ে তখন ব্রাহ্ম সমাজের বৈশাখী ঝড় । 'আঁদখ্যেতায়' 
বাঙালর৷ ব্রাহ্ম আন্দোলনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে । অথচ কী ব্রাহ্ম আন্দোলন 
কী রামমোহন থেকে রামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দ উদ্বোধন-সবই পাঁশ্চম বাঙলায় 
উদ্ভূত । কিন্তু পশ্চিম বাঙলার কাওজ্ঞকান আছে, আতআদখ্যেতাপনা তার 
ধাতৃতে নেই । অন্ততঃ পূ বাঙলার মত অত দুর্দান্ত হয় নি ব্রাহ্ম আন্দোলন 
পশ্চিম বাঙলায় । অবশ্য ব্রাহ্ম আন্দোলনের সেই জোয়ার 'থাঁতিয়ে উঠতেই 
এসে পড়ে স্বদেশীর বান। তাতেও সুরেন বাড়ুজ্জে, পি. মিত্র প্রথম ও 
প্রধান; কিন্তু বপিন পাল, আশ্বনী দত্ত তখনি সমতুল্য গণনীয় ৷ বাঙালীর। 
বঙ্গভঙ্গে মেতে উঠলেন । পৃরবাঙলা তখন থেকে একেবারে ৪৮০1যা)। ০৫70016- 
তুফানের রাজ্য; “পাকিস্তান” হয়েও নিস্তার পায় না । নাটোরের মহারাজা জগদীন্দ্র- 
নাথের কলকাতায় বাস ও রবীন্দ্র-প্রতিভার স্পর্শ লাভ সুবাদিত । ঢাকায় 
কালীপ্রসমন্ন ঘোষেরও রবীন্দ্র-কীতি চোখে পড়োছিল। আগরতলার তা 
রাজপাঁরবার ছাড়িয়ে সে রাজ্যে সুচ্ছির হয় নি। ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গীতেই 
রবীন্দ্রনাথ প্রথম থেকে অগ্রগণ্য সে কলকাতাই বাকি, ঢাকাই বা কি। 
কিন্তু, প্ৰ বা পশ্চিম বাঙলায় গোড়া ব্রাহ্মদের রবীন্দ্র-স্াহিত্য তা? 
বলে বিশেষ মনঃপৃত ছিল না,_-ত। হিন্দুয়ানীর গন্ধমাখা । আর গোঁড়া ছাড়া 
তখন ব্রাহ্ম ছিলেন কে ঃ পশ্চিম বাঙলায় ব৷ প্ববাঙলায় ৪ প্রবাঙলায় 
রবীন্দ্রনাথের সমাদরের পৰ আসে বিশেষ করে স্বদেশীর সময় । গৌঁড়। 
স্বদেশীরা অবশ্য "হন্দুয়ানী-মুস্ত "স্বদেশী সমাজের, রবীন্দ্রনাথকে 1নয়ে আঁচরেই 
দ্বিধায় পড়ে যায়--কাঁব কেন তাদের ধরাছোয়ার বাইরে? আসলে সকল সমাজের 
গঁড়াব্লাই রবীন্দ্রনাথকে জানতেন আত্মীয় হয়েও অনাত্বীয়। পূ্ববাঙুল। 
তো সত্যই দূর রাজ্য, পশ্চিম বাঙলায় রবীন্দ্র-প্রাতভার আলো বৃহত্তর 


সবুজের আভর্যান ১১৯ 


কলকাতার বাইরে কোথায় সহজ প্রবেশ-পথ পেয়েছিল-সাহতা-মওলী ছাড়য়ে 
শাক্ষিত সাধারণ বাঙালীর মধ্যে 2 সোঁদনে প্ববাঙলার যীরা এক-আধজন দূর 
দূর জেলায় ও গ্রামে তখন রবীন্দ্র-কাব্য ও রবীন্দ্র-ভাবনা বুঝে উঠছিলেন, তারাও 
সত্যই ছিলেন অনেকটা দলহারা, সঙ্গীহারা, ঘরের বাইরে সমাজে প্রায় একক । 
তুলসীতলার এক-একা9 মাটির প্রদীপ । রবীন্দ্রালোকে পলতে জ্বালিয়ে 
তারা আঁঙনার আধার খাঁনকটা সাঁরয়ে দিতে চেষ্টা করতেন ৷ চাদপুরের 
ও-মণ্চলে হয়তো তাই ঘটোছিল বাবুরহাটের হেড্মাস্টার সারদা দত্ত মহাশয়ের 
জন্য । সুরেশ চক্রবর্তা তার সান্নিধ্য পেয়োছলেন ছাত্র হিসাবে । তবে সুরেশ 
চক্ুবতাঁ অনন্যসাধারণ, মেধাবী ব্রাহ্মণগোষ্ঠীর উত্তরাধিকার-ও হয়তে৷ গণনা 
করা উচিত । আর সেই উত্তরাধিকার বশেই তার গ্তানুগ্রাতিক কার্ষপরম্পরার 
মধ্যে দেখা দেয় কখনো বিদ্রোহের আঁ্কিরত।, কখনো বিচ্ছি্ত৷ । 

সুরেশ চক্রবর্তী স্কুলের শেষে পড়তে আসেন কলকাতা সিটি কলেজে; পরে 
সেন্ট পলস্‌ কলেজে । রব্রাহ্মভাবের বাঁনয়াদটা ভালোই হয়োছল, তার ওপর 
পড়ল খ্বীস্টীয় ভাব-জগতের আলোক । ইংরোঁজর আস্বাদন হেরম্ববাবুদের কৃপায় 
তীপ্তিদায়ক হয়োছল । ইংরেজ অধ্যাপকদের সাহচর্ষে সে সঙ্গে এল ইংরেজ 
চাঁরন্রের গ্রাত শ্রদ্ধা । ইংরেজ ভাষা, সাহত্য, জীবনচর্যা, এমন কি, তার 
পাম্রাজ্য ও সাম্রাজ্যবাদাীবরোধতা_সব নিয়েই তো সেই ইংরেজ চারন্র। 
িপীলংকেই ধরা যাকৃ_-কাংস্যকগ্-কবি কিপলিং' বলেই তাকে প্রথম জানতাম 
“প্রবাসী'র একটি প্রবন্ধের শিরোনাম থেকে । মিথ্যা নয় সেই নাম ; 'ব্রাটশ 
সাম্রাজ্যবাদের কাঁবই কিপাঁলং। তবু আরও একটু কিছু কিপালং। আমরা 
তো।তার নাম করলেই আবৃত্তি করি--01; 8৪85 1559১ ৪00 ৬631 
15 ৬/951, 2110 17667 11)6 (%/810 91211 176০ কিন্তু জানি না, সুরেশ- 
বাবুই প্রথম বলোছলেন,_তার পরেকার পঙ্্তিগুলি ঠিক বপরীত অর্থের £ 

80 01616 15 106161)67 172956 1801 ৬/691, 80910611001 1731664) [501 
1311101)) 

$/1)61) (৮৮০ 900108 10191) 919100 1909 (0 6906) (70051) 11)০% 
900)6 0171 (185 6170 01 1106 172110). 41116 391150 ০01 12985 270. 
$/০৪৮-এর কথাটির এইটিই বিশেষ মর্মবাণী তা কি আমরা জান ? জানতাম 
না। সুরেশবাবুর মতে এই ইংরেজের নবেদনও স্মরণীয় £ 

[010 0০90 ০ 1719915, 96 ৬10]. 05৩ ০1 
1,651 ৮6 601291-1691 ৮/6 (017561. 
সুশেবাবুর থেকেই এই চ২5০6$5197791 প্রথম শুনি । সে বোধ হয় ১৯১৮/ 


৯০. রূপনায়ানের কূলে 


১৯১৯৯-এর কথা । সেই সঙ্গে পাই 'জাঙ্গল বুক' দু'খণ্ড, বুঝি তার তাৎপর্য । 
আীঁবজগতের সঙ্গে মানুষের জগত্তের যে যোগাযোগের চেতনা পণতন্ত্রে 
মধ্যে দবপাঁয়ত হয়ে আছে-আজ তা ভারতবাসীর নয়, আজ ইউরোপীয়- 
দেরই তা আঁধকৃত-_-তারাই প্রাঁথবী চিনে নেয়, তাই পরঁথবীও তাদের চিনে 
নেয় । আকাশ থেকে ভূধর পর্যন্ত তাদের যে-অধিকার এত প্রত্যক্ষ তা 
শুধু বৈষাঁয়ক লোভের তাড়নায় নয় | ব্রাহ্ম-সত্যের সঙ্গে জগং-সত্যের যোগে ; 
সেই অপরাজেয় প্রেরণাই--ও প্রাণায় স্বাহ৷ । এই মন্ত্রটারই জয় । আমরা তা 
বুঝি না, ওরা তা মানে, ওদের বিশেষ প্রস্থান ওদের আয়ন্ত। শ্রীস্টায় ধর্মজীবন 
সামঞ্জস্যপূর্ণ; জীবনকে ওরা মিথ্যা মনে করেনা । প্রাণ ওদের তাই 
প্রবল। তাতেই দেহের বল, মনের ওৎসুক্য, আধ্যাত্মিক উৎব্রার্ত- সবই 
ওদের অনেক সুস্থ, অনেক সবল । সুরেশবাবুর চোখে ইংরেজ চরিত্র এসব 
দিয়ে গড়া, সাম্রাজ্য তাদের সেই প্রাণশান্তরই প্রকাশ । আর সাম্রাজ্যের 
লোভে, লুষ্ঠনে ঘটে সেই রাজদিক ইংরেজ চরিঘ্রের বিকৃতি, খ্ীস্টীয় বিবেকের 
দানাবক বিকার । 

বলা বাহুল্য, সুরেশবাবুর এই সব ভাবনা আমাদের চালনা করত, তা 
নয়। আমরা চলতাম যৌবনের হাঁস-গপ্প-উৎসাহের উচ্ছাসে- ছোট 
ইংরেজকে জান, বড় ইংরেজকেও ভূলতাম না, ছোট ও বড় ইংরেজের দুই 
রূপ। 

অবশ্য বছর গ্রাড়য়ে ১৯২২-এর দিকে ঞাগয়ে যেতে না৷ খেতে এই সুরেশ- 
বাবু তার ইস্কুলের চাকর ত্যাগ করে ভেসে পড়লেন স্বরাজ-সাধনার উজান 
গঙ্গায়_তখনে। গান্ধীজীর পথ অপেক্ষা রবীন্দ্র দৃঁষ্টতেই তার প্রেরণার,_আর 
পাঁরবার-পাঁরজনের একমান্র অবলম্বন তার মাস্টার জীবনের স্বপ্প উপার্জনে । 
এসব বাধা তাকে তখন ঠেকাতে পারে নি। আর সে গঙ্গায় ভাটা পড়তে 
বছরের পর বছর জীবকাহার৷ এই আত্মাভিমানী পুরুষ অনশনে অর্ধাশনে, 
ইস্কুল মাস্টারর এঘাটে ওঘাটে ঠেকৃতে ঠেকৃতে, শেষ অবাঁধ যুদ্ধের দিনে 
জীবিকার দায়েই ঠেকেন গিয়ে এ. আর. পি" উীর্দি-পরা এক কর্মীর কাজে । 
কারণ, তাতেই র্যাশন-লাভ তখন সম্ভব । আর র্যাশন অভাবে সেই মন্বস্তরে 
অর্ধাশনও অসম্ভব । কিন্তু সে-সব অন্য পবের কথা, আপাতত অবাস্তর । 


অবান্তর অবশ্য অনেক কথাই যা বলেছি প্রসঙ্গরূমে নয়, প্রায় প্রসঙ্গ 
আঁতন্রম করে । পুকুর পারের, সেই পাঁরচয়-সূচনা থেকে সবুজ সঙ্বে'র 
জল্মকথা শুরু করলে নিশ্চয়ই তা অযথার্থ হবে ৷ কারণ খেলাধূলা আঁভনয় হৈ- 


সবুজের অভিযান ১২১ 


হুল্লোড়কে শুদ্ধ যারা রঙ্গীন হালদারকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধে উঠাঁছল তারা 
'সুরেশ চক্রবত্তাঁকে তখনো জানত না । সবুজপন্র হয়তে। চোখেও দোখ নি। 
তবু দানা বাধতে-বাধতে তার৷ চাইল দলবদ্ধতায়, একটা 'াঁলত পারচয় 
_একটা নাম, হৈ হৈ-এর একটা সূত্র ও সংজ্ঞা । হয়তো আয়োজনের ব্যবস্থা- 
গুলিকে অদৃশ্য আশ্বষ্টের আভাস ফুটিয়ে তুলবে । অন্ততঃ এই আয়োজনগরলিকে 
পরিচালনার জন্য কিছু টা! তোলা প্রয়োজন । এই অত্যন্ত বাস্তব কারণেই 
নামের অত প্রয়োজন । যুবক সাঁমাত, ছান্র সাঁমাতি তখনো ইংরেজী 
নামেই আত্মপরিচয় দিত। বিকল্পে জন্ম নিত বাঙলা নাম কচি কদাচিৎ । 
রঙ্গীন হালদার নামকরণ করলেন “সবুজ সঙ্ঘ', আর সঙ্বের মূলমন্ত্রটা “ও প্রাণায় 
স্বাহা' ৷ তার রূপটা ছিল, নামটাতে তা স্পট হ'ল, আর তাতেই রৃপেরও 
জুটল আত্মপাঁরচয় ৷ নাম থেকে বস্তু, না, বস্তু থেকে নাম দার্শানকদের নিকট ত৷ 
বড় সমস্যা । নাম [জনিলটা অর্থহীন নয়, মানুষেষই হোক বা বস্তুরই, 
_তাতে উদ্দেশ্যের আভাস মিলে । মন্ত্র ও প্রাণায় স্াহা ; আর কর্মসূন্র হোক 
কেন? কাজ-এই দুয়ের মিল ঘটল নামটায়-নামই দলটার আবার মন 
গড়ে তোলার কারণ হ'ল। “সবৃজ' শব্দটা 'নয়ে এল যৌবনের ও নতুনের 
ব্ঞজনা। এসে গেল প্রাণায় স্বাহা মন্ত্রটা' । তাতে দৃষ্টপথে আরেকটা 
জানালা ওঁদকে খুলে দিল । খেল ও অভিনয় ছাড়িয়ে সে দৃষ্টি চলে গেল 
ইতিহাসের সীমায় । বৌদ্ধ সংস্কৃতি থেকে সকল রকমের সাঁহত্য, সঙ্গীত 
ও সংস্কাতির দকেও দলটা আপন থেকেই এাঁগয়ে চলেছে । তাতে আমরা 
বিশেষ ভাবেই বুঝতাম আমাদের ভাবদৃষ্টি জাঁড়য়ে আছে একটা অস্পষ্ট সূত্রে 
সুরেশ চক্রবতাঁ, সবুজপন্র এবং রবীন্দ্র-প্রাতিভার সঙ্গে । সুরেশবাবুর ততাঁদনে 
আমাদের বিষয়ে ওৎসুক্য জন্মেছে । সম্ভবত নামটাতে তান উৎসাহত 
হন। 

কিন্তু এতগুলি যুবকের এই উৎসাহ, প্রাণের সহজ স্ফৃতি তাকে নিরাসন্ত 
থাকতে দিত না । আর, রঙ্গীন হালদারও এমন প্রকাতির মানুষ নয় যে 
'সবৃজপন্রে'র লেখক সেই 'কালচারড্‌ মানুষটিকে' সবুজ সঙ্ঘের থেকে দূরে 
থাকতে দেবেন । সুরেশ চক্রবতাঁ রইলেন দলটার নীরব দার্শনিক অংশীদার | 


সাত ও মাক বাভিতন্র 


সবুজ সংঘের আসর ও আন্ডা যা দিয়ে জমে প্রথম তা ছিল দুর 
অনুষ্ঠান-খেলা ও আভনয়। 


৭, সপনারানের কূলে 


গ্রীত্ের ছুটির দিনগুলিতে ফুটবল খেলার প্রাতযোঁগিতা শহরটাকে খেলার 
মাঠে জড়ো করত । “সবুজ সঙ্ঘে'র খেলার দিনগুলির আকর্ষণ ছিল সব 
থেকে বোঁশ, চিৎকার উত্তেজনা সে খেলা সৃষ্ট করত । অবশ্য খেলার দল 
আরও ছিল । কোনো কোনো দল আসত বাইরে থেকে । তাতে প্রতিদ্বন্দ্িতা 
জমে উঠত । শহরের দলগুলও অন্য শহরের নামজাদা একাধিক খেলোয়াড়কে 
নিয়ে আসত তাদের পুষ্টির জন্য। তারা কিন্তু ভাড়া কর৷ নয়, বরং 
নিমন্ত্রণ করা । “সবৃজ সঙ্ঘে'র-ও এই সংগ্রহ-বিদ্যায় কম উৎসাহ ছিল না । 
সাধারণতঃ বাইরের এসব নামকরা খেলোয়াড়রা যেন বরযারী পাটি । অন্ততঃ 
আগে-আগে তাই দেখতাম । তখন কোচবিহার, নাটোরের খেলার দলের 
দেশে নামডাক। আমাদের শহরে সোঁদনে ওয়েস্টার্ন ক্লাবের পিছনে অর্থব্যয় 
করতেন সুরেন বোস মহাশয় । জমিদার বলে তারও খ্যাঁত। কিন্তু খ্যাতির 
তুলনায় জামদারী নামমান্র, আয় সামান্য, আয়ের থেকেও ভদ্রলোকের মনটা ছিল 
বেশি বড়। সুরেনবাবু আধা-ফোজী শার্ট-দ্রাউজারে ঘোড়ায় চড়ে মাঠে 
আসতেন, দেখে সমীহ করতে হ'ত । এই সুরেনবাবুর আরও একটু কথা 
এখানেই সংক্ষেপে শেষ করি কালক্রম আতব্লম করে । 

সুদর্শন, সুবেশ, সচ্চার্র এই হৃদয়বান্‌ 'প্রিয়ভাষী মানুষট প্রথম যুদ্ধের 
দিনে গ্রেফতার ও আন্তরায়ত হ'ল 'স্বদেশী' সন্দেহে । বাইরের লোকে 
ওজুহাতটা বিশ্বাস করত না-_সুরেনবাবু 'বাবু', তান আবার কেমন “স্বদেশী' । 
কিন্তু ভেতরের মানুষেরা জানতেন অপরাধ না থাকলেও ওজুহাত মিথ্য। নয় । 
যুদ্বশেষে তিনি ঘুস্তি প্রান। জামদারীসূন্রে, ক্রমে কালের নিয়মে আর স্থানের 
গুণেও, সুরেন বোস মশায় তারপর জড়িয়ে যান প্রজা-শাসনে এবং 'প্রজা- 
বিদ্রোহী'দের নানা চক্রান্তে । তা বুঝতে হলে জান৷ দরকার ন্লিশের বংসরগুলি 
দেখা না দিতেই নোয়াখালিতে, 'শন্রপুরায় দেখা দেয় কৃষক আন্দোলন- জীবন্ত 
আন্দোলন, কিন্তু নিছক আঘিক-সামাঁজক ; তার পদ্ধাত অবশ্য জাঁমর 
মালিক ও মহাজনদের বিরুদ্ধে, প্রজার ও দরিদ্র সাধারণের বিক্ষোভ সৃষ্টিতেও, 
অবশ্য জামদাররা সকলেই হিন্দু, আর প্রজার! প্রায় সকলেই মুসলমান । মূলতঃ 
ঘন্টা এগ্রোরয়ান্‌ ও ইকোনমিক, কিন্তু হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের 
ধোঁয়ায়, হ্যাভস্‌ ও হ্যাভনটের সম্পর্কটা কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ততুমীরের 
আমলেও গিয়েছিল, একশ বছর পরেও তা যাচ্ছিল। নোয়াখালি-ন্রিপুরায় 
১৯৩৮-এ জেল থেকে ফিরে সুরেনবাবুকে একবার কলকাতায় তার সুহৃদ সত্যেন 
মিত্রের গৃহে দেখতে পাই । তিনি প্রথম যুদ্ধের দিনে ডোটন্যু,-তখুন 
পণ্ঠাশোধ্ব, আমরা ন্লিশের ডোঁটন্যু, ত্রিশের কোঠায় । প্লেহ-প্রবণ সম্তরম-সমৃদ্ধ 


সবুজের আভষান ১২৩, 


(৫1811650) প্রো পুরুষ অনুজ বন্দীদের প্রাত দ্নেহশীল। কিন্তু আমর! 
(১৯৩৮) 'লাঙ্গল যার জাম তার' দলের মানুষ। সুরেনবাবু স্বপ্প হেসে 
বললেন, 'অপরাধ ত৷ হলে এই-_প্বপুরুষ 'কছু জাঁমজম! করেছিলেন” । তার 
কথায় ক্ষোভ ছিল না, খোচাও না । অকানিম প্লেহের দৃষ্টি তখনে৷ তার 
চোখে । বিনীত মৃদু-কণ্ঠে তাকে আমাদের ধারণাও জানালাম । 

সুরেনবাবু না বুঝলেন ত৷ নয় । বললেন, মানলাম তর্কচ্ছলে, কিন্তু শহন্দু 
জাঁমদারের জাম কেড়ে নাও, মুসলমান পীর-মৌলবীর জাম ছেড়ে দাও" এ 
নীতি তবে কেন ?_ এ প্রশ্নের উত্তর ছিল না। 

সুরেনবাবুর কথ মিথ্যা ছিল না। আমাদের কথাও মিথা। হয় নি। 
তাদের সে অঞ্চলে কৃষক-আন্দোলনের নেতা ছিলেন মৌলবী গোলাম সরওয়ার, , 
[তিনি পীরবংশজ, জাঁমদার ন। হলেও সুসম্পন্ন লোক, জাঁমজমার মালিক । 
বসর আট পরে (১৯৪৬) নোয়াখালিতে দাঙ্গার আগুন লাগে, তখন এই 
এলকা থেকেই প্রথম “কলকাতার বদূলা নেওয়ার' পালা শুরু হয়। সুরেন- 
ঝ।4 ৩খন মহালের কাছা বাড়িতে প্জা-পার্ণ উদ্যাঁপত করতে উপস্থিত 
আছেন। 

আক্রান্ত হ'ল তার কাছারি বাঁড়। চারাঁদক থেকে পাঁরবেষ্টত সুরেন- 
বাবূ বন্দুক সঙ্গে সঙ্গে রাখতেন ; গুল চালাতে বাধ্য হলেন। আক্লমণকারীদের 
এগুতে দেন না । ক্রমে গুলি শেষ হ'ল । তারপর হীতহাসের অনুলেখিত 
এক নৃশংস হত্যার ঘটনাবলী-ভর৷ অধ্যায় । গোলাম সরওয়াররাও ইতিহাসের 
11250791907 1কিস্তু তার৷ মানবতার কলঙ্ক। সুরেনবাবু নিজে ছিলেন সাহসী, 
সম্পন্ন আত্মমর্ষাদাপ্রবুদ্ধ পুরুষ ; নোয়াখাঁল শহরে খেলার উৎসাহদাতা । 
তার গ্রেফতারের সঙ্গে (১৯১৭ ) ওয়েস্টার্ন ক্লাবও অবল্প্ত হয় । 

আমাদের কালে (১৯১৮) সেই দিনে খেলাধূলায় পেট্রনের যুগও শেষ হয়ে 
গিয়োহল। ক্লোডট ফনান্সের দিন আসে নি, স্টেট দায়িত্বরত না। 
চাদ তুলে খেলার দলের দিন চলে ; খেলোয়াড়রা ধার করে খরচ যোগায়, 
তাদের সংগ্রহ করা খেলোয়াড়রা খেলোয়াড় হলেও আর 'বরযাতী' নয়_-তার৷ প্রায় 
ঘরের আত্মীয়ের মত ; খেলাটাই তাদের বড় নেশা । আমাদের দলে যারা 
আসে আমাদের সঙ্গে তারা কিছুদিনের মত এক হয়ে যায় খেলায় । 
খেলার মাঠের পরেকার আন্ডায়, নাটকের মহলায় । খেলায় সবুজ সঙ্ঘের 
নাম যতট৷ [ছল কাতিত্বলাভ ততটা হ'ত না । আমাদের মধ্যে খেলায় প্রধান 
ছিল ( ডাঃ) প্রাণকুমার কর* । খেলায় নামলে তাতেই মন প্রাণ দিয়ে খেলত । 


*১৯৭৬ তার মৃত্যু হ'ল। 


৯২৪ রূপনারানের কুলে 


তাঁর ফুটবল খেলা দেখে নাকি মোঁডক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষ তাকে সাদরে 
কলেজে ভরাঁতি করে নেয় । আমরা জানতাম, তার দুর্বলতা কোথায় । খেলার 
সময়ে কোথাও বাধা পেলে তিনি চটে যেতেন। তাঁকে খেলায় বানচাল করার মুখ্য 
অন্ত্র হ'ল মাঠে খেলায় একটু বোঁশ ধার দেওয়া বা মাঠের বাইরের দর্শকদের 
1দয়ে উচ্চ টিটকারী দেওয়ানো । এসব বাধা না থাকলে প্রাণকুমার খেলার 
মাঠে দূবার । মোঁডক্যাল কলেজের সঙ্গে ল কলেজের খেলার শেষে একবার 
ল কলেজের বিভাতি দত্ত আমাকে বললেন-_ না, তোমাদের প্রাণকুমারকে রুখতে 
আমার প্রাণ বোরয়ে গিয়েছে । রুখবার উপায় ছিল, মাঠে নয়, মাঠের বাইরে । 
পরবাঁ খেলায় সে উপায় ল কলেজের ছান্রুর গ্রহণ করলেন_ল কলেজ ফল 
পেল । অবশ্য এ কৌশল ফুটবলের মতো খেলায় খাটে । টৌনিস-এর মতো 
খেলায় তা অচল । মেডিক্যাল কলেজের গোবিন্দ শর্মার জুটি হিসাবে প্রাণকুমার 
কর সোঁদন কলকাতার টেনিস জগতে দুর্জেয় ছিল। কিন্তু সে কলকাতায়, 
তাতে “সবুজ সঙ্ঘে'র গোঁরব বাড়তে পারে । হরিদাসও ভালো খেলত । 
খগেন্দ্র গুহ, সুশীল রায়চৌধুরী যতটা খেলোয়াড়, তার চেয়েও বেশি খেলার 
উদ্যোন্তা, খেলার দলের সংগঠক । আসলে তাঁরাই লেন “সুজ সঙ্ঘে'র খেলার 
দলের মেরুদণ্ড । 

আম খেলতাম আঁধকাংশের মতো-_মাঠের বাইরে । খেলায় আমাদের 
বাঁড়র নাম বিশেষ ছিল না । বাবা নাক লাট;, ও গুল ছাড়া কিছুই খেলেন 
নি। রঙ্গীনদা ফুটবলে পা ছোঁয়ান নি। আমার বিদ্যা মাঝার-চর্চা করলে 
এক রকম দাড়িয়ে যেত হয়তো । কিন্তু চর্চার অনুকূল আবহাওয়া তখন 
আমাদের বাঁড়তে নেই । আবহাওয়। ও চর্চা মালিত হলে মধ্যম পবটাও 
উত্তম হয় । অথবা, মিলিত না হলে উত্তমও থাকে অজ্ঞাত। এ বিশেষ 
করে মনে হয়েছে আমাদের বন্ধু মাখনকে দেখে । 

মাখন- মাখনলাল রায়চৌধুরী পরে কলকাতা বিশ্বাবদ্যালয়ের অধ্যাপক । 
শুধু খেলাধুলায় নয়, লেখাপড়া, মেলামেশা, বৈষাঁয়ক ব্যাপার-_মাখনের সব 
বিষয়েই খ্যাতিলাভ ঘটেছে । গুণ ছিল, অত্যুৎকষট না হোক যথেষ্ট। 
ভাইদের উৎসাহে ও নিজের চর্চায় ও কার্যকৌশলে সে গুণকে মাখন আমাদেরই 
চোখের সামনে বহুগুণ করে ফেলে । খেলায়ও মাখন ঢাকা কর্মলেজে চ্যাম্পয়ান । 
সর্বদাই পড়াশুনায় এম. এ., পি. এচডি-তে কিস্তি দিয়ে একাদকে বারাণসীর 
কোনো সভার "শাস্ত্রী, অন্য দিকে হয় কলকাতা বিশ্বাবদ্যালয়ে ইন্লামিক 
ইতিহাসের অধ্যাপক । তাই আমর! বন্ধুরা বলতাম মৌলভী মাখনলাল শান্সন! 
অন্ভুত কাও। মাখন আপনার বুদ্ধিতেই অপরকে ছাঁড়য়ে উঠতে জানত, 


সবুজের আভষান ১২৬ 


ছাঁড়য়ে উঠেছলও । দোষে-গুণেই মানুষ মাখন ; মাখনেরও দুই-ই ছিল, কার 
তানয়? তবে কার কোন্টা বেশি কোন্টা কম তা কে বল্বে ? যাদের গুণ 
বোঁশ তাদের দোষটাও বোৌঁশ হয়ে উঠলে নানা অসঙ্গাত ঘটে--কথায় ও কাজে, 
নীতিতে ও রীতিতে, আদর্শে ও আচরণে । তাতে দু-এক সময় অনর্থ-সৃষ্টি 
আনবার্ধ ; না৷ আটকালেই হ'ল । মাখনেরও জীবনে তাই মাঝে মাঝে অনর্থ- 
পাত ঘটেছে । মাখন তাতে আটকায় নি। খেলার মাঠেও না, লেখাপড়ার 
হাটেওনা। কেবল মনে হয় মৃত্যু তাকে ঠাঁকয়েছে অতকিতে, অসময়ে ৷ 
বুমুখী ছিল তার অভিলাষ, সব দিকেই বেশ অগ্রসর । দোষে-গুণে আমাদের 
মধ্যে এমন সফলতা আর কে লাভ করেছে 2 খেলার মাঠেও দেখোঁছ তার 
ওয়াটার্লু জয়ের চেতনা । 

মাখন ছিল অন্য খেলার দলের সংগঠক ও খেলোয়'$ । আমরাও খেলার 
দল হিসাবে আহ-নকুল। বস্তুগত ও পরিবারগত সৌহার্দ্য তবু টিকে ছিল। 
[কু পলের চক্রগাঁতিতে কতকটা ৪1151216) না হয়েও পারত না । খেলার 
মাঠে সে দুর্জয় ; তাই সেখানে সে আমাদের প্রাতপক্ষ, সেখানে সে নিস্তেজ 
হলে আমাদের লাভ । তার বিরুদ্ধে অস্ত্রমাঠের বাইরে উচ্চ পরিহাস ও 
উৎকট চীৎকার । কিন্তু মাখন তাতে অটল । সমান ভাবেই খেলত । মাঠের 
বাইরের বাধা তাকে স্পর্শ না করত, তা নয়। মুখে চোখে ত৷ দেখ যেত । 
খেলার শেষে নেপথ্যে আচরণেও বোঝা যেত সে ভোলে নি। কিন্তু খেলার 
সময়ে নয় । মাঠের বাইরে যাঁদ সে নিবিষ না হয়, সেজন্য তাকে দোষ দেওয়া 
যায় না। চাল্লশ বছর পরে আজ বুঝি-খেলায় আমবা এভাবে খেলোয়াড়ী 
মনোভাব দেখাতাম না। তবে আমাদের খেলা তা এই এক ঘণ্টা, খেলাতেই 
শেষ। তার পরে আমরা নাঁবকার | লেগে যেতাম নাটকের মহড়ায় বা গণ্পে 
আড্ডায় । আর, চিৎকার ভিন্ন অন্য কিছুও আমরা খেলা নিয়ে করতাম না- 
হাতাহাতি, মারামার, িল ছোঁড়াছুশড়, খেলার মাঠে সদলে নেমে খেলা 
পণ্ড করা ও খেলা নিয়ে জুয়োখেলা, -এসব তখন কলকাতায় ও আমাদের 
মাথায় দেখা দেয় নি। একবার একটা ছোটখাটো হাতাহাতি তবু হয়েছিল । 
পাঁলশের দলের সঙ্গে ছিল আমাদের খেলা । পুলিশ বলেই বোধহয় বিরাগ । 
আমাদের খেলোয়াড় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার শেষে তাই তাদের দু 'একজন 
খেলোয়াড়ের হাতাহাতি হয় । ঘুষিতে পুলিশের একজনার নাক দিয়ে রক্ত 
ঝরে, তার৷ থানায় ডায়ার করে দিল। পলিশ সাহেব ছিলেন তখন একজন 
বাঙালি ভদ্রলোক, সুকুমার সেন। খেলায় উৎসাহী, খোলোয়াড়ী সব্বাদ্ধ তার 
ছিল, ভদুতা এবং কাওজ্ঞানও ছিল। খেলার মাঠের ব্যাপার খেলার মাঠেই 


১২৬ রূপনারানের কুলে 


শেষ” আমাদের কথা মতো তান নিজেও এই "সদ্ধান্ত স্থির করলেন । 
অর্থাং পুলিশের কাছে হেরে গেলাম আমরা পুলিশের সৌজন্যে । খেলায় যে 
কতবার কার কাছে হেরেছি, কতবার কার সঙ্গে জিতোছ, তা আজ মনে 
নেই। কিন্তু মনে রয়ে গিয়েছে এই সৌজন্যের কাছে হার । 

ওয়াটাল্* জয়ের মহড়া ঈটনের খেলার মাঠে হ'ত কনা জানি না; 
আমাদের মাঠে ওরকম মহড়া হ'ত । রাজ্য জয়ের কথা আমাদের পক্ষে হাস্য- 
কর। এবং খেলা যে খেলা নয় তা কলকাতায় হীওয়ান্‌ বনাম ইউরোপীয়ানৃদের 
খেলায় অনুভব করতাম । মফঃম্বলের খেলায় রাজনোতিক নেশ৷ ছিল 
না। তবে মাঠ ছিল অনেক, এত খেলার মাঠ বোধ হয় অন্য কোনে শহরে ছল 
না । নোয়াখালিতেও তা দুর্লভ হয়ে গেল। দক্ষিণের একটার পর একটা মাঠ 
ভেঙে নদী খেলার সুযোগও কমিয়ে দিল । খেলার মাঠ প্রায় রইলই না। 
তবু যে খেলা রইল, তাই আশ্চর্য । আর শহরের লোক তাই এসব খেলায় 
ঝুকে পড়ত । আমাদের উৎসাহ-উল্লাসকেও ক্ষমার চক্ষে দেখত । 


নাউঢকন্প পা 


নাটক আভিনয়েই সবুজ সঙ্ঘের নাম। সেই নোয়াখালি শহর বিলুপ্ত । 
সেই সবুজ সঙ্ঘেরও অন্যান্য কীতি-অকাঁতি এই পণ্টাশ বৎসরে প্রায় বিস্মৃত । 
শুধু এখানে-ওখানে হঠাৎ কেউ এই বৃদ্ধদের এখনো মনে করিয়ে দেন “টাউন- 
হলে'র স্টেজে সেই আপনাদের 'সাজাহান' কিন্বা 'সীতা” ॥ হাঁ; আমাদের 
সেই সাজাহান এখন আশীর উপকূলে তথাপি নাট্যাগ্রাহী, নানা শিপ্পের রসিক । 
আমাদের সেই সীতা, এখন ষাট-উত্তীর্ণ “দাদু' কিন্তু পার্ট ভুলে যান নি। 
অনেকেই আমার মত সত্তরের উপকঠে 52115 ০10, 5205 %15102, 52175 
সবুজত্ব । আঁধকাংশই কবে চলে গিয়েছেন তারা বুড়ো হতে পারেন নি, রয়ে 
গিয়েছেন, চিরজীবী ও চিরযুবা, এবং চির সবুজ । যে যা হোক, সোঁদনকার 
ই নাটুকেদের জন্যই সবুজ সঙ্ঘ আবস্মত । এই প্রাপ্যটা তাদের ফাঁক দিয়ে 
পাওয়া নয়। কিন্তু কালও যে ফাঁকি দেয় নি, কেউ কেউ ত৷ স্মরণ করে,_ 
তা'ই আশ্চর্য । 

আজকের দিনের বিচারে নিশ্চয়ই মনে হয়-এমন বা কী ছিল সোঁদনের 
নাট্যাভিনয় ।_একটা অচল আয়োজন । সত্যই তো, পণ্াশ বছরে কত জিনিসই 
এখন অচল । নোয়াখালি শুধু অচল নয়, অতলে, সেই সঙ্গে তার অন্যেক 
শন্রনিসও। সবষে অচল হয় নি, তাই আশ্র্য। এখনকার মতো তখনো 
কলকাতার সাধারণ রঙ্গমণ্চ বাঙলার মফঃস্বলের নাটুকেদের 'মডেল' ছিল। 


সবুজের আঁভযান ১২৭ 


মোঁদনীপুর থেকে একেবারে নোয়াখালির 'ড্রামেটিক ক্লাব, _বিশ্বাবদ্যালয়ের 
“ডকৃট্রেটের' গবেষণার এ একটা বিষয় হতে পারে । উনাবংশ শতকের শেষ 
পাদ থেকে বাঙালি জীবনে পাশ্চাত্য রীতির বাঙলা! থিয়েটারের বিস্তার কত দুত! 
বাঙলার বাইরেও কত ব্যাপক, সে সঙ্গে কত বিচিত্র । বাঙালির হীতহাসের 
এগুলো একটা অধ্যায় _যেখানে বাঙালি সেখানেই বাঙাঁলর বাঙলা নাটক । 
১৭৯১৫-এ হেরাসিম লেবেদেফের আবির্ভাব । 'ডুমতলা'র থিয়েটার 
থেকে ১৮৭২-এর ন্যাশানাল থিয়েটার, নাটকের ইতিহাসের এই 'কলকাতাই- 
খণ্ড এখন জানা বিষয় । তাই সেই “ডুমতলা'র তিন দনের কথা তিন হাজার 
পৃষ্ঠার গবেষণাও কলকাতার “ন্যাশনাল থিয়েটার, এসে পাঁরতৃপ্ত । ত৷ ছাড়য়ে 
কি অন্য কিছু করবার নেই 2 ঠিকই, আধুনিক বাঙলা সংস্কীত কলকাতাতেই 
ভূমিষ্ঠ ; বিশেষ করে হিন্দু ভদ্রলোক তার বাহন । শিক্ষা-দীক্ষায় বাকী বাঙলা 
দেশটা কলকাতার হয় পাদটীকা, নয় পাঁরশিষ্ । পণ্াশ বছর পিছনে ছল 
পৃখবা৬ণ্, আর মুসলমান বাঙালীর । তবু প্ববাঙলা হঠাৎ এগয়ে যায় 
স্বদেশীর সংঘাতে । থিয়েটারও অনেকটা ওধরনেই এগিয়ে গিয়ে থাকবে । 
( মুসলমান বাঙাল এখনো নাটক-নৃত্য প্রভীতিতে নিরুৎসাহ ) কিন্তু সেই 
থিয়েটারের হয়তো সূচন৷ প্ববঙ্গে আরও আগেই । আঁভজাতরাই নাটকের দল 
প্রথম পুষতেন, লওনেই হোক আর কলকাতাতেই হোক; তারপর হতেন 
দলের “পেট্রন”, মুরুত্বি । কলকাতা শহরে বাবুরাও তাই করোছলেন । 
জাঁমদাররা তাদেরই অনুকরণে কেউ কেউ জলসাঘরের মতোই গ্রামের বাড়িতে 
স্থাপন করেছেন সাময়িক বা স্থায়ী স্টেজ । কিন্তু শিক্ষ। ব্যাপারে যেমন মধ্যবিত্ত, 
নাটকের ব্যাপারেও ইংরোজ শাক্ষতের ক্রমেই তেমান বেশি উদ্যোগী হয়। 
পূজোর সময় নাটমান্দরে দেবীর মুখোমুখি বাধ হ'ত স্টেজ_-নাচ' নয়, নাটক 
হবে। নাট 'মান্দর নাম সার্থক হাচ্ছল। এ বিষয় বাঙাঁলর কাছে আজ 
সুপারচিত। কিন্তু কখন থেকে স্টেজবাধা নাটকের শুরু, কোন্‌ কোন্‌ গ্রামে 
জাঁমদারবাবুরা প্রথম যাত্রা ছেড়ে, বা যাত্রার সঙ্গে, স্টেজ-বীধা থিয়েটারের আয়োজন 
করেন ; যান্রাগ্ান, কাঁবগান, তর্জার স্থানীয় পেন্রনরা কেমন করে ধিয়েটারেরও 
পেট্রন হলেন ; কোন্‌ শহরে কিম্বা মহকুমায়, ব৷ বড় বড় গ্রামে ইংরেজি-পড়া 
“বাবুরা' বছরে দু-একবার করে থিয়েটার করতে উদ্যোগী হলেন; ক্লমে পাকা স্টেজ 
প্রায় নিয়মিত ক'রে তুললেন-বছরে দু*"একবার করে নাটকের আভনয় হবেই 
খুজাপাবণেই এসব সূত্রে কেমন করে সারা বাঙলার শহরে গ্রামে, 
নারীপুরুষ, ইতর-ভদ্রু সকলে বালী ধাচের থিয়েটারের সঙ্গে পারচিত হয়ে 
'উঠলেন, পাশ্চাতা নাট্যধারার ধ্যান-ধারণা না জেনেও বুঝতে পারেন থিয়েউরের 


১২৮ রূপনারানের কূলে 


মাঁহম] ; সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষের রুচিরও নতুন দিক খুলে যেতে লাগল ; 
এসব প্রসঙ্গ এবং নাটকের আনুষাঙ্গক আরও অসংখ্য বিষয়--বাঙালি থিয়েটারের 
গবেষকেরা এ পর্যস্ত সন্ধান করেছেন বলে মনে হয় না। দেশের পূজো।- 
পাবণ ও এসব উপলক্ষ লোক-সংস্কতির একটা মূল অবলম্বন, আধুনিক বাঙালী 
জন-সংস্কাতির মূল একটা উপাদানও তেমানি বাঙুল৷ থিয়েটার রঙ্গালয় । সে 
উপাদান শুধু কলকাতাতেই সাত নয়, কলকাত৷ তার সূতিকাগার । কিন্তু 
যেখানে বাঙালি সেখানেই তো বাঙল৷ থিয়েটার । উত্তর ভারতের কালীবাঁড়র, 
মতোই বাঙালির নাট্যমণ্চ ও নাট্যাভিনয়ের নেশ। বাঙালিত্বের বড় বিজ্ঞাপনী । 
সোঁদন শুন্লাম রাজস্থানের যোধপুরে বতমানে (১৯৭০) বাঙালির ঢারট। 
দুর্গাপূজা হয়। দুর্গাপ্জার সঙ্গেই হ'ত নাটক-দুর্গাপৃজার সমতুল্য উৎসব । 
এখন-_না, আর নাটকের দল নয়, এখন ষোধপুরেও দুর্গাপূজার অঙ্গ নৃত্যনাট্য । 
নাটকে সবন্ুই সকলের 'মডেল" কলকাতার সাধারণ রঙ্গমণ্ট । অন্ততঃ প্রাকৃ- 
স্বাধীনতার যুগে এর ব্যাতিক্রম প্রায় সম্ভব ছল না। আমার ধারণা নানা 
গ্রামের, নানা শহরের, নানা দলের, নাটক আঁভনয়ের এসব তথ্য সংগ্রহ 
ন৷ হলে বাঙলা থিয়েটারের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। এখন তো কলকাতা শহরেই 
পাঁচশ বা হাজার শোখীন নাটুকে দল আছে । কিন্তু এ কথা যাকৃ। 

দ্বতীয় একটা কথাও এরুপ মুলতুবি থাকবে৷ প্রায়ই শুঁনি-আমরা 
বালতী 1থয়েটারের অনুকরণ করতে গিয়ে আমাদের জাতীয় নাট্য-সংস্কাঁত 
গড়তে অসমর্থ হয়েছি। আভনয় ব্যাপারে আমাদের জাতীয় চেতনা 
যাব্রাগানের সঙ্গে বাধা, এ কথাটা মান । কিন্তু তেমান জান, এ চেতন।ও 
গাতশীল, বিকাশশীল ৷ যাত্রাগানও তাই গত পণ্0াশ বংসরে নিজের 
গর্তী বাঁড়য়ে “থয়োত্রকাল যাত্রা পাটি" হয়েছে-নতুন থেকে নতুনতর 
হচ্ছে, কারণ দর্শকেরও রুচি নতুন হয় । বিলেতেও থিয়েটার ব্লমেই গর্জী 
ছাড়াচ্ছে, দগন্ত বাড়াচ্ছে । বাঙল৷ থিয়েটার মূলতঃ বালিতী থিয়েটারের 
কলমের চারা, মাঁট তৈরী না হতেই মাটিতে লাগানে৷ । মাঁটিটা তখনে। 
ছিল যান্রাগানের মাটি । যান্রাগান প্রত্াীতি ছিল গ্রানে-নাচে-ভর৷ দৃশ্যকাব্য ৷ 
ধিস্তু একসময়ে বিলিতী নাটকও অনেকটা ওরকম ছিল মিরাকৃলু প্লে, মাসী 
প্লে। এঁলজাবেথের যুগে বিলাতের জাতীয় জীবনে কর্মচাণল্য জাগাতেই 
সে-সব দৃশ্যকাব্য কর্সকাব্য_এ্যাকৃশন্‌ দ্রাম।” হয়েছে । রঙ্গমণ্ট আকাতিতে 
প্রকুতিতে বিকশিত হতে হতে হয়েছে থিয়েটার | কর্ম বা এযাকশনৃ-এ নাটকের 
প্রাণবস্তু । বাঙালি মনও প্রথম থেকেই পাশ্চাত্য 'খ্যাকশনৃ ড্রামার' কর্ম-প্রাধান্যে 
সাড়া না দিয়ে পারে নি । তাই, 'বাঙল। থিয়েটার এই 'বিলিতী থিয়েটারের 


সবুজের অভিযান ১৪ 


কলমের চারা ।' কিন্তু বাঙাঁলর নতুন মনের মাতে । বাঙালী উপন্যাসও 
তাই, সাহতোও তাই, জাতীয় পাঁলটিক্‌সেও তাই । মাটির গুণে তা বাড়ন্ত, 
মাটিটা নতুন হলেও 'দিশি । পুরনে। নাচ-গানের এতিহ্যও বাঙলা থিয়েটার 
ছাড়াতে পারে ন, অথচ মেনে নিয়েছে কথায় দৃশ্যে এ্যাকুশন-ধর্মী বিলিতী 
নাটকই যুগের নাটক । বাঙালি জীবনের বহু জিনিসের মত তার বাঙালি যাত্রার 
সঙ্গে বালতী থিয়েটারের সম্পর্ক এরূপ ডায়েলেকৃটিকাল। বিবয়ে-কথায় তার চাই 
একাত্মত৷ । আবার, সাধারণের ইল্লযুশন বা চেতনাকে উস্কে দেবার প্রয়োজনে 
তার চাই পৃথকৃত্ব । 'বালতী িয়েটারও নাচ-গানকে একাঁদনে বর্জন করে নি, 
একেবারে তে৷ করার কথাই ওঠে না । অপের।, মিউজিক্যাল কাঁমাড, প্রভাতিতে 
আত প্রাচীন নাচ-গানের ঞাতহ্যকে এরা নতুন করে মুক্তি দিয়েছে ৷ প্রাতিটি 
ধারার 'বাশষ্ট প্রকাশ সন্তব হয়েছে । বাঙল৷ ও বাঙলা থিয়েটার ততট। আধুনিক 
ধর্মে এখনো স্ব-প্রাতিষ্ঠ নয় । একশো বছরেও ত। হ'ল না। বাঙালি সাহিত্যাদর্শ 
অবলম্বন করতে পেরেছ, সমাজ জীবন আরও বিকাশ" হলে নাটকও ওপথে 
সুপাতষ্ঠিত হবে । তাই এ কথা সত্য নয় যে, থিয়েটার আমাদের জাতীয় 
জীবনে ভু"হফোড় ব্যাপার । তা নব বলেই সমস্ত বাঙাঁল ইতর ভদ্রের নিকটে 
[থয়েটারের উৎকর্ষ প্রথম থেকে আবসংবাদিত।--বরং যাত্রাগানই কমে থিয়েটারের 
পথে এাগয়ে এল । আসল কথা, থিষেটার তো জাতীয় জীবনেরই একটা অঙ্গ ৷ 
আমাদের জ্রাতীয় জীবনটাই যে এখনো আধুঁনক যুগধম্নে সুপ্রাতিষ্ঠত হতে 
পাচ্ছে না । প্রাতষ্ঠিত হতে না-হতেই সে ভাঙ্ছে-এবং ফিরে ফিরে গড়তেও 
চাইছে । তবু গড়াটা ভাঙার থেকে একটু বেশি জোরদার । 

নোয়াখালতে পণ্চাশ বছর আগে (১৯১৮-১৯), আমরা যখন থিয়েটারে 
মাতি তারও এক পুরুষ আগেই, “টাউন হল' বা পৌর-ভবন সুপ্রাতষিত 
হয়োছল। আর সে 'হল' তখন থেকেই নাট্য-ভবনও, নর্মভবনও এবং গ্রন্থ- 
ভবনও । যথার্থই 'মীলনভৰন । ছোট হলেও চমৎকার সেই টাউন হল-_ 
বাগানে ঘেরা বাঁড়, প্রশস্ত পোর্টকো, সুরম্য ও সুদৃশ/ ভবনগৃহ । আমরা আজন্ম 
জানতাম টাউন হল অর্থ সাধারণের সভাগৃহ ও আভনয়-গৃহ । পশ্চিমের বারান্দা 
থেকে হল-এ ঢুকলেই অন্য প্রান্তে ( পূৰে ) পাক৷ স্টেজ্‌, সিন্‌ প্রতি । আর 
প্রবেশস্থলের উপরে দেড় তলায় হলের সাক বা দু-আনা জোড়া মেয়ে ও 
শিশু-দর্শকদের জন্য নিদিষ্ট স্থান । অন্ততঃ এক পুরুষ ধরে ও শহরে 'ড্রামোটক 
ক্লাব পাকা । কেরাঁন-কম্নচারী ভদ্রলোকরা মিলে বছরে দু'চার বার অভিনয় 
করেছেন । 'মৃণালিনী'র পরে “দু গশনান্দনী” 'হরিশ্চন্দ্র' থেকে তার৷ ক্রমে 
'চন্দ্রগৃপ্ত' এসে পৌছেছিলেন । কলকাতার সাধারণ থিয়েটার তাদের আদর্শ । 

৯ 


জালা ঢোকার়ও তখন একট পাধারপ এিয়েটোর চিল । গেখানযার গেন্টার 2 
্রবাঙলার মগের অনা চিন অর্রত/ এবার আনিও ঢাকায় অভিনয় 


দেখোঁছ। বোধ হয় ১১১৩ সাল (?), নাটকখান। 'গরলা' | কণক সরোজিনীর 


অভিনয় মনে হয়োছল অগ্ব। অবশা মনে রাখতে হবে, আমার বয়স 
তখনেো৷ এগারো-বারো । 'অপৃব অভিনয়ে'রও সাধ্য হয় নি ঘুমকে একেবারে 
ঠেকিয়ে রাখে । কলকাতার বাইরে ভারতবর্ষে (১৯১৪-১৫ সালে ৷ আর 
কোথাও সাধারণ থিয়েটার ছিল না; এ কথাটা চালু আছে । ঢাকায় কিন্তু ছিল, 
মোদনীপুরেও নাক ছিল, এসব ভোলা ঠিক নয়। শহরে ও জেলায় 
সৌখীন থিয়েটার দল তখন বঙ্গভূমিতে সবত্রই ছিল রঙ্গশাল৷ । জমিদারদের 
ও ভদ্রুলোকদের চেষ্টায় অনেক গ্রামেই স্টেজ বেধে নাটক আঁভনীত হ'ত, অর্থাৎ 
“থয়েটার' হ'ত, তবে কলকাতা তাদেরও আদর্শ । গাঁরশ ঘোষ, অমৃত 
বোসের পরে দ্বিজেন্দ্রলাল, ক্ষীরোদপ্রসাদ তাদেরও নাট্যকার ৷ দু'এক বছর 
পরে পরে নোয়াখালির ড্রামোঁটক ক্লাব এক একজন সুদক্ষ গ্যাক্রকে পয়সা 
দিয়ে কলকাতায় পাঠাত বিশেষ কোনো নতুন নাটকে সে দু-এক রান্ন 
আঁভনয় দেখবে । সেই নাটক পরে এ শহরে তারা অভিনয় করবে, দর্শক- 
সদস্যের নির্দেশ মতো । সে সব আভনয় সামান্য দেখোছি। যা দেখোঁছ 
তখন মনে হ'ত তা অসামান্য । কেদার দাশগুপ্ত মশায়ের আভনয়ের গলাও 
যেমন গানের গলাও তেমন । অমর দণ্ড (গ্রামোফোনে শোনা ) তখন 
গ্যাক্টিং-এর আদর্শ । তা যাঁদ হয় তা হলে মানতে হবে ব্দোরবাবু এ্যান্টুর 
বটেন। এর সঙ্গে ভাবুন তখনকার সেই সাজ-সজ্জার মোগ্‌লাই জাঁকজমক, 
সেই চুমকি দেওয়া রাজার ( বাদশাহী ) পোশাক, মন্ত্রীর পোশাক, স্টেজের- 
চাপকান পর সেনাপাঁত সেন্য-সামন্ত; আর পেশোয়াজ-পরা৷ রানীরা সখীরা৷ । 
আর অদ্ভুততর নোয়াখাল-মণের সেই 'ড্রপাঁসন্' রাজপথ, রাজপ্রাসাদ, 
বাগানবাঁড়, নদী, পৰত, স্টীমার, নৌকা ? --সে দ্রপাঁসনে কী নেই। তাতে 
রূপকথার রাজ্য চোখে দেখতাম । বলা বাহুলা, যা্রাগানে এত চমক নেই_ 
সাজ-সঙ্জা এ ধরনেরই, ত৷ ছাড়া তা স্টেজ নয়, চারাঁদক খোলা, তাই চমক 
নেই। যাত্রার আসরের চারাদকে উৎসাহ, কলরব, হর্ষধ্বান সব অবারত । 
আমাদের ছেলেবেলায় পূরবঙ্গের যাল্রাগান সত্যই যান্রাগান ছিল। তার 
মর্যাদাও ছিল । 'ঘোষালের দল' ছিল সবাধক প্রাসদ্ধ । চাদপুরের উমানাথ 
ঘোষাল, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ভদ্রলোক, দলে দুর্নাতি বরদাস্ত করতেন না। 
সে দলের গীত ও আঁভনয়ও 'ছল সুপ্রাসদ্ধ। স্বদেশীর সময়ে “ফুলারি 
আমলে' 'মীরাবাঈ' পাল! বন্ধ হ'ল--ও পালার বিরুদ্ধে মুসলমানরা আপাতত 


সবুজের অভিযান ১৩১ 


করোছলেন ৷ মুকুন্দ দাসের যান্লার পালায় ছিল সরাসার “ফুলার, আপান্ত। 
সে পবের শেষে মাঝারি ধরনের যাল্লা পাটি ছিল রজকান্তের ও কালীনাথের । 
শেষাঁদকে মুকুন্দও একবার এসোছল। তখন তার অবলম্বন “সামাজিক 
পালা, সমাজ-সংস্কার উদ্দেশ্য । দু-একবার বারোয়ারিতে শহরের কোনো 
“পাড়া” এনেছে কবিগান", এক-আধবার “প্‌”; আর ( বোধ হয় ১৯১৬ 
আন্দাজ ) দোলের আসরে বাঈজীর নাচ-গানও হয়েছিল । ঢপ্‌ ও “বাঈ- 
নাচ অবশ্য আমাদের পক্ষে “আউট অব বাউওস' । স্বদেশী যুগের পরে 
যুবকদের পক্ষে অচিন্ত্যনীয়ও-তখন আমরা স্বদেশীদের ক্ষুদে সাকৃরেদ । 
স্কুলের বাধষিক সম্মেলনে হয় গান, আবৃত্ত, কদাচিৎ নৃত্য ; শেখাতে 
আসবেন কেদারবাবৃ, সম্মানিত সেরা আঁভনেতা । সে আবৃত্তি, সে মহড়া 
প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনেও মুগ্ধ হতাম । দাদার তাতে নাম ও 
নেশা ছিল। রুপে গুণে আমার স্থান নগণ্য । আঁভনয়ে জন্মাবীধ পেয়োছ 
কোকিলের বপ, তাতে কি? সবুজ সঙ্ঘের আভনয়ে কখনো হাস্য কৌতুকের 
ভূমিকায় ছিলাম অল্সো রেন্‌ (9159 £2 )। 

নাট্যধারার এই নাঁত-নাটকীয় পাঁরপাশ্বিকে 'সবৃজ সঙ্ঘে'র আবির্ভাব । 
মফঃস্বলের নাট্য চেষ্টায় সত্যই তা আভনব। আঁভনেতার৷ সবাই ছান্ত । তখনো 
শিশির ভাদুড়ীর পৰ আসে নি। অবশ্য ইউানিভাঁসাঁট ইনৃস্টাটিউটে তার বোধন 
হয়েছে। বাঙলা স্টেজের 'ইউনিভারসাঁট উইট্‌স্‌" ছিলেন শিশির ভাদুড়ী, নরেশ 
মিত্র, রাধিকানন্দ মুখোপাধ্যায় প্রভাতি । তাদের “ন্দ্রগুপ্ত' আভিনয় পোশাকে 
ুগাস্তরের আভাস দেয়। কিন্তু সাধারণ রঙ্গালয় তাতে নিবিকার ছিল। আঁভনয়ে 
যুদ্ধজয়ের উৎসবে (১৯১৯-২০) ইডেন গার্ডেন-এর প্রদর্শনীতে শাশিরবাধুর 
নেতৃত্বে সীতার আভনয় সবসাধারণের প্রধান দর্শনীয় হগে পড়ে ॥। ম্যাডান্‌ 
কোম্পানি তখন 'ফিল্ম-এর সঙ্গে বাঙলা নাট্যাঁভনয়েও মুনাফার আচ পেল । 
ম্যাডান-থয়েটারের আহ্বান অধ্যাপক শিশিরকুমারকে নিয়ে এল পেশাদারী 
রঙ্গমণ্টে। তারপরেই 'নট্যমান্দরে' দেখা দিল শাশরবাবুর স্বকীয় উদ্যোগ, 
যোগেশ চৌধুরী মহাশয়ের 'সীতা' নাটক 'নয়ে । প্রায় একই সময়ে 'স্টারে' আর্টস্‌ 
থিয়েটার্স-এ ( স্টারে ) তনকাঁড়বাবু, অহীন্দ্র চৌধুরীদের 'কর্ণারজনে প্রকাশ । 
দু'য়ে মিলে বাঙল। থিয়েটারে ঘটে পবাস্তর। এটাই বাঙল৷ রঙ্গমণ্ে 'ইউনিভাসাঁট 
এ্যাক্টর' পব বলে পারিচিত। ঘযাঁদও বশ্বাবদ্যালয় তার এই প্রান্তন ছান্রদের 
বিশেষ খোজও নিত না। 

সরস্বতীর দ্ট মন্দির_আমাদের আভনয়ের উৎসাহদাতা ডঃ ভোমিকের 
কথা । “একটি বিদ্যামান্দর, অপরাট নাট্যমান্দর 1 থিয়েটারের নামে তান 


১৩২ রূপনারানের কুলে 


পাগল ছিলেন। কথাটা একটুও মিথ্য/ নয়। শিশিরবাবূদের আগে বিশ্ব 
বিদ্যালয়ের ছাপ ছিল কোনে নাট্যরথীর ? ছিল না । গিরিশবাবূরা সরস্বতীর 
আশীবাদ পেয়োছলেন নাট্যশালায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে নয় । নাটকের নেশ। কা 
ভাবে প্রতিভার আত্মপ্রকাশ সম্ভব করে গিরিশ ঘোষ, অমৃত বোস প্রভৃতি তার 
প্রমাণ। বিনোদিনী প্রভীতি আভিনেত্রীরা তার আরও বড় প্রমাণ । কারণটা 
এখনো৷ বোঝ যায়__সোঁদনে নট-নচীদের সুনাম এবং সম্মান আমাদের সমাজে 
ছল দুর্লভ । দুর্ভাগা দেশের দুর্ভাগ। দ্রযাডশ্যান্‌ । চিরিত্র' বলে কোনে 
জানস থাকলে আঁভনয়ে নামতে নেই । ঠাকুরবাঁড় বোধ হয় তা অগ্রাহ্য 
করেছিল। জ্যোঁতারন্্রনাথের জন্যই সে বাঁড়তে নাট্যাঁভনয়ের প্রাদুর্ভাব । 
কিন্তু থিয়েটার ছোয়াচে ব্যাধি । রবীন্দ্রনাথ কত কবিতা, গণ্প-্উপন্যাস লিখেও 
পারলেন না নাটকের নেশা ছাড়তে, আভনয়ের নেশা কাটাতে । কিন্তু তাদের 
বাঁড়র আঁভনয় ছিল অনেকটা গ্োষ্ঠীগত,-শিন্প সৌখীনতা, একটা 
আ'ভজাতিক বিচ্ছিন্নতা ও আত্মপ্রবণ্ণনা তাদের ছিল । ১৮৭২-এর সাধারণ 
রঙ্গমণ্চ 'বশ্বাবদ্যালয়ের স্পর্শবাঁত, আবার ঠাকুরবাড়রও তা অগ্রাহ্য । 
জ্যোতিরিন্্রনাথ ব্যতীত ঠাকুরবাঁড়ও সাধারণের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে ন। 
নেশাকে পেশা করতে তাদের রুচি হ'ত না । প্রয়োজনও ছিল না । আসলে 
নেশা ও পেশার মিলনেই রঙ্গমণ্টের বিকাশ সুসম্তব । পেশাদার নট-নটী ও 
নাট্যকারর৷ সামাজিক মর্যাদা ও বিশ্বীবদ্যালয়ের ছাপ না পেয়েও বাঙালি নাট্য- 
শাল! গড়ল, চালু র্ুখল। কিন্তু বাঙল৷ সংস্কৃতির নাট্যপ্রস্থান ওভাবে গড়ে 
তোল৷ সম্ভব হ'ল না। 

নোয়াখালিতে আমরা যখন নাটকে মাত তখনো শিশির ভাদুড়ী সাধারণ 
রঙ্গমণ্ডে যোগদান করেন 'ন--তবে তখন সাঁক্ষক্ষণ। ইউনিভাসিটি ইনৃস্টাটিউট- 
এর আঁভনব রীতি-পদ্ধাতি সাধারণ-লভ্য ও সাধারণ-গ্রাহ্য হয়ে উঠতে একটু 
দেরী ছিল। চার-পপাচ বংসর পরেই কলকাতায় দেখা দিল একাঁদকে 'নাটা- 
মান্দর' অন্যাদকে “আর্ট থিয়েটার । অবশ্য দুয়ের বাইরে রবীন্দ্রনাথের 'বধামঙ্গল” 
'শারদোৎসব', “বসর্জন' প্রভাতি অসাধারণ আয়োজনও ছিল । কিন্তু সাধারণ 
রঙ্গমণ্টে এই ইউীনভাসাট-ছান্রদের আ'বর্ভাবে বাঙল৷ নাট্জগতে এল যুগান্তর, 
যা '“ডাকঘর' 'ফান্নুনী'র আভনয়ও আনতে পারে 'ন। ইংরেজি সাহতো 
'ইউনিভাসাটি উইট্‌স্*দের দানে এলিজাবেথীয় উজানের সূচনা-যে উজানে 
শেকৃসপীয়রের সমুদ্তব । কন্তু আমাদের সাহত্যে নাট্যাশস্পে কলকাতা 
শবশ্ববদ্যালয় ততটা গৌরবের দাবী করতে পারে না। 

সাময়িক বিষয়ের নাটকে প্রথম যুগে দর্শকদেরও 'নাটুকেদের, মতই ছিল 


সবুজের আভষান ১৩৩ 


আগ্রহ । রাজনোতিক চেতনাও তাদের তখন কম প্রবল ছল না। রাজনৈতিক 
নাটকের দুঃসাহস পুলিশই দমন করলে ; উপেন দাসের দুঃসাহসই তার উপলক্ষ, 
লোকটা বিদ্রোহী । পুলিশ আইনে সামাজিক নাটকও প্রায় ব্যাতক্রম হয়ে 
পড়ল । বিশেষ করে, মণ্ের মাঁলকরা প্ীলশকে মান্য করে,_-তারা লোকসান 
দেবে? কুলীনকুলসবস্ব'র এঁতিহ্য ছেড়ে পৌরাণিক ও এীতিহাসিক বিষয় 
রঙ্গমণে তখন প্রশস্ত হয়ে ওঠে । সাঁহতোর মতোই তখন এঁতিহাসিক নাটক 
রোমান্সের ও রাজনীতির ঝোঁক মিটয়েছে। পুরু বা পৃর্থীরাজের নামে 
ধোঁয়ার ছল করে পরাধীন বা নিঃপীড়তের চোখের জল ফেলা যায়। 
পৌরাণিক নাটকে বিষয় বলে নটউজীবীদের পক্ষে প্রচালত ধর্মীবশ্বাসেরও 
আশীবাদ ল্মভ সম্ভব। এভাবেই বাঙল৷ সাধারণ রঙ্গমণ বাকা-চোরা পথে 
সমকালেরও জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষ। করেছে, তা সত্য । গারশবাবৃরা 
দুঃসাধ্য সাধন করোছিলেন_অনাবাঁদ জামতে ফসল যলানো । রবীন্দ্রনাথও 
অসাধ্য সাধন করছিলেন- অবশ্য টেরেস্‌ গার্ডেনং-এ_সেট৷ নাঠ্যাঁভনয়ের 
পাবলিক পার্ক নর । কিন্তু পুলিশের চোখ, ধামিকতার ঝোঁক ও শেষাঁদকে 
'হন্দ্র-স্বাজাত্োর প্রবল প্রভাব--এসব নান৷ রকমের হেরফেরে বাঙলার জাতীয় 
নাট্যধারা সুস্থপথে সৃষ্টি হতে পারে নি--না অভিনয়ে, না নাটক-রচনায়, 
না নাট্য-চেতনায়,_অথচ চেষ্টা চলেছে আজ প্রায় একশ বহর । 

প্রাণ আছে. কিন্তু স্ফুতি ব্যাহত-এমনিতর রঙ্গমণ্টে ইউানিভাসিটি 
আটিস্টরা সুস্থ রোমাণ্টিক প্রাণস্ফৃতির সম্ভাবনা 'নয়ে এসেছিলেন, বিশের 
দশকে । তাও সার্থক হয় নি। অভিনয়ে তারা যুগান্তর ঘটান । তবে 
তা রোমাপ্টিক ধারায় অভিনয় । বান্তর কলাকৃতিত্ববাদী “সীতা 'কর্ণীর্জন'- 
এর রোমাণ্টিক চমক যতটা চোখ ভূলাল, “চরকুমার সভা”, “শেষরক্ষা' 'যোড়শী, 
ততটা মন 'ফাঁরয়ে আনতে পারল না। বরং 'নটীর প্জা'র পরে “চন্রাঙ্গদ।', 
চগ্ডাঁলকা” মাজিত মন কেড়ে নিলে--'নৃতানাট্য' নতুন পথ খুলল । নাট 
জগতে রোমাণ্টিক ধারাই প্রবল থাকে । 'নবান্ের আঁভনয় বাঙল৷। নাট্য- 
ধারার অনাবষ্কৃত প্রাণউৎসের প্রথম সন্ধান দিল--রোমাণ্টক ধারা থেকে বাস্তবে 
ফেরা ।_ লোকজীবনই নাটকের উৎস। নাটকের শিস্পকলা--বাচগ্রের সমন্বয়ে 
এঁক্যের স্ফতি। বাঙলা নাট/সাধনায় 'নবান্ন* আনে এই বোধ, তা তৃতীয় পৰ। 
বলতে বাধা নেই-সেই চেষ্টাও সম্পূর্ণ সার্থক হয়ীন। বড় দুত গণনাট্য 
সঙ্ঘ ছড়িয়ে গেল, গঠনের স্তর পেরুবার পূর্বেই । ছিন্নমূল বাঙালির জাতীয় 
জীবনই এখন আত্মন্রষ্ট । তার মধ্যেও তবু টি'কে আছে বাঙলা থিয়েটার, 
বাঙল৷ ফিলৃম্‌, আর জন্মান্তারত নতুন যাত্রা । দেশাঁবভাগের পরেও বাঙালি 


১৩৪ রূপনারানের কুলে 


প্রাতভা আভনয়কলার ক্ষেত্রেই 'বাশিষ্$ আত্মপ্রকাশে সার্থক হয়েছে । এসব 
দেখে এমন আশাও হয়, এবার হয়তো বাঙালি সত্যই নতুন নাটকেরও সৃষ্টমন্্ 
আয়ত্ত করতে পারছে । 


পাদপ্রদীঢপন্স আঢতলাঢক 


শাশর-যুগের প্রাকৃক্ষণে নোয়াখাঁলতে “সবুজ সং্ঘে'র প্রকাশ, তখন 
সান্ষক্ষণ। বছরে একটি করে নাটকের অভিনয় । আর সবুজ সঙ্ঘের কালের 
হিসাব হয় অভিনয়ের নাম দিয়ে । দুর্গাদাসের বৎসর, রাণাপ্রতাপের বৎসর, 
মেবার পতনের বংসর, সাজাহানের বংসর, বঙ্গে রাঠোরের বংসর, চন্দ্রশেখরের 
বৎসর, 'বসর্জনের বংসর, আর শেষে 'সীতা'। মাস দেড় দুই মহড়ার নাম 
করে আভনয়ের প্রস্তুতি চলত- অর্থাৎ িলেঢালা মহড়া । আঁভনয় তো 
নয়, যেন দুর্গোৎসব । আগমনীর আগে থেকে তার আয়োজন, বিজয়ার পরেও 
তার বিস্তার । অথব হিন্দু বাঁড়র বিয়ে-_পাক। দেখা, গায়ে হলুদ, কত তার 
আয়োজন । নাটক ঠিক করা, পাকা দেখা, তারপর মহড়া । মহড়ার প্রথম- 
দিকে টাউন হলের স্টেজে হ'ত সকালবেলা-__অর্থাং বেলা ১০।১০]টা থেকে 
১।১॥টা ৷ মহড়ায় দাদা ( রঙ্গীন হালদার ) শিক্ষক । দাদা কিন্তু আশ্চর্য 
ভালে! শিক্ষক ছিলেন- মেয়ে-পুরুষ সকল ভূমিকা সমান ভাবে শেখাতে সমর্থ । 
আর একটা কথা এ প্রসঙ্গেই বলি, প্রথম থেকে 'তান সবাঁদাক দলের কেন্দ্র 
পুরুষ । আভনয় ?নয়েই তাঁর নাম হয়ে গেল 'কঠা'। পাঁরহাসের ছলে 
শব্দটার প্রথম প্রয়োগ হয়োছল ; শেষে তাই হয় প্রায় পরিচয় । শুরুটা 
হয়োছল এভাবে । 'চন্দ্রশেখর নাট্যাকারে আভনয় হবে । নাটকে গুরগন্‌ 
খা ঈর্যাবশে বলছে, আমি কে? কেউ না। বাঙলার কর্তা মীরকাশিম । 
আম তার ভূত্য।' রঙ্গচ্ছলে কে বললে, 'কর্তা রঙ্গীন হালদার, আমরা 
তার ভৃত্য ।, রঙ্গট পাক৷ হয়ে গেল, সবশুদ্ধ জন ৪০1৫০ তার অনুচর । 
এভাবে তার কর্তা নামই চালু হয়। নাটকের আড্ডার নাম মহড়া, 
দিনে পুরে। একটা অঙ্কের মহড়াও হয়ে ওঠে না। টিলে-ঢাল৷ ব্যাপার । 
কোনো কোনোদন কেউ আসে, কেউ যায়-দ্'-একজন 'জলত্যাগে' যায় । 
অর্থাৎ সিগারেট খাবে করার আড়ালে । ও নিয়ে তাদের পছনে লাগ।' 
বন্ধদের একটা কাঙজ্জ। শেষ দিকটাতে “কতা তে৷ ( আশু গুহ রাজাকে ) 
স্পষ্টই বললেন-না, এখন তোরা বড় হয়োছস, আমার সামনেই জলত্যাগ 
করব ।' আশু গুহ রাজা বলেন, “সে কি কর্তা, আপিন কি ভ্রান্ত হলেন 
নাকি, ওদের কথা শুনে 2 কর্তা কিন্তু 'ভ্রান্তই” হলেন-আর ওই ভ্রান্ত হলেন 


সবুজের আঁভযান ১৩৫ 


নাকি' কথাটাও আমাদের দলের আর একাঁটি 'কোড্‌, ফ্রেজ- € পরিভাষা ) 
হয়ে রইল। আশু রাজার আর “বাইরে যাবার' অনুমাতি মিলল না, কার 
পিছনে "গয়ে সিগারেট খেতে হ'ত-ঘেমন নাকি রবীন্দ্রনাথের অনুমতি 
সত্বেও শরৎবাবু তার পিছনে বসেই সিগারেট খেতেন । আশু রাজার আপস্তি 
ছিল- পরীক্ষায় পাশ কাঁর না, 'সগ্রারেট খাচ্ছ, ডান্তার সেন দেখে 
ফেলবেন-বাড়িতে লাগাবেন । ভয়টা বাঁড়র লোকদের নয়, তারা এতাঁদনে 
ছেলের অভ্যাস বুঝে ফেলেছেন । ভয়টা ডান্তার সেনকে । ডান্তার সেন 
আশ্চর্য মানুষ, সকলের হাঁড়র খবর রাখেন । এবং শুধু রাখেন না, শহরের 
বাকী সকলের সঙ্গে সে খবর আলোচ্যের বিষয় করে ছাড়েন । তিনি সে হিসাবে 
শহরের পুরুষ পাঁদাপাঁস, 'হ-গেজেট । আমাদের ওসব বিষয়ে রুচি নেই, 
বরং তাচ্ছিল্য আছে 5101911 100৮/7-এর ৪171911] 12114 1 কিন্তু আমরাও 
সম্মব হলে ডান্তার সেনের সঙ্গে কথা পাড় । ডাঃ সেন স্বয়ং এবং তার খবর 
ও মন্তব্য সবই আমাদের বঙ্গীমাশ্রত হাঁসি-তামাশার উপাদেয় উপকরণ । 
আমাদের মুখে মুখে সে-সবও ফিরত । যাক, নাটকের মহড়ার কথা হচ্ছে। 
সকাল বেলার মহড়ার নামে আড্ড৷ চলত । পরে নাটকের মহড়া । আবার 
হ'ত কখনো সন্ধ্যায়, খেলার শেষে, বা নদীর পারের আন্ডার শেষে, দ্বিতীয় 
দফা! । নদীতে আমাদের অনেকের বাঁড় ভেঙে গেলে টাউন হল একটু দূর 
হয়ে পড়ল । তখন আমাদের বেঠকখানায় মহড়া চলত । সময়ে সময়ে 
খাওয়া দাওয়া সেরে এসে মহড়া চলত রান্র বারোটা অবাধ । পাশের ঘরে 
পরিচারক “রজনী ভাই' সারাদনের শেষে ঘুমোবেন । কিন্তু মহড়া শুনে মজা 
পেয়ে কখনো ঘুম ভূলে যান, কখনো বিরন্ত হয়ে দু' একটা মন্তব্য করেন । 
যেমন, একবার মহড়া হচ্ছে, বোধহয় প্রোমক-প্রোমকার পুবরাগের আলাপ । 
প্রোমক বলছেন, “তুম আমাকে প্রভূ বলে ডেকো না ।' প্রেমিকা বলছেন, 
তবে তোমায় কি বলে ডকব? 'রজনী-ভাই' ও ঘর থেকে বললেন, 
'বাপ বলে ডাকৃ।' অগপ্রত্যাঁশত সে মন্তব্যে আসরে হাসি পড়ে গেল। 
মহড়ায় ছেদ পড়ে, আবার মহড়া আরম্ভ হতে অনেক সময় যায়। এমাঁন 
করে প্রথম 'দিকটায় মহড়। গাঁড়য়ে গাঁড়য়ে চলে, শেষ দিকটায় পড়ে যেত 
তাড়াহুড়ো । নিমন্ত্রণ-পন্র ছাপাও, প্রোগ্রাম ছাপাও, আয়োজন পনর দ্যাখো, 
সাজসজ্জা, পোশাক-পাঁরচ্ছদ ঠিক করো, 'গানের দৃশ্যের ভালো 'রিহার্সেল চাই, 
মারী-ভূমিকা আরও দোরস্ত করা দরকার ।' 'এ [সনটা জমানো চাই, 'ও 
[সনটা ঠিক হচ্ছে না'_এমাঁন তখন বিয়ে বাড়ির হৈ-চৈ কাওড। 

সত্যই বয়ে বাঁড়র কাও। অন্য বিয়ে নয়, হিন্দু বিয়ের । 


১৩৬ রূপনারানের কুলে 


একাঁদনে শেষ হয় না। বাস বিয়ে আছে, আছে তার পরেও তার জের । 
সবৃজ সঙ্ঘের আগে শহরে ড্রামেটিক ক্লাব টিকেট বিক্ি করে আঁভনয় করত, 
আঁভনয়ের খরচ তোলা চাই । আমরা দেখলাম ওভাবে খরচ ওঠে না; জাত 
যায়, পেট ভরে না৷ । আবার দেখবার ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই দেখতে পায় 
না। আমর৷ প্রথমেই ঠিক করলাম-সব খরচ তুলব চাদা তুলে । নশ্চয়ই 
তার জন্য মুখাপেক্ষী হতে হ'ত একটু অবস্থাপল্ন মানুষের, শহরের বড় চাকরেদের 
ও অন্য ভগ্রলোকদের কাছে । কাজটা সহজ নয়, দুঃসাহস-াঁনমন্ত্রণ করব 
শাক্ষত সকলকে । দেখা গেল, তাতেও বাধা । মেয়েদের দেখতে হবে 
দেড়তলার ছোট্ট বলকনি বা 'খাচা' থেকে । কারণ, 'হল'-ভতি থাকবে 
পুরুষরা । দেড়তল৷ থেকে ক'জন মেয়ে দেখতে পাবেন 2 ঠিক হ'ল অন্ততঃ 
দ্ীদন অভিনয় হবে । প্রথম সন্ধ্যায় মাহলার!-ফাস্টঁ নাইট, লেডিজ ফাস্ট 
দ্বিতীয় সন্ধ্যায় ভদ্রলোকেরা ৷ তার মানে স্বীকৃত হ'ল মেয়েদের একটা বিশিষ্ট 
ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র সত্তা! আমাদের দুঃসাহসে সবাই অবাক । কিন্তু আমাদের 
এ কাজে নোয়াখাঁলির নাট্য-ইতিহাসে যুগান্তর এল, কিছুট৷ সামাঁজক চালেও । 
নাটক সম্বন্ধে শহরে জাগল দারুণ আগ্রহ । মাঁহলারা তে দু'হাত তুলে আশীবাদ 
করলেন । সারা বৎসর তারা অপেক্ষা করতেন অভিনয় দেখার জন্য । পুকুর- 
ঘাটে নয়, হল-এ, চিক ন। টাঁউয়ে, স্বাধীন ভাবে, তার৷ বসছেন, দেখছেন, পরস্পর 
গল্পও করছেন । আবার মা-মাসী বোন্‌ বাদদেরই উপর মেয়েদের সকলের 
তদারক করবার ভার, কমপ্লিট ফ্রেঙ্কাইস। ও শহরে ফেমিনিজমৃ-এর সূচনা 
করল িয়েটার । মজার কথা, বাড়ির কর্তারাও নেহাত অগপ্রসন্ন নন, হাজার 
হোক, নিজেরাও নিমন্ত্রণ পান । দেখুক বাঁড়র মেয়েরা, অন্ততঃ পয়স৷ খরচ 
নেই--তাতে গৃহশান্তও বরং বজায় থাকছে । 

অথচ ১৯১০।১১ থেকে নোয়াখালি শহর মেঘনার মুখের গ্রাস। তার পক্ষে 
কোনো দিকে কোনে নতুন সণয় সগ্তব নয়। সব বিষয়েই বাধা নদীতে শহর 
ভাউছে। তাই সত্যই তার বৈষাঁয়ক দেন্য অপাঁরমেয়, ভাবষ্যং কেন, 
বর্তমানও অন্ধকার । শহরে বিজলী আলোও নেই। কারবাইভ্‌ গ্যাস আর 
ডে-লাইটে মিলে স্টেজের আভনয়কে তমসা থেকে জ্যোতিতে 'নিয়ে যায় । 
ট্লাইট দিয়ে বিদ্যুৎ চমক দেখাতে হয়। ভাঙা প্যাকং বাক্স ও মামুলী 
কুর্সা-কেদারা পুরনো ভেলভেটে ঢেকে দেখাতে হয় কখনো “দেওয়ানী আম' 
কখনো ওরঙ্গজেবের শাবির ব৷ সৃজার রঙ্গ-মহাল। এমান সব সেকেলে অবস্থা' 
ও ব্যবস্থা । তখনে৷ সৌখীন থিয়েটারে স্ত্রীভূমিকা মেয়েদের অভিনয় করা 
অভাবনীয় কাণ্ড । রবীন্দ্রনাথেরও যা নাটক এ সময়টাতে 'লাখিত ও অভিনীত 


সবুজের আভযান ১৩৭ 


হ'ত তাও প্রায়ই নারীভূমিকা-বজিত। অবশ্য তার নির্দেশনায় “বসন্ত” 
'বামঙ্গল', “বিসর্জন", ক্লমশঃ এঁদকে পঁরিবঙন আনতে থাকে । আর, সত্যই 
শেষদিকে এ সময়টাতেই বাধ ভাঙল । প্রথম বোধহয় ইউনিভা্সাট 
ইনস্টিটিউটের আসরে এক৷ নৃত্য দেখান রেবা রায় । প্রশংসা ও নিন্দা দুই-ই 
পেলেন । দুয়েরই হেতু তার নৃত্য-নৈপুণ্য অপেক্ষা তার দুঃসাহস । প্রসঙ্গরমে 
বাঁল, প্রায় ত্রিশ বংসর পরে একাদন একটা কলেজীয় সংস্কৃতি উৎসবে দেওঘরে 
'সাহত্য করতে' গিয়োছ। একা বাঁড়তে সকালে ঘুম ভাঙার পরে চায়ের 
জন্য প্রতীক্ষমাণ। বোধহয় ফাগুনের প্রভাত, রোদ্র ও মৃদু হাওয়া খড়খাঁড় ধরে 
ঠেলাঠেঁলি করছে, ঢুকতে চায় । কিন্তু এক ! খড়ম পায়ে, গ্রেরুয়া৷ শাড়ি-জামা- 
চাদরে যিনি আপনা থেকে দুয়ারে এসে আমাকে স্বয়ং সম্ভাষণ করলেন তান 
সেই একদা নৃত্যাশিম্পী রেব রায় । স্বামীশৃদ্ধ তখন 1তাঁন দেওঘর-বাসিনী । 
কিল দিন আগে সাক্ষাৎ পাঁরচয় ছিল না। স্বচ্ছন্দ, মধুর-স্বভাবা এবং 
সবরূপ গব-দেমাক বাঁজতা, ( সেই বয়সেও ) দেখতে তন্বী মাহলাট তখনো 
সতাই নৃত্যশিপ্পীর মতই মেদবাহুল্যহীনা, শ্্রীমা্তা । তখাঁন শুনোছলাম 
[তিনি নিঃসম্তানা ; পরে জেনেছি তানি সন্ন্যাস নিয়েছেন । স্বচ্ছন্দ গাত ও 
ও '্িঙ্ধ অমায়িক স্বভাব, কিন্তু চপল প্রকৃতি তো একেবারেই নন । কোনোঁদন 
কি অত 'সাহাঁসকা” ছিলেন ? হতেও বা পারে । একাঁদন বাধ-ভাঙার 
কাজে ছলেন অগ্রণী; আর-দন সংসারের এলেকা পোঁরয়ে নতুন ডাঙার 
দকে যাত্রায়ও অগ্রবৃতিনী, তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আমি কিন্তু তাঁর 
নৃত্য দোখ নি। তাঁর সাহসেই বোধহয় প্রকাশে। মণ্ে বাঙাল মেয়ের 
নৃত্যারন্ত। রবীন্দ্রনাথের “নটীর প্জা' কিছু পরে প্রথম আভনীত হয় 
শান্তানকেতনে ; বাঙাল সংস্কৃতিতে তখন থেকে নৃত্যকলার যথার্থ উদ্বোধন 
--সে পরেকার কথা, বোধহয় ১৯২৭।২৮ (2)-এর ৷ এখন তে। 'নাচ' ছাড়া কোনো 
সভা-সম্মেলনই ডাকা যায় না। আমাদের সৌঁদনে সৌখীন নারীভুঁমিকা 
অভিনয়েও মেয়েদের যোগদান ছিল অসন্তব ।* 

এ প্রসঙ্গে একটা কথা জিজ্ঞাস্য । পুরুষের পক্ষে নারী-চরন্রের আভনয় 


* কাঁলকাতায় ১৯৩০ অবাঁধও দেখেছি সৌখীন নাট্যদলে নারীর পার্ট পুরুষ- 
আভনীত হ'ত। ১৯২০-এর আগে ও পরে নোয়াখালিতে আমাদের গত্যন্তর ছিল না, 
অন্যন্রও এ কাজটা অসম্ভব ছিল। এখন (১৯৭৪-এ) চমংকৃত হয়ে দেখাঁছ-_সংবাদটা 
ভুল। ১৯৭২-এর রঙ্গমণ্ট শতবাবষিকী উপলক্ষে মৌদনীপুরের নাট্য আন্দোলনের 
বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে । মোঁদনীপুরে প্রায় প্রথম থেকেই স্ক্রী-ভূমিকায় স্ত্রীরা আভনয় 


করত । 


১৩৮ রূপনারানের কুলে 


নিশ্চয়ই দুঃসাধ্য । শুধু রূপে নয়, কণ্ঠে নয়, সংলাপের ভাঙ্গতে, চলনে-বলনে 
নারী-পুরুষের ধরন পৃথকৃ। নারীর ভূমিকা নারীরই আঁভনয় করা স্বাভাবিক_এ 
বিষয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু সমস্ত আভনয় 'জানিসটাই তে। এক অর্থে যে যা-নয় তা৷ 
সাজা, অন্য কিছু রূপায়ণ। ছলনা কি ? না, তা নয়; যা সম্ভাব্য তাকে নিজের 
মধ্যে গ্রহণ ; গ্রহণ করে নিজের সৃষ্টিশান্ত য়ে শিপ্পসত্য করে তোলা । 
আভনেতার প্রকাতির ওপরে তার সত্তার আত্মীবঙ্কার । আমরা পুরুষেরা কেউ 
রঘুবংশের রাম নই, মোগল সম্রাট সাজাহান নই । নিতান্তই একালের মধ্যাবত্ত 
বাঙালী, অভিনয়কালে দর্শকেরাও তা মেনে নেয় ; তাই আমরা সে-সব ভূমিকা 
অভিনয় কার ; কারও কারও তা মানয়েও যায় । ওসব চরিন্র-ভূমিকা নিজেরা 
আত্মস্থ করে তাতে আবার প্রাণ দিই । ত। হলে আমাদের কারও কারও 
পক্ষে সীতা বা নূরজাহানের ভূমিকাকেই বা ওরুপ বূপদান অসম্ভব হবে কেন 2 
সৃষ্টীশান্ত দিয়ে সে-সব ভূমিকায় প্রাণ দিলে তা ক অচল হয় 2 অনেক সময়ে 
হয়; একট মান্রার বেশি পুরুষের পক্ষে মেয়ের মত চলা-বলা সন্তব নয়। 
তবু আপাতদর্শনে বেশি ঘার্টাত না হলে দর্শক মোটামুটি মেনে নিতে পারে । 
তাই তে৷ বহুকাল বহুদেশে সে বাধা স্বীকার করেও নারীভূঁমকা পুরুষ আভনয় 
করেছে” শেকস্পীয়রের যুগের কথা, চীনের আঁভনেতাদের কথ না৷ বললাম । 
[বংশ শতাব্দীর প্রথম পাদে পৃথিবীর সব থেকে বোশ আভনীত নাটক 
চা-চিন-চো (২.২৩৮-রান্র)। সে আঁভনয় এশিয়ায় আমোরকায় সবন্ন 
আভিনান্দিত হয়েছে । তার নাঁয়কা-ভঁমকা আভনয় করতেন এক চীন৷ 
নটশ্রেষ্ঠ (মা ফালাং2)।1 হয়তো সে একটা ব্যাতিক্রম । অবশ্য সারা 
বার্নডও পুরুষের ভূমিকায় অমর-“ডিভাইন সারা ।' কিন্তু অত উ্চু না হোক, 
মাঝারি গোছের ব্যাতিক্রম আরও আছে । আসলে, সভ্যতার অগ্রগাতির সঙ্গে 
এটাই স্বাভাঁবক, মেয়ের! মেয়ের ভূমিকা আর পুরুষের৷ পুরুষের ভূমিকা অভিনয় 
করবে । ব্রিটিশ পারলেয়ামেণ্টও নাকি নারীকে পুরুষ করতে পারে না, 
পুরুষকে করতে পারে না নারী। ওটা আধৃঁনক সার্জারর সাধনা । 
তবু মেয়ে-পুরুষ দেহিক-মানাঁসক বিষয়ে দু'জাতের প্রাণী থাকবে ; নানা কারণে 
দু'জাত বলেই প্রাথবীর রঙ-রস,তা এত 'বাচন্র। অতএব কে বলে মেয়েকে 
পুরুষ হতে হবে, বা পুরুষকে হতে হবে মেয়ে» যা দরকার সে হচ্ছে 
আভিনয়, চাঁরন্রের রূপটা ফোটানো, আর সে জন্য বাইরের রৃপটা অনুকূল করে 
নেওয়া ৷ এখানে দর্শকেরও একটু সহদয়ত৷ দরকার । আঁভনেতার দরকার-_ 
সৃষ্টিশান্ত 'দিয়ে ভূমিকাকে শিপ্পসত্য করে তোলা । সাধারণভাবে এ যুগের 
দর্শকেরা দৃশ্য, সাজসজ্জা, আলোর সমারোহ প্রভৃতি উন্নত উপকরণ চায়, 


সবুজের আভযান ১৩৯ 


তেমান চায় আভনয়েও ওসবের মত উন্নত স্বতোবশ্বাস্য বাহ্য সাদৃশ্য, নাট্য- 
চরিত্রের সদৃশ হবে নট-নটীর রূপ ও চলন-বলন; দর্শকের শিল্পদৃষ্টি না হলে 
বাধা পায় । এগুঁল বাইরের উপকরণ, সে 'হসাবে গোণ, কিন্তু প্রয়োজনীয় । 
এই গোণ উপকরণগুল সদৃশ হলে এখন দর্শকও আর সহদয় হতে পারেন 
না। থাক এ তত্ব। পণ্টাশ বৎসর পৃবেও বাঙলাদেশের সৌখীন দলের 
অভিনয়ের দর্শকেরা উপকরণে ওরকম হুবহু সাদৃশ্য দাবী করতেন না। 
পেলে, হয়তো খুশিই হতেন,_কিন্তু না পেলে সে অবস্থটাও গ্রাহ্য করতেন । 
সহদর হতে পারতেন । কলকাতায় কলেজের আভনয় শুধু নয়, কলকাতার 
ডান্তারদের সার্থক আভনয়েও দেখোঁছ ওই পুরুষ ডান্তাররা মেয়ে-ভূমিকায় 
চমৎকার উতরে যেতেন । তাই, আমাদের মধ্যে যারা মেয়ে ভূমিকা আভিনয় 
করতেন তাদের কৃতিত্ব মনে হয় বেশি উল্লেখযোগ্য ' এখন তে৷ মনে হয়, 
অসাধ্য সাধনই তারা করেছেন । একটা সাধারণ শ্রী ছিল তাদের নিজেদের, 
ক্-₹₹০ একটু কমনীযত। ছিল ; বাকীটা সবই নিজ নিজ আঁভনয়শন্তি। শুধু 
আঁভনয়-শান্ত কেন, পরবতাঁ জীবনে তো দেখোঁছি, এরা জীবনেও কৃতীই । 
নিজেদের 'বিদ্যাবুদ্ধি-কর্মশান্তিতে দীনেশ গুহ হন ডেপুটি একাউন্টে জেনারেল ; 
উপেন রায় চন্দননগরের লাট ; অকালমৃত জগদীশ চাটুজ্জে সৎ কর্মচারী, 
চারুলাল মুখোপাধ্যায় ইংরেজি বাঙলায় সুলেখক, "দ সন্তাল'-এর (7776 
981011) নৃ-বিজ্ঞানী পাঁওত, হেডমাস্টার, কী নয়» হৃষীকেশ চট্টোপাধ্যায় 
সায়েন্সের ডক্টর, গবেষক, অবসরান্তে এখনে। অধ্যাপক, ননী চাকাঁরতে যায় নি, 
ব্যবসা করেছে, চরিব্র-মাধূর্ষে সকলের প্রিয় । ব্যবসায়ী হয়েও সেই কোমলত। 
হারায় নি। অথচ বাধা কি এদের কম ছিল ? দা1ড-পোফ কামিয়ে মেয়ে 
সাজলে অনেকেই উপহাস করে । নাটক তো বেষ্ণবদলের রাধাভাবের বা 
বা গোপীভাবের ভজন নয়, তা হলে সকলে ভান্তণবগাঁলত হ'ত। নাটক 
1নতান্তই পাঁথব জীবনের কথা, আঁভনয় । আরেকটা বড় বাধা, হৃষীকেশ ভিন্ন 
এদের সকলের িল--এ*রা কেউ গাইতে জানতেন না। আর. বাঙল৷ 
নাটকে যাত্রাগানের এীতিহ্যানুঘায়ী নারীচরিত্রের তো প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে 
গাইতেই হয়। অন্ততঃ তখনো হ'ত। 

'সবুজ সঙ্ঘে'র এ দিকেই ছিল পাত । গানের কান আছে কারও 
কারও, নেশা অনেকের, কিন্তু গলা নেই । আসলে সমস্ত নোয়াখালিরই ওটা 
দুর্ভাগ্য । পাশের জেল৷ ত্রিপুরা গানের জেলা । বাঙল৷ সঙ্গীত-শিল্পে 
ত্রপূরার দান বর্তমান কালেও অতুলনীয় । কিন্তু নোয়াখাল অতুলনীয় 
ওগুণের অভাবের জন্য । নোয়াখালি “বে-গানা' জেলা । সোৌঁদকে আবার 


১৪০ রূপনারানের কূলে 


আমাদের বাড়ি বোধ হয় অগ্রগণ্য । গলা নেই; একটা হারমোনিয়ামও 
কোনোদিন এ বাঁড়তে বাজে নি। চারুলাল, হৃধীকেশ প্রভৃতি আমাদের 
বন্ধুদের সম্বন্ধে কিন্তু তা বলা চলবে না। এই দুর্ভাগ্য সত্বেও 'সবৃজ সঙ্' 
ওখানে একটা গানের হাওয়া জোর বইয়ে দিয়েছিল আমাদের বন্ধু বিনয় 
সুখুঙ্জের আগমনে । তাঁর সব-জজ 'পতা ওখানে বদল হয়ে আসেন। 
সে শৃন্নে বিনয়কে বছর দেড়-দুই-এর মতো আমরা পেলাম । সে একটা 
মহোৎসব-স্বোরই বোধহয় আমরা 'সাজাহান' অভিনয় করাছলাম । বিনয় 
পার্ট নিয়েছিলেন হাঁসর । মণ্ে তার দোসর আমাদের অনা-এক আঁতাঁথ 
বন্ধ সুধেন্দুমোহন ঘোষ । দু'জনাতে স্টেজ জমিয়েছিলেন । কন্তু সমস্ত 
শহরটা তখন জাঁময়ে তুলেছিল বিনয়ের গ্রান। আঁভনয় ব্যাপারে সেবার 
বোধহয় আমাদের জয়-জয়কার । “কর্তা সাজাহান, অনুতোষবাব্‌ ওরঙ্গজেব, 
চলচ্চিত্রের শৈলেন চোধুরী 'দিালির খাঁ, ডান্তার সুরেশ গুহ দারা, কাকে ছাড়িয়ে 
কে যায় 2 মেয়েদের ভূমিকা কেন, ছোটখাটো পার্টগুলতেও আমাদের এক- 
একজন যেন উরে গেল । শৈলেন চৌধুরী শাশরবাবুর শিষ্য, পরে চলাচ্চত্রের 
আঁভনেতা রূপেই বোঁশ পাঁরচিত। শশিরবাবুর দলে তান দীর্ঘাদন 
'সীতা'য় কুশের ভূমিকা আঁভনয় করেছেন । কিন্তু “শেষরক্ষা'য় গদাইতে তাঁর 
অভিনয় হিল সত)ই আরও প্রশংসনীয় । আমাদের সঙ্গে নোয়াখাঁলতে 
'সীতা'র আভনয়ে তিনি বার কয় 'রামে'র ভূমিকাও অশিশয় করতেন । 
তাঁর ভাগ্নে সুশীল “মজুমদার তখন অভিনয় করোছলেন কুশ (2) 1 
সাধারণতঃ “সীতা' অভিনয়ে অনুতোষ সেনগুপ্তই আমাদের 'রাম । আর 
সীতা” আঁভনয় বোধহয় “সবুজ সঙ্ঘে'র শেষ কীতি। তার আগেই শহরের 
জীবনে নেমে এসেছিল ভাঙনের শেষ পব- একটা নদীর, অন্যটা রাজনীতিক 
উদ্দীপনার জেরটানা সাম্প্রদায়কতার । সে পারপার্বকে 'সব্জ সঙ্ঘে'রও 
[ভাত্ত-ক্ষয় আঁনবার্_দেশের যৌবন কেন, সমস্ত জীবনটাই চিড় খেয়ে যেতে 
থাকে । পূর্ববাঙলার একপ্রান্তে 'সীতা'তেই শেষ বারের মত যৌবনের স্বচ্ছন্দ 
শিখা দপ্‌ দপ করে জ্বলে নিবৃতে যাচ্ছিল । 


'সীতা' যখন আভনয় হয় তখন কতা" নোয়াখালি ছাড়া, চারুলাল 
মুখৃঙ্জেকে বলা যায় ছোট কর্তা । কাজট৷ পাকা, কিন্তু নামটা চাবুর লাভ হয় 
নি । কর্তা বলতে একজনই । চারুর যোগ্যতা কম ছিল না। “কর্তার আমলেও 
সে ছিল তার প্রধান অনুগত সহকারী, কার্যতঃ ছোট কর্তা । সাহিত্য, শিল্পবোধ, 
নানা উদ্যোগে-আয়োজনে সেরুপ উৎসাহী । পাটনাতে কলেজের 'চন্দ্রগুপ্ত' 
আঁভনয়ে পাহায্যার্থে কর্তা তাকে ও বিনয়কে ডাকিয়ে পাঠান। আম তখন 


সবুজের আভষান ১৪১ 


সেখানেই ছিলাম । চারুর ও আমার উপর ভার ছিল নেপথ্যে প্রোম্ট 
করার । কিন্তু চারুকে না হলে কঠার কোনো কাজ কর! অসাধ্য । তবে 
বিনয়কে না হলে সেবার বোধ হয় পাটনায় চন্দ্রগুপ্ত' আঁসদ্ধ হয়ে যেত । “অন্ধ 
ভিখারী” রূপে বিনয়ের গানে পাটনা চমৎকৃত হয় । দর্শকদের মধ্যে জ্ঞানী- 
গুণী ও পদস্থ লোকের অভাব ছিল না ।-অবশ্য সে আঁভনয় 'সবৃজ সঙ্ঘে'র 
নয়,_নামে সবুজের নয়, কিন্তু সবৃূজের ছাপটা সেখানে গিয়ে পড়েছিল । 

নোয়াখালিতে “সীতা” দু'বৎসরে বহুবার আমাদের আভিনয় করতে হয়-_ 
লোকের দাবী । দেখে যেন তৃপ্তি মিটে না। অবশ্য তার একটা কারণ 
“সীতা'র বিষয়ে ও আঁভনয়ে আবেগপ্রাবল্য । “সীতার বনবাস' যাই হোক, 
বিংশ শতকের নাট্যাকারে সীতা সত্যই “কান্নার জোলাপ? । কলকাতায়ও সত্য, 
নোয়াখালতেও সত্য । কিন্তু নোয়াখালতেও তার আঁভনয়-উৎকর্ষও সত্যই 
উচ্চমানের ছিল । অনুতোষবাবু “রাম' হিসাবে, চারুলাল “বাল্মীকি' হিসাবে, 
আদ ননী ঘোষ “সীতা ?হসাবে যে-কুশলতা অঞ্জন করেন, তা যে-কোন স্থলেই 
আদরণীয় হ'ত । গ্রীক্ষকালীন ছুটির দু'রান্রর আঁভনয়ের জের টেনে অনেক 
রাত্রেই তাই সীতার আঁভনয় চলে । কারণ, তখন আমাদের অনেকেরই ছুটি 
প্রায় স্থায়ী । অর্থাং অনেকেই আঁভনয়ান্তে বেকার বা প্রচ্ছন্ন-বেকার । 
নন্-কো-অপারেশন-এর শেষ ; শিক্ষকত। ছেড়ে অনুতোষবাবূ, সুরেশবাবু বিপন্ন 
বেকার ; কী যে করবেন, ঠিক করতে পারছেন না । ইন্াঁসওরেন্সের দালালই 
অনুতোষবাবূর শেষ অবধি স্থির জীবকা হয়। কিন্তু তৎপৃৰে সব অনিশ্চিত । 
নাটকের নেশাটাও মনকে প্ররোচিত করত । “শৈলেন চোধুরীর মত' কলকাতায় 
গিয়ে সাধারণ রঙ্গমণ্ে যোগ দিলে কেমন হয় 2 কেমন হয়, তা বুঝতে বুঝতে 
অনুতোষবাবুর দিন যাচ্ছিল নোয়াখালতে (কিছুদিন চট্গ্রামেও ), সঙ্গে সঙ্গে 
চলত আভনম্ন ও ইনাসওরেব্সের কাজ । চাবুলাল ৩ আমি কী করব, বুঝে-না- 
বুঝে অগত্যা সনদ নিয়ে বসোছি। ওকালাতিতে মন নেই মাতও, যৎসামান্য। 
আসলে আমরা প্রচ্ছন্ন-বেকার । ননীও পিতার ঠিকাদারী কাজে নামমান্র 
সহযোগী । অতএব, আমাদের “ছু'টি' এখন বছর ব্যাপী । বন্ধুরা অনেকেই 
কর্মজীবনে প্রাবষ্$, হয় অন্র, নয় অন্যত্র । সঙ্গে সঙ্গে যথানয়মে ম্রিয়মান সেই 
বেপরোয়৷ সবৃজ-উৎসাহ । প্রধান কথা, ক্লমঘনায়মান ও-অণ্ণলে রাজনীতির শুন্য 
হাটে সাম্প্রদায়কতার আধ । “সীতা” সবুজ-দশার শেষাঙ্ক। সতাই ত। শেষ 
হচ্ছিল সূর্যাস্তের গারমায়-_-যাঁদও সন্ধ্যা আসাঁছল মন্দ-মন্থরে, পাখি তখনে। 
পাখা বন্ধ করছে না । কিন্তু আকাশ যে অন্ধকার । বিহঙ্গকণ্ঠে গান ফোটে না, 
চোখে নেই কোন 'দিক-দেশের উদ্দেশ্য । 


১৪২ রূপনারানের কূলে 


নাটকের ,খগটা শেষ হোক । মহড়া থেকে আরম্ত করে শেষ অবধি 
প্রতীদন সকলে মিলে যে-আড্ডা, হাসি-তামাসা, হৈ-রৈ, আমোদ-উল্লাস জমত 
তা অশেষ। পণ্চাশ বংসর পোঁরয়ে কি কাগজ-কালিতে এখন আর সেই 
আক্ড। ও রঙ্গ-কৌতুকের আবহাওয়ার আভাস ফোটাতে পারে কোনে। কলম 2 
হয়তো৷ অনুতোষবাবু পারতেন । অনেকাঁদন তিনি নেই, € ১৯৪৪-এ ) তিনি 
গত । চারুলাল পারেন, কিন্তু এখনো এ বিষয়ে তিনি কলম ধরতে নারাজ । 
“অমৃতবাজারে' ও কখনো-কখনে 'যুান্তরে' ইংরোজ-বাঙলায় তবু তার এক-আধ 
ঝলক দেখতে পাই । এখানে আর দু-একটি কথা৷ বলেই এ প্রসঙ্গ শেষ করি । 
প্রথমত, ব্যন্তিগতভাবে আভনয়খণ্ডে আমি পার্খশচর । যাত্রার দলে তামাক- 
সাজার মতই ছিল আমার কাজ । আম প্রোম্টার, কী বলব 'প্রচেতক' 2 
তবে প্রমোশন পেয়ে দু-একবার কাটা সৈনিকের পার্চও করোছি। আর শেষ 
দিকে, সীতার আঁভনয়ের মধ্যভাগে" আমাকে ক্ষীন্রয় বালকও সাজতে হয় । 
দে নাটকের আঁভনয়ের গাঁতছন্দে যে তা৷ যথেষ্ট বাধা হয় নি, তাই যথেষ্ট । 
দ্বিতীয় কথা, পাদপ্রদীপের বাইরে যারা অভিনয়কে সম্ভব ও সুষ্ঠু করে তোলে 
তাদের কথা । “সবুজ সঙ্ঘ' যে সত্যই প্রাণ-পূর্ণ সংহাঁতির একটা বিরল দৃষ্টান্ত 
-একথা বুঝ সেই আমাদের বন্ধুদের কথা স্মরণ করলে । ধারা আঁভনয় করেন, 
তারা তে। জেনারেল.--যুদ্ধের খ্যাঁতি-অখ্যাতি সবই তাদের প্রাপ্য--কর্তার ও 
তার সহযোগী শিল্পী-কর্নেল'দের । পাদপ্রদীপের সামনে দর্শনী হয়ে ওঠার 
মাদকতা একটা সহজ প্রেরুণা । কিন্তু শখের বশে যার! 'দৃশ্য ব্যবস্থা করে,_- 
মণ সাজায়, পোশাক গুছোয়, স্বেচ্ছায় “সনে'র দাঁড় টেনে দৃশ্য বদলায়, আত 
চতুরভাবে সমস্ত নাটকটিকে সোষ্ঠব দান করে, ধারা আবহসঙ্গীত চালান, স্বতঃ- 
প্রবৃত্ত হয়ে ধারা বাধা তবলা, বাঁশি, হারমোনিয়াম প্রভাত বাজনা বাড়ি থেকে 
নিজেরা বহন করে আনেন এবং বহন করে আবার গভীর রান্রে বাঁড় ফিরে যান, 
_-দেখেন ভাত ঠাণ্ডা, গৃহিণী উষ্ণ; তদনুরুপ সে সব বন্ধুদের নেশাটা কিসের 
ছিল ? অনেকেই তারা আজ নেই । কিন্তু কী স্বচ্ছন্দভাবে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে 
শগয়োছলাম আমরা আঁভনেত। ও উদ্যোন্তা সকলে তা ভাবলে আজও বিস্মিত 
হই। দলের কর্তৃত্ব যেমন কর্তার না জানাতেই আপন! থেকে তাকে দেওয়। হয়ে 
শগয়েছিল আপনাদের অ-জান্তেই, তেমাঁন মিলে 'গিয়োছল দলের ছোট-বড় 
সকলের সঙ্গে-'সকলের তরে সকলে আমরা । আমি একা একক, 'বাচ্ছিনন, 
এভাবে ভাববার অবকাশ কোথায় £ “সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে" নাট্যাভিনয় 
শজানসটা সেই আয়োজন । সাহিত্যের থেকেও নাটক মানুষে মানুষে বোশ 
মেলায় । নাট্যশিপ্পের ধর্মই তা; অনেক ধরনের শিল্পের তা সুসঙ্গত 


সবুজের নভিযান ১৪৩ 


সমাবেশ- পাঁহত্যের, অভিনয়কলার, সঙ্গীতের, এযুগে মণ্টশিশ্পেরও । সকলের 
সঙ্গে সকলের সম্পর্ক হওয়৷ চাই সজীব, অন্তরঙ্গ এবং সুসমঞ্জস্‌ । সেই সামঞ্জস্য- 
বিধান প্রযোজকের দায়িত্ব । সবুজ সঙ্ঘের তা নিয়ে ভাবনা ছিল না-+কর্তা' 
আছেন । 

কিন্তু ওকারণেই সমস্যাও আপনা থেকেই সৃষ্টি হয়। বছর চারেক পরে, 
আমাদের ভেতর থেকেই একট ছোট গোষ্ঠীর উত্তব হ'ল। কারণটা ঠিক 
দলাদাঁল নয় । কতকটা বৃদ্ধির ফলেই এ বিচ্ছেদ । সেল্‌ ডিভিশন । আমরা 
অধিকাংশেই ছিলাম শহরের প্ৰ-প্রান্তিক; মান্র কয়েকজন পশ্চিম-প্রাস্তিক। এই 
স্থানিক দূরত্বটা৷ ধরেই স্বাভাবকভাবে দেখা দেয় দুই প্রান্তে দুই গোষ্ঠীর নিজেদের 
মধ্যে নৈকট্য । তবে বিশেষ করে তা দেখা দেবার কারণ,_ গুণে ও আয়তনে 
মোট বোশ দলটা বৃদ্ধি পেয়েছে । মান্র একাট নাটকের অভিনয়ে সকলের যথার্থ 
প্রকাশ সম্ভব হয় না। প্রকাশের সুযোগ না পেলে মানুষ ফুটে উঠতে 
পারে না। পশ্চিম-প্রান্তের গোষ্ঠীর মধ্যে এ অভাববোধ দেখা দেয়, তারা 
নিক্ষে্। তে ফুটে উঠতে চায় । উদ্ভূত হ'ল এক পৃথক নাট্যগোষ্ঠী। বছর দুই 
তারাও ছুটিতে একটি করে নাটক অভিনয় করে । তারপর, তারাও 'মাঁলয়ে 
যায়-ঠিক একটা স্থায়ী সঙ্ঘ-সত্তা তারা তখনো লাভ করে নি। কিন্তু 
সে দলেও কেউ কেউ ভালো অভিনয় করতেন । তার মধ্যে একজন, অচিস্ত্য- 
কুমার সেনগুপ্ত যখন তান ছুটিতে নোয়াখালি আসতেন । 


সংস্কতি-০যষাগ 

থিয়েটার করে দিন যায় না । তবু থিয়েটারের নেশা কাটাতে অনেক দিন 
গেল, এখনো নেশা একেবারে যায় নি, অন্ততঃ দেখার নেশ। । তবে তখন 
খেলা, থিয়েটর ছাড়াও আমাদের আরও “ব্যসন' ছিল । তাকে কি বলব ? 
সংস্কাত-যোগ, না, সাহতা-যোগ 2 ওসব সংক্ামক ব্যাঁধ নয়, তবু ব্যাঁধ। 
'সংস্কাতি-সম্মেলন' বাঙলাদেশে তখনো দেখ দেয় নি, শব্দটাও উদ্ভূত হয় ন। 
আমাদের প্রয়াস ১৯১৯-২০-এর ব্যাপার-হয়তো তাই আগামীর আভাস । 

চৈত্র-বৈশাখের দন, ঘরের ভেতরে গরম । টাউন-হলের প্রাঙ্গণ ঘাসে 
ঢাকা । ছোট সবৃজ মাঠ । নদী তখন ভেঙে-ভেঙে এগয়ে প্রায় তার সীমানায় । 
দাক্ষণে দকৃদেশহীন জলের বিস্তার, বঙ্গোপসাগরের লবণান্ুরাশি, অবাধ উদ্দাম 
বাতাস । সুপারি-নারকেলের মাথায় ও নানা গাছের ভালে ডালে তার 
মাতামাতি । সামনের সড়কের ঝাউগাছের অশ্রান্ত দীর্ঘশ্বাস । সন্ধ্যা হতে না- 
হতেই বঙ্গোপসাগরের মধ্য থেকে শুরুপক্ষে টাদ উঠে আসবে-পৃশিমার চাদও। 


১৪৪ রূপনারানের কুলে 


আর নদীর চেউ-এর উপর অজস্র রূপোর মুষ্টি ছড়িয়ে ছাঁড়য়ে তখন সে চাদ 
এসে দাড়াবে ঠিক আমাদের মুখোমুখি । আহা, সেই যুগ--যখন 'চন্দ্রিকাজাগর' 
ছিল নাগরিকদের বিলাস । তা থাক্‌,_আমরাই বা 'পৃ্ণিমা সম্মেলন” কাঁর 

না কেন এশহরের দশজনকে নিয়ে 2 খোলা আঙন।, সেখানে আসর বস্ল- 
মাথার ওপরে জ্যোতয্লার ধারা-সমস্ত আলো দিতাম নিবিয়ে । শ্যামল ঘাসের 
ওপরে বিছানো হত শতরাঞ্চ ও আন্তরন। তার ওপরে সভাপাঁতির শুভ্র 
আসন । সভাপাঁত হতেন বসম্তকুমার সেনগুপ্ত, “পশ্চিম প্রান্ত কুটিরে'র 
গৃহস্বামী, অচিন্ত্যবাবুর অগ্রজ । দীর্ঘদেহ সৌম্যমৃতি । প্রোটত্বের গণ্তীর 
সোন্দর্ষে, গম্ভীর উদাত্ত কণ্ঠের শান্ত গৌরবে, মর্যাদাবান্‌ পুরুষ । আবার সাহত্য- 
প্রীতিতে প্লেহকোমল । সাহত্যানুরাগ নিয়েই তানি জন্মোহলেন, জজ কোর্টে 
ওকালাততে বসোঁছিলেন, 'বিদ্যাবুদ্ধি বাগ্মসিতায় সুসমৃদ্ধ । কিন্তু ব্যবসায়ের 
যোগ্যতা তাকে আবৃত করতে গিয়েও, আচ্ছন্ম করতে পারল না তার 
সাহিত্যানুরাগ । ক্রমে তার বঙ্গীয় সমাজতন্ত্র গবেষণা গ্রাস করতে চাইল তার 
সেই সাহত্যানুরাগ। কাঁবতার পথ ত্যাগ করে তান ব্যাপৃত হয়ে গিয়োছলেন 
'বৈদাজাতির ইতিহাস রচনায় ৷ কিন্তু সে গবেষণাও গ্রাস করতে পারে নিন তার 
সংস্কীত-অনুরাগ, তার সাহত্যানুভীতি, তর আজন্মলন্ধ রসবোধ । আমরা 
জানতাম-_বসন্তবাবু ছাড়া শহরে দ্বিতীর কোনো লোক নেই যান রসে-বুচিতে 
আমাদের পূর্ণিমা-উৎসবের আয়োজনকে অন্তর দিয়ে স্বাগত করবেন, এবং 
অন্তরের আশিস্ম্নাত ভাবে ও ভাষায় সেই উৎসবকে শ্রী ও সার্থকতা দিতে 
পারবেন। আমরাও দ্বিতীয় কোনো লোককে বসন্তবাবুর ভাষণের পরে বলতে 
দিয়ে সে সোন্দর্যকে শান করতে দিই না । তিনি করতেন পৌরোহিত্য, সভায় 
একটি মান্র 'ভাষণ'--তার । তার পৃবে পরে মধ্যে সেই জ্যোতঘ্া-ভরা৷ আকাশের 
তলে থাকত গান, গান, গান। প্রথম শুভ্র ধুতি-চাদরে সমবেত কণ্ঠে আমাদের 
উদ্বোধন-সঙ্গীত । “মোর সন্ধ্যায় তুমি সুন্দর বেশে এসেছ, তোমায় কার হে 
নমস্কার ৷ "কন্বা, 'সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং সংবোমনাংাঁস জানতাম । তারপর 
গান, আবার গান, আবার গান । সবই প্রায় রবীন্দ্রনাথের । কদাচিৎ দ্বিজেন্দ্র- 
লালের 'ওই 'মহাঁসন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ওই ভেসে আসে', কিন্বা 'নীল 
আকাশের অসীম ছেয়ে ছাঁড়য়ে গেছে টাদের আলো ।' নজরুলের গজল “তখন 
সব্হদয়হারী' । কিন্তু আমাদের মনে হ'ত তার সঙ্গে আমাদের পৃিমা-সন্ধ্যার 
অনুচ্চ সুরটা মলবে না । এই ছিল “সবুজ সঙ্ঘের পূণিমা সচ্মেলনের' ধরন । 
কিন্তু শীঘই এ উৎসবের নামটা বদলে গেল, আর নামের সঙ্গে বদলে গেল 
কিছুট। তার রূপ, অন্ততঃ মুখচ্ছাব । 


সবুজের অভিযান ১৪৫ 


বৈশাখ মাস, পাঁজতে কখনো কখনো “বৈশাখী পৃিমা' পড়ত জ্োষ্ঠে। 
সে'দিনে কয়জন রাখত খোঁজ “বৈশাখী পৃিমা'ই বুদ্ধ পৃিমা' £ কথাটা 
মাথাতে এল । কারণ নালন্দা-রাজা্ার-বুদ্ধগয়।৷ দেখোছ, আর ধম্মপদ 
ও জাতকের গণ্পগুলি আগাগোড়া পড়োছ--সে বুদ্ধ কথাবস্তু নিয়ে দু-একটা 
কাব্যনাট্য িখাঁছ। আসলে রবীন্দ্রনাথের হরপ্রসাদ শান্ত্রীর কৃপায়, সহজেই ওসবে 
বাঙালির ঝোক, এবং আরও কতখান থেকে এসোঁছল বুদ্ধমাহমার জ্যোতিঃ- 
স্পর্শ । বুদ্ধদেবের সমকালীন ভারতের স্বপ্ন এভাবে আমাকে বেশ পেয়ে 
বসৌছল । বুদ্ধদেবের স্মাতি ও কষ্পনায় সুরাভিত সে-সব স্বপ্ন । তাই, 
পৃঁণিমা সম্মেলনে আঁচরেই পেল নতুন পাঁরচয়, আমরা আহ্বান করলাম 
“ভগবান তথাগতে'র নামে তার স্মরণে 'বৈশাখী পৃণিমা'র উৎসব । “তথাগত' 
কথাটাও ওখানকার 'শাক্ষিতদের মধ্যে অজ্ঞাত ; সে উপলক্ষেই তার প্রচলন, 
সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুষঙ্গে এল বৃদ্ধ-কথা । বুদ্ধ-মাহমায় আপ্লুত হয়ে উঠল 
পৃণিমা_তখনো উদ্বোধনে সেই আহ্বান “তোমায় করিহে নমস্কার । কিন্তু 
সশা?ততি এল ভ্রিশরণ মন্ত্র_বুদ্ধং সরণং গচ্ছাম, ধম্মং সরণং গচ্ছাম, 
স্জ্বং সরণং গচ্ছাঁম'। অবশ্য আক্ষারক অর্থে নয়, আমাদের নিবেদন 
ইাতহাসের রঙেরসে পুষ্ট সুন্দরের ও আনন্দের দেবতার উদ্দেশ্যে । মাঝখানে 
উদ্বোধন সঙ্গীতের পরেই, মনে পড়ে, ছোট্ট একটি লেখাও পড়া হ'ত । 
বৃদ্ধবাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাগত সম্ভাষণ । আসলে তারও মর্সবাণী_ 
সেই সুন্দরেরই স্তব। কিন্তু মূল ভাষণ বসন্ত সেনগুপ্ত মহাশয়ের । তার 
সাহাত্যিক মন সেই প্রাকৃতিক পাঁরবেশে, এতিহাসিক স্মথাতিতে উদচ্দাসত 
হ'ত। আর কী তার বাগবৈভব। পণ্াশ বংসরের ওপার থেকে 
এখনে মনে পড়ে তার দু-একটি বাক্যের ছটা, বাণীবিন্যাস, আর সেই গম্ভীর 
উদাত্ত কণ্ঠধ্বান । আর সবৃজ সঙ্ঘের নাম করে শ্রোতাদের সকলকে আমাদের 
সেই আয়োজন ও কাতর মম গ্রহণের জন্য সাগ্রহ আহ্বান । এই বেপরোয়া 
লক্ষীছাড়ার দলকে এমন করে প্রকাশ্যে আর কেউ আঁভনান্দত করে নি, 
করতে পারে মনেও হ'ত না । আমরাও চাইতাম না । বিশেষ করে মনে 
পড়ে বসম্তবাবুর একাঁটি কথা-_গতানুগাতক নোৌতক-সামাঁজক সংস্কারের 
বিরুদ্ধে ছিল আমাদের আঁভধান । সমাজ-কর্তাদের অনেককে সে-সব স্বস্ত দিত 
না, বিশেষত আমাদের সামাজিক প্রগ্াতির ঘোষণা । ভক্ষ্যাভক্ষ্য সম্বন্ধে নিষেধ 
না মানা, জল-অচলদের জলচল করা, পঙীান্তভোজনে পাঙ্ক্তেয় অপাঙ্ত্তেয় 
না মনা । কিন্তু বসস্তবাবু একাঁদন এ-সবের জন্যই করলেন আশীবাদ ; 
কারণ, পহন্দুর জাতিভেদ ও জাতিতত্্ নিয়ে আমি কিছু অধ্যয়ন ও গবেষণা 

১০ 


১৪৬ রূপনারানের কূলে 


করোছি। তাতে বুঝোছ-জাত না মরলে এ জাতি বাচবে না।' কাব্য- 
কথা নয়, জ্ঞানীর ভাঁবষ্যদ্বাণী । দুঃখের কথা-তখন তান ভগ্স্থাস্থ্য, 
আর অচিরেই তাকে হারাতে হয় । তীর স্থান শুন্য রইল। তিনি রইলেন 
জীবনে-মরণে এই দুরন্ত বিদ্রোহীদের অন্তরের শ্রদ্ধার আসনে । এই ভগবান 
তথাগরতে'র উৎসবে স্বভাবতই তখন সভাপাঁতর আঁভভাষণের সঙ্গে জুড়ে দিতে 
হ'ল আমাদের লেখা কোনো কাঁবত্ব-গরন্ধী স্বাগত সম্ভাষণ ! উৎসবের সুর 
নেমে যায় নন, তা জাঁন। রেশ রইল কি কোথাও ? 

বৈশাখের প্রারস্ভেই গ্রীষ্মের ছুটি । ছুটি শেষ হবার মুখে এসে যেত 
আষাঢ় । আষাটের আগেই নোয়াখালিতে নামত বর্ধা। একবার আমর৷ 
আষাঢ়ের উদ্বোধন করলাম-পয়লা আষাঢ় 'মেঘদূত দিবস" নাম দিয়ে। 
তখন রবীন্দ্রনাথ 'বর্যামঙ্গলে'র প্রবঙন করেছেন । নোয়াখালিতে বর্যামঙ্গলের 
থেকে বর্যাবদায়ই বোশ সমীচীন । অর্থাৎ 'শারদোৎসব' । কিন্তু ছুটি তার 
পৃবেই ফুরোয় । আমরা তাই করতাম আষাঢ়-আঁভনন্দন_তবে তাও আভনব । 
বর্ষার গান ও কাঁবতায় উদ্বোধন ; কিন্তু 'মেঘদূতে'র নামটা আরও একট 
মায়া-অঞ্জন লাগ্ছত। যতটা সম্ভব রবীন্দ্রযুগের সঙ্গে সুরে বাধা কাঁলদাসের 
কালকে । 'বহুযুগের ওপার থেকে আষাঢ় এল আমার মনে । তাই 
'মেঘদূত দিবসের" সূচনা । সে সৃচনারও সূচনায় আঁচিন্ত্যবাবু ছিলেন 
নোয়াখাঁলিতে । তান ?ানজে থেকে সুন্দর একাঁটি আবেগময় নিবন্ধ পাঠ 
করলেন । গদ্যকাঁবতাই তাকে বল৷ ঠিক । মেঘদূতের সঙ্গে সুর মেলানো । 
রোমাণ্টিকতার সুর-'আমাদেরও তখন তাই প্রিয়। সেই সুরে সুর 
মাঁলয়ে চলল গান, 'বহুযুগের ওপার থেকে আধাঢ এল আমার মনে ।, 
মণ্টে কিছু কু মক আভনয়; প্রধান উদ্দেশ্য বর্ধার মেঘমেদূর আবেশ 
সৃষ্টি। সেবার বিনয় মুখুজ্জে আমাদের সঙ্গে এ মেঘদূত সন্ধ্যায়' গানের 
বন্য। বইয়ে দেন । খগেন্দ্র গুহ আমাদের মণ্টসজ্জার শিল্পী ৷ হাঞ্জনিয়ারীং-এর 
ছাত্র তারা, তাদের শিস্পকর্মে ও আলোকসম্পাতে সেই সুরকে 'দয়েছিল 
আলোকের ও রঙের সজ্জা । মণ্ে সত্যই বর্ষার আবহাওয়া জাগ্গল__ 
বৃষ্টর ছাট, উতলা বায়ু, মেঘের কোলে কোলে বকের পাঁতি ভানা নেড়ে 
উড়ে যাওয়া- সামান্য উপকরণ নয়ে এই নেপথ্যকর্মীর অদ্ভুত একটা 
বর্যাভাস সৃষ্টি করেছিল । উপকরণের উৎপীড়ন নয়, পারামত প্রয়োগ_ 
মান্র সৃষ্টির পাঁরবেশ রচনা । সৃষ্টির আসল কাজ বিনয় মুখুজ্জের সঙ্গীতে_ 
'বাদল বায়ু বাজায় বাজায় বাজায় রে একতারা'_পাতায় পাতায় টুপুর £পুর 
নূপুর মধুর বাজে বিনয় আত্মভোলা বাউলের বেশে একতারা নিয়ে 


সবুজের আভযান ১৪৭ 


নাচতে নাচতে যেন সেই বাদল বাউলকে মূর্ত করে তুললেন সে পরিবেশে । 
গান ও রূপ-রসের দিক থেকে সৌঁদনের 'মেঘদৃত উৎসব' সাফল্যে চিরস্মরণীয় । 
আর সে উৎসব শেষ হতে না হতে আকাশ ভেঙে নামল আবার সেই সন্ধ্যার 
বৃষ্টি । বাঁড় ফিরতে সকলেরই আভিষেক হয়ে গেল। 

চিরস্মরণীয় তাই বনয় মখ;জ্জে-১৯৪২ সালে ধার জীবন-দীপ 
[নবাঁপত হ'য়েছে, তার বয়স তখন বোধহয় ৪২।৪৪-এর বোশ নয়। 
'সযুজ সঙ্ঘবের সঙ্গে তার সম্পর্ব স্বপ্পদিনের । আমার সঙ্গে তখনো মানত 
বছর দুয়ের । তবে আমাদের কারও কারও সঙ্গে তা দীর্ঘতর- কর্তার, অনুতোষ- 
বাবুর, চারুলালের । বলোছি, এই আশ্চর্য মানুষাটর সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্পর্কে 
এসোছিলাম হাঁডিং হোস্টেলে । আর প্রায় তখান সমস্ত খ্যাতি-অখ্যাতির 
সত্যামথ্যা জনশ্রুতি উীঁড়য়ে আমরা অকপট সুহৃদ হয়ে উঠলাম । বাইরের 
অনেক দিকেই আমরা বিপরীতধর্মী। কিন্তু যা শ্রকাশিত, তা মানুষের 
সত্তার কতটুকু প্রাতিলাঁপ 2 বিনয়ের সমস্ত দোষের দাম সে নজেই দিয়েছে 
এক।ন শুহ্াীতে । আরও দুঃখের কথা- সে মৃত্যু প্রায় আত্মহত্যার সামল। 
দোহক অর্থে নয়, সৃষ্িশান্তর দক থেকে । গান বুঝ না-বুঝি, ছু 
শুনৌছ- আমাদের দিনে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের আয়োঁজত কোনো গীতোৎ- 
সব বাদ দই নি। “প্রবাসী আঁপসে অশোক চাটুজ্জের আয়োজিত কিছু 
বৈঠকের প্রান্তেও শ্রোত৷ হয়ে বসৌঁছ, শুনেছি । 'কন্তু এমন গলা আর দ্বিতীয় 
শুন নি'- একথা বিনয় মুখুজ্জের গান যাঁরা শুনেছেন তারা সকলেই এখনে। 
একবাক্যে বলেন । আমি বললে বা না-বললে কী যায় আসে ? গলা ছেড়ে 
তান গাইতেন । মুন্তক্ঠ। আর যতই গলা চড়ছে ততই হচ্ছে তা 
অপৃব এশ্বর্ষ-মাধূর্যময় । শৈশবে বসন্ত রোগে মুখ তার বিক্ষত, সুপুরুষ নয়। 
কন্তু তা সত্তেও কী অসামান্য আকর্ষণ তার মুখের, চোখের, তার বুদ্ধি-উজ্্বল 
চাহছনির, সুরাঁসক বাকৃ-রীতির । আর, গীতে-গানে সবজয়ী সত্তার ৷ আশ্চর্য নয়, 
নারীর চিত্ত তা সহজেই জয় করত । আর জয় করতে করতে সে জয়ের 
নেশায় নিজেও মাতাল হ'ত। তাতেও ক্ষাত ছিল না-যাঁদ সত্যই সে নিজের 
সঙ্গীত-প্রাতভার ও নিজের আয়ুর দাবিকে ওরূপ ব্যসনের বশে অবজ্ঞ। না 
করত । তাকে বাচাবার চেষ্টা আমরা না করোছলাম তা নয়। কাকে দোষ 
দেব ?- নারী-পুরুষ কাউকে দোষ 'দয়ে লাভ নেই। বিনয়ের অসংযমের সঙ্গী 
তার ধনজের অসঙ্গত জীবনযান্রা-ওসব আমাদের সোহার্দয ও তার নিজের 
সেক্দর্যবোধের অপেক্ষা তার জীবনে প্রবলতর ছিল । আর, তাই কাল হ'ল। 
দাদা আরও একজন অসামান্য বাঙালি প্রাতভার কথা উল্লেখ করতেন, তিনি 


১৪৮ রূপনারানের কুলে 


ছিলেন ডঃ গিরীন্দ্রশেখর বসুর সুহদ, এবং তীর সম্বন্ধে ডঃ বসুর আভিমত 
স্মরণ করে দাদা বলতেন, এই আত্মাপঘাতের নাম ফ্রয়েডের ভাষায় “ডেথ্‌ 
উইশ । তাই কিঃ [বিনয়েরও আমাদের মতই জীবন-পিপাসা সামানা ছিল 
না,_বরং আমাদের থেকে বোশই ছিল তার যৌবনের দিনের এই সুস্থ প্রার্থনা 
“মারতে চাঁহনা আম সুন্দর ভুবনে । এমন জীবন্ত, প্রাণপূর্ণ, কলা- 
সুরাপক একটি সন্তা-আনন্দময় যার সান্নধ্য, নারী-পুরুষ নাঁবশেষে সকলের 
নিকট-কেন সে হতে যায় সত্যই “ডেথ উইশে'র শিকার 2 তবু হয়, তবু 
বলবেন মনোবৈজ্ঞানিক_ এশ্র্ষের সণ্চয়ের মতই এখ্র্ষের অপচয়ও প্রকাতির 
[নয়ম । কন্তু কেন? আশ্চর্য জীবনের প্যারাডক্স্--দ্বান্দ্িক এই গাঁত- 
পদ্ধাত- বাচবার নামে মৃত্যা-আলিঙ্গন । 

'তথাগতের স্মাতপৃজা' ও “মেঘদূত সন্ধ্য।' দুই-ই ছিল কাব্যের সুরে বাধা__ 
এতহাসিক রোমান্টিকতা ও কালিদাসের রোমাণ্টিকতায় মিশে মনের সণ্ণরণ 
কপ্পলোকে । বাঙালির মন তাতেই সহজে মজে, আমার অন্ততঃ তখনো 
মজত । কিন্তু সে সঙ্গেই চলাছল দেশ জুড়ে গান্ধীযুগের কর্মযোগের যজ্ঞ 
বোধহয় “তা সূত্যজ্ঞে' ঠেকাঁছল বলেই আমরা চাইছিলাম রোমান্টিকতার স্বপ্ন । 
গদ্যের একট। স্থির সুরও সেইসঙ্গে আমাদের মন চাইত । সাহত্যই যোগাত 
সেই সুর_ তার শাদায় সপ্ত রং মিলিয়ে । সাহত্যের প্রবন্ধ পাঠ ও সাহিতোর 
বন্তুতার ব্যবস্থাও করেছিল 'সবৃজ সঙ্ঘ' । শুধু গদ্য নয়, অনেকটা তেল-নুন- 
লকৃঁড়র ব্যবস্থাও । স্াঁহত্য-আলোচনায় লোক জোটানো প্রয়োজন । তা 
এক অসাধ্য সাধনা । * এখনকার 'দিনে নৃত্যনাট্য ও আধুনিক গানের 'স্যুগার- 
কোটিং না হলে সাহিত্যসভ৷ প্রায় নির্জন লোকসভ। । কিন্তু বলোছ, 'নাচ' 
তখনো অগোচর । কি করে ছোট্ট সেই 'পাওব-বজিত' দেশে সাহিত্যসভায় 
লোক জুটত, এখনো তাই ভাব । বাদ তো দিই নি, শোল সোণ্টিনারও 
করোছ। বৎসরে একবার করে এক বন্তুতামালার আয়োজনও করলাম, দুঃসাহস 
নিশ্চয়, একটা ঘুমন্ত শহরে ঘৃম ভাঙা । মনে আছে, সাহত্যের আলোচন। 
সার্থকও হ'ত। 

একবার আমাদের সে আয়োজনে বন্তৃতা করোছলেন পুরুলিয়ার 'নবারণচন্দ্ 
দাশগুপ্ত মহাশয় । তান পুরুলয়াতে 'খাঁষ নিবারণ দাশগুপ্ত, নামেই 
স্মরণীয় । পরে শুনেছি--জাগরীর' পিতার চরিত্রের মূল আদর্শ এই মাস্টার 
মহাশয় । ( তখনে। 'জাগরীর, লেখক বালক ) পুরুলিয়ার 'মুন্তি আশ্রমের 
[তান প্রাতষ্ঠাতা । গ্ান্ধীনীতির ও স্বরাজের সাধনার ত৷ এক প্রধান প্রাতিষ্ঠান । 
তার জ্যেষ্ঠ কন্যা মালতী, আমাদের অনুতোষবাবৃ তাকে বিবাহ করেন। 


সবুজের আঁভযান ১৪৯ 


নিবারণবাবু এসোঁছলেন কন্যার গৃহে । একটু বিশেষ উপলক্ষ ছিল_ 
গ্বাঙ্কীজীও তখন এসেছিলেন নোয়াখালিতে । পিতার জন্য কন্য৷ সে সুযোগ 
নালেন, আমরাও সেই সুযোগটা নিই । দেখবার আগেও জানতাম- একই 
কালে 'নবারণবাবৃ গান্ধীনীতি ও রবীন্দ্রবাণীর সশ্রদ্ধ ভন্ত। যখন হেড- 
মাস্টার করতেন তখনো ছাত্ররা দেখেছে “চতুরঙ্গ নিয়ে আলোচনায়ও তার 
উৎসাহ, আবার ছাত্রদের শিক্ষাদানেও তার আগ্রহ । ছাত্ররা তখন হেডমাস্টার 
মশায়কে মনে করত- জ্ঞান-তপস্বী গুরু । যখন স্বরাজের ডাকে তিনি সব 
ছেড়ে দিলেন তখন মানভূমের আপামর সাধারণ তাকে মনে করতেন- এ যুগের 
খাঁষ। আমরা তাকে বন্তুতা করতে বল্লাম--গান্ধীজী ও রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে । 
জ্ঞানে ও অন্তদ্ষ্টতে সরস, প্রাঞ্জল সেই বন্তুতা। প্রথম থেকেই যে আলোর 
রেখা দেখেও দেখতে পেতাম না-যেন ত৷ ফুটে উচল -স্মুখে । আমরা বুঝতে 
বাধ্য হই, এ যুগে “সত্যাগ্রহ' ও 'সত্যের আহ্বান এ দুয়ের মাঝে মিল কোথায়, 
কে শ্ভীরে ; কত তা নিগৃট । আমরা "সবুজ সঙ্ঘ' নানা কারণে গান্ধী- 
বাদীদের রাজনীতিকে নিয়ে বক পাঁরহাসেই অভ্যস্ত । প্রমথ চৌধুরীর সেই 
দৃষ্টিভঙ্গীটাতেই সবুজের বুচি। কিন্তু মন বলত--মতবাদ ছাঁড়য়েও গ্ান্ধীজীর 
আদর্শের মধ্যে একটা গভীরতর দিক আছে । সেখানেও রবীন্দ্রনাথ ও গ্ান্ধীজী 
প্ু-জনাই আঁভন্ল নন, বিস্তু দু-জনা আত্মীয় । খাধির স্বচ্ছ দৃষ্টিতে নিবারণচন্দ্ 
সে স্থানাঁটই প্রত্যক্ষ করতেন । আমাদেরও সামনে সে দিকটি খুলে ধরেন। 
সে একট স্মরণীয় বককুতা । তার পরে অনেকাঁদন গিয়েছে । নিবারণচন্দ্র এই 
১৯৪৭-এর 'ম্বাধীনতা' দেখে যান নি; গ্রান্ধীজীও এই 'স্বাধীনত। স্বাগত 
করেন ন । গান্ধীজীর রাজনোতিক শষ্যদল ক 'সত্যের আহ নে" কান দয়োছল ? 
না, “সত্যাগ্রহ'কে গ্রহণ করোছল ? “সত্য বোধহয় অবুচকর, 1শষ্যদের স্বরূপে 
তাই সুস্পষ্ট । অন্য শিষ্যরাও গান্কীবাদকে সত্য করেন না, করেন 'ক্যালট্‌” 
'চরকা', গ্রামোদ্যোগ”, 'ভুদান' যা'ই হোক তার রূপ । সুস্থ বুদ্ধতে ও অকপট 
অন্তরে দু'-চার জন লোক তবু গান্ধীজীর জীবনাদর্শকে উদ্যাপন নিশ্চয়ই করেন । 
হয়তে। কোঁটকে গোঁটিক । গ্রান্ধীজীর €,0610211016৭ বাহরঙ্গ ও মান্রাছাড়া 
ব্রহ্মচর্যোগ তাদের স্থির চেতনাকে আচ্ছন্ন করে নি । তেমন মানুষ ছিলেন খাঁষ 
নবারণন্দ্র দাশগুপ্ত, এবং এখনো আছেন আবদুল গফফার খা । 


আনঢলাক-উত্স 
আসল প্রসঙ্গট। কি ছাড়িয়ে যাচ্ছ? না। সবুজের আঁভযানে আমাদের 
বিদ্ুপের অস্ত্র আমাদের অজানতেই আমাদেরও যে পেয়ে বসছে এরূপ একটি 


তারের লে 


পিছনে বা দির আরা ঢে সাধে চেতন ৭ হযে পরম ন। 


আমাদের যৌবন শুধু রবীন্দযুগের স্বপ্নময় কাল নয়, গান্ধীযুগেরও সগ্রাম-্ভরা 
কাল; ত৷ মেলাতে পার কই 2 কাল মনে মনে জিজ্ঞাস জাগিয়ে দিত। 
বেপরোয়৷ হাসির আনন্দ এক-একবার সংহতি চাইত গাঁতিব সংযত আনন্দে ॥ 
তা প্রত্যক্ষ করতে চাইতাম আমাদের সাহিত্য-আলোচনার আয়োজনে । অবশ্য 
হাঁসরঙ্গের অবাঁরত উল্লাসে বিনা-আয়োজনেই বোঁশ সময় আমাদের দিন-রান্রর 
আহ্ডা-আলাপ ভরে উঠত । তবু একবার একটা বন্তুতা-মালার আয়োজন 
করলাম-_আমাদেরই আচার্য সুবেশ চক্রবত্তীকে রাজী হতে হ'ল । চারাটি বন্তুৃতা 
হবে, প্রথম বন্তৃতা বোধহয় “আর্ কী' » ( কলার কথা” ১, দ্বিতীয়টা বোধহয় 
রবীন্দ্রনাথ", তৃতীয়া বোধহয় “হুইটুম্যান্” । চতুর্থটি সবচেষে আঁভনব, ওই 
মজা করার বেপরোয়া বুদ্ধির খেল৷, বিষয়__নাস্তকতার প্রয়োজনীয়তা" । 
একথা বোঝানো আজ কঠিন, কী ছিল সেই বস্তুত । বলাই বাহুল্য, শুধু 
বুদ্ধির খেলা নয়, বিদ্যারও পাঁরচয় নয়, ওসব ছাপযে উজ্ল ও অনন্য এক 
ব্যক্তিত্বের প্রকাশ । সে ব্যক্তি সরেশ চক্রবত । 

বলবার না থাকলে স্যরেশ চক্কৰতর্ঁ বলেন না, লেখেন তো না-ই ৷ বলার 
তার কী আছে 2 সেই০ই অদ্ভুত ব্যাপার । সকল কথাকেই তিনি নিজের 
মত করে বুঝে নেন। তাতেও দুট দক । এক তো রুথাটা তিনি মূল 
থেকেই দেখেন । শুধু তার পারচিত রূপ নয়-দেখেন কথাঠাব অন্তনিহিত 
মূল ও শিকড় । আর তারপরে তার শাখা, ফুল, পাতা, অনন্ত বিস্তৃত 
আকাশের তলে তার প্রকাশের বিশিষ্টতা । প্রত্যেক বস্তুরই সে বিশিষ্$ত। 
আছে-প্রাতাও ঘালের ডগ্ারও । রুপের এই বিশিষ্ঠত। সুরেশবাবুর পক্ষে 
স্বতগসন্ধ। তর জিজ্ঞাসা এই মূল থেকে_এই অর্থে সুরেশবাবুর কথ 
মৌলিক--আরাজন্যাল' । আরেকাঁট অর্থে তা আরও বোঁশ আরজিন্যাল । 
প্রত্যেক কথাটাই তান নিজ্র দৃষ্টিতে দেখেন । নজের মন-বুদ্ধ-চৈতনে/র মধ্যে 
গ্রহণ করে প্রত্যেক জিনিসের স্বরুপ অনুভব কর৷ চাই। য! তার রূপ, দর্শকের 
সত্তার স্বাক্ষরে প্রকাঁশত হয় তখন তার স্বরৃপ,_এই দ্বিতীয় নিজস্ব তা-আঁর- 
জন্যালাট--সুরেশবাবুর বৈশিষ্ট্য । শুধু জিজ্ঞাসায়ও তার শেষ নয়, উপলা্ধতে 
তার সম্পূর্ণতা । অর্থাৎ একই কালে মৌলিক ও নিজন্ব--ওাঁরজিন-সন্ধানী, এবং 
755018110 পুষ্ট-এই দুই অর্থেই সুরেশবাবৃর চিন্তা-ভাবনা 'আঁরজিন্যাল' । 
আরও একটু কথ আছে £ এই মানুষের বলার ভাষা ও ভঙ্গিও তেমানি ওরুণ্সি- 
সম্পূর্ণ অনন্য । 00100০, অনন্য । উচ্চ গাঁণত যেমন দু'চার স্তর ডিঙিয়ে 
এগিয়ে যায়, পাঠকের বৃদ্ধি ও ধারণাশীন্তকে টেনে তোলে,--সুরেশবাবুর বন্ধৃতা ও 





সবুজের অভিযান ১৫১ 


লেখা তেমনি ধরনের । ত। পা গুণে গুণে চলে না, তা চলে 'ঝাঁপতালের 
তালে তালে” আর, এক অনুষঙ্গ থেকে আরেক অনুষঙ্গে তার গাঁতিও তেমাঁন 
দুতচাকত । সমগ্রভাবে বিষরটা পারক্রম৷ না করে নিঃশ্বাস ফেলে না। তার 
গত দুরৃহ, কারণ, তাকে অনুসরণ করতে হলে পাঠকের নিজেরও প্রস্তুতি চাই । 
কিছুটা প্রয়োজন বিদ্যাবৃদ্ধির । আরও বোশ- অনুধাবনের গভীর সক্কষ্প। 
নিজেকে প্রচারে সুরেশবাবু সম্পূর্ণ বিমুখ, প্রকাশেও নিস্পৃহ । তাই বন্তৃতাতে 
তান বীতরাগ। সম্ভবতঃ আমরাই তাকে সে কাজে মাত্র একবার প্রবৃত্ত 
করিয়েছিলা । লেখায় তান কুগ্ঠিত। পাঠকের কাছে এই সুরেশ চক্রবর্তী 
প্রায় অজ্ঞত-নানা । কিন্তু পারচিত গুণী-সমাজ জানেন-তিনি কী প্রাতিভার 
আধকারী । আ।নরা ধারা তাকে কাছ থেকে দেখবারও কিছুটা সুখোগ পেয়োছি 
তার। কেউ কেউ অন্ততঃ এ যুগের এমন সুলেখক ও বি.€ মানুষদেরও দেখোঁছ 
_কেউ মেধায় অনামানা, কেউ বিদ্যাবদ্ধর স্থির প্রভায় অগ্র্ণ্য, কেউ বহুব্যাপাী 
এ, “ঘর অঞপ্ত, এমন সব মনব্বী,-অনেকনে তাদের দেখোছ । আমরা বলতে 
পারি- সুরেশ চক্তবতাঁ শুধু সকলের থেকে স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট নন, আঁবসংবাঁদত 
গ্রাতিভায় তাদেরও মধ্যে অনন্য । মৌলিক চিন্তার অধিকারী বা 'আরাজন্যাল 
থিংকার' হিসাবে আমাদের কালে এরকম আর দ্বিতীয় লোকেরও সাক্ষাৎ পাই 
নি । আবসংবাঁদত তার প্রাতভা,-এবং আমাদের ধারণা _-এক হসাবে আবার 
অসম্পূণ। কারণ, যে প্রাতিভা সম্পূর্ণ, ত৷ আত্মপ্রকাশ ছাড়া স্থির থাকতে 
পারে না। প্রকাশেই তার স্বাস্থা, সম্পূর্ণতা ৷ শুধু তাই নয় আপনার প্রকাশের 
প্রয়োজনে মেরুপ প্রাতভা [নঃসঙ্কোচ, আত্মনধন্, এমনাকি প্রয়োজন মত নিম্ন । 
সুরেশবাণুর প্রতিভা খাঁওত, তার প্রকাতগত অনীহায়_৩। হা 'শৃধু প্রচারে নয়, 
আত্মপ্রকাশে আগ্রহহীন । সঞ্কোটিস-এর মত তান শিব্-সুহদদের চিত্তাবকাশেই 
দেখেছেন আত্মাবকাশ-াকণ্তু কোনে প্রেত তার সে আলাপন লাপবদ্ধ করে 
রাখে ন_তাই সাধারণের তিনি প্রায় অপারজ্ঞাত । বন্ধু বা সুহদদের নিকট 
৩ার একান্ত নিবাসন থেকে লাঁখত চিঙি-পন্ত্রের মধা দিয়ে সে প্রাতিভার দীপ্তি 
ও জিজ্ঞাসার অনুমান কর যেতে পারে । কিন্তু কে তা৷ সংগ্রহ করে, সে স্থানও 
এটি নয়। তবু খান তিন যা পাওয়৷ যায় দাখল কার। তা হলে বোধহয় 
কতকটা তাকে দেখতে পাবে _হাজার কথায়ও যা হবে না। 


১৫৭ 


রূপনারানের কুলে 


নওয়াখাল 
৪.১৯.২১ 


হে বন্ধু, 


বাদূলা । 
সূন্নাবহীন গৌজামিলের মধ্যে এক্যের আদানের হে ব্যবসায়ী, 
তোমার কাছে নির্ভয়ে এ আবোল্তাবোল্‌ ছেড়ে দিলুম | 
'তনাঁট [১০17 আছে । 
(১) এদেশের পাঁলাটকেসে যেমন টল্স্টয়ের ফিলসফিকু আনাকি 
আর আয়ার্ল্যাণ্ডের 19০01819101) ০1 7২০0৮৮11০ প্রভাতি 'নয়ে 
একটা পল্পব-গ্রাহতার কারবার চলেছে, তেমাঁন বাংলার সাহিত্যে 
310177 870 ৫100% প্রভাঁতর সঙ্গে সঙ্গে সমাজ-মন, সমাজ-যন্ত্র, 
সমাজ 07158171917) প্রভাতি কতগুলি “বুকানি' খুব ফুটছে । সত্যকথা 
বলতে কি, এ-পদার্থগুলির ক্ষীণতম ধারণামান্ত আমার নেই। 
চেহারা যতই িন্নরকম হোক্‌, এদেশে সমাজ নামক পদার্থের 
উপরেই ছিল ব্যাস্ত । এদেশের ধর্ম-এ “তুমি যার আম মাঝে”, 
িংবা সঙ্গে “কেহ নাই”! চিত্র রেখামান্র সম্বল, 01০811 ৭61176, 
10015100211. গ্রান পঁচিশ জনে মিলে গাওয়া চলে না 
(কীর্তনের কথা পরে )। ব্যন্তির জন্যে এক ব্যবস্থা, সমাজের 
জন্য আর, “এ বিধি ভারতবর্ষের নয় ৷ রাস্তীয় মুক্তি এ 1)1775৩- 
টাই খাস বালাত । এ-দেশ কেবল একরকম স্বরাজ চেনে, সে হচ্ছে 
বৈদান্তিক স্বরাজ্য | 

এমতাবস্থায় ব্যান্তর জন্যে দাস্যের 13725010101 'দয়ে 
সমাজের জন্যে অন্য ব্যবস্থা এ দেশের ধাতে সইবে না [ “সবুজ- 
প্র” পৃ” | 

(২) কারণ ক, সমাজ হাওয়ায় উড়বে (নাত )১। সে 
ব্যান্তর মধ্যে আপন 17621159010) খুজে পাঁচ্ছি ।- রবীন্দ্রনাথ, যে 
চরকা না ঘুরিয়ে গান গেয়েছেন সেই রবীন্দ্রনাথেই ভারতবর্ষ 
আপনাকে সার্থক করেছেন । আমি যে রেলগাড়ীতে সবচেয়ে ভাল 
সীট, জানালার ধারের, খুশীজ,_ আমার ০0101011, আমার ০017%1)- 


১. বন্ধনী মধ্যস্থ শব্দটি কিছুটা পাঠকের সংযোজিত । পন্লাংশ পোকায় কাটা- 


শব্দাংশ পড়। যায়। বাকীটুকু অনুমানের সাহায্যে পারপৃরিত। 


সবুজের আভষান ১৫৩ 


15119, আমার 551775911380197-এর জন্যে দরকার- আমি এই 
সমস্ত সুবিধা ও স্বাস্থ্য ভোগপ্ৰক যে উৎকর্ষ লাভ করব, আমার 
সমাজ ত৷ ভোগ করবে । আবার কখনো ব৷ আমার আরাম আম 
ছাড়ব, কিন্তু স্বেচ্ছায় ছাড়ব, সেও আমারই 9617-162115811017- 
ওয়াস্তে । 


আসল কথা, এই “স্বেচ্ছ। নামক ব্যাপারই সমুদয় ৭1761017006 
সৃষ্টি করেছে । যে দারিদ্য যে অপমান আমার উপরে পু্জীকৃত 
হয়েছে, সে যাঁদ্দ আমার উপরে চাপান ন৷ হয়ে, আমা-কর্তৃক বৃত, 
আ'লাঙ্গত, আনন্দে গৃহীত হ'ত তবে সমুদয় ব্যাপারটার চেহার৷ 
অন্যাবিধ হণ্ত । | 

যেমন, যৌন ব্যাপারে । একটি শশু যাঁদ ০০101) দেখে 
সে মনে করবে নীচেকার ব্যান্তুটি ভয়াবহর্পে নিধাতিত হচ্ছে, 
এবং উপরকার ব্যান্তীঢ হয়ত নীচেরাঁটর উপর ভয়ানক রাগ করে 
থাকবে । সমস্ত ক্রিয়াটা [01005 যৌন উত্তেজনা- একটা ভীষণ 
নপীড়ন । 

আম যা বলতে চা, তা এই যে, আমাদেরকে একবার 
কায়মনোবাক্যে শৃদ্র হতে হবে, “নাহলে নাহ রে পরিত্রাণ” । 
অর্থাৎ, শূদ্র তে৷ রয়েছিই এখন এই শুদ্রত্বকে আলিঙ্গন করতে হবে । 
অর্থাৎ এই 7509551-টাকেই *17186 করা আবশ্যক হয়েছে । 

অর্থাৎ, একমুহূর্তে ভিতরের 'দকে দৃঁষ্উক্ষেপ করে আমাদের 
আঁবঙ্কার করতে হবে, যে, আমরা, জজই হই, ম্যাজস্ীটই হই, 
আমাদের দৈন্য আমাদের লাঞ্ছনা অতলস্পর্শ । পরক্ষণে, মেথর 
মুচি এবং চাড়ালদের সঙ্গে আমাকে এক এবং আভিন্ন, কেবলমাত্র 
স্গগোন্র নয়, একেবারে একাত্ম অনুভব করে, যে যেখানে আছ সে 
সেখান থেকে নেমে দাড়াব_এই করতে হবে । সেই নামাই ও। 
হবে । 

অর্থাৎ এ ব্যাপারাঁট কাঁবতায় নয় যার কিস্তু জীবনে 
আচরণ করতে হবে । 017-00-097991211017) এই দাবী করচে । 


সমস্ত ভারতবর্ষ অপনাকে সত্যভাবে শূদ্র বলে অনুভব কর।, 
এবং যথার্থ শৃদ্রবংৎ আচরণ করা মান্রও তার 'পাদ্ধলাভ হতে বাধ্য । 
একটা শুদ্দু ০০9০1985955 জাগ্রত করার প্রয়োজন হয়েছে । 


৯6৪ 


রূপনারানের কূলে 


তবে সে শৃদ্রের মুখ লাটদরবার থেকে পাহাড়গ্ীলর 'দিকে 
যেন তাকায় । কেবল এই। 

(৩) আমি আবিষ্কার করোছ, যে, বৃন্দাবন মিথ্যা নয়। 
এবং স্বাধীন ভারতবর্ষ-এর নাম “নব বৃন্দাবন” হওয়া উচিত, 477 
[711)00-[5191)” না হয়ে । 

এ আবঙ্কার আম নিজের মধ্যে করেছি । দেখোছ যে, 
নবঘন' এবং 'দৃবাদল'-ভরা শ্যামলতা মানুষের মাংসের উপরে 
রাঁঞ্জত হওয়ার মধ্যে আচানক কিছু নাই । এবং এজন্য যাঁদ আমি 
কোনোর্প ক্ষুধিতবোধ কাঁর, এবং তার জন্য যাঁদ কোনে গেঁয়ে চটে 
যায়, তবে তাতে যেমন আমার কোনো লজ্জা নেই, তেমনি 
ভয়ও নেই | 

কারণ আমার মধ্যে যা কিছু নিন্দার, যা কিছু নীচ এবং 
হেয়, আমার ভেতরকার যা কিছু সম্বন্ধে আম লঙ্জিত. যা কিছু 
আম প্রাণপণে লুকোতে চাই নিকটতম বন্ধরও কাহ থেকে, তাই-_ 
সে সবই কেবল অপেক্ষা করছে মদিত ও চুস্বিত হওয়ার জন্যে । 
বৈশাখের মাঠ যেমন চোঁচির হয়ে থাকে বর্ধার ক্ষুধা, আমার 
স্বভাবের দীনতাগুলো সেই রকম দীর্ণতা । সে দীর্ণতা এখন কেবল 
ফাটল, এখন তার কোনে৷ মানে নেই, এমনাক এখন শে বীভংসতা, 
কিন্তু আগ্যামী বর্ষণ ধারার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই তাকে বোঝা, 
তাকে ক্ষমা কর সহজ হবে । 

সেই যে “আমার অনাগত”, সেই যে “আমার অনাহত”, 
সেইখানে আমার সার্থকতা । 

সেই সার্থকতা খোঁজা ছাড়৷ এ পৃথিবাতে আমার আর কি 
কর্তব্য আছে ? এখনো, না জেনে, আমার সমুদয় আলস্যে, নিদ্রায়, 
গ্পগুজবে, বন্ধানবাচনে, দেনান্দন কাজে, ভূলে, 19৬০-072006-এ 
(2), সেই খোঁজাই, না-জেনে, চলছে । বৃহৎ আহীডিয়ার জন্যে 
যাঁদ [নজেকে ছাড়ি, তবে না হয়, মেনে ০০75০194১15 খু'জব | 
আমার সেই সন্ধানের পথে বাই-প্রডান্ রূপে হয়ত ভারতবর্ষ স্বাধীন 
হয়ে খেতে পারে কিন্তু তাতে আনার কিছু এসেযায় না। 
ভারতবর্ষ স্বাধীন করবার জন্য ত আম জন্মাই নি। হয়ত, ভারতবর্ষ 
( যাঁদ ) স্বাধীন থাকত, তবে আমার সার্থকতার পথ আর একটু" 
সুগ্ধম থাকৃত । এই মান্র। 


সবুজের আভিষান ১৫৫ 


অর্থা ভারতবর্ষের পিটিক্যাল্‌ প্রোগ্রামের সঙ্গে কোন্‌ ভাব 
খাপ খাবে, কি না-খাবে, সে প্রশ্নই অগ্রাসাঙ্গিক | 

ধারা বলেন, ব্যান্তর মুন্তি চেষ্টাটা এদেশে একটু বোশ বোশ 
হয়াছল বলেই আজ ভারতবর্ষের এ দুর্গাতি, অরবিন্দ তাদের শেষ 
জবাব দিয়েছেন । সে চেষ্টা যাঁদ সব্দা সত্য থাকত, তবে এ দশ। 
ঘটতে পারত না । দ্ুর্গাতি সেই ফাঁকে এসে পড়ল, পাহ্ছশাল৷ যখন 
গৃহ হাল । হঠাৎ, যে-সমন্ত সমাজ ব্যবস্থা, 17501909105 ব্যন্তিকে 
তার চরম লক্ষ্যের দিকে আভমুখীন এবং অগ্রসর করবার জন্যেই 
গড়ে উত্ৌছল, সেইগুলো [নিজেরাই যখন লক্ষ্য ও 'বশ্রামস্থল হয়ে 
উঠুল, তখান । 

দোখ নি কি, যখনই থেমেছি তখনই পাপ এবং দুঃখ পায়ে 
পায়ে এসে হাজির হয়েছে 3 

ইতি 


$ চ 
স্ডযা 
চে 


চিত 


২৫1৭ (১৯২৮) 


প্রীতিভাজনেষু. - 


৯ 


মুগগী-পাচক রজনীর ভাগিনা'র সঙ্গে ফেণীতে দেখা । সে 
বালল, হালদার মশায়১ নাক ছুই খাইতে পারেন না, এবং তার 
চক্ুও খারাপ হইয়া গেছে । সত্য কি» এখন তার কি রকম? 

“মনো বিকলন"২ পাঁড়য়। মনে হইস"ছল যেন 1410901% 
7900177]-র্যাল পাঁড়তোঁঙ | তৃমি নিজেকে এই ঘটনাটার উপরে 
অনায়াসে কন্গ্র্যাচুলেট করতে পার যে, বঙ্গে সবদা ওরকম 'জিনিস্‌ 
লেখা হয় না । 

কিন্তু চিঠিতে ডেকাডান্স্‌ সম্বন্ধে যা লাখয়াছলে তৎসন্বন্ধে 
আমার জেরা আমেওমেণ্ট আছে । ইউরে।পীয় চারুকলার ইতিহাস 
থেকে ও কথাটি নেওয়া, যেমন ইউরোপীয় পলিটিক্স থেকে 
স্বরাজার ডেডলক কথাঁট লইয়াছে ! আমাদের দেশে টিপূরা 
বালকেরা আমাদের মতে। কাঁরয়া 'হারির লুট' প্রত্ভীত করে । তাদের 


., রঙ্গীন হালদার মহাশরের পিত। প্রমোদাকান্ত হালদার । 


২. ভারতবর্ষে রঙ্গীন হালদার লিখিত প্রবন্ধাবলী | 


৯৫৬ 


রূপনারানের কুলে 


'হাঁরর লুট' যে প্রকারের, স্বরাজদের অব্স্ট্রক্ষ্যন্‌ সে প্রকারের, 
অর্থাং একটা খেলা । সে যাই হোক ডেকাডানৃস্‌ বাললে বোধ 
কাঁর অস্পকাল পূর্বের একটা পুষ্পায়মান্‌ অবস্থা থেকে বিচ্যাতকে 
নিদেশ করা হয়। আমাদের জাতের সে প্রকারের কোনও পুষ্পো- 
দূগম কবে তুম দেখিলে দশ বিশ পণ্াশ বৎসরের মধ্যে ? 
আযনাকিসটু আন্দোলন 2 সেত একটা আক্ষেপ। ব্রাহ্মসমাজ 
আন্দোলন ? সে ত এ সুদর্শন১ হালদার হয়তো যাকে ফ্যাগোশাইট। 
আন্দোলন বলিতেন। রবীন্দ্র-সাহত্য ? একটা অকিড্‌। 
জগদীশ বোস্‌ প্রফুল্প রায় 2 জগদীশ বোসের কথা তুম জান, 
[পাঁস'র কথা আম জান । 

অতএব অবস্থাটা বুঝাইবার জন্য অপর শব্দ বল যেটা 
ডেকাডান্স্-এর মতে। একটা সামায়ক অবস্থার নাম নহে কি্তৃ 
একটা ক্রোনিক্‌ অবস্থার নাম । 

“অন্তঃসারহীন মৌখিকতা' ফ্রেজটা 010109) 071011070013- 
ণকন্তু একটা ৮675 10621. 221010901. লক্ষ্য কারবে, ও জিনিসটা 
ঠিক কাপট্য নহে- কিন্তু তার চেয়ে স্বতন্ত্র । 

এই অন্তঃসারহীনতাই গান্ধী আন্দোলনকে লইয়া "স্ব- 
রাজ্যামিতে পৌছাইয়াছে, বিবেকানন্দের মঠে িবেকানন্দস্ট ৫) 
বসাইয়াছে, ইউরোপীয় সাহিত্যের শ্রমশীল ছাত্র (অজিত চকুবর্তীঁ-বৎ) 
গণ্ডায় গণ্ডায় প্রভ্যুশ না করিয়া এ বঙ্গে একাট অপরুপ আন্তাকুপ্ড় 
( মাঁসক সাহত্য ) স্তুপীকৃত কারয়াছে। বাঁলতে চাই গান্ধী 
আন্দোলন, বিবেকানন্দ ও ইউরোপীয় সাহত্য যাঁদ কতকগুলি 

বীজ হয়, তবে, তার। যে 5০11 এখানে পাইয়াছল, সে একট 
'বালয়াঁড়' (কপালকুগ্লা' )। ভাল ত? হাতি 
সুঃ চঃ 


[ হালদার কোম্পানি ]২ 


পুনশ্চঃ 


রঙীন হালদারের স্বভাবের মধ্যে যে বাস্তবিক জীবনের বুটিন-ভাঙা 
একটা আসপেক্ট আছে তাকে এই বসন্তের অস্তে স্বাগতমৃ-এই 


ডাঃ সুদর্শন হালদার ( অগ্রজ )। 
এ নামের (এক সময়ে হালদারদের ) বড় ওষধপন্রের দোকান । 


সবুজের অভিযান ১6৭ 


১ নারকেলের জঙ্গলে সমুদ্রের ধারে অবিরাম পাড় ভাঙার ঝুপঝাপের 
মধো ! জীবনের গভীর নেরাশ্য থেকে চা ও শ্বেতপন্রের উত্তেজনার 
মধ্যে! শতকোরী প্রথা সামাঁজক শিষ্$ত| কলে বাজানো মরালিটির 
বেড়াজালে রুদ্ধ নিশ্বাস 7াবা)1৬]])1/]-এর বিাঁচন্র ৪91 
83991010]-এ হৈ হেরে রে 'মাঝরোতে'১ ! সাধুর শান্তিভঙ্গে 
চেয়ার-ঘুরানয়ার* দপ্চচূর্ণে! স্বাগতম্‌ পঙ্কাঁতলক । এস অকৃতার্থত। 
71)0959 008 216 11160 0০ 17011101789 আফসোসের আত্মতৃপ্ত 
আরামের গভীর অপমান থেকে বৈফল্যের বজ্জরদগ্ধ পন্ন মহীরূহের দৃপ্ত 
ঘাড় “তেড়ামিতে' ! শুনিতে পাওয়৷ যায় “দূর দিগন্তের সকরুণ 
সঙ্গীত” “ঘা নিরুদ্দেশ যাত্রা থেকে লাগে মোর চিন্তায় কাজে' । 


চিতি 
মাঃ কাল 
)।০ 
প্রীতিভাজনেযু, 
তোমার পন্ন। বঙ্গব্হে আঁভমন্যুনবৎ তটস্থ সুরেশ 
চক্রবত্তীকে ভাষার লালত্য একোয়ার কাঁরতে বলা আর ছাই-এ জল 
ঢালা এক । মলয়-মারুত, শাশ্বত বাণী, জ্যোংয্লার ফালি, কিরণের 
জোয়ার প্রভাতি “দাঁদ'-প্রণেত্রীদের জন্যে রাখিয়। দিয়া আমাদের 
যাঁদ কিছু বালবার থাকে যেমন-খুঁসি বলিব,যাঁদ না থাকে চিড়। 
1িবাইব । গোপালের দেওয়া নোটগুলিৎ আম'র কাছে নাই ফিরাইয়া 
দয়াছলাম । ৮/৪1 ড/1.100127 নোতুন কাঁবয়া াখিয়াছিলাম-- 
টাদপুরের এক ব্যান্তর পীঁড়নে ; _সে এক সভায় পাঁড়য়াছিল তাই । 


সেটার এক নকল অনেকাঁদন হয় এক ব্যন্তির হাতে 'দয়াছলাম । 
দোখ। 


১. একটি সবুজ সত্ঘের বেপরোয়৷ কর্মের বর্ণনা মাঝারো৷ তাদের একটি ধ্বাঁন, 
সমবেত চিৎকারে আত্মঘোষণা । তুল্‌: নজরুলের “দে গরুর পা৷ ধুইয়ে” 

২. সরস্বতী পূজার আসরে যাত্রাগানে প্রাতমার 1দকে মুখ কারয়া আঁভনয় হয়, 
রাজাও সিংহাসনে বসে । কিন্তু একবার হাকিম-হাঁকমানীরা আসায় রাজার “চেয়ার' 
তাদের মুখোমুঁখ ঘু'রয়ে প্রাতমাকে পছনে কল। হয় । প্রতিবাদে “সাধু, প্রফুল্ল হালদার) 
প্রস্তীাত জোর কাঁরয়৷ তাহা আবার ঘুরাইয়। দিতে বাধ্য করে । 

৩. সম্ভবত নোয়াখালি সবুজ সঞ্ঘের অনুষ্ঠিত বস্তু তামালার নোট্‌ ।-__-পাওয়া যায় নাই & 


১৫৮ 


৯, 
. 


রূপনারানেব কূলে 


ভাল, তুমি ক রুষীয় চিন্রকরের আকা “5921 ০6110 
এর প্রাতলাপাঁট পাও নি, যা আমি পাঠিয়েছি ; একেবারে 
শচীনবাবৃ+ কি আমাকে স্মরণ করেন 2 সতীন্‌ বাবু সু, চ 


চিতি 


পোম্টকার্ড 
মঃ কান্দি* ৯ই কাত্তিক ( অক্টোবর ১৯২৮ ) 


প্রয়বরেষু-তোমার দশমীর .০খগত 70.০"র পৃবে 
তোমাকে পাটনার ঠিকানায় যে লঙ্কা লেপাফা পাঠাইয়া ছিলাম, 
সে খানা বুঝ পাও নি? ন৷ পাইয়া থাকিলে আমার মৃত্যু । হয় 
সেখানা এখানে খোল৷ হইয়াছে, নাহয় পাটলিপুত্রে। হেরম্ব- 
মৈত্র মরালিটির সাইকো আনালাসস্‌ (2) 1 গোঁছ। 

যাউক্‌। 

এখানে আজ খুব বৃষ্ট হইল । কলিকাতায় ?ক-রকম ? 

[কিছুকাল পৃবে মস্টেসিস্ম্‌ _ সম্বন্ধে চিন্ত। কাঁরতে করিতে 
একট। ফিগার আমার মগজে আপসিয়া গিয়াছিল। সেটাকে যাঁদ 
জ্যোৎয়ার ফাঁল-জাতীয় এবারতে 'লাঁপবদ্ধ কাঁরতে পারতাম, 
খাঁস হইতাম | 

একটা দীঘী গভীর কালো । নিম্ষে মাছেরা। নিতান্ত 
পরিচিত একঘেয়ে রকমে দীঘিকার মধ্যেই পর্যাপ্ত তাদের 'দিনগু ল 
গুজরায়। একটা রুই একটা 'ফালু' দিয়াছিল £ 'দয়া উপরের নীল 
আকাশ, রোদ্র, কলরবমুখাঁরত চারপাশ প্রভাঁতির একটা মোটা- 
মুটি আভাস তার চেতনার উপরে লাভ করিয়াছিল। মুহুর্তেক 
পরে পাঁরচিত জীবনে ফিরিয়া আঁসয়৷ বাঁলয়াছিল শুধু, 
“দেখিয়াছি' । সেই দেখাটা চিরজন্মের মত তার মাথা 
খাইয়াছিল। সে কি বলত ট্যাংরা পুশটদের কাছে তা স্পষ্ট 
কারতে পারত না আনবাচ্য । 


৩শচীন্দ্রনাথ বসু পাটনার শাক্ষত সমাজের অগ্রগণ্য মানুষ, ব্যারিস্টার | 
সতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত-_পাটনা বি-এন কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক । 


ও তাহার সহযোগী । 
* মঙ্গলকান্দি (ফেনী, নোয়াখাল ), সেখানকার স্কুলে তান কিছুদন (১৯২৭- 
২৮এ ) শিক্ষক ছিলেন । 


সবুজের আভযান ১৫১১ 


গোপাল যাঁদ এই আহীডয়া-টাকে আবদ্ধ (2) করার যোগ্য মনে 
করে, আনন্দিত হবে৷ । ইতি 


ভবদীয় 
সুরেশ চরুবস্তী 


সুরেশ চক্রবর্তীর দৃঁষ্টিভাঙ্গ ও ঠার বাক্য-রীতি এই পন্ন-কয়াটির ফাকে 
ফাকে, বেরোচ্ছে । বাকা-চোবা বাক্য-রীতি আরও সহজগাঁতও হতে পারত । 
'কলার কথা” রাঁতিমত তাত্তিক বন্তৃতা, কাঠন হতে বাধ্য, কিন্তু হয় নি। ত৷ 
'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়োছিল । “রবীন্দ্রনাথ স্বভাবতই সু-প্রসঙ্গ । রবীন্দ্র- 
ভাবনায় গভীরবূপে সমৃদ্ধ এ বন্তুৃতা ছাপা হলে রবীন্দ্রনাথ নাকি সন্তুষ্ট 
মনে জানতে উৎসুক হয়োছলেন কে এই লোক (বস্তা 2): স্বতঃ-উৎসারত 
গ্রদ্ধায় সে বন্তৃতা ছিল বিচ্ছুরিত দুযাতি। শ্রোতারা সকলে চমৎকৃত ও প্রবুদ্ধ 
হন। পুরাতন সামায়ক পন্নে (ভারতবর্ষে কি”) এ দুরট বন্তুতা অনুলাঁখত 
রূপে খুজে পাওয়৷ গেলেও যেতে পারে। কিন্তু হুইটম্যান বন্তুতাটি আর 
পাওয়া যাবে না । স্মৃতিসার উদ্ধার করা চলে কি: দোঁখ-_ 


হুইটম্যান তখনো শিক্ষিতদের নিকটও প্রায় অপাঁরচিত নাম । আই-এ 
পরীক্ষার আগে মাস দুই ওরই মুখে সে কাবর কাব্যপাঠ শুনতে শুনতে 
পরীক্ষাটি তাঁলয়ে দিয়োছলাম,_তাতে 'কছুমান্ ক্ষাত হযাঁন। রবীন্দ্রনাথ, 
ব্রাউানং-এর পরেই সুরেশবাবুর সমাদৃত কাব ছিলেন হুইটম্যান্‌ । 


কে এই কাব 2 বিশুদ্ব-অর্থাং অবিকৃত ইংরেজি উচ্চারণে সকলে 
শুনেছে । হুইটম্যান' কে ১ 


$/৪1 ৬$1)11010011) 21509100095, 011৬1910126] 0106 501, 


0109101]1) 1951)9) 5915081, 92011), ৫1117101115 200 016115. 
০ 591)611061191151, 10 5121706]1 2০০৮6 17091) 21) ৮/010610 01 80811 
01) (10611). 


0 717015 177006951 11121) 11017000991... 
1 09115%6 11) [106 1651) 2170 119 21019011065, 


. 996108, 11921109) (61106, 916 201190135, 2100 6০1) 70211 9100 
19৮ 01 1006 15 2, 108118.016, (5০05 01 17195617 24) 


৯৬০ রূপনারানের কুলে 


কী তার বন্তব্য ? 


(0095-5616 1 81178, ৪ 51101016 561021809 10915010 ; 996 00061 00৩ 
৮01 1061009018010, (16 %/010 1217-02559. 01 01১55101059 600 1০ 
(0০1 51170. 

০ 21195192700 210176 1101 01211 210176 15 50109 101 
(6 10056, 58 106 12017) ০01019166 19 ৬/01010101 191, 

7176 156100916 6008119 5/111) 0106 79816 1 5115. 

0) 11 11010001150 11) 108551017, [00156 2170 190/01, 01199100] 001 
16651 20101) 1011790 11061 009 195 ৫1৬11)9. 

1176 10061171৬21 1 51116. 


বলে কী এ অদ্ভুত কাব! মহৎ ও তুচ্ছ, সৃক্ষম ও স্থূল, 
পণ্য ও পাপ, ভব্য ও অভব্য সবই ধার বালষ্ঠ দৃঁষ্টতে সমাজ 
সত্য, কাবকৃতিতে সমান গ্রাহ্য। এঁক বিশ্বরূপ দর্শন ? ও 
কথাটি বলেই সভাপাঁত আমার বাবা) উপাস্থিত শ্রোতাদের মনকে 
আলোকের আভাস দিয়োছলেন ৷ 

2 51106 (06 1390৮ 1216০10. 

0179 9০9৫ 1! 1 ৫910 1701 093611 (116 11595 ০ 
০০ 11) 01119110011, ৮%/0100017) 1101 1119 11565 0 1116 [02115 
০1 9010. 

17990, 16010 17817) 6215, ৫100 800. (91711081701 016 
6815, | 

0 11 5%/ 01559 216 170 006 108105 800 19099105 ০01 

(7০ 0০9৫৮, 01015 ০০ 01 05 5০9]. 

011 59 70৬1 (1556 816 11) 5001 ! 

50010110161) 01 4১081 9. 

“01656 21০ 019 501, ; এ ক দেহাত্সবাদী সহাজিয়। তত? 

1 80 0179 70816 01 00০ 309৫9 210 1 2107 016 10০০1 
০01 07০ ১০০1. 

[ এ) 0176 0০996 01 016 ৬/0002010 (116 52109 85 1176 
101), 

4৯100 [58 1015 8980 [0 06 2 ৮/01191) 29 10 09 
2 17781), 


সবুজের আভযান ১৬১ 


00 138৮ 01519 13 109100115 £158151 08810 005 
[01106101170]. (9018 06 17199616 2) 

1% ০০101806 ! 

ঢ01 900 517816 5/10) 126 0০ 51521795565, 2110 £ 
710 0075 1191115 10010916 270 17016 1:651019170৩01, 

[175 £9207655 ০1 1,0৮9 20 [02100001209, 20৫ 
(015 2192,01655 01 1২6115101. 

(5912161059 2০] [১2810281701 10.) 
কিন্তু এ কি কবিতা, কাবতা বলব একে 2 
8৬110 (090101)59 [1815 0০9০1 1001195 11720, 

সবই চ551017-এর ববিদুচ্ছটা । 

12225 ০% 07255-এর একশ বছর পরে সেই দুখার কাবর এর্প প্রাণ- 
প্রবন্ধ স্বপ্ন-এখন ি মনে হয় পাগলের প্রলাপ 2 কোথায় বা তার সেই 
স্বপ্নের 'আমৌরকা+ সেই কষ্পনার "ডমোক্ষ্যাস”, সেই দেশে-দেশে ভূজবন্ধনের 
সখ্য-সংগঠন-8/ 07৩ 07201 109৮৪ ০0 09017182055 2 প্লেখানে দোখ 
ভয়েনাম বুদ্ধ পারাঁমাঁসভ সোসাইটি-আর সমকামিতার সখ্যত। । তখনো 
শ্বাস করা সম্ভব ছিল “এ মহামানব আসে' । অন্ততঃ ভারতবর্ষে আমাদের 
পক্ষে সম্ভব ছিল, তখনো আমেরিকাতেও বিশ্বাস করা, ডিমোক্লাসিতেও বিশ্বাস 
করা, তার চেয়েও বোশ বশ্বাস করা প্রাণের অপরাজেয়তায়--সেই মন্ত্রে ও 
প্রাণায় স্বাহা । তবে ওসব কথাগুলোর স্থল অর্থ তখাঁন বদলে যাচ্ছিল । 
সোঁদনকার বক্তৃতার শ্রোতারা কি ভেবেছিলেন কে জানে? এ কি নতুন 
বশ্বরুপ-দর্শন' ১ দু-একজন তাতে সত্যই প্রবুদ্ধ হন । আঁধকাংশেরই একটা 
অস্পষ্ট ধারণা কক্ষ্যাপাটা ধূলোকাদ৷ সবাঁকছুকেই মনে করে পরশ পাথর । 
তবু ভালো । 

হুইট্রম্যানের পরেই শেষ বন্তৃত৷ ছিল “নাস্তিকতার প্রয়োজনশয়তা ।, 
ণবষয়টা বোধহয় আমিই দুষ$ীমি করে বলোছিলাম । সুরেশবাবু সাগ্রহে বললেন, 
“ঠক' । আমরা তে৷ অবাক । সুরেশবাবু রবীন্দ্র-ভাবনায় ভাঁবিত, উপ্পনিষদ- 
বাইবেলের ভক্ত । আসলে গভীর অধ্যাত্মভাবনার ভাবুক । এবুপ বিষয়ে তাকে 
দয়ে বন্তৃতা তার আন্তারক বিশ্বাসের উপর অত্যাচার । তানি কিন্তু রাজী । 
ছাপানো বিজ্ঞাপনী'তে বন্তুতা-বিষ” প্বেই শহরে প্রকাশিত হয়ে গিয়োছিল । 
এ বন্তৃতার বিষয় দেখা মাত্ই তো সকলে আঞ্িশর্মা । 'সবুজ সঙ্ঘ' তো 
বেপরোয়ার দল ; বস্তু বাড়াবাঁড়রও একটা সীমা আছে । জাত মানে না, 

১১ 


৯৬২ রুপনারানের কুলে 


ধর্মকর্মে বিদুপ করে, গান্ধীজীকে ছাড়ে না; তাই বলে একেবারে 'নান্তক- 
তার প্রয়োজনীয়তা ।' এই শেষ বন্তুতার নামেই সকল দিনের থেকে শ্রোতার 
সংখ্যা আশাতীত হয়েছিল । শেষাঁদন, ভীড় বোঁশ, উত্তেজনা বোশ। 1বরোধের 
ক্ষোভও আছে, আর ভয়-নৈরাশ্য কি কম 2 “ওরা ( সবুজ সঙ্ঘ ) সব ভাঙবে, 
কিছু আর থাকবে না-বউ-ঝি নিয়ে তবু এতদিন বাস করাছিলাম, তাও আর 
গ্ভ্ভব হবে না।'. বক্তৃতার বিষয় জেনেই একাধিক প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ প্রকাশ্যে এই 
দুর্ভাবনায় মুখর । প্রায় সকলেরই নাতিপ্রচ্ছনন অপ্রসন্নতা । ছোট সভাগৃহে তাই 
নান৷ ধারণার লোকের ভীড় । সুরেশবাবুর বন্তুতায় তাদের ক্ষোভ একটু একটু 
করে গুলিয়ে যেতে লাগল ৷ অনেকেই নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করাছল ৷ 
সে বন্তৃতার তির্ষক রঙ্গ ও ব্যঙ্গ তার! প্রথম বুঝতে পারল না, পরে গায়ে মাখল 
না, সান্দন্ধ মনে শুনতে লাগল । 

বন্তৃতার মোট ধারণাটা এর্‌প £ 

জীবনের সব থেকে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসা, কে তুমি? সে জিজ্ঞাসাকে 
সার্থক করাই জীবনের উদ্দেশ্য, না হলে মানব-জম্মই মিথ্যা । কারণ, ওই 
জিজ্ঞসাহীন জীবন নাস্তকতাও না,'আতস্তকতাও না,_নিছক ফাকা, মিথ্যা । 
নান্তকতার থেকে অনেক অনেক হেয় । ভগ্ববানের যে বিপক্ষে, আমরা জানি, 
তার মুক্তি তিন জন্মে । ভগবানের যে স্বপক্ষ তার'কিন্তু মুন্ত সাত জন্মে। 
কারণটা আর কিছু নয়। ও রকম ভগবানের স্বপক্ষীয়রা আসলে [নিজেরই 
স্বপক্ষে-_-'ভগবান্‌' তাদের হাতের পাঁচ বা তুরুপের গোলাম । কিন্তু নাস্তিকের 
তে। তানয়। নিজ জন্মটাকে অনেক বেশি প্রাণমন দিয়ে নাস্তকের গড়তে 
হয়। একটাই জন্ম, একটাই জীবন, তা নিয়ে সে হেলাফেলা করবে কি করে 2 
আঁস্তকের অবশ্য সেরুপ দুশ্চিন্তা নেই--এ জন্মে না হয়, আরেক জন্ম আছে ।' 
কিম্বা, “আমার আবার করার কী 2 ভগবান আছেন, তিনিই করবেন । সব 
ভগবানের হাত । 'তানিই মুস্তও দেবেন । এদের “ভগবান আছেন'ট 
কেমন ১ না, 'থ্যাঙ্ক ইউ ভগবান, । বেশ আছি টাকাকাঁড়, সুখ-সুবিধা 
যথেষ্ট পাচ্ছি । অতএব, "থ্যাংক ইউ ভগ্গবান্‌ 1, অথবা, 'মনে করো শেষের 
সে দিন ভয়ঙ্কর'_-যমদূত এসে লোহা পুড়িয়ে বিধছে শরীরটাকে । অর্থাং এ 
হচ্ছে 'পুঁলস্-ম]ান ভগবান্‌* । িস্বা, কী আশ্চর্য ভগ্গবানের কোশল- মোষকে 
[দিয়েছেন শিং, না হলে মোষ কি করে বাচবে ? অর্থাং এ হচ্ছে মোষের 'শং' 
এর ভগবান । আবার, কারও পক্ষে--“পরকালের কথ ভাবো একটু-প্জা- 
আর্চ। করো, পুণ্য সয় করো, পরকালে না হলে কি করবে ? অর্থাৎ ইনৃসি- 
ওরে পলাশর' ভগবান্‌। অথবা, “দাও কিছু দাও, পূজা, পাঠাবাঁল, কিছু 


সবুজের আভযান ১৬৩ 


দাও । এ হচ্ছে 'হাঁকমের পেশকার ভগবান_ঘুষ না পেলে চোখেই দেখবে ন। 
তোমাকে ৷ ইত্যাঁদ, ইত্যাদ। আতস্তকদের এরূপ প্রায় আট-দশ-শ্রেণীর 
ভগবানের ব্যাখ্য৷ সুরেশবাবু করলেন । শুনতে শুনতে শেষাঁদকে মক্জা পাচ্ছিলেন 
শ্রোতারা ; কিন্তু কারে! গায়ে তা বিধছিল মনে হয় না । এই মজার পালা 
চলৃত আরও, কে একজন-বোধহয় সভাপাঁতই-বস্তার উদ্দেশ্যে বললেন, 
'টাইমৃস্‌ আপ্‌ সুরেশবাবু আধ-নিমেষ থেমে সভার উদ্দেশ্য বল্লেন, হা, 
'টাইমৃস্‌ আপ্‌ । 

টাইমস্‌ আপ এই জন্ম, এই জীবন--তা ফুঁরয়ে যাচ্ছে । প্রাত মুহুতে 
ত৷ ক্ষয় হচ্ছে। টাইম্‌স আপ্‌ । কী ত। নিয়ে করবেন- ঠিক করুন্‌- টাইমস্‌ 
আপ্‌ । চান ফাঁক দিন-জীবনকে ফাঁক 'দয়ে ভগবানকে ফাকি দিতে 
পারবেন কিনা জান না? তবে ফাঁকি যাঁদ না !দতে শন-_-তা হলে জিজ্ঞাসা 
করুন নিজেকে--কী আপনার জ্ঞান-বৃদ্ধি-মনের উপলান্ধ। কী এ জীবন? 
ক। এ শুথিবী 2 সত্য কী? আপাঁন কি তা জেনেছেন * জানতে চেয়েছেন 
কখনে৷ £ যাঁদ জানেন-যাঁদ বোঝেন-_নোতি, নোঁত, নেতৎ, নেতৎ যেনমেতে 
উপাসতে--সব ঝুট হ্যায়'_-তা হলেও মুন্তির নিকটতর হলেন । পাঁথবীর শ্রেষ্ঠ 
নাস্তিকের অনেকেই আস্তকদের থেকে সত্যের নিকটতর । তারা জ্ঞান 'দয়ে, 
বুদ্ধি দিয়ে এমন 'ক প্রেম দিয়েও মনুষ্য জীবনকে মাহমাম্বত করেন, পৃথিবীকে 
জানেন, বিশ্বকে দেখেন, মানুষকে আঁবষ্কার করেন । ভগবান্‌ যা হয় হোন__ 
এই জানার, এই সত্য সন্ধানের, মানুষের এই স্বরুপ আবিষ্কারের জন্যই 
নাস্তিকতার প্রয়োজনীয়তা । 

সুরেশবাবূ যা সত্যই বলোছলেন ক'রও সাধ্যে নেই তার সারাংশ সংগ্রহ 
করে, কিন্তু শব্দ ও অর্থ-ব্যন্তিত্বের স্পর্শে তাতে সার ছাড়৷ অবান্তর কিছু ছিল না । 
পণ্চাশ বৎসরে তাই স্মৃতি থেকে মাত্র সেই অনুভুতির স্মাতই আহরণ সন্তব । 
আমরা তে। এসব কথা শুনে যেমন চমৎকৃত হলাম তেমাঁন অসুবধায়ও পড়লাম । 
আমাদের মাথায় ছিল এরুপ উদ্দেশ্য_ অধ্যাত্ম বুঁদ্ধর জায়গায় দেশটায় একটু 
যুস্তি, বুদ্ধি, বিজ্ঞানের প্রসার বাড়ুক। সে দিকটা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার । 
দু'-একজন তাই দীড়িয়ে পড়লাম-একটু চড়া সুরেই কথাটা বলুলাম_ 
'আমরা নাস্তিক ॥' স্পর্ধা বটে, ধৃষ্ততাও নিশ্চয় । সুরেশবাবুর কথা ধাঁদের 
গ্রায়ে বেধে নি, এই স্পর্ধা ঠাদেব গায়ে না লেগে গেল না। তাই লেগে 
ঠোল তামাসা । কারও ক্ষোভ, কারও ক্লোধ, কারও ক্রন্দন 'এবার আর কিছু 
থাকচে না, সব যাবে-সব গেল ।' অর্থাৎ আমাদের উদ্দেশ্য এক অর্থে 1সদ্ধ 
হল ; অন্যদিকে একটি অসামান্য বন্তৃত। প্রায় এই বাদরামির ফলে চাপা পড়ে 





লি! 1 €/777772 বযঞ্চ _ 


মহাপাপ! এমনিতেই তো ছেলেরা বাগ-মাকে ধানে না। নাতিকরা 
আস্কার৷ পেলে বউ-ীঝ আর ঘরে রাখা যাবে না। 


নোয়াখাঁলর ইতিহাসে সে একটা মজার দিন গিয়েছে । কিন্তু মজ। 
উপভোগ করেও আমরা সম্পূর্ণ তুষ্ হতাম না। সঙ্গীত-সাহত্যেও শেষ 
হ'ত না যৌবনের উৎসাহ । না, স্যাংটিটির অপেক্ষা দেশটায় স্যাঁনাঁটর 'কিছু 
প্রসার প্রয়োজন । সংকীর্তনের থেকে স্যাঁনটেশনের দরকার বেশি । আর 
ভগ্ববানের উপাসনার থেকে মানুষের মঙ্গলের আয়োজন বেশি জরুরী । মাথায় 
সোস্যালিজম-কম্যানজমের কাচা ধোঁয়াও ছিল ( আলে নয় ), ন্যাশনালিজম্-এর 
ঝোঁকও ছিল । রাজনীতির ক্ষেত্রে 'হন্দু-মুসলমানের ভেদ কেবাল বাড়ছে । 
[হউগ্যানিজমৃ-এর প্রচারই মনে হল তখন প্রয়োজন । জনা সাত-আট বন্ধ 
মিলে আমর নদীর পারে দাড়ষে দাঁড়িয়ে একদিন স্থাপিত করে ফেললাম 
“মানব মঙ্গল মণ্ডলখ' । দাড়িয়ে দাঁড়য়েই হ'ল কাজ । বিদ্যাসাগর- অক্ষয়- 
কুমারের ধারাট। দেবেন্দ্রনাথ থেকে শ্রীরামকৃষ্ণ পর্যন্ত ধর্মাত্মারা একাঁদকে চাপা দয়ে 
ফেলেছেন । এদেশে চাই একটা র্যাশনালস্ট সোসাইাট । “দেশের বাণী'তে 
ছাপিয়ে দিলাম সে সংবাদ । ভাবলাম ওই যথেষ্ট | “সবুজ সঙ্ঘে' যা আমরা 
কার- টেঁচামোঁচ, চিৎকার, কোলাহল , "মানব মঙ্গল মণ্ডলী'তে তাও কার নি। 
কারণ, তা তো সভা নয়, সমাত নয়, মগলী । ওটা আছে-আছে, অর্থাং__ 
নেই। কিন্তু কেজানত তা অমর? বছর সাত পরে কলকাতায় গ্রেপ্তার 
হয়ে গোয়েন্দা বিভাগে পড়লাম মহা সমস্যায় ৷ প্রশ্নের পর প্রশ্র-মানৰ 
মঙ্গল মণ্ডলী” কী? কাঁতারকাজ? কে-কে তার সভ্য? কোতুকবোধ না 
হচ্ছিল তা নয়, কিন্তু পঁলশ বন্ধুদের কারও নাম পেলে যে বন্ধুদের পক্ষে সেটা 
কৌতুকের ব্যাপার থাকবে না, তাও বুঝাঁছলাম । তাই আমার নিজের ছাড়া আর 
কারও নাম সেখানে ( গ্গোয়েন্দা দপ্তরে ) আমার মনে পড়ল না। কাজও না। 
বোধহয় বিভ্রাট তাতে বাড়ল। গোয়েন্দা বিভাগ বুঝল, গোপন করছি। 
সন্দেহটা আরও ঘনীভূত হ'ল। তার ফলাফল কতদূর গঁড়িয়োছিল জানি 
না । পরে শুনোৌছ পুলিশ দু'একজনকে বড়াস্বত করতে ছাড়ে নি-_যেমন, রেঙ্গুনে 
চারুলালকে ৷ কিন্তু সে 'মণ্ডলী'র সভ্য বলে নয়; আমার নিকটতম বন্ধু, অথচ 
রাজনীতিতে সে মাত্র সুদূর দর্শক । পুলিশের ধারণা হ'ল, চারু গভীর জলের 
মাছ। তারা রক্ষদেশে তাকে তাড়া করলে এবং তাঁড়য়ে দেশে এনে ফেল্ল । 


সবুজের আভিষান ১৬৫ 


“চারুপাতি” 

সাহিত্য ও সংস্কাতির উৎসব এখন পাড়ায় পাড়ায় আপিসে-আপিসে । 
কিন্তু ১৯২০-২৫-এ তা 'নশ্চয়ই দুর্বায়ু বলে গণ্য হ'ত । আমাদের মধ্যে তা 
চালনার ভারে ছিল কে ? আঁম, না, চারু ( চারূলাল মুখোপাধ্যায় ), ত৷ বলা 
দুষ্কর | হয়তো চারু, নয়তো আঁম । অথবা, বোধহয় বলা ঠিক চারু ও আমি । 
, অথব। চাবুই আম আর আমিও চারু, একজোড়া । নান সূত্রে আমরা দু'জন 
জাঁড়য়ে গিয়েছি, একের থেকে আরকে পৃথক করা সহজ নয় । 'সবুজ সঙ্ঘে' 
“সকলের সঙ্গে সকলে আমরা,-আর পরিহাস করে বলতাম, প্রত্যেকে আমরা 
'কর্তা'র তরে। কিন্তু তারও মধ্যে আপনা থেকেই গড়ে উঠত বিশিষ্ট চক্র । 
শবাচ্ছম্ন নয়, বাশষ্$ । আমাদের চক্রটা নাম পেয়োছল “সাবৃজেকৃট- কমি: 
চারু, আম, আমার ভাই সাধু ( প্রফুল্ল হালদার ), উপেন সেন, দীনেশ গুহ 
আর € শহরে থাকলে ) উপেন রায় । আরও দু'জন ছিলেন 'এক্স-আঁফনিও 
অনুতোষ সেনগুপ্ত ও স্বয়ং কতা । সকলের সঙ্গে একত্র বৈঠক আমাদেরও, 
তবে বঠুতে। বসতাম এক পার্থ । আন্ডা-ইয়াকির মধ্যেও মন্তব্য চলত নিজেদের 
মধ্যে, চোখের হীঙ্গতে নিয়স্বরে । সেগুল আমাদেরই পাঁরভাষার বোধা, 
নিছক রঙ্গরসের বিষয় । আসলে আমাদের প্রধান কাজটা হ'ল নিজেদের মধ্যে 
কারও না কারও সঙ্গে 'লাগ।' । সাধু প্রধান তীরন্দাজ, অন্রান্ত লক্ষ্য, অক্লান্ত 
ক্ষমত। ৷ চারু প্রধান লক্ষ্য । তার কারণ, চারু চক্ের কেন্দ্র, সকলের প্রিয় । 
কলকণ্ঠ, কলহাস্য । তার দেহ কথা বলে, মুখ কথ বলে, মন কথা বলে। 
যেমন সহজেই চকিত হয়, তেমনি সহজেই বঝঙ্কৃত হয়, সাড়া দেয়। তার 
ছোট চোখ সেই সঙ্গে যোগ দেয় । লম্বা লম্বা হাত ও লম্বা লম্বা আঙুল সেই 
সঙ্গে শূন্যে বা মাটিতে বা মেজেতে আকে সরল ও বরুরেখা । আসল কথা, সে 
একটা বিদ্যুতের তার, 11০ ৮/17€- স্লায়ুতন্ত্রীতে যার বিদু)ৎ খেলছে, তাই চমকে 
উঠে, চমক দেয়, 'শকৃ'ও দেয়। পিছু লাগলে পরে শেষে এক সময়ে হঠাৎ 
ক্ষেপে ওঠে, আবার ক্ষেপলে পরে ইংরেজিই বলে । আর সে ইংরেজি শুনবার 
জন্য তার পিছু লাগা একটা তৃপ্তিকর কাজ । আমরা বলতাম--“এবার ওর 
মাথায় কেটলি চাপাব, চায়ের গরম জল হয়ে যাবে ”॥ আসলে সবশুদ্ধ চারুর 
মন দেয় আলোক, আর সঙ্গ দেয় আনন্দ, প্রাণের ছটা, প্রীতির সরসতা, 
স্পর্শকাতরত৷ ৷ চারু বেশি সহজলভ্য, কাজে-অকাজে নান৷ সূত্রে । তাই চারু 
আর আ'মও বিশেষ করে জাঁড়মে পাঁড়। কাজটা সামান্য । দু'জনেই 
সঙ্পহত্যের ছাত্র । ইংরোজ ভাষা ও সাহত্যে চারুর আকর্ষণ পরিবারগত । 
বাঙুলায় তার আকর্ষণ তখন সে তুলনায় গৌণ। আমার কাছে বাঙল৷ 


৯৬৬ র্পনারানের কূলে 


সাঁহতাই লক্ষ্য, ইংরোজ তার অফুরস্ত পাথেয় । কাল-ধর্মে ইংরেজিতে 
আমার কলম এখন ভোতা, কিন্তু বাঙলায় চারুর কলম এখন ইংরোজর মতোই 
্বচ্ছন্দ। আবার পরের যুগে আমার পল্পবগ্রাহিত। ভাষা-বিজ্ঞানেও আমাকে 
লাগিয়ে দেয়, আর চারুর ওৎসুক্য তাকে করে তোলে নৃ-বিজ্ঞানের গবেষক । 
তার “দ সম্তাল' নৃতত্বের ভালো গ্রন্থ ৷ সুপাঠ্য ও সুখপাঠা-_সাহিত্যের বন্তুও *। 
তখনো কিন্তু ওই সাঁহতোর টানই ছিল চারুর মনের বৌশষ্ট্য। সেই টানেই 
দু'বছরের পেছনের আমাকেও সে সঙ্গে টেনে নিয়োছল । স্পর্শদোষে নেশাও 
আমার লেগেছিল । সাহত্য, ভাষা ও সাহতোর পৃররাগে-অনুরাগে মিলে 
রস-গ্রহণের সাযুজ্যে দু'জনে আমরা চক্রের মধ্যে পরস্পরের সমধমাঁ, সম্প্রক 
'অত্যাগহনো বন্ধু' । সবুজ সঙ্ঘের সাহত্য-সম্পকিত উদ্যোগে আমার আর 
চারুর ওপরই পড়ত প্রধান ভার । চারু ভার নিতে জানে । শুধু সাহিত্য, 
সঙ্গীত নয়, নাটকে আভনয়েও সে উৎসাহী । সব জুড়ে সে ছল “কর্তার, 
অপাঁরহার্ষ সহকারী । পরে, কর্তা দি সেকেও. ছোট কতা । প্রথম থেকেই 
চারুকে না হলে করার বাজার করা৷ চলে না, বেড়ানোও না। কর্তা যাঁদ 
হন ডক্টর জনসন, চারু বস্ওয়েল। অবশ্য বস্ওয়েলের তুলনায় রসবোধ 
চারুর একটু বোঁশ, হাত হান্কা, মন স্বতঃস্ফর্ত । চারুর তাই ডাক পড়ত 
পাটনাতেও । চারুও প্রস্তুত । আমরা বলতাম সেখানে চারুর জন্য একটা 
অন্য রসেরও ডাক আছে-ত। মধুর রসের পর্যায়ের প্বরাগ । যাক, চারু 
পাঠের' সেই দ্বিতীয় ভাগ ( বঙ্গদেশ ছেড়ে ব্রহ্মদেশে ) ও তৃতীয় পাঠ ( দমকা 
হয়ে চুণ্চুড়া ) নামমান্র উল্লেখ করাঁছ । যৌবনের যৌবরাজ্যে দিন যেতে পারল 
না। বিশেষ করে সামাজিক সাম্প্রদায়ক উত্তাপ দুঃসহ হ'ল । স্বরাজে আন্দোলন 
ছাপিয়ে তখনও জেলায় উগ্ন সাম্প্রদায়িকতার শ্বাসরোধী বাতাস বইছে । তাই 
আঁম আসি কলকাতায়-_সত্যই কী আমার সাধনা ও সাধ্য, তার সন্ধানে । চারু 
শক্ষণ-শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে পাঁড় 'দলে বহ্ধদেশে । অনুতোষ সেনগুপ্ত 
ট্টগ্রাম_ নোয়াখালি করছেন (শেষ অবধি এসোঁছলেন কলকাতাতেই )। 
আমাদের বাঁড়র ও চারুর বাঁড়র বৈঠকথান। দু'জনার অনুপাস্থাতিতে খালি । ওর 
ভাই-ঝ পারুল-পুতুলদের যখন-তখন পান ও চা যোগাবার তাড়নায় আর 
বৈঠকখানার 'দিকে কান খাড়া রাখতে হয় না । দুপুর রান্রতে আমাদের বাইরের 
ঘরে মাকে এনে বলতে হয় না_“ওরে এবার তোর! ঘুমোবি, না, আরও গপ্প 
৯. ০03 921721ই পৃন্তকাকারে পাওয়া যায়। শত ২০০-এর ওপর ইংরোঁজ 


বাঙল। প্রকাশিত লেখা রেখে চারু ১২২।৭৫-এ চলে গিয়েছে-_সুপাঠ্য হলেও কে 
নেবে তার প্রকাশ ভার 2 


সবুজের আভযান ১৬৭ 


করাব ? সমস্ত দিনেও কি কথা শেষ হয় নি, রাত যে ভোর হবে।' না, 
রাত ভোর হ'ত না, তার আগেই আমর ঘুমোতাম বৈঠকখানায় পাশাপাশি । 
কথা কিন্তু শেষ হ'ত না। তখনো না, কখনো না। তাই ছুটতে হয় মাঝে 
মাঝে চুড়ায় দেশবন্ধু স্কুলের সম্মানিত হেড্মাস্টার মহাশয়ের বাড়ি । ব্রিটিশ 
'ক্কাল' তাকে বন্ধে ছাড়ে নি, ছাড়ে ন বহারে দুমকায়, কারণ, সে আমার 
বদ্ধ । মজা এই, চারু আর 'কতা' দু'জনাই ছিল কড়া রাজনীতির বিরোধী । 
ইংরেজের উমেদার নয়, কিন্তু ইংরেজের কর্মশাল্তির 2৫771057. দু'জনরাই 
ধারণ। ইংরেজের পৃঁথবী-জোড়া সাম্রাজ্যে ফাটল ধরবে না । আমাদের 'লাফ- 
ফাল' হাস্যকর ও শোচনীয় । 'বুদ্ধি খাটিয়ে যা পার তাই নাও ।' আমাদের 
পারিহাসক পাঁরভাষাতে চারু “মডারেট । ছল পাঁরহাসে বলতাম-_সেই 'বরৃন্‌ 
মারেডম্যান'দের (১১০) 10211150088) মতোই "আমরা সবাই মডারেট । 
এক্াট্রিমিস্ট" একমাত্র ক্ষিতীশ রায়চৌধুরী । আমদের সেই পাঁরহাসের পরি- 
ভাষাতে 'ক্ষিতীশ" মহামান্য ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ফটকা ফুটিয়ে জেলে 
যায়', এমন পাগল । যা-ই এসব বাল, কার্ষতঃ চারু বর্ম থেকে বিতাঁড়ত হ'ল, 
বিহারেও বিড়ীস্ত হ'ল আমার বন্ধু বলে। শেষে একটা রক্ষাকবচ চারু 
ধারণ করলে । তাতে চারুপাঠের নতুন খণ্ডের সূচনা । সে নিষ্কাত পেল 
ওই কবচের জোরে__অব্যর্থ কবচ, উদ্ধাহ। গৃহণী গৃহ ও কন্যাশুদ্ধ তখন 
চারু এই শেষ ভাগে ফেলতে পারল স্বাপ্তর নিঃস্বাশ ৷ চুড়ায় সুবিদ্বান হেড্‌- 
মাস্টার, সম্প্রাত অবসরপ্রাপ্ত । তাই এখনকার সেখানকার সাংবাঁদক শ্রেষ্ঠ । 


আমারঅত্যাগ্রসহনো বন্ধু-পকন্যা দোহিত্র শুদ্ধ থেকে গিয়েছে বন্ধুর মধ্যে 
নিকটতম বদ্ধু_-107 00161709019 19৩ ০? ০0101902১' । 


ন্রঙ্গ-প্রতিজ্ঞ! 

“সবুজ সঙ্ঘের' সববাঙ্গীণ পরিচয়ের বাহন প্রথমতঃ কর্তা, দ্বিতীয়তঃ 
কিততু অনুতোষ সেনগুপ্ত, চারু, তৃতীরতঃ । সমস্ত শহরে রস-রঙ্গের প্রধান 
বাহক অনুতোষ সেনগুপ্ত রঙ্গপ্রাণ মানুষ, রঙ্গ-রাঁসকতায় অদ্বিতীয় । 
কম্তু আরও অনেকাঁদকে অসামান্য । দীর্ঘাকীতি, শ্যামবর্ণ, চোখ-মুখ সুমী ; 
এই মানুষাঁট অল্প কয়েকদিনের পীঁড়ায় অকস্মাৎ কলকাতায় মারা যান 
১৯৪২-এ। তখনো তার বয়স বোধহয় ৪৫-এর দিকে । নোয়াখালিতে 
কেন, বহু ক্ষেত্রেই তিনি তার আাভাঁবক রঙ্গ-প্রাতভার জন্য পারচিত। 

* প্রীতিভ।' কথাট৷ ভেবে চিন্তে প্রয়োগ করছি £ প্রাতিভা' শুধু 1? বা স্বাভাবিক 
শান্ত নয়, তার সম্বন্ধে তবু কথাটা অত্যান্ত নয় । অবশ্য সে জন্য রঙ্গ কথাটারও 


১৬৮ রূপনারানের কুলে 


ঠিক অর্থ বোঝ। দরকার ।' কৌতুক রসের একটা বিশেষ দিক এই রঙ্গ। 
তা সংস্কৃত এীতহ্যের বিদূষকের পেটুক-বৃত্তি নয়, বা বাঙালী এীতহো৷র 
গোপাল ভাঁড়ামিও নয় । যে অর্থে চার্লস্‌ চ্যাপলিন* আঘিতীয় রঙ্গ-প্রাতভা 
আর শ্রেষ্ঠ এক সৃষ্টি-প্রাতিভা, সে অর্থেই অনুতোষবাবুও সে পর্যায়ভুন্ত। 
নিশ্চয়ই দু'জনার তুলনা চলে না। কারণ. চ্যাপালন অপূর্ব প্রাতভা, 
সৌভাগ্যক্রমে সৌভাগ্োরও আঁধকারী । তবে চলাচ্চত্রের বিকাশ না হলে 
প্রকাশের আভনব সুযোগ চ্যাপালন পেতেন না। পাশ্চাত্য দেশে না জন্মে 
এদেশে জন্মালে সেই সুযোগ এই আদ্বতীয় প্রাতভার এখনো জুটত না। রঙ্জ- 
মণ্ের গ্রেট কামাডিয়ানরাও পৃথিবী জয়ের এই রাজাকে পেয়েছেন চলচ্চিত্রের 
প্রভাবে ও বৈভবে। পাশ্চাত্য দেশে সের্প সুযোগ পায় চ্যাপালন । আমাদের 
দেশে চলাচ্চত্রে সে যুগ এখনে। সে তুলনায় প্রায় অনাগত ; তবে অনুকরণ ছাড়য়ে 
সৃষ্টির যুগ্গও আসছে-_সত্যাঁজং তার সূচনা করেছেন । চলচ্চিত্রে চ্যাপালন-এর 
অভিনয়-_-যাকে বলে 9181990101 বা 11015901), তা থেকে একেবারে মুস্ত নয়, 
কিন্তু ত৷ সত্বেও চ্যাপালন রঙ্গনাথের বরপুন্ত | চ্যাপাঁলনের সঙ্গে কারও তুলনার 
প্রশ্নই ওঠে না। তবু অনুতোষবাবূুর নাম করোছি শুধু 'গোন্র' বুঝাতে । 
কারণ, অনুতোষবাবুর ধারাটা স্বাভাঁবক ভাবে সোঁদকেই বাহিত হ'ত। তার 
কৌতুক-রসের মধ্যে ছিল তেমাঁন একাঁট অকুন্িম রঙ্গচেতনার আভাস । 
তা আভাসই থাকে, কিন্তু বিকাশ সম্ভব হয় নি। হ'ত ক হ'ত না তাও তাই 
বলা যায় না॥ আবার সেই কথাই মনে পড়ে_অসম্পূর্ণ প্রীতভা । কারণ, 
'অসম্পূর্ণ' সুযোগের অভাবে, নিজের কাছেও অনাবিষ্কৃত শিল্পী । অনুতোষবাবুর 
সর্পপরচিত কুশলতা এই যে, যে-কোনো মানুষের কথা স্বরে-সুরে-বাচন- 
ভাঙ্গতে তিনি নকল করতে পারতেন_ এবং পাঁরচিত যে-কোনো অণলের 
বাঙলা উপভাষাকেও আয়ন্ত করতে জানতেন । চলচ্চিত্রে এ গুশের প্রয়োজন 
নেই, থিয়েটারেও নয়, এ হচ্ছে 717010 । মনে হতে পারে এ তা অনুকরণ, 
ভঙ্গীকে 'ভেঙ্চি'তে পাঁরণত করা । অনুকরণে কণ্ঠ-কৌশলের পাঁরচয় 
থাকতে পারে, কিন্তু কলা-কুশলতা অনাবশ্যকও হতে পারে । অবশ্য মিমাক্র 
নয়, বাঙলার নান৷ উপভাষার কথাও অনুতোষবাবু তেমনি সহজভাবে বলতে 
পারতেন। শোনা মাই ধ্বান-বৌশিষ্টয, ব্যাকরণগত রূপ, তার বাগ্‌- 
রীতি ( সিন্টাকৃস্‌ ), কিছু না-কিছু বাগভাঙ্গ (হীডয়মূ ), এবং আগণ্ালক 


*এই পৃষ্ঠাটির প্রুফ দেখতে দেখতে পড়ছি চার্লি চ্যাপলিন গতকাল (২৫।১২1৭৭ 
ইং) মার গেচ্ছেন। 


সবুজের আভষান ১৬৯ 


সুর ( টোন্‌) শুদ্ধ সে উপভাষার পাঁরবেশন-_এ শুধু অনুকরণ নয়, কৌতুক- 
কুশলতাও নয়। কান ও কণ্ঠ ছাড়া এজন্য চাই ভাষার সম্বন্ধ অস্তদূ্ষ্টি। 
অনুতোষবাবুর ক্ষেত্রে এই দুইটি ক্ষমতার বিশেষ সাফল্য ঘটিয়েছিল তৃতীয় 
এক শত্তি, অনুতোষবাবূর রসবোধে ৷ হাস্য-কৌতুকের একটা জনপ্রিয় রূপ 
তখনো ছিল--মাইমে'র ভদ্র সংস্করণ । চিত্তরঞ্জন গোস্বামী বাঙ্লায়, 
এবং 'ফ্যাণম্যান' ইংরেজিতে এ ধরনের হাস্যকৌতুক কলকাতার ভদ্র আসরে 
পাঁরবেশন করতেন। অবশ্য অনুতোষবাবুর মতো তাদের বিবিধ উপভাষার 
ওপর দখল ছিল কিনা জান না। কৌতুকবোধই তখন যথেষ্ট হয়েছে । 
তারা খ্যাতি অর্জন করেছেন, জীবিকাও ওই গুণে অর্জন করেছেন । 
কলকাতায় তা সম্ভব হয়েছে । অনুতোষবাব্‌ ছোট্র নোয়াখালি শহরেই আবদ্ধ 
ছিলেন । তার শন্ত বেশি হোক, কম হোক, খ্যাতি সেই প্রত্যন্ত ক্ষেত্রে 
সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য, জীবিকার্জন তাতে অসন্তব। তা ছাড়া, শাক্ষিত ভদ্রলোকের 
পরিবারের ছেলে এ ধরনের জীবিকার কথা ভাবতে চায় না,_-“সং' সেজে বা 
খেল দেখিয়ে জীবকার্জন প্রশংসনীয় নয় । বি. এ. পাশ করে মামুলী একটা 
'ভদ্রজীবিকা'ই বরং কাম্য থাকে । যেমন, সুযোগের অভাব, তেমান এ ক্ষেত্রে 
ভদ্রশ্রেণীর মামূলী মনোভাবও দুরাতিক্রম্য ছিল । চ্যাপালন জন্ম থেকে যে 
ধারণায় বধিত, আমাদের ভদ্র অভিনেতারা জন্ম থেকেই সেরুপ জীবিকাকে হেয় 
ভাবতে অভ্যস্ত । অথচ চরিন্র-সৃষ্তর ও বিশেষ ঘটনার ব৷ 'সিচুয়েশন উদ্ভাবনার 
শান্ত অনুতোষবাবুর প্রচুর ছিল । কৌতুক-চরিন্র-সৃষ্টর কথাতেই মনে পড়ে যায় 
চ্যাপালনের কথা- চ্যাপলিন কথা দিয়ে কোতুক সৃষ্টি না করে কোতুক সৃষ্ট 
করেছেন ঘটনা-উদ্ভাবনায় ও চারন্র-চিত্রণে । সৃষ্টির এই গোত্র ছিল অনুতোষ 
বাবুর জন্মগত । সাধারণতঃ লোকে দেখত অনুতোষবাবুর কথার কৌতুক-- 
অসামান্য অনুকরণ-শান্ত । তার কথা যে চরিত্রের উদ্ঘাটন, সে দিকটা সকলের 
লক্ষ্যগাচর হ'ত না। অনুতোষবাবুর মধ্যে দু'শীন্তই মিলিত হয়েছিজ। 
যেমন, যে-কোনে। ঘটনার মধ্যে আশ্চর্য রঙ্গ-সপ্তাবনা দেখা ছিল তার স্বভাবগত । 
তাকে কাট-ছাঁট করে সাজাতেও ছিলেন কুশলী । তাকে বোশ উদ্তাবনায় 
বিস্তারত কৌতুক-কাঁথকা করার চেষ্টা থাকত না। সেরূপ দাবীও ছিল না, 
শ্রোতার থেকেও না, জীবিকার দায়েও না। 'দ্বতীয়তঃ, ঘটনার পিছনকার 
মানুষের চরিন্র-বুপও বোবা ছিল অনুতোষবাবুর স্বভাবগত । আপনার জীবনবোধ 
ও কৌতুকবোধ দিয়ে সেই চরিন্রকে হুশায়িত করতেও পারতেন । মাঁনট দশ- 
*পনেরর মধ্যে একটি স্কেচ বা খওঁচিন্র তাকে দতে হত ভদ্রলোকের আসরে সে 
জন্য বিস্তারত করে রন্তমাংসে পূর্ণত৷ দেওয়ার প্রশ্ন উঠত না। যাঁদ এদেশে 


৯৭০ রূপনারানের কুলে 


'কাঁমাড স্টেজ থাকত, এবং ও বীৃঁত্তটা ভদ্র গণ্য হ'ত, ত। হলে চ্যাপালিনের 
পথেই অনুতোষবাবু এক কাঁমাঁড-্রষ্টা ও কামাঁডর সার্থক আঁভনেতা হতে 
পারতেন। কিন্তু সেই মণ্ট নেই, তাই সেই সম্ভাবনাও আঁবন্কৃত হয় ন। 
আর আমার ধারণ। 'প্রাতভা'ও অপরিজ্ঞাত থেকে গিয়েছিল । তান রঙ্গ-রসের 
পারবেশক, সঙ্গীত-শল্পী নন, কৌতুক চাঁরন্র উতদ্তাবনায়ও সুদক্ষ, _-এ কথাটা 
তার নিজেরও জানবার সুযোগ হ'ল লা । 

কিন্তু তার সরস মন আমাদের জীবনের চারাঁদকে কৌতুক উপকরণের 
অভাব দেখত না,_এ জানত 'এত ভঙ্গ বঙ্গ দেশ তবু রঙ্গে ভরা ।' অনুতোষ 
সেনের অন্করণ-প্রধান রঙ্গ-কৌতুক ঢাকা-চট্টগ্রামে না জানত এমন লোক 
ছিল না। সেই সঙ্গে নোয়াখালি, চট্রগ্রামে অনুতোষবাবুর খ্যাঁত 'ছিল 
নাট্যাভিনয়েও । তাতে কিন্তু কোতৃকাঁভিনয়ের ভূমিকা তার নয় । একবার 
একটিমান্র তান কৌতুক-চরিন্র আঁভনয় করেছিলেন চন্দ্রশেখরে'র পবশ্বাস' 
( বোধহয় চন্দ্রশেখরের সে চরিত্র অমৃতলাল বসুর যোজনা)' ; চমৎকার হয়েহিল 
সে আঁভনয়। কিন্তু প্রধানতঃ নায়কোচত ভূঁমকাতেই তার খ্যাতি ছিল। 
সে-সব ভূমিকায় তার আঁভনয়-নৈপুণ্য ছিল আশ্চর্যজনক ৷ “সাজাহানে তিনি 
ওরঙ্গজেব, “সীতা"য় তান রাম-এই কথাতেই তা বোঝবার পক্ষে ষথেষ্ট। 
আমাদের দলে 1তাঁনই শ্রেষ্ঠ আভনেতা । আবার, আভনয় ব্যতীত 
সাংবাঁদকতায়ও ঠার হাত ছিল। মূলতঃ 1তাঁন ছিলেন সাহত্য-রাঁসক 
ও জীবন-রাঁসক এবং সবসময়েই কৌতুক-রাঁসক । সেখানে যান সেখানেই 
ণনজের লঙ্গে নিয়ে জাসতেন সত্যকারের কৌতুক-আনন্দের হাওয়৷ । তিনি 
আসা-মান্রই ঘর আলোকে ঝল্মল্‌ হয়ে উঠবে । দুশীমাঁনটের মধ্যেই তার 
কথায়, নতুন কোনো একটা দেখা ঘটনার বর্ণনায়, রঙ্গের ছটা ফুটে উঠবে ; _তার 
মাঝে-মাঝে ব্যঙ্গ-বিদুপ না থাকত তা নন, কিন্তু বিদ্রুপ প্রায়ই গৌণ । আসল 
[জানিসটা একটা স্বচ্ছন্দ রঙ্গ-বোপ । সবুজ সঙ্ঘে' তো আমরা তাকে মনে 
করতাম--আমাদের আড্ডা, আনন্দ, হাঁস, হুলোড় সকল 'জাননের কেন্দ্রাস্ছত 
রঙ্গ-সরসতার অফুরন্ত উৎস | শুধু রঙ্গরস নয়, লোকাঁটির আরও কিছু ছল_ 
হাস্য প্রবণতার মতোই প্রবল ছিল-তার অন্তরের সহজ আবেগ-সম্পদ । হাস্য 
প্রবণতা তারই একটা রূপ। সহজেই তাকে ভালোবাসত বন্ধুরা, এবং 
বান্ধবীরাও, ধারা সৌঁদনে মেলামেশায়ও বথেষ্ট দূরত্ব রাখতেন । সেই সঙ্গেই 
সহজ ছিল তার নজের আন্তারকতা ও শালীনতাবোধ । তাই তান 
সকলের অকৃন্রিম বন্ধু হয়ে উঠতেন, এবং বন্ধু থেকেও যেতেন । বিশেষ করে 
বন্ধুগোষ্ঠীর আমাদের অনুজদের সমবয়স্ক বন্ধু । আবার, স্ত্রী, পুর, আত্মীয়, স্বজন 


সবুজের আভষান ১৭১ 


শুদ্ধ মানুষাট অকৃত্রিম দরদী মানুষ, হৃদয়বান স্বামী, প্লেহপ্রবণ পিতা, সহনশীল 
আত্মীয় । অনাত্ীয়দের প্রাতও উদাসীন নন। বহু মানুষের সঙ্গে নানা 
যোগাযোগে তার আপনার বাস্তব কাজেই ঘাটাত পড়ত, জীবিকায় আত্মনিয়োগ 
করার অবকাশ হ'ত না। স্কুলে মাস্টার করেছেন, আবার স্বরাজের নামে তা 
ছেড়েছেন, পড়েছেন বেকারত্বের বিপাকে । কী করবেন, না জেনে নান! বৃত্তিতে 
হাত দিয়েছেন, এবং স্থির হতে পারেন নি। প্সবুজ সঙ্ঘে'র আভ্ডাআনন্দের 
মধ্যে কিছুতে সুস্থির হবার অবকাশই বা ছিল কই তার বা আমাদের 2? তবু 
চিন্তা এল কিছু করতে হবে । কীতা 5 আভনয় 2 সাংবাঁদকতার কথাও 
অনুতোষবাবুর মনে উাঁদত হ'ত যেমন হ'ত আমাদেরও । কিন্তু তার স্থান 
কলকাতা । শেষ অবাধ ইনাঁসওরেন্সের এজেপ্ট রূপে অনুতোষ সেনগুপ্ত 
জীবিক' প্রায় আয়ত্ত করেছিলেন, সুস্ছিরও হয়েছিলেন, আর ঠিক সে সময়েই 
হ'ল আকাঁস্মক মৃত্যু । ছোট-বড় সকল মানুষের এনন প্রিয়জন আর কয়জন 
ছিলেন? ফিরে তাকিয়ে তাই ভাবি হয়তো আমাদের বদ্ধু-বান্ধবদের আকর্ষণের 
দব.৩ই তার নিজের মূলশান্ত আবিষ্কারের সুযোগও অনুতোষবাবু লাভ করেন 
নি। অবশ্য দেশেও ছিল সেরূপ সুযোগের অভাব । 'কাঁমক 'স্পাঁরট' চারাঁদকে 
চোখের জল ও ভাড়ামর মধো এ দেশে অবহেলিত থাকে । অথচ বাঙালির 
কোতুক-বোধ যে নেই তা নয় । 


অনুতোষ সেনগুপ্ত ও বিনয় মুখোপাধ্যায় দৃ'জনার উদ্দেশে-আমার 'আন্।' 
নামে বইখানা আমি উৎসর্গ করোছি 'আড্ডারসরাসিকেষু' । এক অর্থে সে বই 
সবুজ সঙ্ঘের সকলের উদ্দেশ্যেই-উৎসগ্গাকৃত । কারণ, এক বিষয়ে সকলেই 
আমার সমধর্মী_ আঙ্ডারসরাঁসক । সবুজ সঙ্ঘের যা প্রধান লক্ষণ_তা৷ আড্ড। । 
যা তার একান্ত বৈশিষ্ট তা বাঙাঁলিরও িনজস্ব বৌশষ্ট্য । সে বইতে যা 
আছে তাতে আমাদের এ অধ্যায়ের উল্লেখ নেই । |কন্তু সবৃজ সঙ্ঘের বন্ধুর না 
হলে কে বুঝ্‌বে 'আঙ্ডার' প্রেরণার উৎস কোথায় ? মা-জ্যেঠিমাদের ঘণ্টার পর 
ঘণ্টা ভাত নয়ে অপেক্ষাকে অগ্রাহ্য করতে শাঁখয়েছে এই আন্ডার নেশা । 
পরে তা গৃঁহণীদের মান-আভমান দুঃখ-বেদনার কারণ স্বরূপ, আন্ড। তাদের 
সকলের 'সতীন-কাটা' । আড্ডার নেশা সংসারে বিষয়কর্মে আমাদের নিজেদের 
আগ্রহহীন করেছে, পাথবীতে দশজনের চোখে আমাদের করেছে লক্ষমীছাড়। । 
আমরা যা করতাম বাঙাল জীবনে সেটা একটু ব্যাতক্রম--আভিনয়ে, গানে, 
সাহত্য সভায়, হাঁসতে আনন্দে, কথায়, আলোচনায় যৌবনকে জীবনকে স্চ্ছন্দ 
ভাবে গ্রহণ । বুঝি না-বুঝ, আমরা যেন এই কথারই প্রমাণ £ 11916 15 & 


১৭২ রূপনারানের কুলে 


10511 11616 11517, জীবনের এই জয়গান রবীন্দ্রনাথ নিজের মৃষ্ি থেকে 
ঘোগাতে চেয়োছলেন সমস্ত দেশের প্রাণে_পূরববাঙলার এক ছোট শহরেই 
তার যে প্রাতধ্বান জেগোছিল দেশে অন্য কোথাও ত৷ জেগেছে কিনা জান 
না। এত বংসর পরেও আমরা ভাবি ভালোই করোছি 11016 15 ৪10) |) 
11170, 

বাস্তব অর্থে [4118 তখন সহজসাধ্য নয় ; কেউ আমরা অবস্থাপন্ন বিশেষ 
ছিলাম না। পাঁরশ্রমের দ্বারা জীবকার্জন না করলেই নয়, এমন ভদ্রলোকদের 
বাঁড়র ছেলে-জাঁমও নেই জমাও নেই। প্রথম যুদ্ধের অবসান থেকে বিশেষ 
বছরগুলি এদেশে ছিল বেকার-বেষিত ৷ তারই মধ্যে গেছে আমাদের যৌবনের 
দিনগুলি ; মোটেই 'জীবনের জয়গান' রচনার মত পাঁরবেশে নয়। বিশেষতঃ 
নোয়াখালি শহরে নদীর ভাঙনে তখন আমাদের প্রায় সকলেরই বাসগৃহ 'নাশ্চছ 
হ'ল--শহরে মাথ। গৃ'জবার ঠাই নেই,-তখাঁন নদী-ভাঙা (১৯২১-২৭) বাসতুহার। ; 
বিশ-পাঁচশ বংসর পরে হই দরিতীয়বার ছিনমূল শরণার্থা। সেই বশ-পাঁচশ 
বংসর পরেকার--নদী-ভাঙা' নয়-_আকাশ-ভাঙ। দুর্যোগের কালো মেঘও তখাঁন 
যে বাঙালীর জীবনের কোণে কোণে জমতে আরন্ত করেছে নোয়াখাঁলতে বসে 
ত। চোখে না দেখেও উপায় ছিল না । আমাদের যৌবন--তার উৎসব, তার 
অভিযান-তার স্বরাজ্রের সাধনা তার প্রাণোচ্ছাস-সবই কি তখন (১৯৪৭), 
ইতিহাসের সেই অভিশাপের সামনে দেউলে হয়ে গেছে ? 


পণ্চম পারিচ্ছেদ 
আশাধি ও ব্যাপ্তি 


বৃতি ও প্রতি 

উকিলের ছেলে উকিল হবে, এই স্বাভাবক। কিন্তু ছেলেরও তো স্বভাব 
আছে? সেই স্বভাব কিরূপ? আমি আজও তা ঠিক জানতে পারলাম 
না। বোধহয় নিজের স্বভাব জানতে নিজে পারে না। যেমন শুনতে পায় 
না নিজের কণ্ঠস্বর । রূপ অপরের চোখে যা ধরা পড়ে তাই । কিন্তু 'আঁম' 
তো আমত্বের বাইরের পাঠ, ভিতরের পীঠ অন্যেই বা কে দেখতে পায় ? 
গ্ভাব আমার যাই হোক, বাত্ত খুজে না পেয়ে ওকালাত করতে বসে 
গয়োছলাম । ওকালাত করব, এ কথা আমিও আগে ভাব নি। পাশ করার 
পর যা করবার সাধ হয়োছল তা করবার সাধ্য ছিল না। প্রথম সাধ 
ত্পাল্জমূ। সোঁদনে এদেশে জার্নালিজম পড়ার ব্যবস্থ। ছিল না, থাকলেও 
[নক্ষল হ'ত। কারণ, বাবা একটা ইংরোজ কথ ঘুঁরয়ে আমাকে জানালেন, 
4 90016011206 ০81) 179৮0 170 10091101095, 4৯ 500160 1806 ০৪1 
125 100 10901791157 6107০7. আজকে হলে বলতাম--ঠিক কথা । 
এজন্যই তো৷ পরাধীন জাতির পাঁলাঁটক্স ছাড়। গাঁত নেই, আর, ঠিক ওই 
কারণেই বাঙাজীবিতাও হওয়া উচিত প্রধান বৃত্ত । সোঁদনও তা বুঝতাম, 
তার জন্যই তো বেছে নিতে চেয়েছিলাম ওই জীবিকা । পিতা প্রাতকূল, 
কাজেই তা হ'ল না।-অবশ্য আরও কথ! 'ছিল-আমার আসল ঝোঁক_ 
স্বাধীনতা ও সাহত্য। সাংবাদিকতা তার যোজক, তাই প্রকাশ্যে স্বাধীনত। 
নয়, সাংবাদিকতাকেই বলতাম প্রথম সাধ । সাংবাদিকতা বৃত্তি হ'ল না, 
কিন্তু ও-প্রবৃত্তি গেল না। অন্য কোন্‌ বৃত্তি কাম্য ? বৃত্তিটা শুনে এখন আশ্চর্য 
হবার কথা-_আমার দ্বিতীয় বাঞ্ছ। ছিল গ্রন্থাগারকতা । যে-কোথাও "স্থির হয়ে 
বসল না, লাইব্রোরতে সে কি করে শিকড় গেড়ে বসত 2 দেশে লাইরোরিয়ান- 
[শিপেরও স্কুল ছিল না--বলাই বাহুল্য । কিন্তু তা পঠনীয় ও শিক্ষণীয় বাত 
তা জানতাম ; “টাইমস িটারেরি সাপ্রিমেণ্ট'-এর বিজ্ঞাপন থেকে লওনের 
তেমন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সংগ্রহ করলাম । জানতে চাইলাম তাদের 
পাঠ্যক্রম, ভাঁতর নিয়মাবলী প্রভৃতি । ভারতীয় ছাত্রদের লওনস্থ আঁভভাবককেও 
(লিখলাম সের্প পাঠের সুযোগ সন্ধানের জন্য । বালতী প্রাতিষ্ঠান উত্তর 
দিয়েছিল, কিন্তু বিলাতম্ছ ভারতীয় অভিভাবক দেয় !'নি। ও-সাধের ওখানেই 
সমাপ্ত । তৃতীয় বাঞ্ছা অধ্যাপনা । কিন্তু সোঁদনে ( ৯৯২৪-২৫ ) কলেজ 


৯৭৪ রূপনারানের কূলে 


ছল কয়টি? আঙুলে গোনা যেত। তাতে কর্মখালি কদাচিৎ ঘটত, 
আরও কদাচিৎ কারও তা জুটত-_বিদ্যা ছাড়াও চাই ধরবার লোক । খাতাপন্রের 
একশ টাকা মাইনে অবশ্য অধ্যাপকের সব সময়ে হাতে মিলত না। এসব 
কারণে আঁভভাবকদের অভিপ্রায়__সরকারী চাকরির পরীক্ষা দিই। আমার 
আনচ্ছা দু-কারণে_তখনকার শিক্ষিতের বাজারে এখনকার একশ ভাগের এক- 
ভাগও পথ খোলা ছিল না। ওই পথটাই ভালে ছেলেদের পক্ষে ছিল 
খোলা, তারা সেজন্য উদ্যোগী হতেন, সবযদ্ধে প্রস্তুতও হতেন । সেখানে ভিড়ও 
প্রচুর, প্রাতিযোগিতাও কঠিন । নিজের যোগ্যত। সম্বন্ধে আমার সংশয় ছিল ; 
তা অকারণ নয়। তা ছাড়া, সরকারী চাকরিতে আমার আগ্রহ ছিল না। 
তবু পরীক্ষা 'দিয়েছিলাম-বোধহয় ১৯২৫ সালে । ছোট-বড়-মাঝারি চাকরি 
সে-বার বেশ কিছু পারমাণে খাল ছিল । না, দু-চারশ নয়, তবে প্রায় গোটা 
ব্রিশ। শি'কে 'ছপ্ড়তেও পারে । কিন্তু পাশের পরে নিয়োগের পূৰে পাশ- 
করাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সে-বার কড়াকাঁড় হ'ল। বাঁড়র কাঁড় খরচ করে 
ঠগয়োছিলাম ওই স্থাস্থ্য-পরীক্ষার জন্য দাঁজিলিঙে-_দাজিলিঙে না হলে উচ্চ আই. 
এম. এস. আফসারদের গ্রীর্ধে কোথায় পাওয়। যাবে ১ তাদের রাহা খরচও তাতে 
ধমলবে । স্বাস্থ্যপরীক্ষক রাজ্যের উচ্চতম তিন-াতনটে আই. এম. এস. আফসার, 
মালটার মেজাজ ও মিলিটারী মাপে তাদের পরীক্ষা । তার এক ধার থেকে 
আমাদের প্রায় সবাইকে ফেল করে দিলেন।. পরীক্ষায় ধারা উপরে তারা অনেকেই 
পারত্যন্ত হন, নিচের কারে! কারো তাতে ভাগ্যোদয় হয়। অনেকের মতো 
আমিও ফেল করলাম,_দেহের ওজন ভারী নয়, চাকার পেলেই তো ভারী হতে 
পারতাম । কিন্তু রাজকৃপা তখন ভাগ্যে নেই । আমাকে নাকচ করা অন্যায় হয় 
নন, কিন্তু অনেকে ফেল করোছলেন আত কাচা যুন্ততে_দাত খারাপ, 
[মালটার 'হৃসাব সবাঁকছুর জন্য । বয়স থাকতে পরের বৎসর তারা আবার 
পরীক্ষা 'দয়ে ব্লাস্থ্য-পরীক্ষাও সসম্মানে গ্রাহ্য হলেন । আম আর পরীক্ষা 
দই! ন। 'সাঁভল কর্তারা নাক সেবার স্বাস্থ্যের কড়াকাঁড় 'নষেধ করোছিলেন, 
্বাস্থ্-পরীক্ষাও কলকাতাতেই হয় । রবীন্দ্রনাথ বসুর মতো বন্ধুর এবার 
ভাগ্যোদয় হ'ল । দুর্ভাগ্যবশে 'বিমলাকান্ত সরকারের মতে দু-একজন ধারা প্রথম 
বারে ছিলেন উপরে, পরের বার গেলেন 'নিচে। 

সেই আমার প্রথম দাজিলিঙ দেখা, আর সেই শেষ । প্রথম বলেই ভুলতে 
ভুলতেও তার অনেক কথা ভুলে যাই নি-দু-একটা৷ কৌতুকপ্রদ মনুষ্য-চাঁরন্রের, 
কথা, আমার সহত্রার্থা চাকুরে বন্ধুদের কারও কারও কথা-ারা অনেকেই এখন 
নেই, দু-একটি আমার আত্মীয়-বন্ধদের সহদয়তা-তারাও অনেকে নেই ; এবং 


আধ ও ব্যাঁধ ১৭৫ 


কাব্য-কুয়াশার মধ্যে ম্যল ও ক্যালকাটা রোড, টাইগার হল ইত্যাদ দেখা । 
তখনো দাঁজীলিঙ শৈলসুন্দরী-অতুলনীয়া। চোখে দেখলাম হিমালয় ৷ দেখবার 
জিনিসই । তখনো জীবনের প্রথম অধ্যায় । পৃথিবী যে তার দুরের দুয়ার 
গল আমাদের মত সাধারণ সন্তানদের চোখের সামনে কোনে দিন খুলে দেবে, 
তা তখনো আশ করতে পারতাম না । দাঁ্জীলঙ সাত্যই রূপসী, তার পথেও 
তখন বূপের হাট । আর আজ বলতে পারি, সব দেখলেও ভারতবাশীর পঞ্গে। 
দুটি জানস না দেখলেই নয়- একটি হিমালয়, 'দ্বিতীয়াট বারাণসী । এ দু- 
1ঞ্রাঁনসের 'দেখা' দেখেও শেষ হয় না । কারণ, আমরা ভারতবাসী তো তা 
চোখ 'দয়ে দোখ না, মন দিয়ে দোখ। 

ত৷ হলে ওকালাতিই গাঁত । সনদ নিই । আইনে আমন অবুচি ছিল না। 
কন্তু ওকালাতি তো আইনের চর্চা নয়, আইনের ব্যবসা । আর প্রাসাডওরে, 
দপ্তলখানার প্যাচে-তা একটা গোলকধাধা। আইনের জ্ঞান সম্ভবত কিছুটা 
আদূত হাইকোর্টে । কিন্তু সেখানে আমার প্রবেশ অসাধ্য ছিল। গপগ্গুর 
গার-লঙ্ঘন। পুশজ বাঁড়র নেই--থাকলেও কাজ দিত না । কারণ নিজস্ব 
পুশজ আরও কম- রুপে, কণ্ঠস্বরে, ব্যান্তত্বে আমি জন্মাবীধ দেউলে। ওসব 
ওখানে প্রাথামক প্রয়োজন । তা ছাড়া, আইনের আলোচনায় রস পেলেও 
আইনের ব্যবসায়ে আমার রুচি ছিল না। না হলে পৈতৃক বৃত্তই হ'ত আমার 
প্রথম কাম্য। তবু জিলা-কোর্টে ওকালাতিতে বসলাম-বাড়ি বসে আছি 
বলে। ও-নাম করে বছর দেড়েক নোয়াখালি ছিলাম, তখন আমার সাধারণ 
পেশ ওকালাত--নেশা কি, কিছুই জানি না। নাটক, সাহিত্য সভা, সে তো 
বংসরে দু-চারদিন হয় । বরং সমব্ কাটানো যায় **প্গ্রসের রাজনীতিতে । 
তাতে অরুচি ছিল না। অবশ্য বর্দোলর পর এসেছিল অবসাদ । স্বরাজ্য 
পাটির পাঁলাটকসও চচিত্তরঞ্জনের মৃত্যুতে দেউলে হয়ে যাচ্ছে । আমার কাজ 
ছল বন্ধুগোষ্ঠীতে আন্ডা, লাইব্রেরিতে পড়া, চ্ছানীয় সাপ্তাঁহক 'দেশের বাণী'তে 
যাঁদচ্ছা কলম চালনা, আর কলকাতার ইংরেঁজ-বাঙলা৷ কাগজে কখনে বা 
গণ্প-প্রবন্ধ লেখা অর্থাং সেই সাংবাঁদকতা, নামমাত্র দাক্ষণায় । কলকাতার 
সাংবার্দকতার পালা আসে পরে, তবে “দেশের বাণী,র কথা এখানে বিজ্ঞাপ্য । 

সম্প্রাত সরকারী দপ্তরের কয়েক বৎসরের প্বেকার গোপন নথিপত্র 
খুদজবার সুযোগ পেয়োছলেন আমার বন্ধুরা । অধ্যাপক গৌতম চট্টোপাধ্যায় 
দেখেছেন-ওই ১৯২৪-২৫-এর সময়কার রাজনোতিক ব্যাপারের যে-গোপন 
পোর্ট এদেশ থেকে বিলেতের কাদের কাছে গ্রেছল, তাতে বল! হচ্ছে 
'আত্মশান্ত, বিজলী", “দেশের বাণী” এসব হচ্ছে কাঁমউনিস্টদের কাগজ ; 


১৭৬ রূপনারানের কুলে 


এবং পৃথক করে বলা হয়, কোনো কোনো পান্রকা মস্কোর সাহায্যপুষ্ট ৷ তাদের 
মধ্যে, 'দেশের বাণী” অন্যতম । এখনকার দিনে অনেকে হয়তো “দেশের 
বাণী'র নামও শোনেন নি। গৌতমবাবুও জানতেন না। নোয়াখালর ত। 
সাপ্তাহক পন্র। কংগ্রেস খন প্রথম পবের জেল-যান্রা শেষ করে আধতে পড়ে 
কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে স্বরাজের জন্য পথ হাতড়াচ্ছে তখন সে শহরের কংগ্রেস- 
কর্তাদের মনে হ'ল-_তাদের কথা প্রচার করবার মতো৷ একটা পান্রকা চাই । 
একালের অনেকেই হয়তো জানেন না-চিত্তরঞ্জনের বিরুদ্ধে তখন 
আনন্দবাজার চালাত জেহার্দ। নিরুপায় হয়ে তাকেও কলকাতায় কাগজ বের 
করতে হয়। সের্ুপ কারণেই নোয়াখালির কংগ্রেসীদের কর্তৃত্বে “দেশের 
বাণী'রও প্রকাশ । সত্য্দ্রচন্্র মিত্র মহাশয়কে তারা সম্পাদক করেন- 
সরকারের অনুমোদনের বাধা এড়ানো তাতে সহজ হবে, কারণ সত্যেনবাবু তখন 
আইনসভার 'স্বরাজী' সদস্য, তবে থাকেন কলকাতায় । পান্রকায় লেখাপড়ার 
দাঁয়ত্ব প্রথম নিয়েছিলেন নগেন্দ্রকুমার গুহরায় ; অন্য কাজকর্মের-ক্ষিতীশ 
রায়চৌধুরী । সবই অবৈতাঁনক, দেশের কাজ । ক্রমেই সব ভার এসে পড়ে 
ক্ষিতীশদার ওপর । আম, অনুতোষবাবু এবং আরো দৃ-একজন বেকারবন্ধু 
বেগার দিতাম প্রথম থেকেই । কখনো সংবাদ-সংকলন করে দিতাম, কখনো 
লম্পাদকীয় মন্তব্য যোগাতাম । মন্তব্যে সাগ্রাজ্যকতাদের প্রাত ব্যঙ্গ পাড়তাম । 
সংবাদ সংকলনে একটু নতুনত্ব ছিল । স্থানীয় সংবাদের পাশে আন্তর্জাতিক 
সংবাদ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শঠতার তথ্য সংকলন ; এটুকু বোধ হয় আমার 
কাজ । কখনো থাকত এম. এন. রায়ের ভ্যানগার্ড' ব৷ 'এ্যাডভান্স গ্রার্'' থেকে 
এক-আধটুকু ভীন্তর পুনরুন্তি, 'লাল জুজু" নিয়ে সরকারকে পাঁরহাস, কখনো 
কানপুরে দাওত মোজাফফর আহমদের আলমোড়ায় পাড়ার কথা । এসবে 
হয়তে। সে পত্রে সমাজতন্ত্রী ছায়া এক-আধটুকু পড়া সম্ভব । কিন্তু দেশের 
বাণী' কংগ্রেস-কর্তাদের কাগজ, তারা মাঁলক, তারা৷ চালক--কাঁমউাঁনজম তার। 
জানতেনও না, চাইতেনও না। অর্থাভাবে ক্রমেই কাগজটা বিপন্ন হয়। 
সত্যেনবাবু তখন মান্দালায় রাজবন্দী । মাথাব্যথা ক্ষিতীশ চোধুরীর-_শেষে 
যেমন করে হোক কংগ্রেশী কর্তাদের সাহায্যে একটা 'লামিটেড কোম্পানি 
করে “দেশের বাণী প্রেস স্থাপিত হ'ল- প্রেসটা চালানো ক্ষিতীশদারই দায়িত্ব । 
তবে তাতে “দেশের বাণী'র ছাপার অসুবিধা ঘুচল । আর কিছু না থাক 
“দেশের বাণী'র তেজ ছিল-াকা কঁড় ছিল না। কাজ অবৈতনিক। কে 
বোঝ। বইবে 2 পরিচালকরা কংগ্রেসী ভদ্রলোক, তাতে রাজ নয় । আমিই ব৷ 
কী ক্ষিতীশদার সঙ্গে হাত লাগাই । কলম চালাই--মান্র-চার আনার 


আধ ও ব্যাধ ১৭৭ 


কংগ্রেসম্যান। কী জানতাম আম কাঁমউানজমের 2 জানতাম শুধু এই- 
সোভিয়েট রাস্ট্রটার কথা | স্বাধীনত। 'জানিসটা যাঁদ ভারতবর্ষে শ্রামক-কৃষকের 
জানস না হয়, তা হলে সে স্বাধীনতার মূল্য বিশেষ থাকবে না। “দেশের 
বাণী'র লেখায় এর্‌প তত্বের ঝোঁক দেখা গেলেও তা সামান্য । সেই ছুটোছাটা 
লেখাতেই-যে গোয়েন্দা প্রভুরা দেখতেন কঁমিউানজম-এর ৪০০0০, সে খবর 
এই চাল্পশ বংসর আমাদের অজানা ছিল। সত্যই অদ্ভুত গোয়েন্দা মাস্তষ্কের 
উবরতা । এটা কি শুধু ভূল, না, বিলাতের কাদের বোঝানো-_এ দেশের 
গোয়েন্দার কী ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে ব্রিটেনের ভারতসাম্রাজ্য রক্ষা করছে 2 
সম্ভবত দুই-ই । এ প্রসঙ্গে তাই বল৷ দরকার, একালে দপ্তরখানার দলিল দেখলেই 
আমরা মনে কাঁর তা বেদবাক্য । কিন্তু খবরের কাগজের খবরের মতোই ওসব 
পুলিশের রিপোর্টের মূল্যও পরীক্ষা-সাপেক্ষ । বেশ ভালো করে যাচাই না হলে 
ওসব সংবাদও গ্রহণের অযোগ্য । ব্যান্তগত আভজ্ঞতাতেও জানি- পুলিশ 
স্বদেশীদের অনেক খবর জানে, তা ঠিক। কিন্তু যা জানে তার থেকে কম 
তর বানা না--মামলা ও গোপন রিপোর্চে আস্ত [78000901015 ধরা সহজ, 
৪৫016678001) বা ভেজাল কিন্তু চোখে পড়ে না । সের্ুপ ভেজাল মেশানে। 
সবথা গোয়েন্দা-নীতিসম্মত । 

এই “দেশের বাণী'র লেখার সূত্রে আমার সাংবাদিক-লীলা৷ ও উকিল-লীলা 
একবার জাঁড়য়ে গিয়ৌছল । রাজনীতির সঙ্গে এসব নিয়ে সম্পর্ক ঘনতর 
হাচ্ছল। মুসলমানরা তখন কংগ্রেস থেকে পৃথক হয়ে পড়ছে । ভারতবর্ষের 
নানা স্থানে দাঙ্গা-হাঙ্গাম। । নোয়াখালি জেলায় তারও একটা বিশিষ্ট রূপ 
দেখা দেয় । দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই_কারণ, দাঙ্গার জন্য দু পক্ষ চাই । হন্দুরা 
এ জেলায় আত সংখ্যাষ্প। তা ছাড়া, তারাই দোক।নী-পশারি, মালিক- 
মহাজন । যাঁদও তা-ও আসলে ইংরেজদেরই অধীনে-আর ক্ষমতায়ও বিশেষ 
কিছু নয়। তবু তুলনায় হিন্দুরা “হ্যাভস', মুসলমানরা তাদের তুলনায় 
হ্যাভুনটস' । এই আঁিক-সামাজিক হীনতাবোধ স্বভাবতই মুসলমানদের 
মধ্যে শোষণ-সচেতনতায় পাঁরণত হ'ত । ন্তু ক্ষোভটাকে সাম্প্রদায়িক 
'বিদ্বেষে রূপ দেওয়া যাদের প্রয়োজন তারা তার সে দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিলে । 
এ কাজেও দু-একজন ছাড়। তারাও জড়িয়ে পড়ত যারা এক সময়ে ছিল 
কংগ্রেস-খেলাফতের করা । শহরেও দেখতাম তাদের উগ্রতা--কিছুটা গায়ে 
পড়ে 'হন্দ্দের অপমান, কিংবা হিন্দ মেয়েদের সম্বন্ধে এমন অভব্য মনোভাব, 
তা আচরণে না ফুটলে হিন্দুদের দুশ্চিন্তার কারণ হ'ত না। গ্রামে আঘাত 
দেখা গেল গরীব ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর । তাদের মেয়ের আরও বোশ 

৯৭ 


১৭৮ রূপনারানের কূলে 


অসহায় । সেখানে গ্রামে হিন্দুদের দেবস্থান ও দেবতারাও হিন্দু মেয়েদের 
মত অসহায় । শহরের ভদ্রলোকেরা তাতে দুরঃখত, আবার একটু আশ্বস্ত 
“হন্দু ছোটলোকেরা অমন চিরকালই সয়েছে-ঠাকুর-দেবতারও মার খাওয়া 
গা-সওয়া । তাদের উপর দিয়েই 'মারটা” যায় যাঁদ, যাক। শাসকদের 
মনোভাব বুঝেই পুলিশ এসব বিষয়ে নীরব থাকাই মনে করে নিরাপদ । 
মাস কয় ধরে এখানে-ওখানে এরূপ উৎপাত-উপদ্রুব ঘটছে, ক্রমশই তা৷ বাড়ছে । 
গরীবের মেয়েরাও আর রেহাই পাচ্ছে না। মেজাজটা বিগড়ে যাচ্ছিল-_-মনে 
হচ্ছিল মুসলমানর৷ বড় সহজে ধর্মের নামে দেশকে ভোলে, নীতিধর্মও খুইয়ে 
ফেলে। কিন্তু গরীব ও নিম্নশ্রেণীর মেয়ে-পুরুষের ওপর এসব অত্যাচার 
তা বলে চুপ করে সওয়া উীঁচত নয়। এ যে 'মনুষ্যত্বেরও দায়'। বিশেষ 
উত্তাপ 'নয়েই 'দেশের বাণী'তে খে দিলাম কলম দুয়ের একটা সম্পাদকীয় 
লেখা সাম্রাজ্যবাদী প্ররোচনার শবরুদ্ধে, পুঁলশের বিরুদ্ধে ; আর মুসলমান 
নেতাদেরও তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে কসুর করলাম না-যেন সকলকে 
শাসন করার ভার আমাদের উপর দিয়েছেন মানুষের দেবতা । তাতে বানা্ড 
শ-র 'জন বুলস আদার আইল্যাও', টোনাঁস-র “ফাগামেপ্টালিস্ট'দের ধর্মান্ধতা, 
আরও কত ক যে ছিল, তা আজ ভাবলে হাঁস পায়-কীচা মনের কীচ। 
ভাবালুত। । "কন্তু লেখাটার ধার ও তেজ ছিল। ক'মাস পরেই _সডিশনের 
ও এগখ-হেট্রেড প্রচারের দায়ে গ্রেফতার ও আভিষুন্ত হলেন সম্পাদক ক্ষিতীশ 
রায়চৌধুরী, আরম্ত হ'ল মামলা । লেখাটা আমার একটা মক্ধেল জোটাল ; 
এই সাংবাদিকই হ'ল উাকল, তবে জুনিয়র । 'সাঁডশনের মামলা খেলো কথ। 
নয়। মফঃস্বলের কাগজের বিরুদ্ধে সেই প্রথম । এ মামল৷ চালাতে স্বয়ং শরং 
বোস এসোছলেন একবার স্থানীয় এস. ড়. ও.র কোর্টে । মনে আছে, তিনি 
1ক্ষতীশদা'কে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলেন, “ক, জেলে যেতে তোর আছেন 
তো ?” 'ক্ষিতীশদা জানালেন, “আছি” । “তবে বস্‌, ওদের ('শাসনবিভাগ'কে ) 
একবার এক্সপোজ করি ।৮ সে-কাজের জন্য প্রায় চল্লিশ-পণ্চাশ দফা প্রশ্ন আমি 
.ঝআগেই তোর করোছলাম ; তিনি দেখে, বুঝে, খুশি হয়ে ত। নিয়েছিলেন । 
ঠককী দিনে [তান প্রশ্ন করলেন বর্ষাঁয়ান বাঙাল পুলশসাহেবকে আর 
ঢাকায় জানুবাদক বিভাগের অনুবাদক ভদ্রলোককে । দেখলাম তার জেরার 
নীরা ভাতে দলিসাৎ হয়ে গেল। বুঝলাম, কি চাই ওকালাতিতে । 
চপারফার হ'ল-ছানীর পু'লশক্তার৷ গ্রামের নানা চ্ছানের অত্যাচারের 
24 হু করে নি; আর সরকারী অনুবাদক মহাশয় লেখাটা 
টাও অনুবাদ করেছেন । শরৎবাবু যা বলেছিলেন তা 









আধ ও ব্যাধি ১৭ 


সুসম্পূর্ণ হ'ল- এক্সপোজ করা । কিন্তু আমি তো৷ জানি-_লেখাটা৷ 'কি 1জানস। 
মামলার আসল 'বিচার্য লেখাটা । পরে আরও কয়েকাঁদন মামলা চলল । শরংবাবু 
আর আসেন নি। শেষে এলেন আমাদের স্বপক্ষে কামল্লার কামনীকুমার দত্ত 
_তানিই সওয়াল করেন । বেশ ধার, স্থির, সংযত এবং যুন্ততে সুকৌশলী । 
ওকালাতির আরেক ধরনের প্রয়োজনীয় গুণও দেখলাম । কামিনীবাবুর সঙ্গে 
'সেই আমাদের ঘাণিষ্ঠ পরিচয় । এ পরিচয় ক্রমে গভীর হয় তার অমায়ক গুণে, 
আস্তারক সহদতায় । তানি কার্যত হন আমাদের জেল-ফেরত ( ১৯৩৮-৪৭ ) 
সকলকার কৃষক আন্দোলনের নিঃস্বার্থ নেতা, সকল রাজনৈতিক বিচার-বিবেচনায় 
পরামর্শদাত৷ ; কিন্তু সে অন্য অধ্যায়-জনসমুদ্রের তরঙ্গ-তাড়নার মধ্যে । এ 
মামল৷ একাঁদন শেষ হ'ল--সম্পাদকের তন মাস কারাদণ্ড আর তিনশত টাকা 
অর্থদও হয় । হাইকোর্টেও দণ্ড বহাল থাকে । কিন্তু তখন আম ওকালাতি 
ছেড়েছি, নোয়াখালিও ছেড়েছি । “দেশের বাণীর জাঁবনে দুর্যোগ ঘটালেও 
লাংবাদকত। আমাকে ছাড়ল না, কোনোঁদন একেবারে ছাড়ে 'ন; কিন্তু 
মাএ ?শক্ষা বা সুবুঁদ্ধ হয় ন। লেখায় আঁম আরও মানুষকে ঠেলে 'দয়োছ 
আইনের কবলে--তার মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লক''এর সম্পাদক সুভাষচন্দ্র একজন । 
নিজে অবশ্য বেচে গিয়েছি, কিন্তু সে বুদ্ধির জোরে নয়, অবস্থার গুণে, 
আইনত সম্পাদক নই বলে। তবে বিশেষ তৃপ্তি পাই ীন সেই নীতিতে । 
কেবলই মনে হ'ত, যে কলমের খোঁচায় শনুপক্ষ মরে না, মিন্ররাই জেল খাটে, 
তেমন কলমবাজিতে খুশি হওযার কারণ কই * 

“দেশের বাণী র মামল৷ সামান্য হলেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা । মফ্লের 
ক্ষুদ্র কাগজের ওপর মিডিশানের আগ্োয়ান্ত্র প্রয়োগ সেহ “খম। তবে 
ইদানীং সরকারী দপ্তরখানার দলিল দর্শনে বুঝতে পেরেছি 'দেশের বাশী'র 
বিরুদ্ধে অস্ত্র বানাতে ও শানাতে খোদ সাম্রাজ্যবাদী কারখানার কতটা প্রয়োজন 
ছল । সত্যই, 4 5819০ 7601016 ০20 178৬5 10 069 71599 ০1 
10010021, কিন্তু গলদটা যে গোড়ায়- সাবজেক্ট পিপল সাবজেকৃুট না থাকতে 
চাইলে ওরকম রাজদ্রোহ চালাতেই হবে । 

“দেশের বাণী'র মামলাই একমান্র মামলা যাতে আম সত্যই মন 'ীদয়ে- 
1ছিলাম । তাতেও বুঝলাম মন দেবার মতো মামলা পেতে হলে আমাকেই 
বার বার 'সাঁডশানের লেখা লিখতে হবে-না হলে কোথায় পাব ওরকম 
মামলা ? ওকালাতর গুণও দেখলাম ভুল বুঝি নি-শরতবাবুর মতো “বদ্যা- 
বপুর্যান্তত্ব' না থাকলে চাই কাঁমনীবাবুর মতে। ধীরতা, শ্থিরতা, সংযত বিশ্লেষণ- 
বিচক্ষণত। । বছর 'বিশেকের ঘষামাজায় আমারও তা চলনসই রকমে আয়ত্ত 


১৪০ রূপনারানের কুলে 


হতে পারত । কিন্তু সে পক্ষেও দেখলাম বাধা আছে । একটা মামলায় তা 
আমার ফাছে আরেক রূপে স্পষ্ট হ'ল । সে মামলাটাও আমার ওকালাতি জীবনে 
ওজন্য স্মরণীয়'। বোধহয় সব-জজের আদালতে মূল একটা মামলা-_ ছোট্ট একটা 
কী আনুষাঙ্গক বিষয়ে আমাকে দাড়াতে হবে । উল্টো পক্ষে দাড়াবেন আমার 
বন্ধুর এক অগ্রজ র'-দাদা-তিানি আমার থেকে বছর পনের বড় । আমার প্রাত 
প্লেহশীল । মামলা উঠবার সময়ে নিজেই বললেন, “চলো, গোপাল ।” তার 
সঙ্গেই গেলাম । মামলাটায় আমার নিবেদন যুস্তিযুন্ত। আম আরন্ত করতেই 
র'-দাদা আমার মুখের কথা শেষ করতে না৷ 'দয়ে নিজে আরম্ভ করলেন বলতে-_ 
থামেনও না যে আম বলব । হাকিম তাকে থামালেন,-“বুঝোছ।৮ আম 
তখন বলতে চেষ্টা করতেই আবার আমাকেও হাকিম জানালেন, থ্থাক্‌, 
বুঝেছি ।৮ র'-দাদা আদালত ঘর থেকে বেরুতে বেরুতে আমাকে বললেন, “তুমি 
চুপ করে রইলে কেন, গোপাল ?” 

«“আপান যে বলতে দিলেন না, বলতে আরম্ভ করলেন ।” 

“তাতে কি? তুমি থামলে কেন £” 

«আপাঁন বলছেন যে--” 

তান বুঝলেন, হাসলেন, “আরে, এই তো নিয়ম । তা নইলে মব্েল 
বুঝবে কেন তুমি তার কথা বলেছ ?” 

সে মামলার ব্যাপ্পরে আমই জিতেছিলাম । কিন্তু বুঝলাম মকেলের 
কাছে আমার জিত হয় ন। কোনোদিন হবে না অন্যের মুখের কথা কেড়ে 
কথা না বললে । 

এই শিক্ষাটা ফলপ্রদ হয়েছে- যাঁদও র'-দাদা তা জানেন না, অন্যেরাও 
জানলেন না। আমার বরং কলমই ভালো, কথা-কাড়াকাড়ি ব্যবসায়ে কাজ 
নেই। আমর গলার জোরে জিততে চাই--আঙ্ডা না হলে জমবে কেন ? 
কিন্তু আহ্ডার তর্ক নিষ্কাম কর্মযোগ__ওকালাঁতর মতো তর্কের ব্যবসা নয় । 

মনে মনে ঠিক করলাম এবং তা কাজেও করলাম শীঘ্বই । অর্থাৎ 
ওকালাত ছাঁড় £ আসলে তা ধাঁরই 'নি। ছাঁড়--প্রকৃতপক্ষে নোয়াখাঁল । 
তার কারণই বরং বলা বৌশ দরকার- এখন বুঁঝ, তা শুধু ব্যন্তিগত নয় । 


নিঢঘন্প ের্ধায়। 
কগ্রেসকে বরাবর খোঁচা দিই। ওটা প্রমথ চোধুরীর ঢঙ । আমিও 
ছাড়তাম না । অথচ আমরাই আবার কংগ্রেসের লোক আমি, অনুতোধবাবু, 
সুরেশবাবু। কংগ্রেসকে নানা সময়ে সাহায্য করতেও সকলেই আমরা উৎসাহী । 


আধ ও ব্যাধি ১৮১ 


শকন্তু এক স্বাবরোঁধতা, না নীতাঁবরোধতা, ৪1715216705 ১ হয়তে। 
তাই। 

গান্ধীজী বাঙলা ভ্রমণোপলক্ষে নোয়াখালিতে এসোঁছলেন, আমাদের ডাক 
পড়োছিল-কাজটা সুনিবাহত করে দিতে হবে। আমাদের না হলে তা 
সম্ভব হবে না। আভনন্দনপন্ন লেখা, সকল সাজানো-গোছানো কে করে ? 
ছাত্রদের মুখপান্র হিসাবে তাদের আঁভনন্দনপন্র আবার পড়তে হবে আমাকে-. 
তখনে। সতাই আম ছান্র। মেয়েদের আভিনন্দনপন্র পড়তে হ'ল আমার বোন 
লক্ষমীকে । বৌঁচত্ত্য ছিল আমাদের সব আয়োজনে- রুদ্রাক্ষের বোতামের খাদ 
পাঞ্জাবি আমাদের পরনে, সবাই ভাবে এ কি কাণ্ড । সত্যই, “সবুজ সঙ্ঘ' বটে_ 
নতুন কিছু করতে জানে । ছাত্রদের আভিনন্দন আমরা 'দিলাম-তুলট কাগজে 
হাতে লিখে পাঁচটি বাক্য । পুপশথর মতো গীঁথা পাঁচটি শাত। । আর সে পুশখ 
আবার পদ্মপাতায় করে দেওয়া হ'ল মহাত্মাজীর সামনে । ভাষায় ছিল 
ঠাদ্ধ'র্প্যন আবেগকণ্প্রতা, আর পদ্মপাতায় দেওয়৷ হ'ল তা অধ্যরূপেই । সকল 
অনুষ্ঠানে, গান্ধীজীর সরলতার ও 'নর্মলতার সঙ্গে, আমর! রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্য 
ও সুষমাবোধ জাগিয়ে দিতে চেয়োছিলাম--সত্যাগ্রহে আর “সত্যের আহ্বানে! 
মিল কোথাও আছে, যত 'নিগৃঢ় হোক তা, এই ছিল আমাদের নিগৃঢ় অনুভূতি । 
সোঁদন কংগ্রেস-কতারা বুঝেছিলেন- না, এর৷ জানে- কাজ করতে জানে । আমার 
কাছে তা মনে হয়োছিল--যখন সে ক্ষুদ্র ছাত্র-অভিনন্দন পাঁড়-জীবনের 
'পরমক্ষণ' । কিন্তু মধ্যাহু বিশ্রামের পরে গান্ধীজী যখন ডাকিয়ে পাঠালেন__ 
পনের মিনিট কথ! বলবেন ছান্র-প্রতিনিধিদের সঙ্গে-তখন আমি বিপন্ন বোধ 
করলাম । আন্দোলনে পা বাড়ালেও তা ধরে বসে থাঁক নি, ফিরে গিয়েছি 
কলেজে । বিলাতী শিক্ষা বর্জন করি ন, করতে চাইও না। সত্য ছাড়া 
মথ্যাই বা বলব ?ি করে গ্ান্ধীজীর সম্মুখে ? 

[কন্তু গান্ধীজী সে বিপদ থেকে আমাকে বাঁচালেন-ইীতিগজ' বলারও 
প্রয়োজন হ'ল না। একবারেই জিজ্ঞাসা করলেন, “নাউ, ডু ইউ' স্পিন ? 
চরকা কাটো ?” 

“না ।» 

“কেন 2 

“চরকায় আমার বিশ্বাস নেই ।” 

প্রসন্ন মুখে বললেন, “কিসে আছে ? পরিশ্রমে 'বিশ্বাস করো ?% 

“নশ্চয় ।৮ 

“এ দেশের সাধারণ মানুষের অনেক সময়ে কাজ নেই । সকলকে খেটে 


১৮২ রূপনারানের কূলে 


খাবার মতো কাজ কিসে দেবে বলে৷ 2%_ নিজেই তারপর স্টাটিস্টকৃস্‌ দিতে 
শুরু করলেন । 

আম একবার বোধহয় বলতে চেষ্টা করলাম, “ীক্তু চরকা কেটে কাটনীদের 
কী আর আয় হয়? খাওয়া-পরাও চলে না|” 

মহাতআজী আমাকে পেলেন তার নিজের কোঠায় । বলে চললেন, “এ 
দেশের মানুষের গড়পড়ত৷ দৌনক রোজগার আরও কম। চরক৷ কেটে যাঁদ 
1দনে দু-আনাও তাতে রোজগার বাড়ে ত৷ হলে তারের পক্ষে সে কত বড় 
আয়। অথ্চ ছেলেবুড়ো মেয়ে-পুরুষ সবাই চরক৷ কাটতে পারে--বাঁড়শুদ্ধ 
কাটলে তাতে পাঁরবারের রোজগার বেশ বাড়ে ।” ""ইতাদি । চুপ করে 
শুনাছলাম_এ বৃত্তি তো মিথ্যা নয় । মহাত্মাজী বললেন, “কেমন 2 বুঝেছ 
একথা-শ্রম ও রোজগার 2” তর্ক তুললাম, “হা । কিন্তু অন্যভাবে আরও 
বেশি রোজগার হতে পারে।” তৎক্ষণাৎ বললেন, “পারো যদি, সে কাজ 
দাও তাদের । এত কোট লোকের ছেলেবুড়ো৷ মেয়েপুরুষ সকলের, আর 
কোনোর্প পাঁরশ্রমের ও উপার্জনের পথ খোল৷ থাকলে আম বলব করুক তা। 
কিন্তু পথ নেই ।” 

কোটি কোটি মানুষের বেকারদশা ঘোচাবার উপায় তখন থাক, 'এখনো 
জান না। বলব কি করে? মহাত্মজী আরো কিছু বলোৌছলেন। কিন্তু 
পনের মাঁনট ছেড়ে বিশ মাঁনট হচ্ছে । তাই উঠে পঙলেন। বললেন, 
“এখন বুঝেছ চরক কেন ?” মাথা নেড়ে জানালাম_হী৷ । 

উঠতে উঠতে মহাস্রাজী বললেন, “এজন্যই আম চরকা-পাগল।” হাসতে 
হাসতে বললেন, “কন্তু এখন চরকা কাটবে তো 2” 

মহাআজীর থেকে কি আমি বাঙালি কম চালাক 2? উত্তর দিলাম, “চেষ্টা 
করব ।” 

স্চ্ছন্দে হাসলেন । বললেন, “চেষ্টা করবে 2 আচ্ছা, সত্য সত্যই তা 
করো ।” বলে হেসে চলে গেলেন । বিদায় পেলাম । 

সত্য সত্যই চেষ্টা করেছিলাম । তুলো নষ্ট ও সময় নষ্ট করে বুঝলাম-- 
একাজ 'আমাকে দিয়ে হবে না । কিছুকাল পরে তা ছেড়ে দলাম। হিন্দু 
নবজীবন'-এর গ্রাহক হয়ে বহরখানেক তা পড়লাম, ইয়ং ইয়ার থেকে তার 
লেখা বোৌশ ভালো লাগেনি । দেখলাম রাস্ট্রভাষায় বিষয়ের অর্থ গৌরব বাড়ে 
না। চরকা কাটা? তাতে বশেষ রোজগার হয় না-ত। নিঃসন্দেহে এখন 
বুঝ- চাল্লশ বছর ধরে চরকার নামে অনেক টাক৷ ও শান্তি দেশের নষ্ট হয়েছে । 

অনেক দূর এসে গিয়েছি স্মাতির সূত্রে জাঁড়িয়ে। কিন্তু তখান দেখে- 


আধ ও ব্যাধ ১৮৩ 


ছিলাম--সারা শহরে প্রকাশ্যে পাচটি মুসলমানও গান্ধীজীর সভায় এল না। 
মুসলমানদের আজুমান তার বয়ক$ ঘোষণা করোছিল । শুধু দু-দশজন 
পথচারী গ্রাম মুসলমান সভার সীমানায় দাঁড়য়ে গ্ৰাঙ্গী মহারাজ'কে 
দেখল। আর সেই সীমানায় 1কছুক্ষণ দাঁড়য়ে থেকে আরেক নতুন আমদানি 
আই. সি. এস. ইংরেজ জজ, সঙ্গী সানয়র সাব-জজ বাবুকে বললেন, “লেট 
আস গো ইন-_-আই মাস্ট সা হম আ্যাও হিয়ার হমৃ ।” নীরবে এসে সভায় 
তারা সম্মুখের পঙীন্ততে বসলেন । কিন্তু কোথায় মুসলমান সাধারণ মানুষ_ 
শতকরা যারা জেলায় আশ জন-মার খেলাফতের নামে ধারা গান্ধীজীকে 
বলতেন গান্ধী রাজা' £ প্রায় বিশ বংসর পরে ১৯৪৬-এ খন সে জেলার 
গ্রামে গ্রামে গান্ধীজী মুসলমানদের সঙ্গে মিলনের আকাঙ্ক্ষ।য় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন 
তখন তার শুভেচ্ছা ও আন্তারকতাতে সেখানকার মুসলমানদের সে বিশ্বাস 
ফারয়ে আনা আর সম্ভব ছিল না । মনে আছে, সেবার শীতে আম তখন 
পাটনায়,_বিহারের ভূতপৃব মন্ত্রী গান্ধীবাদী আচার্ষ বদ্রীপ্রসাদ বলাছলেন, “তাই 
তো, ওখানে ( নোয়াখালিতে ) মহাত্জীর এতাঁদন লাগছে কেন--লোককে 
বুঝোতে ?* হায়, কি করে বুঝোব-এত্দন কেন, এত বংসত্রেও তখন আর 
বুঝোবার সুযোগ ফিরে পাওয়া যেত না । ১৯২০-এর পরে িশ-বাইশ বৎসরে 
কংগ্রেস ও স্বরাজের নাম ওখানকার মুসলমানদের কাছে অস্পৃশ্য হয়ে গিয়েছে । 
নর্মলকুমার বসু নোয়াখালি থেকে ফিরে (১৯৪৭) ক্ষুব্ধ রে বলোছিলেন, “কিন্তু 
কংগ্রেসের জন্য গান্ধীজীকে তারা দোষী করে কেন? গ্নাঙ্গীজী তে৷ কংগ্রেসের 
সদস্যও নন |” 
বানীতভাবে বললাম, “ওটা তো একটা ফ্যাল যুন্ত। এ যুনন্ততে 
আবশ্বাস বরং বাড়ে । গ্রাঙ্ধীজীকে ছাড়া কংগ্রেসের স্কোনো সিদ্ধান্ত স্থির হয় ? 
সাধারণ মানুষ ফষ্ম্যাল যুন্তি বোঝে না- কিন্তু এই সতাটা তারা জানে । যারা 
কংগ্রেপকে জেনেছে শনু, তার৷ তাই গ্ান্ধীজীকে এ যুক্তিতে বিশ্বা্ করতে পারে 
না।” 

ধান ভানতে শিবের গীত ক চলছে এখনো ? কিন্তু সেই তখন 
রাজনীতিক আধ ও ব্যাঁধর প্রাদুর্ভাব । সে বিষয়টা মোটেই অপ্রাসাঁঙ্গক নয় । 
1িষটা সেই ১৯২৩-১৯২৫ থেকে নোয়াখাঁলিতে যে-অবস্থাটা ঘিয়ে তুলেছিল 
তাতে অন্য যাই হোক, আমার অস্বস্তি বাড়ল । আমার চাঁরাদকে আধি। অবশ্য 
সারা ভারতবর্ষ জুড়েই হন্দু ও মুসলমানের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়াছল। যদিও 
'তথন পর্যস্ত মোসলেম লীগ দুবল, কংগ্রেস ও খেলাফতে মুসলমানর৷ ি তবে 
তাল সামলাতে পারছিলেন 2 বল৷ ঠিক--সামলাতে পারাছিলেন না । ক্লমেই 


১৮৪ রূপনারানের কূলে 


মুসলমানদের নিকট স্বতন্ত্র রাজনোতিক প্রাতিষ্ঠান অভীষ্ট হয়ে পড়ল। 
আসলে যে-জাতীয়তাবাদের উপর আমাদের রাজনোৌতিক চেতনা_ সেই 
রাজনারারণ বসু ও বাঁজ্কমের আমল থেকে গড়ে উঠোছিল, সেই জাতীয়তাবাদের 
গোড়া ধরেই টান পড়াছিল । যতই মুসলমান মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণী সংখ্যায় 
বাড়ল, আর আঁথক ও রাজনোতিক ব্যাপারে সচেতন হতে লাগল, ততই তার 
তাতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের রূপ দেখে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকল । ঠিক 
যেজাতীয় স্বাধীনতার প্রাত বিমুখ হ'ল, তাও নয়। তবে তৃতীয় পক্ষের 
প্ররোচনার রন্ধ বেড়ে গেল। যাঁদ ভারতীয় “কল্পোজিট কালচার” এর 
উপর কোনে “কম্পোজিট জাতীয়তাবাদ'-এর পাঁলাটক্স প্রথম থেকে দেশে গড়ে 
উঠত ত৷ হলে হয়তো “তৃতীয় পক্ষের ভেদনীতির খেলাতে এত সুবিধা হ'ত 
না। কিন্তু কার্যত যা হয় তাতে কী যে হতে পারে ভারতের জাতীয়তার সূত্র, 
তা মুসলমানরাও বুঝে উঠতে পারে নি, হন্দুরাও না । তাদের চোখের সামনে 
ছল ইংরেজ, ফরাসী, জার্মান জাতীয়তার মডেল । বহুধর্মীয়, বহু জাতীয় দেশ 
বলেই বা এ দেশের জাতীয়তার মডেল অন্যরূপ হবে? -ওরৃপ চেনা. রুপ 
ছাড়া, তা কেন? হন্দুরা এবং সাধারণভাবে ভারতীয়রা ভাবল এতাঁদনের 
(১৮৮৪ ও পূর্বেকার ) জাতীয়তাবাদী সাধনা নষ্ট হতে চলল মুসলমানের 
পথকত্ববাদিতায় ( সেপারোটজমে ) স্যার সৈয়দ আহমদ-এর উদ্দেশ্যানুযায়ী । 
মুসলমানরা ভাবল- তাদের পৃথকত্ব দুর্ভেদ্য করে না রাখলে শতকর। সত্তর 
জনের মধ্যে মুসলমানদের ( শতকরা ন্লিশ জনের )ধর্নগত সত্তা ( আইডেন্টিট ) 
ডুবে যাবে । থাক গে এই হিন্দু-মুসলমান সমস্যার বিশ্লেষণ । আমার চোখে 
ঠেকত-_ভারতীয় স্বাধীনত।-আন্দোলনের সঙ্কট আনিবার্ষ। যতই মুসলমানরা 
পৃথকত্ববাদী হচ্ছিলেন আমি ততই ভাবাঁছলাম_-তা হলে এবার ভারতের 
ইতিহাসই ফেল করবে । রবীন্দ্রনাথ যে স্থির বুঝেছেন, তাতে লন্দেহমান্র 
নেই_সে ইতিহাস "বচিত্রের মধ্যে একের' সাধন । এ সাধনায় অপূর্ণত৷ রয়ে 
গিয়েছে ; ভারতবর্ষ মুসলমানদের আপনার করে ফেলতে পারে নি; 'হন্দুর। বরং 
বরাবর পৃথক থেকেছে এবং সাত শত বংসর ধরে সকলকে পৃথক রেখেছে । 
1বচিত্রের মধ্যে এক্য এই &071০80-টাও সার্থক হবে না-তার সঙ্গে আরও 
[ছু চাই। তা বহু তপস্যাসাপেক্ষ_তার পদ্ধাত হবে সমরৃঁষ্টি ও সমপ্রাণতা । 
বৈষাঁয়ক ব্যাপারে পমানাধিকার না থাকলে সমপ্রাণতা হাওয়ায় রচিত হয় না। 
এজন্য বারে বারে ভাঁব-আমরা ভারতবাসী সকলকে একাত্ম করতে পাচ্ছি, 
না,_ত৷ করাই হচ্ছে আমাদের যুগের ভারত-সাধনা। আবেগের ভরে মূল মন্ত্রটার 
সঙ্কীর্ণ ধারণাও করতাম--০07091 11815 'হন্দু-মুসলমানের তা'ই তো মানুষের 


আধ ও ব্যাধি ১৮৫ 


আঁধকার । কন্তু বাস্তবে যারা মাইনারটি তারা তো এ 6081] 1081)0-এর 
জোরে মেজরাঁট হয়ে উঠবে না চাকারতে যতই হোক সংখ্যালাভ, আর 
প্রাতানধতমূলক শাসনে হোক সদস্য-মেজরিটি-মাইনারাটি ভাবনাটাই 
আসলে ভুল । অবস্থাটা দেখতে হবে সামগ্রিকভাবে জাতির দিক থেকে। 
[বশেষ করে আবার তা দেখতে হবে পাঁরশ্রমী দারদ্রু কৃষক, মজুরশ্রেণীর 
দিক থেকে । মাথায় ছিল এমাঁনতর মার্কস-লেনিনের অস্প$ ধারণ! 
এবং রবীন্দ্নাথ-বিবেকানন্দ হিন্দু ন্যাশনালিজম-এর জগাখিচুড়। তা দিয়ে 
পহন্দু মিশন" হন্দু মহাসভা'ও সমর্থন করা যায়, আবার সোস্যালজম 
শৃদ্র-রাজ'ও সমঘিত হয় । “দেশের বাণী'র সে লেখায়ও তারই ছাপ 'ছিল-যাঁদও 
তার বন্তবাটা হ'ল মানুষের আঁধকার ও মনুষ্যত্বের দায় । সে লেখার পরে 
জেলার ও দেশের অবস্থা আরও ঘুঁলয়ে উঠল । ?চত্তরঞ্জনের বেঙ্গল প্যান্ট 
কংগ্রেস মানল না । ভোলানাথ সেনের হত্য।, স্বামী শ্রদ্ধানন্দের হত্যা এসব 
যেল লৃঝিয় দিলে ধর্মান্ধতা শুধু একট মধ্যযুগীয় পাপ নয়_অস্তুতঃ ভারতবর্ষের 
মুসলমানদের মধ্যে । এই আঁধ ও ব্যাঁধর প্রাতকার কী? এজন্য 'নাস্তকতার 
প্রয়োজনীয়তা” এ দেশে সবাপেক্ষা বৌশ । 

ইতিমধ্যে কাজ যখন 'ছল না তখন আ'ম এক বছর ঘরে বসে পড়াছলাম-_ 
দেশী ও বিদেশী দর্শন। দেশী দর্শনের জন্য অনুবাদ 'মালয়ে মূল সংস্কৃত 
দেখতাম । আবার, অন্যদিকে পড়েছি কোটিল্যের অর্থশান্ত্র (ইংরেজি 
অনুবাদে ), আর ইংরেজি ধনবিজ্ঞান ও রাস্ট্রবিজ্ঞনের নানা বই । আইন ছাড়া 
বাদ ?দাঁচ্ছলাম না কিছুই- সাহিত্যও না, সমাজবিজ্ঞানও না। পল্লবগ্রাহিতার 
চুড়ান্ত । আবার প্রাচীন ভারতীয় সংস্কাততে নেশাও লেগে গেল। তা দেখে 
চাবুলাল একাঁদন বললে, “তোর মাথায় এবার টিকি গজাবে 1৮ মাথায় নয়, মনে 
গজাচ্ছিল। প্রায় বশ্বাস করতে আরন্ত করেছিলাম প্র।চীন ভারতবর্ষের সভ্যতা, 
বিশেষ করে বৌদ্ধ জীবনচর্ষা, মানুষের ইতিহাসের প্রধান কাঁতি। অবশ্য ভুলি 
নি শৃদ্রের প্রতি ভারতীয় সভ্যতার অত্যাচার, আর স্ত্রীজাতির প্রাত তার অবজ্ঞা | 
তবু ভাবতাম-এ সভ্যতাই বুঝ সবচেয়ে সহনশীল ; তার অর্থ উদার, মানবত৷- 
বাদী । আর তাই মধ্যযুগের ধারণায় পুষ্ট মুসলমানদের আক্লমণে ভারত-সভ্যতার 
এত অবজ্ঞ। ভোগ করতে হয়েছে । মনে পড়ত উত্তর ভারতের ভাঙা 
মান্দরগুল । তাই ঘটছে কি আবার এখন ? প্রাতাঁদনই যেন নোয়াখালতে 
সেরুপ অনুভব করেছিলাম । কিন্তু না, প্রাচীন ভারতীয় 'ভ্যাঙ্ুজ'-ও বাচাবার 
মতে । আর তাই এই “তৃতীয় পক্ষ'-পুষ্ট মুসলমানদের পুরনো ধর্মান্ধ তাও 
প্রাতরোধিতব্য । নোয়াখালিতে তখনকার দিনে যেন প্রাতাদনই মনে প্রশ্ন 


১৮৬ রূপনারানের কূলে 


জাগত- ভারতবর্ষের সাধন কি ফেল করছে » “ীবাঁচন্রের মধ্যে এক' গড়ে উঠবে 
না? প্রশ্ন জাগত, তর্ক উঠত, হিন্দুদের সঙ্গেই তর্কটা বোশ, কিন্তু তারা 
বিকার । মুসলমানদের প্রাত তাদের বিশ্বাস নেই; বরং আইন-আদালত 
আর নিজেদের বুদ্ধ ও 'বত্তের বলেই তারা তখনো নিশ্চিন্ত । 'হন্দুদের মধ্যে 
তাই আম বেখাপ্না । মুসলমানদের যাদের দেখতাম-মনে হত তাদেরও 
দায়িত্ববোধ নেই । 'শাক্ষতদের ভাবটা এই--সঙ্কট আ